ইউএস-ও-কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গুলিবর্ষণ, আহত অন্তত ১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে একটি পার্টিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) রাতে ওকলাহোমার কাছে আর্কেডিয়া লেকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শহরটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা ।
এডমন্ড পুলিশের মুখপাত্র এমিলি ওয়ার্ড বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে আর্কেডিয়া লেকের কাছে তরুণদের একটি মিলানায়তনে এই হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় কর্তৃপক্ষ, তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমরা জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা পুরো মেট্রো এলাকায় ছড়িয়ে আছি এবং ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি জানান, ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের স্বাস্থ্যের অবস্থা একেকজনের একেক রকম।
হাসপাতালের এক মুখপাত্রের মতে, ওকলাহোমা সিটির ইন্টেগ্রিস হেলথ ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারে ৯ জন এবং ইন্টেগ্রিস হেলথ এডমন্ড হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ছিলেন। রবিবার রাত পর্যন্ত রোগীদের সবার অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল।
পুলিশ এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি ফ্লায়ারে বোঝা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় লেকের কাছে ‘সানডে ফানডে’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত আর্কেডিয়া লেক একটি কৃত্রিম জলাধার, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, পিকনিক ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই পার্কটি মূলত ওকলাহোমা সিটির এডমন্ড উপশহরে অবস্থিত।
চল্লিশ বছর আগে এই উপশহরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গুলিবর্ষণের জায়গা। ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ডাককর্মী প্যাট্রিক শেরিল ২০ জন সহকর্মীর ওপর গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসে অস্ত্র নিয়ে পর্যালোচনা ছাড়াই দ্রুত এ অনুমোদন দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এতে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির আওতায় ইসরায়েলের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হবে। কুয়েত যুক্তরাষ্ট্র থেতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম কিনতে পারবে।
অন্যদিকে, কাতার প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এপিকেডব্লিউএস কেনার অনুমোদন পেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট এয়ার ও মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় মজুত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এপিকেডব্লিউএস কেনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ মে) কয়েকটি ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এই অস্ত্র বিক্রিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে দেখছে। তাই নিয়ম মেনে অস্ত্র নিয়ে কংগ্রেসে দীর্ঘ পর্যালোচনা হয়নি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রি করতে হলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে আগে বিষয়টি পর্যালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এত জরুরি যে তারা বিস্তারিত কারণ দেখিয়ে নিয়মিত কংগ্রেসের রিভিউ প্রক্রিয়া পাশ কাটয়ে সরাসরি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা, যা আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এপিকেডব্লিউএস মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদি অস্ত্রে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, কুয়েতের কেনা ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম দেশটির রাডারভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ সক্ষমতা আরও উন্নত করবে।
এর আগে, মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য আলাদা করে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওই চুক্তিগুলোর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সিস্টেম ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং কুয়েতের জন্য আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অপরদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে সম্ভাব্য সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে চলমান দ্বন্দে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে।
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, তবে এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে বেইজিং। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত চলমান রয়েছে।
গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিওজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত আছে। তবে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও বড় অস্ত্রভাণ্ডার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদটিতে উল্লেখ করা হয়, চীনের সঙ্গে সংঘাত প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার যে পর্যায়ে রয়েছে, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সীমিত করে দিতে পারে।
২ দিন আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
২ দিন আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ডেমোক্র্যাটদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হেগসেথ
ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয় দিনের মতো ডেমোক্র্যাটদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সিনেটররা প্রথমবারের মতো তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) প্রায় ৬ ঘণ্টার হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানির সময় হেগসেথ ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তাকে যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এ ছাড়াও বেশি বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
একইসঙ্গে তারা ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। কারণ গতকাল (বুধবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র জার্মানিকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়াৎর্সের বিরোধ চলমান।
বুধবারের অভিজ্ঞতা যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতের কৌশল নিয়ে জবাব চাইবেন। পাশাপাশি হেগসেথের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন বা তদারকি ছাড়াই শুরু হয়েছে এই যুদ্ধ। তবে কংগ্রেস নিজেই একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনপ্রণেতারা যেসব প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তার কিছু বুধবারের শুনানিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্ত্র-গোলাবারুদের পেছনে। কিন্তু যুদ্ধ আর কতদিন চলবে বা আরও কত খরচ হতে পারে, এ বিষয়ে হেগসেথ কোনো উত্তর দেননি।
হেগসেথ আরও বলেন, একটি ইরানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হতে পারে। ওই স্কুলটি একটি রেভল্যুশনারি গার্ড ঘাঁটির পাশেই ছিল।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান জানতে চান, কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত কি না। হেগসেথ সরাসরি এর উত্তর দেননি, তবে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনী আগাম পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হেগসেথ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথকে বলেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে স্মিথ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এর এক বছরেরও কম সময় পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার যুক্তি কী?
স্মিথ বলেন, ‘আপনি তো ৬০ দিন আগে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র একটি আসন্ন হুমকি। এখন আপনি বলছেন, সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?’
জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করেনি এবং তাদের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
স্মিথ বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের ঠিক সেই অবস্থাতেই রেখে গেছে, যেখানে আমরা আগেও ছিলাম।’
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। হেগসেথ এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এত অসাধারণ একজন মানুষকে বরখাস্ত করলেন, তার কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা আপনার কাছে নেই।’ তখনই হেগসেথ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
৭ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রোগ্রামার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ চলাকালে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তার লিংকডইনের পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় শিক্ষক এবং ভিডিও গেম ডেভেলপার।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তার প্রোফাইল ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিটিকে তাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ক্যাপ ও গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ওই প্রোফাইল ছবির সঙ্গে শনিবার রাতে ট্রাম্পের পোস্ট করা হোয়াইট হাউসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবির ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ডোমিঙ্গেজ হিলস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একটি খ্রিস্টান ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিন তাং জানান, অ্যালেন তার কয়েকটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সব সময় সামনের সারিতে বসত, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করত এবং প্রায়ই ইমেইলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করত।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মানুষ ছিলেন। এই খবর দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি।’
কলেজ জীবনের শেষ বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্থানীয় টেলিভিশন অ্যালেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সেখানে বয়স্কদের সাহায্যকারী নতুন প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তিনি হুইলচেয়ারের জন্য নতুন ধরনের জরুরি ব্রেকের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া, ফেডারেল ক্যাম্পেইন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি রাজনৈতিক কমিটিতে অ্যালেন ২৫ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
অ্যালেনের অনলাইন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি গত ছয় বছর ধরে সি২ এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত পরামর্শ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি পোস্টে তাকে ‘মাসসেরা শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ছাড়াও, লিংকডইনের একটি পোস্টে অ্যালেন উল্লেখ করেন, তিনি স্টিম প্ল্যাটফর্মের জন্য আণবিক রসায়নভিত্তিক একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তিনি মহাকাশকে প্রেক্ষাপট করে একটি নতুন ‘টপ-ডাউন শুটার’ কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছেন।
৯ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার হাতে ৭ সন্তানসহ ৮ শিশু খুন
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় নিজের ৭ সন্তানসহ মোট আটটি শিশুকে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ডাউনটাউন শ্রিভপোর্টের দক্ষিণে একটি এলাকার দুটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘাতক ব্যক্তির নাম শামার এলকিন্স (৩১)। তিনি লুইজিয়ানার শ্রিভপোর্ট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানান, সব শিশু একই বাড়িতে নিহত হয়েছে এবং তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। এসব শিশুদের মধ্যে ৩ জন ছেলে ও ৫ জন মেয়ে ছিল। এই হামলা শ্রিভপোর্ট এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে অন্যতম। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ক্রিস বর্ডেলন জানান, দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে একজন আততায়ী এলকিন্সের স্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারী এলকিন্সকে ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
তবে কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা এখনও জানা না গেলেও বর্ডেলন বলেন, এটি যে ‘সম্পূর্ণরূপে পারিবারিক’ ঘটনা, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত।
শ্রিভপোর্ট পুলিশের প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেন, এই ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কী বলব বুঝতে পারছি না। এমন একটি ঘটনাও যে ঘটতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।
বর্ডেলন বলেন, এলকিন্সকে পুলিশ আগে থেকেই চিনত। অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় ২০১৯ সালে তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কোনো পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) সকালে সূর্য ওঠার আগেই এই অর্তকিত হামলা শুরু হয়। প্রথমে তিনি একটি বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে গুলি করেন। এ ঘটনার পরপরই আরেকটি বাড়িতে গিয়ে তিনি একসঙ্গে ৮টি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেন। বাড়ির ভেতর থেকে ৭ শিশু এবং বাড়ির ছাদ থেকে আরও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র বর্ডেলন জানান, আরেকটি শিশু ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুখপাত্র ট্যামি ফেল্পস জানান, কয়েকটি শিশু পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এলকিন্স
আহত নারীদের মধ্যে একজনের চাচাতো বোন ক্রিস্টাল ব্রাউন জানান, শামার এলকিন্স ও তার স্ত্রী বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এবং আজ (সোমবার) তাদের আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছিল।
তিনি বলেন, ‘এলকিন্স তার সন্তানদের হত্যা করেছে এবং স্ত্রীকে আহত করেছে।’
তিনি আরও জানান, এলকিন্সের তার স্ত্রীর সঙ্গে চারটি সন্তান এবং কাছাকাছি বসবাসকারী আরেক নারীর সঙ্গে আরও তিনটি সন্তান ছিল।
শিশুদের সম্পর্কে ব্রাউন বলেন, ‘শিশুরা সবাই খুব হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল এবং মিষ্টি স্বভাবের ছিল।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী যা জানালেন
ঘটনাস্থল থেকে দুই বাড়ি দূরে বসবাস করা লিজা ডেমিং জানান, দুটি গুলির শব্দ শোনার পরপরই তার বাড়ির সিসি ক্যামেরায় এলকিন্সকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে ছাদে একটি শিশুর মরদেহ ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেখলাম যে তিনি বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন।’
নিকটবর্তী সেন্ট গ্যাব্রিয়েল কমিউনিটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পাদ্রি মার্টি টি জনসন সিনিয়র জানান, ওই বাড়িটি পরিবারটিকে ভাড়া দিয়েছিলেন তারই এক কর্মচারী। তবে, তিনি নিজে তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
প্যারিশের জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, একটি পারিবারিক বিরোধ অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে দিয়ে শেষ হলো।
শোকে স্তব্ধ শ্রিভপোর্ট
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইউএসএ টুডে এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যৌথ তথ্য অনুযায়ী, রবিবারে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিকাগোর একটি উপশহরে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গম্ভীর অবস্থায় দেখা যায়। তারা ওই এলাকার মানুষের কাছে ধৈর্য ও প্রার্থনা কামনা করেন।
শহরের মেয়র টম আর্সেনো বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক পরিস্থিতি; সম্ভবত আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। এটি ছিল দুঃস্বপ্নময় একটি সকাল।’
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর শোকাহত মানুষজন ৭৯তম স্ট্রিটের ওই একতলা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে পুষ্প অর্পণ করেন। সন্ধ্যায় নিকটবর্তী এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করে এলাকাবাসী।
তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই ঘটনা সন্তানদের আরও কাছে টেনে নিতে, জড়িয়ে ধরতে এবং আপনি তাদের কতটা ভালোবাসেন, তা বলতে আপনাকে বাধ্য করবে।’
১৫ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সোমবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও এই সফরের খবরে চলতি সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি তেহরান। এদিকে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। একদিকে ইরানের হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এর আগে, রবিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা নিজেরা (প্রণালি দিয়ে) চলাচল করতে না পারলে অন্যদের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা যদি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
তবে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেন, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শান্তি চায় তেহরান। তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো পশ্চাদপসরণ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে বহাল থাকবে’, তখন ইরানও জানায় যে তারা প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ বহাল রাখবে।
শনিবার সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলেও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর পর অন্য জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পক্ষগুলোকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই শনিবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে আবারও ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। তার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তেহরানের জন্য এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে অবরোধ দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আবারও পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন এবং লেবাননে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
নতুন চুক্তির পথে অগ্রগতির চেষ্টায় পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবস্থার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য ‘দূর করার’ চেষ্টা করছে।
রবিবার ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নতুন প্রস্তাব’ তারা পর্যালোচনা করছে।
তবে সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না এবং এ ধারণাকে তিনি ‘শুরু করার মতো কোনো বিষয়ই নয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় ইউরেনিয়াম-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বলেন, ‘যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত।’
১৬ দিন আগে
ইরান যুদ্ধ শেষের পথে: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ফলে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি। আমি বলতে চাচ্ছি, আমি এটাকে শেষের খুব কাছাকাছি হিসেবেই দেখছি।
এদিকে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা প্রেসিডেন্টর যুদ্ধকালীন ক্ষমতা সীমিত করতে বুধবার আরেকটি ভোটের পরিকল্পনা করছেন।
যুদ্ধ ক্ষমতাবিষয়ক প্রস্তাব উত্থাপনকারী সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ বলেছেন, ট্রাম্পের এই যুদ্ধ আমেরিকানদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এটি দেশের বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে এবং আরও প্রাণহানির আগেই সিনেটের উচিত তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা। এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আমাদের ভোট দেওয়া উচিত।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কেবল কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণা করার এখতিয়ার রয়েছে। সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষের ডেমোক্র্যাটরা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার বিধান চালু করার জন্য বারবার প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করছেন। তবে এই প্রচেষ্টাগুলো রিপাবলিকানদের কারণে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কারণ উভয় কক্ষেই তারা সামান্য ব্যবধানে সংখ্যা গরিষ্ঠতা বজায় রেখেছেন।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেছেন, যতদিন এই সংঘাত চলবে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতি সপ্তাহে এই ইস্যুতে ভোট দিতে বাধ্য করবে।
২০ দিন আগে