খুলনা
ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঝিনাইদহে আটক ১২
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১২ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়া চোরাচালানবিরোধী এক অভিযানে ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব তথ্য জানান।
এর আগে মধ্যরাতে সীমান্তবর্তী মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে ওই সাত পুরুষ ও পাঁচ নারীকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নাইম মোল্যা (২২), সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কলাটুপি গ্রামের শহিদুল মুফতি (৩৫), যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের নুর নবী (২৪), মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রামের শুভ বিশ্বাস (২৪), নড়াইল সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আকাশ রায় (২৩), ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর পাড়ার সজিব (২০) ও যশোর সদর উপজেলার সাখারীগাতি গ্রামের ইমামুল হোসেন (২৬)। বিজিবির পক্ষ থেকে আটক পাঁচ নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে সকালে মহেশপুর সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করেছে বিজিবি।
সকাল ৬টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের গয়েশপুর বিওপির সদস্যরা গয়েশপুর গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে এসব কীটনাশক জব্দ করেন।
৬ দিন আগে
মাগুরায় যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
মাগুরায় বাস কাউন্টার থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
নিহত সাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকেরকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি সাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাকেরের মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
৭ দিন আগে
যশোরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি, যুবককে খুঁজছে পুলিশ
যশোরের শার্শায় চাঁদা দাবি ও বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটকে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত শরিফুল উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের ফুলসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস একই ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি এলাকার সামসুর বিশ্বাসের ছেলে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি সালিশকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে বিপুলকে মারধর করেন শরিফুল। তার পর থেকে তিনি বিপুলের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। এসব নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে সাড়াতলা বাজারে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে হঠাৎ বিপুলের সামনে পিস্তল প্রদর্শন করেন শরিফুল এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে শরিফুল ও শাওন নামের আরেক যুবক মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বিপুল বলেন, ‘প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চা। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করেছেন শরিফুল। জনসমক্ষে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ওসি শামিনুল জানান, এ ঘটনায় শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে জামাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুর আটক
ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের জেরে জামাইকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হুদারাড়ী পাড়া গ্রামের কারী গোলামের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বলিভদ্রপুর গ্রামের মৃত গাজী আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য এনামুল হোসেন জানান, গতকাল (সোমবার) শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান। মেয়ের ওপর নির্যাতনের কারণে শ্বশুরের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল। এর জেরে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তরিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে কুড়াল দিয়ে জামাইকে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে আটক করে।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর এ বিষয়ে জানানো যাবে।
৭ দিন আগে
রিসোর্টে আগুন: যশোরের একই পরিবারের ৪ সদস্য এখনও নিখোঁজ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য এখনও নিখোঁজ।
এ চারজন হলেন যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১) ও তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়াতে বসবাস করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নাহিদুরের বড় ভাই ও যশোরোর মণিরামপুর পৌরশহরের বাসিন্দা জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে বুকিংয়ের বিল দেখে তারা জানতে পারেন, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই রিসোর্টের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। নাহিদুর ১১ অক্টোবর কক্ষটি বুকিং দেন এবং ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজারে যাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তাই শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ছোট ভাইয়ের মোবাইল ফোনে কল দেন জাহিদুর। তবে তিনি নাহিদুর বা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
জাহিদুর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাবা এখনও নাহিদুরদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানেন না। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, নাহিদ নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়। এর মধ্যে চারজন নিহতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
৯ দিন আগে
খুলনায় পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২
খুলনা নগরীতে পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরীর ফুলবাড়ি রেল স্টেশনে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনার রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম রায়হান।
নিহতরা হলেন ফুলবাড়ি মীরেরডাঙ্গা এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মাহাফুজুল ইসলাম সিয়াম (১৯) ও খালিশপুরের আলমনগর এলাকার খবীর উদ্দীনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৮৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিয়াম ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফুলবাড়ি রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তার বাম হাত, পা ও মাথায় আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে জয়নাল আবেদীন কাউকে কিছু না জানিয়ে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে সকাল ৯টার দিকে ফুলবাড়ি মেইন গেটে পৌঁছালে তিনি রূপসা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান। এতে তার পা ও মাথায় আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এসআই রায়হান বলেন, জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত লাগার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের দেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
১১ দিন আগে
নড়াইলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী শ্রমিক নিহত
নড়াইলে মোটরসাইকেল চাপায় মুক্তা রানী বিশ্বাস (৫০) নামে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মিত্র কলেজের সামনে গোবরা বাজার আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তা রানী সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের উত্তর খলশেখালী গ্রামের গনেশ সরকারের স্ত্রী। তিনি রং মিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হন মুক্তা রানী। তিনি সহকর্মী নির্মল সরদারের মোটরসাইকেলে মুশুড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে রং করার কাজে যাচ্ছিলেন। তারা গোবরা মিত্র কলেজের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তারা সড়কে সজোরে ছিটকে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তা রানী ও নির্মল সরদারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুক্তা রানীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১ দিন আগে
যশোরে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখম
যশোরে আবর্জনা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে (৬০) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার বাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা এলাকায় অভিনেতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে সমু চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর (৩৬) ও হৃদয় (৩২) নামের দুই ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে রক্তক্ষরণ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা সমু চৌধুরীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিনেতার ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিগগিরই তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে হুমায়রা (৩) ও নাহিয়ান (৪) নামের দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়রা ওই গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে এবং নাহিয়ান আশিকুরের ভাই বাবুর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের মতো এদিন দুপুরেও দুই শিশু বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে হুমায়রা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে নাহিয়ানও পানিতে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে তাদের ভেসে উঠতে দেখেন স্বজনরা।
দুই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাড়ির কোলঘেঁষা পুকুরপাড়ে নিষ্পাপ দুটি শিশু খেলতে গিয়ে যে এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুই অবুঝ সোনামণির এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো যাদবপুর গ্রাম আজ শোকস্তব্ধ।’
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
১৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), আইন উদ্দিন (৬৮) ও তার ভাই আকতার হোসেন (৪৩), সাবু (৪১), সোহাগ (৩৮), শরিফুল ইসলাম (৪৩), বিপুল (৩৪), বদর উদ্দিন (৬৮), আফসার শেখ (৬৫), সুমিন (৩৮), সেলিম (৪১) ও আবু (৩৭)।
এছাড়া জুলু (৩৮) ও তার ভাই রাহুলকে (৩৪) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাতজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে কুমারখালী উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামে একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার রায় হলো। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
১৪ দিন আগে