ইউএস-ও-কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে ইন্টারস্টেট ৯৫ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গাড়িতে চড়ে একটি পরিবার ম্যাসাচুসেটস থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের ৪ সদস্যই নিহত হয়েছেন।
ক্যারোলিনা বুবলিক নামের ওই পরিবারের এক সদস্য বলেন, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠানটি রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে আনন্দের এই আয়োজনের মধ্যেই দিমিত্রি ও একাতেরিনা দোনচেভ এবং তাদের দুই সন্তান এমিলি ও মার্কের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। পুরো একটি পরিবারকে হারিয়ে ফেললাম। তারা আমাদের খুব কাছের মানূষ ছিল।’
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ২টা ৩৫ মিনিটে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে আন্তঃরাজ্য ৯৫ মহাসড়কে সড়ক মেরামতকাজ চলায় সেখানে কয়েকটি গাড়ি ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় একটি মোটরকোচ বাস গাড়িগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে। এর ফলে একাধিক গাড়ির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, বাসটি প্রথমে একটি শেভ্রোলেট গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় শেভ্রোলেট গাড়িতে থাকা ম্যাসাচুসেটসের উরচেস্টারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী প্রিসিলা মাফালদাও নিহত হন। পরে সেটি গিয়ে দোনচেভ পরিবারের গাড়িটিকে আঘাত ধাক্কা দেয়। এতে তাদের পরিবারের ৪ জন নিহত হন।
মেরি ওয়াশিংটন হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতদের বেশিরভাগকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাসচালক ৪৮ বছর বয়সী জিং এস. দংয়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্ট্যাফোর্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরদের কার্যালয় জানিয়েছে, বাসচালক জিং এস দংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন।
মামলার প্রসিকিউটররা এক বিবৃতিতে জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত দংয়ের প্রথম আদালতে হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হবে না। এরই মধ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দং যে অবহেলায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
৬৪ দিন আগে
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা: বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’ একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি সেগুলো উপেক্ষা করে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত জাহাজটিতে চড়েনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা মোট ছয়টি জাহাজকে থামানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১৬টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় ৭ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বড় অংশের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোক্তা ও খাদ্য উৎপাদকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের নিজস্ব রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ আরও কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, এই পথে যেকোনো নৌযান চলাচলের জন্য তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শান্তিপূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন আলী আল থানি শনিবার বলেন, তারা প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের বিরোধী। তবে সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে এবং তা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হতে পারে।
এর আগে, একই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাইন শনাক্ত বা ধ্বংস করতে পারেনি।
৬৫ দিন আগে
যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল ও রুশ বাহিনী
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বাহিনী ও রুশ বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের যৌন সহিংসতা-বিষয়ক ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যানের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তৈরি জাতিসংঘের ৩৫ পৃষ্ঠার বার্ষিক এ প্রতিবেদনটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের মিশন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত ১২টি দেশের ৭৭টি সরকারি ও বেসরকারি পক্ষকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৫ সালের এই তালিকায় রয়েছে ইসরায়েলের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নাম। একইসঙ্গে এই তালিকায় হামাসের নামও রয়েছে । ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর হামাস আগে থেকেই কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগে এ বছর রাশিয়ার সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের নামও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
তালিকায় নাম আসার পর ইসরায়েল ও রাশিয়া—দুই দেশের রাষ্ট্রদূতই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘আমরা মহাসচিবকে চিঠি দেব। চিঠিতে জানানো হবে, প্রতিবেদনে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আগের মতোই আবারও রাশিয়াকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করে রাশিয়াও একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মকাণ্ডে হতাশ। গুতেরেস ইসরায়েলকে হামাস, আইএস এবং বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একই কালো তালিকায় রেখেছেন।’
ড্যানন আরও জানান, প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর জবাবে ইসরায়েল আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ ডিসেম্বর মাসে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার একটি ধারাবাহিক চিত্র নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি গাজা ও পশ্চিম তীরের ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন ছেলে ও এক মেয়ে শিশুর ওপর সংঘাতকালে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালে। বাকি ১৮টি ঘটনা ঘটে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আরও করা হয়েছে, এসব নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌনাঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি, স্তন ও যৌনাঙ্গ স্পর্শ, অযৌক্তিকভাবে পোশাক খুলে শরীর তল্লাশি এবং ধর্ষণের হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে অন্তত ৯ জন ভুক্তভোগীর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গাজার বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ একাধিকবার ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েলের কারা বিভাগ, বিশেষ বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ওঠা সকল অভিযোগ তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অভিযোগগুলো তারা পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করেছে। সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনে হামাসের বিরুদ্ধে আবারও যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অভিযোগের অনেক তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার জাতিসংঘকে এখনও দিচ্ছে না ইসরায়েল সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এরপরও রাশিয়া এবং রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১০টি ঘটনা যাচাই করতে পেরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ২০২৫ সালের আগের সময়ের। তবে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় রাখা হয়নি।
৬৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) টেক্সাসের ডালাস শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে ওক ক্লিফ এলাকার একটি দোতলা আবাসিক ভবনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গ্যাস লিকের খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের মুখপাত্র জেসন ইভানস জানান, এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই ভবনে কতজন বাসিন্দা ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভবনটিতে আগুন লাগার পর অনেক দূর থেকেও বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ইভানস জানান, ভবনটির ধ্বংসস্তূপে দমকলকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেখানে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের অর্ধেকেরও কম অংশে অনুসন্ধান চালাতে পেরেছেন। এই ভবনের কিছু অংশ সরাতে উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রও ব্যবহার করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবনটিতে ভয়াবহ মাত্রায় আগুন লেগেছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অসংখ্য দমকলকর্মী কাজ করছেন। ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের সহকারী প্রধান জেমস রাস বলেন, ‘ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আমাদের সদস্যরা এখনও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস এনার্জি এক বিবৃতিতে জানায়, দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি নির্মাণকর্মী দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির কর্মকর্তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভবনটির বাসিন্দা ক্যাসি প্রোক্টর বলেন, বিস্ফোরণের এক দিন আগে তার মা ঘরের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তবে তার পোষা বিড়াল শার্ল ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছে।
প্রোক্টর বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে এখানে বসে কাঁদছি। কী করব বুঝতে পারছি না। এই মুহূর্তে আমার কাছে গায়ে থাকা এই কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই।’
অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ কাছের একটি হাইস্কুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
৬৬ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সমঝোতার খবর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে দুপক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে কয়েক সপ্তাহের অচল কূটনীতির পর বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ৬০ দিনের এই মেয়াদ আলোচনা শেষ করার সময়সীমা কি না, তাও পরিষ্কার নয়। কারণ বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রয়েছে।
উপসাগরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা
গত কয়েক দিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। বৃহস্পতিবারও সীমিত পরিসরে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষ।
ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি ড্রোন অভিযান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর তেহরান কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথম এ প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশ করে। পরে হোয়াইট হাউস আল জাজিরার কাছে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে।
খসড়া চুক্তিতে কী আছে
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানকে স্থগিত থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
৬৬ দিন আগে
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
৬৭ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
৭০ দিন আগে
যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে বাড়ছে ক্ষুধার ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতা’য় উদ্বেগ
যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গত আট বছরে বিশ্বজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি ‘খাদ্য-সম্পর্কিত সহিংসতার’ ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহে মানুষ যেসব বাজার ব্যবহার করে, সেখানে ১ হাজার ২৬১টি হামলা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের লক্ষ্য করে ৮৬৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৮ সালের ২৪১৭ নম্বর প্রস্তাবের পরবর্তী সময়কাল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করাকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর থেকে পরবর্তী সময়ের ওপর এই বিশ্লেষণটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সংকটকে ক্রমেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে; যার অংশ হিসেবে গাজা, সুদান, লেবানন এবং হাইতিসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজা, সুদান, লেবানন ও হাইতিসহ বিভিন্ন দেশে যেসব আগ্রাসন হয়েছে, তার সবকটিতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে বেসামরিক মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার এক পৈশাচিক খেলায় মেতে ওঠে হামলাকারী প্রতিপক্ষ। এসব ক্ষেত্রে ক্ষুধাকে যুদ্ধের অমোঘ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ইনসিকিউরিটি ইনসাইট’ নামের একটি সংস্থার সংকলিত উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি দেশে ২১ হাজার ৪০৩টি ঘটনায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অথচ ওই বছরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মানবিক সহায়তা প্রদানে বেআইনি বাধা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করেছিল।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই সময়ে কৃষিজমিতে ১ হাজার ৯০৯টি এবং ফসলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পানি অবকাঠামোতে ৫৬৩টি সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার কারণে বিশ্বের ৪২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
৭১ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক ছিদ্র: ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রাসায়নিক ট্যাংকে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশটির সরকার। ট্যাংকটিতে ছিদ্র হয়ে প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় ওই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ জানায়, অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ শহরে অবস্থিত একটি অ্যারোস্পেস প্লাস্টিক কারখানায় একটি স্টোরেজ ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং বাতাসে বাষ্প ছাড়তে শুরু করে। ট্যাংকটিতে ৬ থেকে ৭ হাজার গ্যালন ‘মিথাইল মেথাক্রিলেট’ নামক রাসায়নিক পদার্থ ছিল।
জিকেএন অ্যারোস্পেস নামের ওই কারখানাটি মূলত বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।
অরেঞ্জ কাউন্টি দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রেগ কোভে শুক্রবার (২২ মে) জানান, ছিদ্র হওয়ার কারণে যেকোনো সময় ট্যাংকটি ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রাসায়নিক মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা এটি বিস্ফোরিতও হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই ট্যাংকটি একসময় ফেটে যাবেই, তবে কখন হবে, তা আমরা জানি না। এটি কখন বা কীভাবে ঠেকানো যাবে, তা বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তবে একই দিনে (শুক্রবার) একটি আপডেটে কোভে জানান, কর্তৃপক্ষ ট্যাংকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা সমস্যা সমাধানের জন্য কিছুটা সময় দিচ্ছে।
গার্ডেন গ্রোভের বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সারা রাত ধরে ছিদ্র বন্ধের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর অরেঞ্জ কাউন্টি শহরের আরও ৫টি জায়গার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার আদেশ জারি করা হয়। জায়গাগুলো যথাক্রমে, সাইপ্রেস, স্ট্যান্টন, অ্যানাহেইম, বুয়েনা পার্ক এবং ওয়েস্টমিনস্টার।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গার্ডেন গ্রোভ লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ডিজনিল্যান্ডের দুটি থিম পার্ক থেকে দেড় কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ওই কারখানাটির অবস্থান। তবে ডিজনিল্যান্ড থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা এখনও জারি করেনি কর্তৃপক্ষ।
ড্যানি ফামন জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার রুমমেট দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যেতে বলেন। ফাম আগের রাতে একটি ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁয় অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। বাসায় ফিরে তার খবরটি জানা হয়েছিল না।
তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে অনেক আঘাতের মতো ছিল। আমি জানতাম না যে এটা কতটা গুরুতর হবে। এরকম কিছু যে ঘটতে পারে তা আমি কখনো ভাবিনি।’
তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু তার মানিব্যাগ আর পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়ে পড়েন এবং পাশের একটি শহরে এক বন্ধুর রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে রাতে কোথায় থাকবেন। সম্ভবত কয়েকদিন তার এক কাপড়েই থাকতে হবে বলে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজিনা চিনসিও-কোয়ং জানান, রাসায়নিক পদার্থটি গরম হলে এমন বাষ্প নির্গত হয় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও চুলকানি, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
ক্রেগ কোভে জানান, কর্মীরা প্রথমে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের মধ্যে একটিকে সারাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে শুক্রবার সকালে জানা যায়, অন্য ট্যাংকটির অবস্থা আরও খারাপ।
রাসায়নিক পদার্থ যাতে নর্দমায় বা কাছাকাছি কোনো খাল বা সমুদ্রের পানিতে মিশতে না পারে, সেজন্য বালির থলে দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
জিকেএন অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র ইমেইলে জানান, ‘এই মুহূর্তে কোনো আহতের খবর নেই। আমাদের কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং আশেপাশের সমাজের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আরও তথ্য নিশ্চিত হলে আমরা আপডেট জানাব।’
৭২ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি দাবানল শহরতলির দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানকার বাড়িঘরসহ জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এ দুর্যোগের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) বায়ুচালিত স্যান্ডি ফায়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সিমি ভ্যালির উপরের পাহাড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।
ভেন্টুরা কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) সকালের মধ্যে এটি দুই বর্গমাইলেরও (৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি শুকনো ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলেছে এবং কমপক্ষে একটি বাড়ি ধ্বংস করেছে।
বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু ডাউড জানান, আগুন প্রথমে ঘণ্টায় ৩০ মাইল (৪৮ কিলোমিটার) ছাড়িয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু রাতভর বাতাস শান্ত হওয়ায় দমকলকর্মীরা সহায়তা পেয়েছেন।
উড বলেন, ‘আবহাওয়ার উন্নত পরিস্থিতিতে আমরা এই আগুনের বিরুদ্ধে অনেক অগ্রগতি করেছি। বাতাস আবার বাড়ার আগেই আরও অগ্রগতি করার আশা করছে দলগুলো।’
আগুন ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার শহর সিমি ভ্যালির বেশ কয়েকটি পাড়া থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। বিমান থেকে পানি ফেলার মধ্যে শহরটি ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
অন্যদিকে, দমকলকর্মীরা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের সান্তা রোজা দ্বীপে ২৩ বর্গমাইল বিস্তৃত একটি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছেন। সেখানকার আগুনে একটি কেবিন ও একটি সরঞ্জাম শেড ধ্বংস হয়েছে এবং ১১ জন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৭৫ দিন আগে