ইউএস-ও-কানাডা
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
২২ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
২৫ দিন আগে
যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে বাড়ছে ক্ষুধার ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতা’য় উদ্বেগ
যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গত আট বছরে বিশ্বজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতার’ ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহে মানুষ যেসব বাজার ব্যবহার করে, সেখানে ১ হাজার ২৬১টি হামলা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের লক্ষ্য করে ৮৬৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৮ সালের ২৪১৭ নম্বর প্রস্তাবের পরবর্তী সময়কাল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করাকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর থেকে পরবর্তী সময়ের ওপর এই বিশ্লেষণটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সংকটকে ক্রমেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে; যার অংশ হিসেবে গাজা, সুদান, লেবানন এবং হাইতিসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজা, সুদান, লেবানন ও হাইতিসহ বিভিন্ন দেশে যেসব আগ্রাসন হয়েছে, তার সবকটিতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে বেসামরিক মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার এক পৈশাচিক খেলায় মেতে ওঠে হামলাকারী প্রতিপক্ষ। এসব ক্ষেত্রে ক্ষুধাকে যুদ্ধের অমোঘ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ইনসিকিউরিটি ইনসাইট’ নামের একটি সংস্থার সংকলিত উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি দেশে ২১ হাজার ৪০৩টি ঘটনায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অথচ ওই বছরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মানবিক সহায়তা প্রদানে বেআইনি বাধা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করেছিল।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই সময়ে কৃষিজমিতে ১ হাজার ৯০৯টি এবং ফসলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পানি অবকাঠামোতে ৫৬৩টি সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার কারণে বিশ্বের ৪২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
২৫ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক ছিদ্র: ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রাসায়নিক ট্যাংকে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশটির সরকার। ট্যাংকটিতে ছিদ্র হয়ে প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় ওই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ জানায়, অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ শহরে অবস্থিত একটি অ্যারোস্পেস প্লাস্টিক কারখানায় একটি স্টোরেজ ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং বাতাসে বাষ্প ছাড়তে শুরু করে। ট্যাংকটিতে ৬ থেকে ৭ হাজার গ্যালন ‘মিথাইল মেথাক্রিলেট’ নামক রাসায়নিক পদার্থ ছিল।
জিকেএন অ্যারোস্পেস নামের ওই কারখানাটি মূলত বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।
অরেঞ্জ কাউন্টি দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রেগ কোভে শুক্রবার (২২ মে) জানান, ছিদ্র হওয়ার কারণে যেকোনো সময় ট্যাংকটি ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রাসায়নিক মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা এটি বিস্ফোরিতও হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই ট্যাংকটি একসময় ফেটে যাবেই, তবে কখন হবে, তা আমরা জানি না। এটি কখন বা কীভাবে ঠেকানো যাবে, তা বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তবে একই দিনে (শুক্রবার) একটি আপডেটে কোভে জানান, কর্তৃপক্ষ ট্যাংকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা সমস্যা সমাধানের জন্য কিছুটা সময় দিচ্ছে।
গার্ডেন গ্রোভের বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সারা রাত ধরে ছিদ্র বন্ধের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর অরেঞ্জ কাউন্টি শহরের আরও ৫টি জায়গার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার আদেশ জারি করা হয়। জায়গাগুলো যথাক্রমে, সাইপ্রেস, স্ট্যান্টন, অ্যানাহেইম, বুয়েনা পার্ক এবং ওয়েস্টমিনস্টার।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গার্ডেন গ্রোভ লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ডিজনিল্যান্ডের দুটি থিম পার্ক থেকে দেড় কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ওই কারখানাটির অবস্থান। তবে ডিজনিল্যান্ড থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা এখনও জারি করেনি কর্তৃপক্ষ।
ড্যানি ফামন জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার রুমমেট দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যেতে বলেন। ফাম আগের রাতে একটি ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁয় অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। বাসায় ফিরে তার খবরটি জানা হয়েছিল না।
তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে অনেক আঘাতের মতো ছিল। আমি জানতাম না যে এটা কতটা গুরুতর হবে। এরকম কিছু যে ঘটতে পারে তা আমি কখনো ভাবিনি।’
তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু তার মানিব্যাগ আর পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়ে পড়েন এবং পাশের একটি শহরে এক বন্ধুর রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে রাতে কোথায় থাকবেন। সম্ভবত কয়েকদিন তার এক কাপড়েই থাকতে হবে বলে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজিনা চিনসিও-কোয়ং জানান, রাসায়নিক পদার্থটি গরম হলে এমন বাষ্প নির্গত হয় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও চুলকানি, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
ক্রেগ কোভে জানান, কর্মীরা প্রথমে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের মধ্যে একটিকে সারাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে শুক্রবার সকালে জানা যায়, অন্য ট্যাংকটির অবস্থা আরও খারাপ।
রাসায়নিক পদার্থ যাতে নর্দমায় বা কাছাকাছি কোনো খাল বা সমুদ্রের পানিতে মিশতে না পারে, সেজন্য বালির থলে দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
জিকেএন অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র ইমেইলে জানান, ‘এই মুহূর্তে কোনো আহতের খবর নেই। আমাদের কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং আশেপাশের সমাজের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আরও তথ্য নিশ্চিত হলে আমরা আপডেট জানাব।’
২৭ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি দাবানল শহরতলির দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানকার বাড়িঘরসহ জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এ দুর্যোগের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) বায়ুচালিত স্যান্ডি ফায়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সিমি ভ্যালির উপরের পাহাড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।
ভেন্টুরা কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) সকালের মধ্যে এটি দুই বর্গমাইলেরও (৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি শুকনো ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলেছে এবং কমপক্ষে একটি বাড়ি ধ্বংস করেছে।
বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু ডাউড জানান, আগুন প্রথমে ঘণ্টায় ৩০ মাইল (৪৮ কিলোমিটার) ছাড়িয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু রাতভর বাতাস শান্ত হওয়ায় দমকলকর্মীরা সহায়তা পেয়েছেন।
উড বলেন, ‘আবহাওয়ার উন্নত পরিস্থিতিতে আমরা এই আগুনের বিরুদ্ধে অনেক অগ্রগতি করেছি। বাতাস আবার বাড়ার আগেই আরও অগ্রগতি করার আশা করছে দলগুলো।’
আগুন ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার শহর সিমি ভ্যালির বেশ কয়েকটি পাড়া থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। বিমান থেকে পানি ফেলার মধ্যে শহরটি ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
অন্যদিকে, দমকলকর্মীরা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের সান্তা রোজা দ্বীপে ২৩ বর্গমাইল বিস্তৃত একটি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছেন। সেখানকার আগুনে একটি কেবিন ও একটি সরঞ্জাম শেড ধ্বংস হয়েছে এবং ১১ জন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৩০ দিন আগে
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিউজিল্যান্ড সরকারের, চাকরি হারাতে পারেন ৯ হাজার কর্মী
সরকারি ব্যয় কমাতে নিউজিল্যান্ড সরকার আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে ১৪ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) নিউজিল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস এ ঘোষণা দেন।
উইলিস জানান, সরকারি সংস্থাগুলোতে এখন থেকে টানা ৩ বছর বাজেট কমিয়ে দেবে নিউজিল্যান্ড সরকার। এর আওতায় সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন তারা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির পুরো সরকারি খাতে দ্রুত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেবে সরকার।
নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে উইলিস বলেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, রাজধানী ওয়েলিংটনে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৭০০ জন। এই সংখ্যা কমিয়ে ৫৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ ৮ হাজার ৭০০ জন সরকারি চাকরিজীবী ছাঁটাই করা হবে।
উইলিস বলেন, এর ফলে নিউজিল্যান্ডের ৫৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে সরকারি কর্মচারীর হার ১ শতাংশে নেমে আসবে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে সরকারি কর্মচারীর হার ১ দশমিক ২ শতাংশ।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে এত বেশি সংখ্যক সরকারি কর্মীর ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব না। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এত বেশি সরকারি কর্মী নেই। তবে সামরিক বাহিনী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের সরকারি চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে না বলে জানান তিনি।
এছাড়া, এই ছাঁটাই কার্যক্রমের আওতায় ৩৯টি সরকারি বিভাগ ও সংস্থার সংখ্যাও কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে কোন বিভাগ ও সংস্থাগুলো বাদ পড়বে, তা অবশ্য তিনি উল্লেখ করেননি। তবে এই কার্যক্রম এখনই শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উইলিস। তবে ভবিষ্যতে কারা চাকরি হারাতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানাননি তিনি।
নিউজিল্যান্ডে ২০২৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্য-ডানপন্থি সরকার। এর আগে, লাক্সন সরকার তার নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি খাত ছোট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিকে, আগামী নভেম্বরে দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স বলেন, সম্মুখ সারির সরকারি চকিরিজীবীদের ছাঁটাইয়ের বাইরে রেখে এত বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী ছাঁটাই করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়।
হাজারো সরকারি কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের মুখপাত্র ডুয়েন লিও বলেন, সরকারের এমন পদক্ষেপ ধ্বংসাত্মক।
এদিকে ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার দাবি করেছে, এর আগে মধ্য-বামপন্থি লেবার সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় লেবার সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮ হাজার থেকে বেড়ে ৬৩ হাজারে পৌঁছায়।
উইলিস আরও জানান, মে মাসের শেষ দিকে ঘোষিত সরকারি বাজেটে সরকারি সংস্থাগুলোর বরাদ্দ ২ শতাংশ কমানো হবে। সরকার সামনের নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হলে পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ করে বাজেট কমানো হবে।
তিনি উল্লেখ বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাত এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। তাই সরকারি সংস্থাগুলোতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি চলছে। এরই মধ্যে সরকারি খাতে এই কাটছাটের ঘোষণা এলো।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধার করার প্রমাণ দেখাতে চাইছেন। এ সময় তিনি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভালো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
মঙ্গলবার লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাতে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। এ সময় সরকারি চাকরি কোনো কর্মসংস্থান তৈরির প্রকল্প নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৩১ দিন আগে
ইরানের জন্য ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’ বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত শান্তি আলোচনা বাতিল করা হয়েছে এবং ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানের দ্রুত নড়েচড়ে বসা উচিত, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ সময়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার পর নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল এসব কথা জানায়।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, ওয়াশিংটনের এই আপোষহীন মনোভাব আলোচনাকে ‘স্থবির’ করে দেবে।
এই সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি ‘ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। সেই সঙ্গে তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওই দাবিগুলো ছিল যথেষ্ট ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— সব রণাঙ্গনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সমাপ্তি যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলারও অবসান ঘটাবে, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল (রবিবার) জানায়, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে পাঁচটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখাতে হবে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্থানান্তর করতে হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের বিষয়, ইরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন। এটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের দাবি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তবে পরবর্তীতে আলোচনা সহজ করার জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মাঝে মাঝে গুলি বিনিময় সত্ত্বেও মোটামুটিভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
৩২ দিন আগে
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ছে: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুপক্ষই সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র।
শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এসব কথা জানান। এক্স পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, যুদ্ধের বিষয়ে আরও অগ্রগতি আনতে ১৬ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে।
পিগট জানান, আগামী ২-৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করবে ইসরায়েল ও লেবানন। এর আগে তাদের সামরিক প্রতিনিধিরা ২৯ মে পেন্টাগনে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করবেন।
দুই দেশ বৃহস্পতি (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) এখানে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনা করেছে, যাকে পিগট ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন, সৈন্য, সামরিক বুলডোজার এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৮৮ জন আহত হয়েছেন।
৩৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ অভিযোগ ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই একটি ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ইরানিরা ‘কখনোই কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না’।
এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি, এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব হবে।’
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে।
এছাড়া, তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী খালি দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত হানে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর লক্ষ্য লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিবিড়’ আলোচনার উদ্দেশ্য হবে ‘ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা এবং লেবাননের জন্য সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। তবে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সব পক্ষ যেন আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সংকটের মূল কারণ’সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘উসকানিবিহীন হামলা’।
পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানান দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, ‘আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে স্থানীয় এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং এতে ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেমন আমরা তাদের আবারও গুঁড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে আরও কঠোর ও আরও সহিংসভাবে তাদের ওপর আঘাত হানা হবে।’
৪১ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ২ ‘মাদক কারবারি’ নিহত
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে আরও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা। এ ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের বুকে নৌকাসদৃশ একটি কালো বস্তুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পরপরই জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল অনুমোদন করেছেন। এই কৌশলের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধ থেকে মাদক কার্টেল বা অপরাধী চক্র নির্মূল করাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমা, বিশেষ করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ধ্বংস করা এসব নৌকায় আসলেও কোনো মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের হামলার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ওই অঞ্চলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অপরাধী চক্রগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তিনি মাদক পাচারকারী এবং আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সাগরে এভাবে নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা।
৪১ দিন আগে