খুলনা
খুলনায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত
খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
খুলনার তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, আজ (শনিবার) সকালে আমজাদের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শহীদুল ও সাইফুল মোড়লের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়। বাকিরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
১০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একই উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত হুমাইরা খাতুন সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলায় এটিই হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। হাম শনাক্তের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরাকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হাম আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
১১ দিন আগে
ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল নারীর
ঝিনাইদহে ট্রাকচাপায় শাম্মী আক্তার (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। কুষ্টিয়া থেকে স্বামীর সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন তিনি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাম্মী কুষ্টিয়া জেলার মিনাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে শাম্মী আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা শহরের আরাপপুর জামতলা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে শাম্মী আক্তার ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় পেছন থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন জানান, মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
১১ দিন আগে
বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
যশোরে বেনাপোলে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের হরিনাপোতা মাঠের একটি খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে ধানখেতে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাতের কোনো একসময়ে হরিনাপোতা মাঠের ধানখেতে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহের গলায় কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় গ্রুপের ১৫ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, মাধবপুর গ্রামের বিএনপির সমর্থক শের আলী মাতুব্বরের সঙ্গে একই গ্রামের মশিউর রহমান মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোহন শেখ নামে একজন নিহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আব্বাস নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে সামাজিক দুই মাতুব্বরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১২ দিন আগে
আমদানির বর্ধিত সময়ে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ১২৫৯ টন চাল
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারঘোষিত বর্ধিত মেয়াদের ৪০ দিনের মধ্যে তিন কার্যদিবসে ৬টি চালানে মোট ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। সরকারঘোষিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর আমদানি করা এসব চালের চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
গত ১১ মার্চ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ কার্য দিবসে এ চাল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এসব চালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। আমদানি করা চাল বন্দর থেকে ছাড়করণের জন্য কাজ করেছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় এবং দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার পুনরায় চাল আমদানির সময় বাড়ায়। গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০ দিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে মাত্র ৩ দিনে ৬টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫ টন।
ওই সময়ে গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে চাল আমদানি ফলপ্রসূ না হওয়ায় পুনরায় ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৪০ দিন সময় বৃদ্ধি করে। এবারও চাল আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সময় বৃদ্ধির আর কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিনে ভারত থেকে ৩৪ ট্রাকে ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, আমদানিকৃত চালের চালানগুলো বন্দর থেকে ইতোমধ্যে খালাস নেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে
যশোরে বস্তাবন্দি অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বেজপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম সকিনা বেগম (৬০)।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার বাসার সামনের একটি বস্তা থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সকিনা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে দোকানে যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়মের কাছে মায়ের খোঁজ করলে তিনি বাইরে তালিমে গেছেন বলে জানান তার স্ত্রী। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে পুনরায় খোঁজ নেন। তখনও তার স্ত্রী জানান, সকিনা বেগম বাসায় ফেরেননি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসার সামনের একটি বস্তার মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন শহিদুল। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মরদেহটি তাদের মায়ের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
১৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ গুলিবিদ্ধ ১০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৬), তার পিতা হাফেজ প্রামাণিক (৭০), সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি খাতুন (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মেরিনন খাতুন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় রবিউলের চিৎকারে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী-পুরুষসহ তার পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে আজ রবিউল ইসলামের মামা লিয়াকত মেম্বার জানান, হামলার কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্নের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে হঠাৎ করেই ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, রাতে মরিচা ইউনিয়নে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৪ দিন আগে
সুন্দরবনে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অস্ত্রসহ আটক
সুন্দরবনের ডাকাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কোস্টগার্ড মোংলা জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
আটক মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে ডাকাতি করে আসছিলেন।
সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সামাদ মোল্লা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের রামপাল থানাধীন শুকদারা বাজার-সংলগ্ন এলাকায় আসবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাত ১১টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় বিশেষ একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক সামাদ মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এয়ারগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ।
১৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ আলী (৩৫) ওই এলাকার রবিউল শেখের ছেলে। তিনি ফেরি করে পণ্য বিক্রি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গতকাল (সোমবার) রাশেদ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড় চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাত ৩টার দিকে ছোট ভাই জহুরুল তার বড় ভাই রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকেই জহুরুল পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, রাশেদকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৪ দিন আগে