এশিয়া
বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক কে-পপ মোগলকে খুঁজছে দ. কোরিয়ার পুলিশ
বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে বিখ্যাত কোরিয়ান কে-পপ সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক সংগীত মোগল ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ উর্পাজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাং সি-হিউক স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি হাইবের (HYBE) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। গত বছরের নভেম্বর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি।
ব্যাং হিউকের আইনজীবী দলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব না দিয়ে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সব আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চালিয়ে যাব এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
কোরিয়ান এই সংঙ্গীত মোগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন আপাতত তার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর ফলে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা তার কথায় প্ররোচিত হয়ে হাইবের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগেই তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, ওই ফান্ড মূলত একটি গোপন চুক্তির যেখানে আইপিও-পরবর্তী শেয়ার বিক্রির লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩৬ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে হাইব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক পপ সংগীত শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিটিএস ছাড়াও তিনি সেভেনটিন, লে সেরাফিম এবং কাটসেয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে সিউলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের একটি ক্যামব্যাক কনসার্টে বিটিএস হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্তের সামনে পারফর্ম করে। এছাড়া তারা দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহর এবং টোকিওতেও একাধিক কনসার্ট করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় একটি কনসার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইভেন্ট সিরিজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতায় হাইবে একটি বড় জনসংযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১ হাজার বাড়ি ভস্মীভূত
মালয়েশিয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ হাজার বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বোর্নিও দ্বীপের সান্দাকান জেলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর কাঠের তৈরি সারিবদ্ধ ঘরগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল ও জরুরি উদ্ধার বিভাগ।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রচণ্ড বাতাস এবং ঘরগুলোর পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও যাতায়াতের পথ দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
১০৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কর্মী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১০ হাজার নির্মাণ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সেখানকার সরকার। দেশীয় জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই খাতে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির গৃহায়ণ, নির্মাণ ও পানি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি শূন্য পদ রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার প্রথমদিকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি ভেবেছিল। পরে দেশীয় কর্মী তৈরি করেই এই চাহিদা পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগকে সফল করতে নির্মাণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে, যাতে নির্মাণ খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ নির্মাণ শ্রমিক পেশাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যও কাজ করছে।
এই কর্মসূচি মূলত সেইসব তরুণ-তরুণীদের জন্য যারা তাদের অ্যাডভান্সড লেভেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, কিন্তু এখনও উচ্চশিক্ষা বা কোনো চাকরিতে যুক্ত হননি। কর্মসূচিতে তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী শনাক্ত করতে বাছাই প্রক্রিয়াও চলছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার জন্য নির্মাণ খাতে আসতে মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এই খাতে সাধারণত প্রকল্পভিত্তিক কাজ হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝেমধ্যেই বেকার বসে থাকতে হয়। তবে নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নির্মণ খাতে আরও স্থিতিশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা গেছে। তবে সাইক্লোন দিতওয়াহের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফলে তখন শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।
১০৫ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
১০৫ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ অনলাইন বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
সানায়ে তাইকাচির বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাপান পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। টোকিও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের এই সহযোগিতা কাঠামোর লক্ষ্য হলো এশীয় দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মুখে এশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-ভুক্ত দেশগুলোর এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণের সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই), জাইকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের নিজস্ব মজুদে ২৫৪ দিন ব্যবহারের মতো তেল ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে সেই মজুদ ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত মাসে জাপান তার মজুদ থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের তেল ছেড়েছে এবং মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ন্যাপথার (অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের প্রধান কাঁচামাল) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগ বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রকট। সিরিঞ্জ, গ্লাভস এবং ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাকাইচি বলেছেন, ন্যাপথার সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ন্যাপথার ঘাটতিতে আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশগুলোর সরকার জনগণকে গাড়ি শেয়ার করা এবং এসি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত এই সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ান দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়ার কোনো একক দেশ এই ধরনের সাপ্লাই চেইন বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।
১০৯ দিন আগে
আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বুধবার (১৫ এপ্রিল) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম টি মেঘনা প্রাইড নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৩ জন রোহিঙ্গা ও ৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নৌকাটি কখন ডুবেছে এবং বুধবার পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান অভিযান চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ট্রলারটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রবল বাতাস এবং উত্তাল সাগরের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নাইজমান আজ (বুধবার) বলেন, এ বিষয়ে সংস্থাটির কাছে আর কোনো নতুন তথ্য নেই।
কোস্ট গার্ডের আরেকজন গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া আটজন পুরুষ ও একজন নারী সবাই নিরাপদে আছেন। কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই উদ্ধার অভিযান কোনো আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ ছিল না, কারণ ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের সীমানার বাইরে।
সরকারি নীতিমালার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ফোনে এসব কথা বলেন।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম জানায়, এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং স্থায়ী সমাধানের অভাবকে প্রতিফলিত করে।
তারা জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সীমিত মানবিক সহায়তা এবং শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিতে বাধ্য করছে, যেখানে প্রায়ই উচ্চ আয় ও ভালো জীবনের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন ও সংহতি জোরদার করার জন্য।
১১০ দিন আগে
সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, ওয়াশিংটনে ফিরছেন ভ্যান্স
ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ভ্যান্স। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি আরও জানান,সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে ইসলামাবাদ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে’ আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি
হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ সপ্তম সপ্তাহে গড়ানোর পর গত শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়।
ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমাদের এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জাম জোগাড় করবে না যা তাদের দ্রুত পরমাণু অস্ত্র অর্জনে সহায়তা করবে। এটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটিই অর্জনের চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও জানান, গত ২১ ঘণ্টায় তিনি ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গেও তার আলাপ হয়েছে।
দুই পাশে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে পডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করেছি। এখন আমরা একটি সাধারণ প্রস্তাব এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া রেখে যাচ্ছি, যা আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা তা গ্রহণ করে কি না।’
‘দুই থেকে তিনটি বড় ইস্যুতে’ মতপার্থক্য
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সফল হয়নি।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।’ তবে সেই ইস্যুগুলো ঠিক কী ছিল, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বাঘাই আরও জানান, কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ‘আসলে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিলেন।’ তিনি বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করেননি।
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান পাকিস্তানের
ঐতিহাসিক এই সরাসরি বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ যাতে যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
১১৪ দিন আগে
জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের সাক্ষাৎ
ইরানের প্রতিনিধিদলের পর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে ছিলেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রাজা নকভি।
উভয় প্রতিনিধিদলের গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি সোপান হিসেবে কাজ করবে।
শাহবাজ শরিফ পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে উন্মুখ।
এর আগে, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশস্ত করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছায়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি আলোচনা বেশকিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান আলোচনার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদলটি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। কালিবাফ এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দিলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সের সাফল্য কামনা করে বলেন, দেখা যাক কী হয়। ওরা (ইরান) সামরিকভাবে পরাজিত।
আজ (শনিবার) ইসলামাবাদের ব্যস্ত সড়কগুলো জনশূন্য ছিল। কারণ আলোচনার আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
১১৪ দিন আগে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ইরানি প্রতিনিধিদল।
স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে। ডন জানিয়েছে, এই বৈঠকের পরেই ইরান-মার্কিন আলোচনার রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
এদিকে, আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলাফল পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের ওপর।
আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যদি মার্কিন প্রতিনিধিরা তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আগে আমেরিকা) নীতির দিকে মনোনিবেশ করেন, তবে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেছেন, তবে যদি আমরা ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ (আগে ইসরায়েল) নীতি অনুসরণকারী প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হই, তবে কোনো চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা আগের চেয়ে আরও জোরালোভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা বজায় রাখব এবং বিশ্ব আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অন্যদিকে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট। তবে এর ঠিক একদিন পরই হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফজলুল্লাহ পুনরায় তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এক বিবৃতিতে ফজলুল্লাহ বলেছেন, এই পদক্ষেপ জাতীয় চুক্তি, সংবিধান এবং লেবাননের আইনের একটি চরম লঙ্ঘন... এবং এটি এমন এক সময়ে অভ্যন্তরীণ বিভেদ আরও বাড়িয়ে তুলছে, যখন ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় লেবাননের সবচেয়ে বেশি সংহতি ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রয়োজন।
১১৪ দিন আগে
শান্তি আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন জেডি ভ্যান্স
ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশস্ত করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি আলোচনা বেশকিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান আলোচনার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদলটি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। কালিবাফ এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দিলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সের সাফল্য কামনা করে বলেন, দেখা যাক কী হয়। ওরা (ইরান) সামরিকভাবে পরাজিত।
আজ (শনিবার) ইসলামাবাদের ব্যস্ত সড়কগুলো জনশূন্য ছিল। কারণ আলোচনার আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি মার্কিন প্রতিনিধিদল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
ইসহাক দার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় মার্কিন প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পক্ষগুলো গঠনমূলকভাবে আলোচনায় বসবে। সেই সঙ্গে সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ প্রদেশের মাইফাদুন শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার দাবি করেছে।
ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সের আগমন
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
পাকিস্তানে রওনা হওয়ার আগে ইরানকে সতর্ক করে ভ্যান্স বলেছিলেন, তারা যেন আমেরিকার সঙ্গে খেলা না করে।
জবাবে কালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলটির আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে তারা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো।
অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা প্রচার করতে আসা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ একটি অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেকে আসা সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘ভিসা-অন-অ্যারাইভাল’ সুবিধাও ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
যুদ্ধ বন্ধের এই আলোচনার আগে ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট পুরোপুরি জনশূন্য। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়ায় শহরটিতে অনেকটা কারফিউর মতো পরিবেশ বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সংঘাতটি একটি কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কারণ পক্ষগুলো লড়াইয়ের সাময়িক বিরতি থেকে একটি আরও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। তিনি এই সময়টিকে ‘হয় জয়, না হয় পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
১১৪ দিন আগে