রাজশাহী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুসহ নিহত ৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার বারঘোরিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বাদুরতলা এলাকার মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম, তার ভাতিজি আশা খাতুন এবং আশার মেয়ে মিম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ও বারঘোরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহতদের বাড়ির ছাদে ওঠার জন্য একটি লোহার মই সকালে বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। সকাল ৭টার দিকে ওই মই ব্যবহার করে উপরে ওঠার সময় প্রথমে আশা খাতুন ও তার মেয়ে মিম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাদের চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন হাসিনা বেগম। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ওসি একরামুল হোসাইন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে ৯ ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের সবকটি দাবি রেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। সেই সঙ্গে রেলযাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
আম্মার বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল, যিনি অপরাধী, তিনি সশরীরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর কাছে জবাবদিহি করবেন। তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পুরো রেল কর্তৃপক্ষও আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে তিন কার্যদিবসের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে অনাস্থা জানালে বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, প্রক্টোরিয়াল বডির একজন প্রতিনিধি, একজন শিক্ষক প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
রাকসুর জিএস বলেন, তৃতীয় দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিষয়ে যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছয় মাস বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের প্রস্তাবও তিনি সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের।
চতুর্থ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ‘পদ্মা’, ‘তিতুমীর’ ও ‘মধুমতী’ ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রাবিরতির বিষয়ে রেজুলেশন হয়েছে। পাশাপাশি রাতের ট্রেনগুলোর যাত্রীদের জন্য রাজশাহী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমাদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার বিচার আমরা পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আগামী ৬ আগস্ট ফলোআপ বৈঠকের পর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।
১৩ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীকে টিটির ‘মারধর’, ট্রেন চলাচল বন্ধ
ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়।
সকাল থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেনই ছেড়ে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে রাজশাহীগামী অন্যান্য ট্রেনের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ফোরকান বলেন, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফেরার পথে দেখতে পাই, টিটিরা রসিদ ছাড়াই সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায় করছেন। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে টিটিদের জিজ্ঞাসা করি, ‘রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ, কিন্তু টিকিট না দিয়ে কেন টাকা নিচ্ছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হঠাৎ পেছন থেকে ৬-৭ জন টিটি আমার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান। সেখানে ঘাড় ও পিঠে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার চশমা ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্ত টিটি সুমনকে দ্রুত হাজির করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাসংলগ্ন রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলে অন্যায় ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসে এই অপকর্ম ও মারধরের সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।’
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এবং আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
এছাড়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
রাকসুর ভিপি লেখেন, ‘পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটিরা রাবির এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজে এসে সমাধান না করা পর্যন্ত এই রেলপথ বন্ধ থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আজকের পর থেকে যেন কোনো রেলগুন্ডা শিক্ষার্থীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস না পায়, রাকসু তা নিশ্চিত করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সোমবার (গতকাল) রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে টিটিরা মারাত্মকভাবে মারধর করেছে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি জানান, রেল অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, দ্রুতই একটা সমাধান বের হবে এবং ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।’
তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। ফলে রাজশাহী স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েই চলেছে। হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
১৩ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইলিয়াস হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস ওই গ্রামের মৃত আ. সাত্তারের ছেলে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল (রবিবার) কালিঞ্জা গ্রামের খেলার মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা নিয়ে ইলিয়াসের সঙ্গে রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন গভীর রাতে রাসেল ও তার ছেলে সিয়াম আহমেদ ইলিয়াসের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইলিয়াসকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর ওই ব্যক্তি ও তার ছেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ (সোমবার) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের রাসেল শেখ (৪২) ও সোহেল খানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী খুন, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নিহতের বাবা ফিরোজ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান।
ওসি জানান, মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ফুলজোড় নদীর পশ্চিমপাড় মহল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই এলাকার তারা সেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে আব্দুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন ধারালো বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে আব্দুর রহমান এবং তার বড় ভাই হাসানের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় দুই ভাই গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে আব্দুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুর রহমান রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার বড় ভাই হাসান বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি আহসানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৬ দিন আগে
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ছলিম প্রামানিক (৭০), তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)। নিহত ছলিম প্রামানিকের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে। অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনায় ছলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০), নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে নাফিজ (৮) আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুন নামে এক মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহত চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সষবেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছলিম প্রামানিক মারা যান।
ওসি জানান, নিহত ছলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়া খাতুনের নানা-নানি।
১৮ দিন আগে
দাবি না মানলে ১৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীকে নওগাঁয় ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি
নওগাঁয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সড়কে নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ সফরে শিক্ষামন্ত্রীকে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা ও বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষাগ্রহনের সুযোগ নিশ্চিতসহ সকল দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে আসলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারশিয়া রহমান, নাইম আহম্মেদ, রাহিম হোসেনসহ অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজন ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদমান বক্তব্য রাখেন।
২০ দিন আগে
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেশী আলম মন্ডলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মন্ডল জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে কাপড় পরিবর্তন করছিল ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আলম। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পালিয়ে যান ধর্ষক। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই কিশোরীকে জয়পুরহাটের তৎকালীন আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানিতে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ (সোমবার) এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নন্দকিশোর আগরওয়ালা।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
২১ দিন আগে
নওগাঁয় দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, ছেলে হেফাজতে
নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মণ্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) রাতে খাবার খেয়ে তারা দুজনে ঘুমাতে যান। ভোর ৪টার দিকে নিহতদের ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের খবর দিলে খাটের ওপর তাদের মরদেহ দেখতে পান তারা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, ছেলে মুক্তার হোসেন নেশা ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। নেশার জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তার বিষাক্ত কিছু খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহদুটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কিছু খাবারের মাধ্যমে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি জানান, নেশা আর অনলাইনে জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে ইতোপূর্বে তার ছেলে মুক্তার হোসেন বাবা-মাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, ছেলের সঙ্গে মা-বাবার আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
ওসি আরও জানান, এসব তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি রহস্যজনক মৃত্যু না হয়ে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় মুক্তার হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২১ দিন আগে
নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকায় তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, সকালে ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বিকটশব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।
২৫ দিন আগে