এশিয়া
মিয়ানমারে একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩৯
মিয়ানমারের জান্তা সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭৫ জন।
চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত কাওং টাট গ্রামে স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।
একজন উদ্ধারকর্মী সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে মোট ৬টি শিশু ছিল। এই শিশুগুলোর মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল।
এদিকে, বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে কাওং টাট গ্রামের ২০০টি বাড়ি এবং প্যান লন গ্রামের কাছে আরও ১০০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তারা বলেন, এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামের বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, এই বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন মারা গেছেন। তবে আল জাজিরা টিএনএলএ মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাদের খবরে অন্তত ৩৯ জন মৃত্যু এবং ৭৫ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৮ দিন আগে
চীনে অবৈধ খনিতে ধস, নিহত ৫
চীনে একটি অবৈধ খনিতে ধস নেমে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৩১ মে) দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউননান প্রদেশের হুইজে কাউন্টিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘনা ঘটে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
তবে খনিটি কিসের, তা খবরে উল্লেখ করা হয়নি।
উদ্ধারকারীরা বাইউ গ্রামের ওই স্থানে আটকে পড়া ৬ জনকে বের করে হাসপাতালে পাঠান, কিন্তু তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজন মারা যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কয়লা খনি বিস্ফোরণের শিকার হয় চীন। ওই দুর্ঘটনায় উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে কমপক্ষে ৮২ জন নিহত হয়েছিলেন।
সে সময় স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওই খনির পরিচালকের পক্ষ থেকে গুরুতর আইনের লঙ্ঘন হয়েছিল।
১৯ দিন আগে
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৮ জন নিহত
পশ্চিম তুরস্কে একটি বাসে মহাসড়কের ব্যারিয়ারে ধাক্কা লেগে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় ৯ মাস বয়সী একটি শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) দিবাগত রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম ডেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
খবরে বলা হয়, পামুক্কালে ট্যুরিজমের মালিকানাধীন বাসটি ৩৮ জন যাত্রী ও ৩ জন কর্মী নিয়ে ইজমির থেকে ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে দেনিজলি প্রদেশে মহাসড়কের ব্যারিয়ারে বাসটি ধাক্কা খেলে দুর্ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৯ মে) ছিল ঈদুল আযহার শেষ দিন। এই ধর্মীয় উৎসবে সাধারণত তুরস্কজুড়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ও ছুটি কাটাতে মানুষের ভ্রমণ বাড়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়।
১৯ দিন আগে
আফগানিস্তানে শরণার্থী বহনকারী ট্রাক উল্টে নিহত ১৮
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরা আফগান শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক পূর্ব আফগানিস্তানে মহাসড়কে উল্টে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানী কাবুলের সঙ্গে নানগারহার প্রদেশকে সংযুক্তকারী প্রধান মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাগমান প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আবদুল মালিক নিয়াজাই বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ১০টি শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নানগারহারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানে সড়কের দুরবস্থা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ট্রাকটির যাত্রীরা ছিলেন পাকিস্তান থেকে সম্প্রতি ফিরে আসা হাজারো আফগান শরণার্থীর অংশ। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বহু আফগানকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস ও কাজ করেছেন।
২০ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৪ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ১৭
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।
২৫ দিন আগে
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মহাপরিচালক শাহ ফাহাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাস্তিানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন দেশটির হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচি থেকে বুনেরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরগামী যাত্রীবাহী মিনিবাসটি পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের স্থানীয় মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠান। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
২৫ দিন আগে
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৩
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করা বেশকিছু যানবাহন গুঁড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২৬ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন ধস, বহু শ্রমিক নিখোঁজ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের একটি শহরে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ২২ জন শ্রমিক বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ভোরে ঝড়বৃষ্টির সময় ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে ভবনটি ধসে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মী অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেনডেজ।
ঘটনাস্থল থেকে মেনডেজ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবন থেকে বের হয়ে আসা ২২ শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
তবে অ্যাঞ্জেলেস সিটির তথ্য দপ্তরের প্রধান জে পেলায়ো বলেন, অন্তত ৩০ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এক নির্মাণ তদারককারীর বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন, যিনি ভবনটি ধসে পড়ার সময় দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর একটি ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই এলাকা এবং আশপাশের শহরগুলো উত্তর ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চল লুজনে বিনোদন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমানে ক্লার্ক ফ্রিপোর্ট জোন নামে পরিচিত এই সাবেক মার্কিন বিমানঘাঁটি অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে অবস্থিত। ম্যানিলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান।
২৬ দিন আগে
চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৯০
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক খনির নিচে আটকা পড়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটির চাংশি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনির নিচে ২৪৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
আজ (শনিবার) ভোরে প্রথমে আটজন নিহত এবং ৩৮ জন আটকা পড়ার তথ্য জানিয়েছিল সিনহুয়া। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর এই সংখ্যা ৯০-এ উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনে গ্রিসের চেয়েও বড় এ প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। গত বছর প্রদেশটির কয়েক লাখ খনি শ্রমিক প্রায় ১৩০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছেন, যা চীনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
২৭ দিন আগে
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
৩০ দিন আগে