এশিয়া
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে ‘আত্মাহীন পুতুল’ আখ্যা দিয়ে নতুন হামলার হুমকি আইএসের
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘আত্মাহীন পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আসাদের মতোই হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক অডিও বার্তায় সারা বিশ্বের আইএস অনুসারীদের অতীতের মতো ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আহ্বান জানান আইএসের মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি।
বার্তায় গোষ্ঠীটির প্রধান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হাশেমি আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে আইএস যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান আল-আনসারি। আল-কুরাইশি তিন বছর আগে গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনায় হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানোর কয়েক মাসের মধ্যে এই অডিওটিই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানো হয়। ওই ঘটনার পর সিরিয়ার যেসব জায়গা জঙ্গীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, সেসব স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাক ও সিরিয়ায় একসময় খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। এরপর ২-১৭ সালে ইরাকে এবং তার দুই বছর পর সিরিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে তারপরও দেশদুটিতে হামলা থামায়নি আইএসের সুপ্ত চক্রগুলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসের হুমকি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার পাঁচটি চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) দামেস্কে প্রবেশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির ওপর ইরানের যে প্রভাব, তার ওপর বড় আঘাত হানে। সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আসাদ সংখ্যালঘু আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
ওই ঘটনার পরে সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখার সাবেক নেতা আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন করেছেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর গত বছর তিনিই প্রথম সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন।
আল-আনসারির দাবি, সিরিয়ায় ইরান ও আসাদের স্থলে আমেরিকার প্রভাবাধীন একটি শাসনব্যবস্থা আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়া ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তারা এমন এক নেতাকে বসিয়েছে যে আত্মাহীন পুতুল।’ এ সময় দেশটিতে নতুন হামলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি নতুন প্রতিরক্ষার যুগে প্রবেশ করেছে এবং জিহাদের কাফেলা শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় অগ্রসর হবে।’
১১৭ দিন আগে
আফগান সীমান্তে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলার পর আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসলামাবাদ। অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সহযোগী গোষ্ঠীর ৭টি আস্তানা ধ্বংসের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য দেয়নি ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, কাবুলের তালেবান সরকার বলেছে, নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এ হামলায় বেসামরিক নারী শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। এক্স পোস্টে মুজাহিদ লিখেছেন, নানগরহার এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় বেশকিছু মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে মুজাহিদ বলেছেন, তারা দেশের ভেতরের নিরাপত্তার ঘাটতি মেটাতেই এ হামলা চালিয়েছে।
রবিবার ভোর হওয়ার আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে লিখেছেন যে সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ৭টি আস্তানার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তারার বলেছেন, ‘পাকিস্তান সর্বদা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
১১৭ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডারসহ আরও ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েন বলে জানিয়েছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) প্রাথমিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে জানায়, পূর্ব লেবাননের রিয়াক এলাকায় একটি ভবনে চালানো বিমান হামলায় ১০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
পরে জানা যায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার ছিলেন। তারা হলেন— হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘি, আলি জেইদ আল-মুসাওয়ি এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-মুসাওয়ি।
কমান্ডার হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তিনি লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষায় শহিদ হয়েছেন।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হিজবুল্লাহর অবস্থানসহ পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬ টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যেই লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে।
১১৮ দিন আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
১১৮ দিন আগে
হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গণতন্ত্রপন্থী ব্যক্তিত্ব ও অ্যাপল ডেইলি সংবাদপত্রের মালিক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তার পরিবার এই সাজাকে ‘হৃদয়বিদারক নিষ্ঠুরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা মেয়ে বলেছেন, ‘জেলে তার মৃত্যু হলে তিনি “শহিদ” হবেন।’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সমালোচকদের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই সাজা হলো বহু বছর ধরে চলে আসা লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি, যার মাধ্যমে হংকং একটি স্বাধীন শহর থেকে এমন একটি শহরে পরিণত হয়েছে, যেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি-নিয়ন্ত্রিত সরকার ভিন্নমত পোষণকারীদের কঠোরভাবে দমন করছে।
ডিসেম্বরে লাইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। লাইয়ের এই ২০ বছরের কারাদণ্ড হংকংয়ের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অপরাধের সবচেয়ে বড় সাজা।
লাইয়ের সাজার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডারস নামের সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বলেছে, ‘হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আজ পর্দা নেমে এসেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পতন এবং সাংবাদিকতার প্রতি চরম অবমাননার সামিল।’
লাইয়ের এই দীর্ঘ সাজাকে ‘সত্যিকার অর্থে মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ‘এই মাত্রার সাজা নিষ্ঠুর ও অন্যায্য। লাইয়ের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতন চীন সরকারের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে চূর্ণ করার এবং কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে এমন যে কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মামলাটিকে ‘আইন দ্বারা শাসিত শহর’ থেকে ‘ভয় দ্বারা শাসিত শহরে’ রূপান্তরের আরেকটি ভয়াবহ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এবং ব্রিটিশ সরকার লাইয়ের মামলাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বলে বর্ণনা করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে লাইকে সরকারবিরোধী উসকানিদাতা এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের মতে, লাই একজন ব্রিটিশ নাগরিক যিনি শিশু শরণার্থী হিসেবে চীন থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে হংকংয়ে বসবাস করছেন।
লাই হংকংয়ের বিলুপ্ত সংবাদপত্র অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি জনপ্রিয় হংকংভিত্তিক সংবাদপত্র ছিল। ২০১০-এর দশকে হংকংজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সমর্থন করে জনপ্রিয়তা পায় সংবাদপত্রটি।
২০২০ সালের জুনে একটি কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমন করেছিল সরকার। সে সময় বেশিরভাগ ভিন্নমত পোষণকারীদের এই আইনের আওতায় ‘অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়। লাইকে সে বছরের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে অ্যাপল ডেইলি বন্ধ করে দেয় দেশটির চীন সরকার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন যে তিনি লাইয়ের মুক্তি নিশ্চিত করবেন।
কারাগারে থাকা মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে লাইয়ের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তার দাঁতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাবন্দি এবং অধিকাংশ সময় নির্জন সেলে কাটিয়েছেন।
তবে হংকং কর্তৃপক্ষ বলছে, লাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছেন এবং অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা থাকার আবেদন তিনিই করেছিলেন। সোমবার সাজা ঘোষণার পর জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ প্রধান স্টিভ লি বলেন, রায় যথাযথ হয়েছে। সেইসঙ্গে লাইয়ের শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে করা অভিযোগকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন।
এই ঐতিহাসিক জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় লাইয়ের সঙ্গে আরও আটজন অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন অধিকার কর্মী এবং বাকি ছয়জন লাইয়ের মালিকানাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সাবেক নির্বাহী। মামলায় সংশ্লিষ্ট সবাই দোষী সাব্যস্ত হন।
১৩০ দিন আগে
জাপানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল
জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। প্রাথমিক ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ জনপ্রিয়তা এ বিজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের খবরে বলা হয়েছে। এর ফলে তিনি জাপানের নিরাপত্তা, অভিবাসনসহ বিভিন্ন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার সুযোগ পাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজয়ের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনএইচকে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, তিনি জাপানকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে যে নীতিমালাগুলো প্রয়োজন, সেগুলোর ওপর জোর দেবেন।
ভোট গণনার প্রাথমিক ফলের উদ্ধৃতি দিয়ে এনএইচকে জানায়, সোমবার সকাল পর্যন্ত তাকাইচির এলডিপি একাই ৩১৬টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্টের ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষের ২৬১ আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার যে সীমা রয়েছে, তা সহজেই অতিক্রম করেছে দলটি।
জাপানের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের মধ্যে নিম্নকক্ষই বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। ১৯৫৫ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের সর্বোচ্চ আসনে জয় পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে, ১৯৮৬ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনের নেতৃত্বে দলটি ৩০০টি আসন জিতেছিল। নতুন মিত্র দল জাপান ইনোভেশন পার্টির অর্জিত ৩৬টি আসনসহ তাকাইচির ক্ষমতাসীন জোট মোট ৩৫২টি আসন পেয়েছে।
ফল ঘোষণার পর এলডিপির সদরদপ্তরে একটি বোর্ডে বিজয়ীদের নামের ওপর বড় লাল ফিতা লাগান তাকাইচি। এ সময় উপস্থিত দলীয় শীর্ষ নেতারা করতালির মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করেন।
উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তুলনামূলক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন নিম্নকক্ষে নির্বাচনের আগের অবস্থানের তুলনায় বড় অগ্রগতি তাকাইচিকে একটি ডানপন্থী কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। এই এজেন্ডার লক্ষ্য চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জাপানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
তাকাইচি বলেন, নিজেদের নীতিগত লক্ষ্য দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করবেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘আমি নমনীয় থাকব।’
তাকাইচি জনপ্রিয় হলেও গত সাত দশকের বেশিরভাগ সময় জাপান শাসন করা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারি নিয়ে চাপের মধ্যে ছিল। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাস পরই তিনি রবিবার আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
১৩০ দিন আগে
ইসলামাবাদে মসজিদে বোমা হামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে প্রদেশের নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত আফগান মাস্টারমাইন্ডও রয়েছেন।
নওশেরা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদে বোমা হামলায় সহায়তাকারীদের সন্ধানে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোলাগুলিতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন।
এ বিষয়ে গতকাল (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী বলেন, ‘হামলার পেছনের জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গতরাতজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে।’ সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) এবং খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরীক্ষামূলক ঘটনা।’ তবে অভিযানে সাফল্যের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নকভী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর নওশেরা এবং পেশোয়ারে অভিযান চালিয়ে হামলায় সহায়তাকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একজন আফগান নাগরিক। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রাদেশিক পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হয়েছেন এবং অন্যরা আহত হয়েছেন। মূল পরিকল্পনাকারী দায়েশের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ‘দায়েশ আফগানিস্তান’ নামের জঙ্গি গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশেই (ভারত) তা পরিচালিত হয়েছে। আমাদের কাছে লোক আছে যারা আমাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছে। হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে গিয়েছিল এবং কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সব জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), আফগান তালেবান, দায়েশ বা অন্যান্য খারজি সন্ত্রাসী সংগঠ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।
‘জনসাধারণের কাছে আমার দুটি অনুরোধ রয়েছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি; সেটা বেলুচিস্তান, খায়বার পাখতুনখোয়া বা অন্য যেখানেই হোক। এই সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ তাদের সম্প্রদায়ে বসবাসকারী কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে পারবেন, তখনই পুলিশে খবর দিন।’
এই ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, গতরাতে আমি একজনের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছি, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কোথায় ছিল এবং কেন এ ঘটনাটি ঘটেছে। আমি আপনাকে বলতে পারি, যদি একটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকে, তবে আরও অন্তত ৯৯টি বিস্ফোরণ ঘটতে দেয়নি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
‘আমি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বলেছি যে তাদের এসব সাফল্যের কথা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত। এটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাঝে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দায়েশ এবং তালেবানের নাম উঠে আসছে, কিন্তু এর পেছনে কেউ রয়েছে, যারা তাদের অর্থায়ন করছে। আগে তারা ৫০০ ডলার পেত, কিন্তু এখন তারা ১৫০০ ডলার পাচ্ছে। তাদের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, তাদের সমস্ত অর্থায়ন ভারত থেকে আসে। ভারত তাদের সমস্ত লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে দিচ্ছে; তারা পর্দার আড়ালে প্রতিটি পরিকল্পনা করছে। এই সংগঠনগুলো সামনে রেখে ভারত পেছনে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আপাতত চুপ থাকতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে। বিনামূল্যে কিছুই ঘটে না এবং এসব হামলার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। আমরা এই বিষয়টি জানি এবং এই বিষয়টি সকল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।’
এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন বলে জানান, যাতে বিদেশি মিশনগুলো ভারতের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অন্যান্য দেশগুলোকে অবহিত করতে পারে।
জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ভারত এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে, তাহলে তাদের ছেড়ে দিন। কিন্তু আমরা এসব হামলা বন্ধ করব; এমনকি যদি তারা তাদের বাজেট দশ গুণ বৃদ্ধি করে, তবুও আমাদের পদক্ষেপে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া দায়েশের কর্মীর পদমর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে নকভী বলেন, যথাসময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের খাদিজা আল-কুবরা এলাকার ওই মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৬৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ইসলামাবাদে সচারচার হামলা হয় না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানজুড়েই জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ‘বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এবং ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানদের দায়ী করা হয়। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবানদের কোনো শাখা না হলেও তাদের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সখ্যতা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের একটি আঞ্চলিক সহযোগীও পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে পশ্চিমা মিত্র সরকার দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ন্ত্রণে আানার চেষ্টা করছে।
২০০৮ সালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ৬৩ জন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া গত নভেম্বরেও ইসলামাবাদের একটি আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়।
১৩১ দিন আগে
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
১৩১ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
১৩৩ দিন আগে
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
১৩৪ দিন আগে