রাজশাহী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে ৩ নদীর পানি, ডুবছে নিম্নাঞ্চল
উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে। এসব নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার, মহানন্দা নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৩২ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ২.৩২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, পদ্মা নদীতে ব্যাপক হারে পানি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘরে ও রাস্তায় পানি ঢোকেনি, তবে কয়েকটি জায়গায় নদীভাঙন চলছে। এমনভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, এখন পর্যন্ত বাড়িঘরে পানি না ঢুকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে তার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ও ৬, ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে পানি এসে যাবে। তবে নিম্নাঞ্চলের কিছু পাকা আউশ ধানখেত নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষকরা এসব এলাকার ধান কেটে ঘরে তুলছেন।
এদিকে, একই উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তার ইউনিয়নের চরপাঁকা, লক্ষ্মীপুর, নতুনপাড়া এলাকায় অন্তত ১০০টি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে দুই দিন পানি বাড়ার পর আবার কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
নাটোরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে ১০৬ ভর্তি
নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গতকাল বুধবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ৪৭ জন নারী। রোগীদের অধিকাংশই নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আবহাওয়া ও পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে থাকতে পারে।
১ দিন আগে
হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে তাকে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
শিক্ষক বাসায় পৌঁছালে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা-ভিত্তিক একটি সক্রিয় প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
গুদামে মিলল ৫০০ বস্তা সার, ডিলারকে ১ মাসের কারাদণ্ড
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে ৫০০ বস্তা সার মজুতের অভিযোগে সোলাইমান পাটোয়ারী নামের এক ডিলারকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা এমওপি ও ৩০০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোলাইমান পাটোয়ারী বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডাইংপাড়া এলাকায় মেসার্স কৃষি ঘরের গুদামে বিপুল পরিমাণ সারের মজুত পাওয়া যায়।
পরে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’-এর ১২ ধারায় গুদামের মালিক সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তকে প্রথমে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, সার মজুত ও বিক্রির বিষয়ে সোলাইমান পাটোয়ারীকে গত দুই মাসে তিনবার সতর্ক করা হয়েছিল। তার পরও নিয়ম না মেনে বিপুল পরিমাণ সার গুদামে মজুত রাখায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান এবং তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
২ দিন আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে’ ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুপুরে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ পড়ে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য দিনের মতো আজও শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। এরপর বেশি অসুস্থ বোধ করায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা অনুভবসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা আশঙ্কামুক্ত হলেও তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে অসুস্থ এক শিক্ষার্থীর বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকারই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহ করছে। কিন্তু খাবারের মান যাচাইয়ে আরও ভালো পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। নিম্নমানের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হচ্ছে, এতে সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে বেসরকারি সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)। শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য গাকের জেলা সমন্বয়কারী কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি বিদ্যালয়ে গাকের দেওয়া খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
৪ দিন আগে
নাটোরে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ শারমিন আখতার এ রায় দেন।
রায়ে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়া জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার বখাটে যুবক আবু বকর সিদ্দিক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ইমরান আলী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় মামলা করলে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয় বলে জানান বিশেষ পিপি।
৪ দিন আগে
দুই মালিকপক্ষের রেষারেষিতে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে সারা দেশের দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহী থেকে বাইরে যেতে চাওয়া যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, নাটোরে দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর পরিবহন মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে এ বিরোধের সূত্রপাত। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছানোর পর আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তাদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়। এর জেরে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়।
পরবর্তী সময়ে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এর মধ্যেই শনিবার সকালে নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর আসে। এরপর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে পরিবহন মালিকপক্ষ।
এদিকে, সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভিড় থাকলেও বাস না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, আগে থেকেই বাসের টিকিট কাটা ছিল। কাউন্টারে এসে জানতে পারেন বাস চলবে না। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি।
আরেক যাত্রী বলেন, জরুরী প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছি। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
রাজশাহীর এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, মালিকদের বিরোধের প্রভাব সরাসরি শ্রমিক ও যাত্রীদের ওপর পড়ছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৬ দিন আগে
বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মধ্যরাত থেকে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
অন্যদিকে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে চারজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত পুলিশ হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রোগীর স্বজন ও তাদের সঙ্গে আসা বহিরাগতরা উপস্থিত তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন।
এ সময় আদনান ইসলাম অর্ক নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হন। পরে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে পুলিশ রোগীর আহত ছয় স্বজনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ জানান, বহিরাগতদের হামলায় তাদের অন্তত ছয়জন চিকিৎসক মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসকদের হাত ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর জখমের ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সেবা দিতে না পারলে সাধারণ রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়বেন। এ কারণে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।
এদিকে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ। তিনি বলেন, বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে ছয়জন চিকিৎসক জখম হয়েছেন। প্রশাসন ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নেতারা পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার অভিযোগ তুলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮ দিন আগে