এশিয়া
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ আরও ১৩০
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
২০২ দিন আগে
হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮, গ্রেপ্তার আরও ৮
হংকংয়ের বহুতল ভবন কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ভবন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে।
এ ঘটনায় আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবন সংস্কারকাজে যুক্ত আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে এই আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে এবং পুরোপুরি নেভাতে সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ড শুরুর দুই দিন পরেও দগ্ধ ভবনগুলো থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
হংকং ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অ্যান্ডি ইয়ুং বলেন, কমপ্লেক্সের কিছু অগ্নি-সতর্কীকরণ অ্যালার্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলো অকেজো ছিল। তবে ঠিক কতগুলো অ্যালার্ম অকেজো ছিল বা বাকিগুলোও কার্যকর ছিল কিনা, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইয়ুং বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা এক ভবন থেকে আরেকটিতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্টাইরোফোমের প্যানেল ও জালে ঢাকা বাঁশের মাচায় (স্ক্যাফোল্ডিং) আগুন লেগে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, শুক্রবার ৪০ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে সাত জন পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা-ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (আইসিএসি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্ক্যাফোল্ডিংয়ের সাব-কন্ট্রাক্টর, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং সংস্কার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপকেরা।
২০২ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩১
শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহ থেকে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে কেন্দ্রীয় প্রদেশের চা বাগান এলাকা বাদুল্লা ও নুয়ারা ইলিয়ায় ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়কে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জলাশয় ও নদী প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্লাবনের ফলে কিছু প্রাদেশিক সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে পাথর, কাদামাটি ও গাছপালা রেললাইনের ওপর পড়ায় সেখানে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা লাইনের ওপর জমে থাকা মাটি-পাথরের স্তুপ সরানোর চেষ্টা করছেন। কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে গেছে।
আরও দেখা যায়, নৌবাহিনীর যানবাহনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলম্বো থেকে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার পূর্বে আম্পারা শহরের কাছে বন্যার স্রোতে একটি গাড়ি ভেসে যাচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, গভীর নিম্নচাপজনিত এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০৪ দিন আগে
কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইল পিটিআই
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাগারে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে পিটিআই। পাশাপাশি অবিলম্বে ইমরান খান ও তার পরিবারের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ইমরান খানের সঙ্গে তার বোনদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী কোথায় এবং কেমন আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোনেরা। এ ছাড়া তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
এদিকে, বেশ কিছু এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) থেকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে এক্স-এ ‘Where is Imran Khan?’ বা ‘ইমরান খান কোথায়?’ ট্রেন্ড চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সকালে এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটিআই জানায়, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আফগান ও ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ‘নিকৃষ্ট প্রকৃতির গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে।
দলটির দাবি, ‘বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ও পরিষ্কারভাবে এসব গুজব খণ্ডন করে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিক। সেই সঙ্গে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করুক।
‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া উচিত।’
এ ছাড়া, যারা ‘সংবেদনশীল’ এসব গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ‘জাতির সামনে সত্য উপস্থাপন করার’ দাবিও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে পিটিআই আরও বলেছে, ‘জাতি তাদের নেতার (ইমরান খান) অবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সহ্য করবে না। ইমরানের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।’
একই সঙ্গে দলটি ‘এসব গুজবের মোকাবিলা এবং সত্য উন্মোচনে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, আজ দুপুরে পিটিআই নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির মেয়ে মেহের বানো কুরেশি এক্স-এ লিখেছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো গুজব উদ্বেগজনক।
তিনি বলেছেন, ‘খান সাহেবের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের এবং জাতির সামনে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও তাদের রয়েছে। এসব গুজবের সমাপ্তি টানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হচ্ছে তার বোনদের, আইনজীবী ও দলীয় সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া।’
এর আগে, গতকাল (বুধবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা খাজা আসিফ এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কারাগারে থাকাকালীন সুযোগ-সুবিধা দাবি করায় সমালোচনা করেছিলেন ইমরান খান। অথচ, তিনি নিজেই জেলকক্ষে টিভি ব্যবহার করেন। তার খাবারও আসে কারাগারের বাইরে থেকে। সেখানে তার জন্য ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ বলেন, ‘আমরা ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম। জেলের রান্না করা খাবারই খেতাম। জানুয়ারি মাসে আমাদের মাত্র দুটি কম্বল দেওয়া হয়। গরম পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ ছিল না।’
এর বিপরীতে ইমরানের জন্য ‘ডবল বেড ও মখমলের বিছানা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেল সুপার নিজেই ইমরানের দেখভাল করেন।
আসিফ আরও বলেন, ‘ইমরান খানের উচিত কারাগারের লাউডস্পিকারে তার নিজের বক্তৃতাগুলো শোনা। তার খোদাকে ভয় করা উচিত।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
২০৪ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনও জ্বলছে হংকংয়ের বহুতল ভবন কমপ্লেক্স, নিহত বেড়ে ৫৫
আগুন লাগার এক দিন পরও হংকংয়ের তাই পো এলাকার বহুতল ওয়াং ফুক কোর্ট ভবন কমপ্লেক্স থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরেও ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে এই আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডে ইতোমধ্যে ৫৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীও আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন।
হতাহতের ব্যাপারে আজ (বৃহস্পতিবার) কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমপ্লেক্সের আটটি বহুতল ভবনের মধ্যে সাতটিতে আগুন লেগেছিল। ইতোমধ্যে চারটি ভবনের আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনটি ভবনের আগুনও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সন্ধ্যার মধ্যে অভিযান শেষ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শদাতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করছি, নির্মাণ কোম্পানিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গুরুতর অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
ভবন কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কার্যালয়ও আজ (বৃহস্পতিবার) তল্লাশি করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থেকে নথিপত্রভর্তি বাক্স জব্দ করা হয়েছে। তবে প্রেস্টিজের অফিসে ফোন করা হলেও অ্যাসোসিয়েট প্রেসের সেই ফোনকলে কেউ সাড়া দেয়নি।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, বহুতল ভবনগুলোর বাইরের দেওয়ালে এমন কিছু নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, যেগুলোর অগ্নিরোধী মান ছিল না। এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পরও অক্ষত থাকা পাশের একটি ভবনের প্রতিটি তলার লিফট লবির জানালার পাশে স্টাইরোফোম পেয়েছে পুলিশের তদন্ত দল, যা অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণ কোম্পানিই এগুলো লাগিয়েছিল, কিন্তু এসব স্টাইরোফোম ব্যবহারের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এগুলো নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের নিরাপত্তা সচিব ক্রিস ট্যাং।
২০৪ দিন আগে
হংকংয়ে ৭টি বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৩
হংকং’র নিউ টেরিটরিজের তাই পো এলাকায় একটি আবাসিক কমপ্লেক্সের সাতটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ৯ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, বাকিরা হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭০০ বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আগুন কমপ্লেক্সের বাইরের বাঁশ ও নির্মাণ জাল বরাবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
কমপ্লেক্সে ৮টি আবাসিক ব্লক রয়েছে, প্রায় ২,০০০ অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় ৪,৮০০ জন বসবাস করেন।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একাধিক ভবনে একসাথে আগুন লেগে ধোঁয়া ও শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার ক্রু ল্যাডার ট্রাক ব্যবহার করে উপরের দিকে পানি ছিটিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় একজন ফায়ারফাইটার নিহত হয়েছেন।
অগ্নিনির্বাপনে ১২৮টি ফায়ার ইঞ্জিন ও ৫৭টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অনেক বাসিন্দা আগুনে আটকা পড়ে ফোন করেন।
স্থানীয় কাউন্সিলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, আটকে পড়াদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রবীণ।
তাই পো হলো চীনের শেনজেন সীমান্তের নিকটে একটি শহরতলি।
২০৫ দিন আগে
আফগানিস্তানে বিমান হামলার অভিযোগ নাকচ করল পাকিস্তান
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশে বিমান হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তালেবান সরকার পাকিস্তানকে দায়ী করলেও, ইসলামাবাদ এ অভিযোগ নাকচ করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশে এ হামলা চালিয়েছে। এতে ১ জন নারীসহ ৯টি শিশু মারা গেছে।
তিনি আরও দাবী করেন, কুনার ও পাকতিয়া প্রদেশে পৃথক হামলায় আরও ৪ জন আহত হয়েছে।
মুজাহিদ এ আক্রমণকে নৃশংস উল্লেখ করে একে আফগান ভূখন্ডের ওপর হুমকি হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে সঠিক সময়ে জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, রাওয়ালপিণ্ডির গ্যারিসন শহরে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমদ শরিফ চৌধুরী হামলায় সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাকিস্তান কখনও সাধারণ জনগনকে হামলা করে না। দেশে সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী পাকিস্তানের তালেবানদের টার্গেট করে এ অভিযান শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এর আগে, চলতি বছরের অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়। তবে, দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও তুরস্ক এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
সম্প্রতি, ইরান বিবাদমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরানের জাতীয় সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিরের সেক্রেটারি আলী লারিজানি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, সাম্প্রতিক পাকস্তান সফরে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ হামলার আগের দিন (সোমবার) সকালে ২ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও ১ জন বন্ধুকধারী পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর পেশোয়ারের ফেডারেল কন্সটেবুলারিতে হামলা চালিয়েছিল। এতে সংস্থাটির ৩ জন কর্মকর্তা নিহত ও ১১ জন আহত হয়।
এ হামলায় পাকিস্তানের সন্দেহের তীর সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান বা তাহরিক-ই-তালেবান’র (টিটিপি) দিকে।
ফেডারেল কনস্টেবুলারি হলো পাকিস্তানের একটি আধা-সামরিক বাহিনী, যা সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, আফগানিস্তান থেকে আগত ৩ জঙ্গি এই হামলা চালিয়েছে।
টিটিপি তালেবান থেকে পৃথক একটি গোষ্ঠী।
তবে পাকিস্তানের দাবি, আফগান তালেবানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এই গোষ্ঠীর। টিটিপির অনেক নেতা আফগানিস্তানে লুকিয়ে আছে বলেও ধারণা তাদের।
এর আগে ২০২২ সালে কাবুল টিটিপি এবং পাকিস্তানের সাথে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক অভিযান জোরদার করেছে। জানুয়ারি থেকে, পাকিস্তানের জঙ্গিবিরোধী এই অভিযানে ১ হাজার ৮৭৩ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র।
মঙ্গলবার, সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুতে ‘ভারত-সমর্থিত’ যোদ্ধাদের একটি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী ২২ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে।
সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে নিহত বিদ্রোহীদের আফগানিস্তান এবং ভারত সমর্থিত খাওয়ারিজ হিসেবে উল্লেখ করেছ। তবে কাবুল এবং নয়াদিল্লি এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করেছে।
২০৬ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
নেপালে বিক্ষোভ ১৯ জনের মৃত্যুর পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কে পি) শর্মা অলি।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
এর আগে, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়।
আরও পড়ুন: ১৯ মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল। এর প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
২৮৩ দিন আগে
১৯ মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সহিংসতার পর রাজধানীসহ আরও দুটি শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘পুরনো বন্ধু’ পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ‘প্রিয় বন্ধু’ শি
এরপর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সামাজিক মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির প্রশাসন।
এদিকে, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা অলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সহিংসতার ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
বিক্ষোভের শুরু যেভাবে
গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মূলত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুয়া খবর ও অনলাইন অপরাধ দমনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর নতুন নিয়মনীতি কার্যকর করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নেপালের জনগণ। একে সেন্সরশিপের হাতিয়ার এবং অনলাইনে সরকারের সমালোচনা করা বিরোধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইউটিউবের মালিক গুগল কিংবা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, এর আগে ২০২৩ সালে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে ৯ মাস টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। পরে টিকটক কর্তৃপক্ষ সরকারের নিয়ম মেনে নিবন্ধন নেওয়ার পর তাদের আবার কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হয়।
২৮৩ দিন আগে
আফিগানিস্তানে তৃতীয় ভূমিকম্পের আঘাত, নিহত ২২০০ ছাড়িয়েছে
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে তৃতীয় দফায় ৬.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
জার্মানির হেলমহোলৎস সেন্টার ফর জিওসায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হয়নি।
রোববারের (৩১ আগস্ট) ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্পের পর গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ৫.৫ মাত্রার একটি আফটারশক আঘাত হানে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় ভূমিধসে আরও অনেক সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, রোববারের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ জনে। এই ভূমিকম্প সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববারের ভূমিকম্পটি আফগানিস্তানের দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হেনেছিল। ভূমিকম্পটি পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি প্রদেশে আঘাত হানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম কুনার প্রদেশ।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল
এই অঞ্চলে মাটি ও কাঠের তৈরি বাড়িগুলো ভূমিকম্পের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে অনেক গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ।
তালেবার সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিছু গ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার অব্যাহত ছিল।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই তালেবান কর্তৃপক্ষ আহতদের হেলিকপ্টার বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় যাতায়াত সম্ভব না— এমন স্থান থেকে সরাতে কমান্ডো মোতায়েন করেছে।
কুনার প্রদেশের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইসরায়েল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কারণে হওয়া ভূমিধসে তার বাড়ি, গবাদিপশু ও যাবতীয় সম্পদ চাপা পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাহাড় থেকে সব পাথর নেমে এলো। আমি অতি কষ্টে সন্তানদের বের করতে পেরেছি। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এখনও অনুভব হচ্ছে। ওখানে থাকা একেবারেই অসম্ভব।’
ভূমিকম্পে ক্ষতিগুস্ত নুরগাল অঞ্চলে জাতিসংঘের একটি চিকিৎসা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইসরায়েল। তিনি জানান, ওই শিবিরের অবস্থাও ভালো নয়।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
মুহাম্মদ ইসরায়েল বলেন, ‘আমাদের আসলে কোনো আশ্রয়ই নেই। খোলা আকাশের নিচে ছাড়া আমাদের আর থাকার জায়গা নেই।’
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সম্পদের ঘাটতির কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখল করার পর কঠোর ধর্মীয় আইন চাপিয়ে দেওয়ায় এনজিও ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব কারণে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যাপক হারে কমে গেছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের আফগানিস্তানে ৪৫০ জনেরও কম কর্মী আছেন। অথচ ২০২৩ সালে সর্বশেষ ভূমিকম্পের সময় কর্মী সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০। তাদের হাতে কেবল একটি গুদামঘর আছে, তাতেও কোনো জরুরি মজুত নেই।
আফগানিস্তানে সংস্থাটির যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি পরামর্শক মাইসাম শাফিয়ি বলেন, তহবিল পেলেই আমাদের সরঞ্জাম কিনতে হবে। এতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কিন্তু মানুষের তো এখনই প্রয়োজন। আমাদের হাতে কেবল ১ লাখ ডলার আছে। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৯ লাখ ডলারের ঘাটতি রয়েছে।
নুরগালের জাতিসংঘ শিবিরে আহতদের চিকিৎসা করছেন চিকিৎসক শমশের খান। তিনি জানান, সরবরাহ ইতোমধ্যেই ফুরিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ‘ওষুধও যথেষ্ট নয়, সেবাও যথেষ্ট নয়। এসব মানুষের আরও ওষুধ দরকার, তাঁবু দরকার। তাদের খাবার ও নিরাপদ পানি দরকার। তাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন। তারা চরম কষ্টে আছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে খরা ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে আফগানিস্তান। এরই মধ্যে আঘাত হানল এই ভয়াবহ ভূমিকম্প।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাটছাঁটের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি অর্থায়ন প্রত্যাহার করায় বহু হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
এর সঙ্গে পাকিস্তান ও ইরান থেকে ২০ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিককে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোয় সংকট আরও বেড়েছে। তাদের অনেকেরই বসবাস বা কাজের কোনো জায়গা নেই।
২৮৭ দিন আগে