বৈদেশিক-সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাসিফিক ফ্লিট’ কমান্ডার স্টিভ কোলার ঢাকায় আসছেন কাল
তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোলার।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরকালে অ্যাডমিরাল কেলার বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
দূতাবাস জানায়, এ সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রতিফলন।
অ্যাডমিরাল কোলার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নৌবহর ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উভয় দেশই সম্প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবিক খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারত সরকারকেই তা স্পষ্ট করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে বসে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন সেই সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই প্রত্যাশা।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করে না। এখন আলোচিত অনলাইন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না এবং আমার গভীল বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি একাধিকবার ভারতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেছে। তাদের সঙ্গে যখনই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে পরিষ্কার করছি। সুতরাং যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রিত, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার অবস্থান
ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। মন্ত্রণালয়ে এসে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।
ব্রিকস সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় সফর করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি যথাসময়ে নেবেন।
ব্রিকসের আমন্ত্রণটি নরেন্দ্র মোদি ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে দিয়েছেন, নাকি ভারত সফরের আমন্ত্রণও ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের প্রতিনিধিদল এলে সরকার তা স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার কাজ করবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংলাপেরই অংশ। অতীতেও এ ধরনের আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে (সিভিল নিউক্লিয়ার) সহযোগিতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হলে সরকার তা এগিয়ে নেবে, অন্যথায় পুনর্বিবেচনা করবে।
মুসলিম দেশগুলোর জোটে নীতিগত সমর্থনের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ওআইসি ও বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিশদ সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
১৯ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারের অনুদান
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে আজ অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত এই গুরুত্বপূর্ণ, নমনীয় এবং বহুবর্ষী অর্থায়ন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
এমন এক সময়ে এই সহায়তা এসেছে, যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ ও নাজুক পরিবেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় ৯ বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপত্তার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অনেককে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন বা প্রাণ হারান। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা সুরক্ষা ও অপরিহার্য সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসইভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থায়নের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষের ওপর। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ক্যাম্পে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিসহ মৌলিক সেবার পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাৎক্ষণিক মানবিক চাহিদা পূরণ জরুরি হলেও, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা সেই সংহতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস এবং তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। নিয়োগ করা ল’ ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
১ দিন আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
১ দিন আগে
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য তার কাছে নেই। ‘আমি বিভিন্ন বৈঠক থেকে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।’
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে, হুতিদের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সাথেও কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সাথে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’—দুটি ভিন্ন বিষয়। এ দুটি ধারণা নিয়ে বিভ্রান্তি না রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
১ দিন আগে
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বৈঠক করেছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বৈঠকে বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।’
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’
বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহ্দী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেওয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
মাহ্দী আরও বলেন, বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো অর্থনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এদিন কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২ দিন আগে
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস ঢাকায়
চার দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশন্স বিষয়ক উপমহাপরিচালক (ডিডিজি-ও) উগোচি ড্যানিয়েলস।
শনিবার (১ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আইওএমের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাতো, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং বাংলাদেশে আইওএমের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড।
এক বার্তায় আইওএম জানায়, সফরকালে ড্যানিয়েলস বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং আইওএমের সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরকালে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ উদ্বোধন, কক্সবাজার ও মাদারীপুর সফর এবং অভিবাসন সুশাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন, শ্রম অভিবাসন, সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে তার।
২ দিন আগে