রাজশাহী
রূপপুরে মদ্যপ অবস্থায় দুই রাশিয়ানের মারামারি, একজন নিহত, অন্যজন হাসপাতালে
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে মদ্যপ অবস্থায় দুই রাশিয়ান নাগরিকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কুদরিন সার্গেই (৫৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন আর গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের আবাসিক এলাকা রূপপুর গ্রিন সিটির ৬ নম্বর ভবনের ৫ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুদরিন সার্গেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রেস্ট রোসেমে ‘আল্ট্রাসনিক টেস্টিং ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গ্রিন সিটির ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৫১ নম্বর কক্ষে বসবাস করতেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মদ্যপানের পর তারা দুজন বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে উভয়েই একে অপরকে আঘাত করেন। এ সময় দুজনই গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদের গ্রিন সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সার্গেইকে পাবনার এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
সুগন্ধি আতপ চাল ‘রপ্তানির অনুমতিতে’ নওগাঁয় চালের বাজার লাগামহীন
ধান চাল উৎপাদনে বরাবরই শীর্ষে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এখানকার উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বিশেষ কদর রয়েছে সারা দেশের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে গেল এক সপ্তাহ ধরে চাল বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে এবার ২-৪ টাকা নয়, বেড়েছে ৯০ টাকা।
নওগাঁর বাজারে এক কেজি সুগন্ধি আতপ চালে ৯০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। শুধু তাই নয়, সুগন্ধি চালের পাশাপাশি বেড়েছে কাটারিসহ সব ধরনের সরু চালের দামও।
ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর করপোরেট কোম্পানিগুলোর মজুত সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সরকারিভাবে বিদেশে আতপ চাল রপ্তানি আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পরিরিস্থি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে কারোরই দেখা মেলেনি।
নওগাঁ শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গেল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সকল প্রকার সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোট বিক্রির ৮০ শতাংশই হয় কাটারি চাল। শর্টার ও নন শর্টারসহ সব ধরনের কাটারি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। ৭৬ টাকা কেজির চাল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, কয়েকদিন আগেও যার দাম ছিল ৫৮ টাকা।
তবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি (আতপ) চাল। দুই সপ্তাহ আগেও এই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা কেজিতে। কিন্তু প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই বেড়েছে ৯০ টাকা। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে। বাজারে চাল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকা থেকে পৌর চালের বাজারে আতপ চাল কিনতে এসেছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ কেজি আতপ চাল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে শুনি, সেই চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৯০ টাকা। এভাবে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুকের সঙ্গে কথা হয় নওগাঁর খুচরা বাজারে। ৫ কেজি ভাতের চাল কিনতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন এই কৃষক। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়লে যারা দিন এনে দিন খান, তাদের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
২ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০ টায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে অন্য একটি ভটভটিকে অতিক্রম করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক, সহকারী ও দুজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত চারজনের মরদহ উদ্ধার করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।
২ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
৪ দিন আগে
পাবনায় শৌচাগারের ট্যাংকে মিলল স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় শৌচাগারের ট্যাংক থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গীতা রানী (৪৫) উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গীতা রানী বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। গতরাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেঁটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে দুর্বৃত্তরা ফেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারের ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কারা, কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৬ দিন আগে
নওগাঁয় খালে ডুবে প্রাণ গেল নবদম্পতির
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় খালে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নূর ইসলাম (২২) ও তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামে এক নবদম্পতি নিহত হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার কার্তিকাহার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর ইসলামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামে। তিনি প্রায় সাত মাস আগে বদলগাছী উপজেলার কার্তিকাহার গ্রামের সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে কার্তিকাহার গ্রামের পাশের একটি খালে গোসল করার জন্য প্রথমে পানিতে ঝাঁপ দেন নূর ইসলাম। পরে তাকে দেখতে না পেয়ে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারও পানিতে ঝাঁপ দেন। একপর্যায়ে তারা দুজনই পানির নিচে তলিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাহরিমা আক্তার মুন্নি দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই তারা মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
নওগাঁয় ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁ শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার জননী ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জননী ছাত্রাবাসের ১০৯ নম্বর ডবল রুমে তিনি একাই থাকতেন। গতকাল (শুক্রবার) রাতে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ কারণে আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টায় তার মামা ছাত্রাবাসে এসে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৯ দিন আগে
গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ লালন শেখের স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৪০)।
ফরিদাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ছেলে মো. ফয়সালও গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রতিবেশী মো. পরশ (১৮) নামের একটি ছেলে ফরিদা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে।
৯ দিন আগে
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান, নওগাঁয় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাতেই বিদ্যালয়-সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং একখণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ১৭ শিক্ষার্থী আহত হয়।
১১ দিন আগে