এশিয়া
আফগানিস্তানে শরণার্থী বহনকারী ট্রাক উল্টে নিহত ১৮
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরা আফগান শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক পূর্ব আফগানিস্তানে মহাসড়কে উল্টে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানী কাবুলের সঙ্গে নানগারহার প্রদেশকে সংযুক্তকারী প্রধান মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাগমান প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আবদুল মালিক নিয়াজাই বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ১০টি শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নানগারহারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানে সড়কের দুরবস্থা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ট্রাকটির যাত্রীরা ছিলেন পাকিস্তান থেকে সম্প্রতি ফিরে আসা হাজারো আফগান শরণার্থীর অংশ। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বহু আফগানকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস ও কাজ করেছেন।
১৫১ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ৪ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ১৭
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হতাতহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।
এ সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখেন, শত শত উদ্ধারকর্মী, দমকলবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার রড ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা অবস্থায় তখনও তারা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা তাকে পানি ও শিরায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেন্দেজ এপিকে বলেন, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলেস সিটির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জে পেলায়ো জানান, উদ্ধার করা ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ১৭ জনের তালিকায় ছিলেন না।
এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চতুর্থ নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক মালয়েশিয়ান পর্যটক। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাশের একটি সরাইখানার ওপর গিয়ে পড়লে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গতকাল (রবিবার) প্রবল বজ্রঝড়ের পর বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। এক দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। অ্যাঞ্জেলেস সিটির মেয়র কারমেলো লাজাতিন বলেন, আগে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। এরপর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, আমার এখনও আশা আছে, আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারব। আমরা আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে আশাহত করতে চাই না।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় তৈরি করে অপেক্ষা করে যাচ্ছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা। তাদের সবার মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।
মেয়র লাজাতিন বলেন, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। কারণ বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের স্তুপের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে আছে। যেকোনো সময় সেগুলো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে থাকা ২৬ জন শ্রমিক উদ্ধার হয়েছেন, অথবা নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। যারা ভবনের নিচতলায় ছিলেন, তারা দ্রুতেই বের হয়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল হোসে মেলেনসিও নারতাতেজ জুনিয়র বলেন, ভবন ধসে পড়ার কারণ এবং ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে পুলিশ।
১৫৫ দিন আগে
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মহাপরিচালক শাহ ফাহাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাস্তিানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন দেশটির হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচি থেকে বুনেরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরগামী যাত্রীবাহী মিনিবাসটি পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের স্থানীয় মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠান। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
১৫৬ দিন আগে
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৩
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করা বেশকিছু যানবাহন গুঁড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১৫৬ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন ধস, বহু শ্রমিক নিখোঁজ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের একটি শহরে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ২২ জন শ্রমিক বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ভোরে ঝড়বৃষ্টির সময় ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে ভবনটি ধসে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মী অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেনডেজ।
ঘটনাস্থল থেকে মেনডেজ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবন থেকে বের হয়ে আসা ২২ শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
তবে অ্যাঞ্জেলেস সিটির তথ্য দপ্তরের প্রধান জে পেলায়ো বলেন, অন্তত ৩০ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এক নির্মাণ তদারককারীর বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন, যিনি ভবনটি ধসে পড়ার সময় দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর একটি ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই এলাকা এবং আশপাশের শহরগুলো উত্তর ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চল লুজনে বিনোদন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমানে ক্লার্ক ফ্রিপোর্ট জোন নামে পরিচিত এই সাবেক মার্কিন বিমানঘাঁটি অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে অবস্থিত। ম্যানিলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান।
১৫৭ দিন আগে
চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৯০
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক খনির নিচে আটকা পড়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটির চাংশি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনির নিচে ২৪৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
আজ (শনিবার) ভোরে প্রথমে আটজন নিহত এবং ৩৮ জন আটকা পড়ার তথ্য জানিয়েছিল সিনহুয়া। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর এই সংখ্যা ৯০-এ উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনে গ্রিসের চেয়েও বড় এ প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। গত বছর প্রদেশটির কয়েক লাখ খনি শ্রমিক প্রায় ১৩০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছেন, যা চীনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
১৫৮ দিন আগে
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
১৬১ দিন আগে
চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২ জন নিহত, ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চীনে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ দুর্যোগে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং লিউঝো শহর থেকে ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ভোরে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
নিখোঁজ কয়েকজন বাসিন্দার অনুসন্ধান কাজ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটকে পড়া ৯১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস এলাকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লিউঝো এলাকায় ট্রেন চলাচলও বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ চীনে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, তবে তীব্র ভূমিকম্প সাধারণত পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে অথবা তাইওয়ানের দিকে পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশে, যেখানে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন।
১৬৩ দিন আগে
অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ‘যৌন নিপীড়ন’, ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ হলো মেয়েদের আবাসিক স্কুল
ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার এনধোলো কুসুমো নামে মেয়েদের একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির তত্ত্বাবধায়ক কিয়াই আশারির (৫৮) বিরুদ্ধে। এরপর স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার পর গত ২ মে বিক্ষুদ্ধ জনতা ওই আবাসিক স্কুলটি ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার হাতে বিক্ষোভ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক আশারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কয়েক বছর ধরে স্কুলটির বহু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করে আসছেন। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান ও এতিম।
এই ঘটনাটি দেশটির ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে সামনে এনেছে।
এর আগে, আশারির বিরুদ্ধে মুখ খোলা একাধিক সাক্ষী নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তবে, একজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী তার যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী আলি ইউসরন বিবিসিকে বলেছেন, ‘যৌন সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ জন শিশু রয়েছে। আমি একজন ভুক্তভোগীর হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছি, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আরও অনেক ভুক্তভোগীর তথ্য উঠে এসেছে। আমার মক্কেলই কিয়াই আশারির সব গোপন কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে দিয়েছেন।’
গত ৪ মে ইন্দোনেশিয়া পুলিশ জানিয়েছিল, ২৮ এপ্রিল কিয়াই আশারিকে সন্দেহভাজন ‘যৌন নিপীড়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে তখনও তাকে আটক করা হয়নি, কারণ পুলিশ মনে করেছিল যে তিনি পালাবেন না। কিন্তু পরে পুলিশের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। ওই দিনই আশারি পাতি এলাকা ছেড়ে পর্যায়ক্রমে বোগর, জাকার্তা ও সলো শহরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৬ মে রাতে মধ্য জাভার ওনোগিরির একটি মসজিদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর ৭ মে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা ওয়াহিউদি জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ বার অভিযোগকারী ওই ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেছেন আশারি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আশারি শরীরে ম্যাসাজ চাওয়ার অজুহাতে ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করতেন। এরপর তিনি তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করতেন। তার শরীরে স্পর্শ ও চুম্বনের মতো অশালীন কাজ করেছেন আশারি।
প্রায় দশবার তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বাবাকে জানান। এরপর তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে।
আগেও ছিল অভিযোগ
এবারই প্রথম নয়, এর আগেও আশারির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।
এনধোলো কুসুমো স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশারি। ২০২২ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসছে। এ ব্যাপারে আইনজীবী আলি ইউসরন বলেন, ভুক্তভোগীরা সকলেই নারী শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালে কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ পায় পাতি পুলিশের নারী ও শিশু সেবা ইউনিট। তবে পরে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা বিবিসিকে বলেন, ২০২৪ সালে আশারির বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছিল। সে সময় তার ব্যাপারে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নানা বাধা আসে।
তিনি জানান, পরে চারজন অভিযোগকারী তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। ভুক্তভোগীদের পরিবার বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চেয়েছিল। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে সম্মানহানি হবে, এমন উদ্বেগ থেকে কয়েকজন সাক্ষী পরে সাক্ষ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এর প্রায় দুই বছর পর গত মাসে আবারও কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। এ মামলার পর পুলিশ আশারিকে ‘সন্দেহভাজন নিপীড়ক’ ঘোষণা করে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সমস্যা
পুলিশপ্রধান জাকা আরও বলেন, পুলিশ এখনও আশারির যৌন সহিংসতার শিকার মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যার বিষয়ে তদন্ত করছে। তা বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারী শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর মতবাদ শেখাতেন। তিনি নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করতেন। নিজেকে নবীর বংশধর বলেও পরিচয় দিতেন তিনি।
পেনগুরুস বেসার নাহদলাতুল উলামার (পিবিএনইউ) যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ইউনিটের সদস্য এবং জাতীয় নারী নির্যাতন কমিশনের সাবেক কমিশনার ইমাম নাহেই বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রায় একই ধরনের। এসব প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়করা প্রায়ই এমন ভুল মতবাদ শেখান যার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি বলেন, ‘তারা কেউ কেউ নিজেদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের তারা এমনভাবে প্রলুদ্ধ করেন যেন তাদের কথা না মানলে জাহান্নামে যেতে হবে।’
ইমাম নাহেই জানান, অনেক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। তার মতে, আবাসিক স্কুলগুলোর এই চুপ থাকার সংস্কৃতি যৌন সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলে।
তিনি দেশটির সুমেনেপের একটি স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্কুলটিতে ২০১৭ সাল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চলে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এর মানে হলো, এতদিন ভুক্তভোগী ও আশপাশের মানুষেরা চুপ ছিলেন।
ইমাম নাহেই নিজেও একটি বড় ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি জানান, তিনি সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করে দেখেছেন, তারা যৌন নিপীড়ন কী, সেটাই বোঝেন না। তারা মনে করেন, যৌন নিপীড়ন মানেই কেবল ধর্ষণ বা শারীরিক মিলন। মৌখিক যৌন নিপীড়নকে তারা শুধু ‘পাপ’ মনে করেন। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারির ঘাটতিকে আরও বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা মোকাবেলায় আইন জারি করেছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলো এই আইনের বাইরে থেকে গিয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন হলে অভিযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলে স্পষ্ট নীতিমালা ও টাস্কফোর্স গঠনে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুন করে গড়ে ওঠা ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোর ওপর মন্ত্রণালয় ও সমাজের তদারকি আরও কঠোর হওয়া জরুরি।
এনধোলো কুসুমো স্কুল বন্ধ ঘোষণা
এনধোলো কুসুমো আবাসিক স্কুলটি ২০২১ সাল থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। স্কুলটিতে অন্তত ২৫২ জন শিক্ষার্থী ছিল। সাম্প্রতিক যৌন সহিংসতার এ অভিযোগের পর স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় স্কুলটির লাইসেন্স বাতিল করেছে।
অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস বা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক আবাসিক স্কুল বিভাগের পরিচালক বাসনাং সাঈদ জানান, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করতে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্কুলটি বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্কুলটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে, স্কুলটিতে শিশু সুরক্ষা, তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মানদণ্ড পূরণ হচ্ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। যদি স্কুলটি এসব মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও সুপারিশ করেছে, যেসব শিক্ষক বা তত্তাবধায়কের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠবে, তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত ও আবাসিক ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার সব ইসলামিক আবাসিক স্কুলকে নতুন শিক্ষক নিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষককে দক্ষ ও নৈতিকভাবে সৎ হতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
১৬৬ দিন আগে
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড় ও বজ্রপাতে ৯৬ জন নিহত
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়াসহ ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আঘাত হানে বলে আজ বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গাছ উপড়ে পড়া, ঝড়ে মৃত্যুসহ বজ্রপাত ও স্থাপনা ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল বেশ কয়েকটি জেলায় সড়ক ও রেলপথ থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে চেইন স এবং ক্রেন ব্যবহার করেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মে উত্তর ভারতে ঝড়-বজ্রপাত একটি নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র এন শ্রীবাস্তব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি পরিষেবা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঝড়ে বিশেষত গ্রাম এলাকার ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তীব্র বাতাসে আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রয়াগরাজ জেলায় বাসিন্দা রাম কিশোর বলেন, ‘হঠাৎ করে ঝড় উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যায়। ঝড়ে তোড়ে বাড়িঘরের টিন উড়ে যাচ্ছিল। সজোরে গাছ পড়ার শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। আতঙ্কে সবাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল।’
পার্শ্ববর্তী ভদোহি জেলার সাবিত্রী দেবী জানান, ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোমতে তার পরিবার রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তীব্র বাতাসের কারণে ঘরের দেওয়াল কাঁপতে শুরু করলে আমরা ছুটে বাইরে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ছাদটা ধসে পড়ে। রাতটা কোনোমতে আমরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়েছি।’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
১৬৭ দিন আগে