এশিয়া
ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে চীনের সীমান্তসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সামারদুং গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানান, বিস্ফোরণের সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। যারা প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর সুড়ঙ্গের ভেতরে ধস নামে এবং অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) ছয় কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেন। তবে তারাও ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশপ্রধান সোনাম দোলমা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৭ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিআরএফ কর্মকর্তা নিতীন কুমার বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিবেশে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন, নির্মাণ ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
বিশেষ করে, হিমালয় অঞ্চলে ভঙ্গুর পাহাড়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং অনিশ্চিত ভূগর্ভস্থ অবস্থার কারণে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা থাকার পর উদ্ধার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা নদী অববাহিকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় তুলনামূলক নবীন ও ভঙ্গুর শিলাস্তর, অসংখ্য ফাটল এবং ভূগর্ভে আটকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
পাশের মেঘালয় রাজ্যের নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবেশ ওয়ালিয়া বলেন, এলাকাটিতে কয়লাবাহী শিলাস্তরসহ তুলনামূলক নবীন ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে। মিথেনসহ অন্যান্য গ্যাস ভূগর্ভে জমে বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৩ দিন আগে
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৬০
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের প্রভাব রুশ নাগরিকদের অনুভব করানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। এর একটি তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি মস্কোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত।
হামলার পর দুটি গুদামেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম শনিবার সকালে জানান, কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ইলেকট্রোস্তালের স্থাপনায় ব্যাপক আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেলের ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানেও আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আশপাশের একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসী দেশ (রাশিয়া) এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপাদান সরবরাহ করত।’ এছাড়া একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কাজ করা সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
ইলেকট্রোস্তাল শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনেও আঘাত হানে বলে জানান ভোরোবিয়ভ। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এছাড়া মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভ্লাদিমির শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে বলে জানান ওই অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার আভদেয়েভ। এ ঘটনায় অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর ও রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৯টি অঞ্চল, অবৈধভাবে সংযুক্ত ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
১৬ দিন আগে
চীনে ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই অঞ্চলে এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, তার মধ্যেই উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টির উপকণ্ঠে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে পড়ে। এতে ১০টির বেশি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, খাড়া পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি ভবনের পাশে একটি গাড়ি অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। ধসে পড়া একটি পাথরের আকার ছিল বহুতল ভবনের চেয়েও বড়।
পেংশুই কাউন্টির পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পাথরের আয়তন প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার।
১৬ দিন আগে
মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহতের আশঙ্কা
মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকা দুটিতে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও যাত্রা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে লিন অং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্রদের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে বছরের এই সময়ে তারা সাধারণত এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলেন। কারণ, এ সময়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেশি হয় ও সমুদ্র উত্তাল থাকে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এসব শরণার্থীর নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০১৭ সালে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যারাই এখনও মিয়ানমারের ক্ষমতায় রয়েছে।
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেককে অন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখেছে সরকার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও একটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মিয়ানমারে এই অস্থিরতার কারণে ক্রমেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রাপথে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন। এছাড়া দেশটির স্থানীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধার না করে ফেলে রাখে। এমনকি তারা বিপদে পড়া নৌকার খবর পেয়েও অনেক সময় কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বৃহস্পতিবার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সর্বশেষ এই সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। এসব পথে প্রাণহানি ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এছাড়া বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
১৮ দিন আগে
ব্যাংককের মিউজিক বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৩০
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত রবিবার গভীর রাতে থাই রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাডফ্রাও’ বারে আগুন লাগে। ১৭ বছরের মধ্যে এটিই ব্যাংককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে।
থাই ভাষায় ব্রুয়ারি বা বিয়ার হল নামে পরিচিত এই বারটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আগুন লাগার সময় সেখানে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে বারটিতে আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ জানালাবিহীন বাথরুমে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, আগুন থেকে বাঁচতে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২০ দিন আগে
চীনে ঝড়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯, ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’
দক্ষিণ চীনে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মেসাক’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এর মধ্যেই ‘বাভি’ নামে আরেকটি টাইফুন আঘাত হানার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। নতুন ঝড়ের আঙ্কায় তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
নানিং শহরের ভাইস মেয়র ডিং ওয়েই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ঝড়ে নানিংয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২৬ জন মারা গেছেন। তিনি বলেন, গুয়াংসি অঞ্চলে এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে মৃতের সংখ্যা ৬ জন ছিল বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ চীনের কর্তৃপক্ষ।
মেসাকের প্রভাবে গত শনিবার থেকে গুয়াংসিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সেখান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির তোড়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ কয়েক দিন ধরে নিজেদের বাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়ে ছিলেন।
২৫ দিন আগে
বেলুচিস্তানে পুলিশ পোস্টে জঙ্গি হামলা, ৯ পুলিশ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ পোস্টে রাতভর জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বেলুচিস্তানের জিয়ারাত জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে জঙ্গিদের একটি দল হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি জিয়ারাত জেলার একটি দুর্গম এলাকায় ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, হামলার সময় জঙ্গিরা ৮ পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সবাইকে উদ্ধার করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত ক্লিয়ারেন্স অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এ ধরনের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের উপকূলীয় শহর জিওয়ানির একটি নিরাপত্তা চোকিতে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো সেই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, গত সপ্তাহের শেষে কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোয়েটার কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা তাদের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সর্বশেষ এ হামলার জন্য ভারতের সমর্থনপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, ভারত বরাবরই বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা পাকিস্তানি তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার এ অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।
একই বক্তব্যে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মহসিন নকভি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের হামলা পাকিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।’
এদিকে, পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারাও বেলুচিস্তানে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। জঙ্গি সংগঠনটি এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও পাকিস্তানে সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ হলো বেলুচিস্তান। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রদেশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ এবং পাকিস্তানি তালেবানের হামলার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর বহু হামলা চালিয়েছে।
২৭ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২৫
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে একটি কারাগারের ভেতরে ভয়াবহ সংঘর্ষে হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বন্দি ও কারারক্ষী উভয়ই রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে নেগোম্বোর কারাগারে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা আজ সোমবারও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র চন্দনা হেরাথ কারাগারের ভেতরে সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংঘর্ষের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এলাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারাগারের সংঘর্ষে আহত শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তিনিও কোনো তথ্য দেননি।
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ধারণক্ষমতা সংকটে ভুগছে। দেশটির কারা ব্যবস্থার মোট ধারণক্ষমতা ১০ হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে ৩৯ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন।
২৮ দিন আগে
সামুদ্রিক মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে মালদ্বীপে সার্কের আঞ্চলিক বৈঠক
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে দুই দিনব্যাপী সার্কের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে। এশিয়ার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক (মেরিন ফিন ফিশ) মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) শুরু হওয়া এ সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সভার আয়োজন করেছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুথথালিব।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ: বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতার সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মৎস্যবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ, প্রতিবেদনবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক আবাসস্থলের অবক্ষয় দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্যসম্পদের জন্য বড় সমস্যা। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ একান্ত জরুরি।
সভায় নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, ‘টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, যৌথ গবেষণা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন এবং মৎস্য খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সার্ক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’
সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। এক্ষেত্রে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম গঠন করে আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।’
সুশীলনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, ‘সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।’
এ সময় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী এবং ঢাকায় অবস্থিত সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (মৎস্য) ড. মো. শরীফুল ইসলাম সভার উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সার্ক সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য।’
দুই দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নীতি সমন্বয়, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৩৩ দিন আগে
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ১৪ স্কুলশিক্ষার্থীর, গ্রেপ্তার ২
পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ শিশু আহত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) লাহোরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান জানান, আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক ও আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিশু আটকে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরোনো ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে নির্মাণ মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয় না। এ কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনেক ভবন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খরচ কমাতে নিরাপত্তাবিধিও উপেক্ষা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা কোদাল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
৩৩ দিন আগে