রাজশাহী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, যাত্রী নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের ছত্রাজিতপুর-ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিম উদ্দিন (৩২) শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা এলাকার হাসানুলের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর-ফুলতলা এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা পাথরবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আটোরিকশার যাত্রী আজিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে এবং আজিমকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৪ দিন আগে
রিয়াদে নিহত বগুড়ার সাহেদের পরিবারে শোকের মাতম
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।
নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। তিনি স্ত্রী, ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ও মা-বাবাকে রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাহেদ তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন সাহেদ। সে সময় রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে জেদ্দায় গিয়ে আবার ফোন করবেন বলে জানান তিনি। তার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও তাইফুর রহমান জানান, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে বগুড়ার সাহেদ আহমেদও নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি খরচে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাহেদের মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা বেগমও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে ছাড়া কাকলি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।
১৬ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে রোগীকে ‘যৌন হয়রানি’, ওয়ার্ড বয় পলাতক
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বয় করিম সরকারের (২৯) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত করিম উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালটিতে কাজ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্বরে আক্রান্ত এক নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভোরে ওয়ার্ড বয় করিম তার শয্যার কাছে গিয়ে নাম-ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে ডেঙ্গু হয়েছে কি না জানতে চেয়ে তার শরীরে হাত দেন করিম। এ সময় ওই নারী চিৎকার করে তার মাকে ডাকেন। পরে বিষয়টি হাসপাতালের নার্সকে জানানো হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন জানান, এ ঘটনার পর তারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, এর আগেও করিমের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আব্দুল মুকিত হোসেন বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মী আটক
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পলাশডাঙ্গা এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকার সাইদুল ইসলাম (২২), পঞ্চসোনা গ্রামের নাজমুল ইসলাম (২০), হাটসারটিয়া গ্রামের সিরাজ মোল্লা (১৮), পূর্বমোহনপুর গ্রামের রাকিব শেখ (১৯), মুলিবাড়ি গ্রামের নাজমুল আকন্দ (১৯) ও শরিফুল ইসলাম (২০)।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিছিলের প্রস্তুতিকালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান থেকে পিস্তল, গুলি উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি আমবাগান থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের নামোচাকপাড়া এলাকার একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবির একটি দল ওই আমবাগানে অভিযান চালায়। এ সময় একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তবে সে সময় আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।
এসআরবির ধারণা, নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ওই স্থানে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্ধার করা পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনগুলোকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৯ দিন আগে
প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক, দালালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি
নওগাঁয় বেসরকারি এক হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই অস্ত্রোপচার শেষ করা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও দালালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান সেকশনের প্রলোভন দেখিয়ে আট হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার অস্ত্রোপচার করেন।
তার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গত ১৩ এপ্রিল আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
২০ দিন আগে
নওগাঁয় চালকলে বয়লার বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত
নওগাঁ সদর উপজেলায় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত ও চার শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার হাজি ইসারত আলী চালকলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল খালেক (৪৫) সদর উপজেলার হাঁপানিয়া পাড়া এলাকার বছির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ (বুধবার) সকালেও শ্রমিকরা চালকলে ধান সিদ্ধ করার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করে বিকট শব্দে বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে চার দিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরে ধোঁয়া কিছুটা কমলে শ্রমিকরা চাতালে গিয়ে আব্দুল খালেককে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত চার শ্রমিক নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে চালকলের মালিক পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার সময় চাতালে কাজ করা নারী শ্রমিক হামিদা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয়। তারপর আর ধোঁয়াতে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ফিরে এসে দেখি খালেক ভাই পড়ে আছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। চালকলগুলোতে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
নওগাঁ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে।
নিহত আব্দুল খালেকের দেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২১ দিন আগে
জয়পুরহাটে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ
জয়পুরহাট সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল সীমান্ত পিলারের কাছে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত টহল জোরদার করেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এ ঘটনার পরপরই কড়িয়া ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। ২৭৬ নম্বর সীমান্ত সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কপথে বিজিবি ও গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থান নিলে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে নিজেদের সীমানার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টায় বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক ঘণ্টার এ বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেলেনি।
বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন জানান, বিএসএফ অন্যায়ভাবে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনায় দিন শেষে আবারও পতাকা বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিওপি কমান্ডার।
এদিকে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করে অত্যন্ত সতর্কবস্থায় রয়েছেন।
২২ দিন আগে
নওগাঁয় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মন ওরফে হীরেন (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্যানের যাত্রী পরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মন মহাদেবপুর উপজেলার মগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে। আহত পরেশ চন্দ্র বর্মন একই গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ (সোমবার) সকালে নীরেন ভ্যান চালিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও যাত্রী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নীরেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পরেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করা হয়েছে।
২৩ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত উদ্ধার ১১টি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনয়নের কাবিরাজপাড়ায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও ১১টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহারাজপুর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া ও শেখপাড়া গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কবিরাজপাড়া থেকে ১১টি ককটেল উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ধদিন ধরেই স্থানীয় আব্দুল ওদুদ ও জালাল উদ্দীনের সমর্থকদের এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি এই বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই বিরোধের কারণে সংঘাতে জড়াতেই ককটেলগুলো মজুত করা হয়েছিল।
ওসি একরামুল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলগুলো উদ্ধার করেছে। এলাকায় আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত বলে দাবি করেন ওসি।
২৬ দিন আগে