রাজশাহী
বাড়ছে যমুনার পানি, ভাঙ্গন শুরু চরাঞ্চলে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রায় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার । এ সময়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে যমুনা নদীর নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা নদীর চর এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
নাজমুল হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙ্গনে প্রায় ১০০ মিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এ ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এছাড়া কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ভাঙ্গনে অনেক জায়গা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি, ঢেউ ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এদিকে যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে ইতোমধ্যেই বহু জায়গা জমি যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের অনেক স্থানে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে এবং চৌহালীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তবে বন্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন ) দুপুরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার নকুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক প্রামাণিক (৬৫) ও হাসেন প্রামাণিক (৬০)। তারা উভয়েই মৃত রিয়াজ প্রামাণিকের ছেলে।
আহতরা হলেন—একই এলাকার হাতেমের ছেলে লালন এবং জালালের ছেলে লাল্টু। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, নকুলবাড়িয়া এলাকার একটি মসজিদের জন্য মাইক কেনার উদ্দেশে চার যাত্রী অটোরিকশাযোগে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। বানেশ্বর ইয়ামাহা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসেন প্রামাণিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২ দিন আগে
নওগাঁয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেল স্টেশনের পাশে শিমুলিয়া নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিহত নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশিরের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন শিমুলিয়া নামক স্থানে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ‘সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
২ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে বিএসএফকে পুশইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনে সহায়তা করার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে ওই সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে চারজনকে আটক করেছে বিজিবি ও অন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— আলম (৩৮), আজম (৩৫), আসমাউল হক (৩৩), মেসবাউল হক (৩৫), বাবুল আখতার (৪০), এমদাদুল হক (৩৮) ও রয়েল (২৮)। তারা সবাই রোকনপুর এলাকার বাসিন্দা।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম আজ (মঙ্গলবার) এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজিবির বরাত দিয়ে ওসি নূরে আলম জানান, গতকাল (সোমবার) রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় ওই নারীকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে ৭ বাংলাদেশি। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ওই পুশইনের ঘটনা প্রতিহত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেন। এরপর রাত ৪ টার দিকে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশ একই অভিযোগে আরও ৩ জনকে আটক করে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম পুশইনে বিএসএফকে সহায়তা করার অভিযোগে ৪ বাংলাদেশি নাগরিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দলের সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে ৪ বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফকে সহায়তা করছে—এমন অভিযোগে চারজনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (রবিবার) অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবুল কাশেমকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে সালিশে সংঘর্ষ, নিহত ১
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় সালিশ চলাকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের বিজিবির কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে আজ (বুধবার) দুর্লভপুর এলাকায় সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন চর দুর্লভপুর এলাকার বাসিন্দা শওকত আলীর ছেলে ইব্রাহিম আলী (৩৮)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আহতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
রাজশাহীতে মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে খাড়ইল মিলঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ছিলেন। তাৎক্ষণিক নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মারুফ হোসেন (৩৭)।
এদিকে, গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিক নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৯ দিন আগে
পাবনায় ধষর্ণ-হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ: দগ্ধ হয়ে নিহত ৩
পাবনা সদর উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন উৎসুক জনতার মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।
এর আগে, সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাপু।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিসংযোগের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা ছিলেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল (সোমবার) একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদী থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে অভিযুক্তরা।
১০ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের উত্তরে রেললাইনের ৩০৮/২ নম্বর পিলারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নাচোল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা মহানন্দা ট্রেনের এক টিকিট পরীক্ষক (টিটি) রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে নাচোল থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সরকার জানান, নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মের অদূরে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে