বৈদেশিক-সম্পর্ক
বাংলাদেশকে ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি।
তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমানের কথায়, ‘আগস্টের একেবারে শুরুর দিকে আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পয়লা আগস্ট আমি ইমোশনালি এতটাই কাতর হয়ে পড়েছিলাম যে আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরে ফোন করব। বাংলাদেশে এই ধরনের একটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না—সেই বিষয়টি আমি তাকে বলেছি।’
‘আমার ধারণা, তিনি নিশ্চুপ বসে ছিলেন না। এর কিছুদিন পরেই দেখি যে অন্তত কিছু কিছু বাহিনীর ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছে। আমার ধারণা, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্ভবত এর একটি ভূমিকা ছিল।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে (গণতান্ত্রিক) উত্তরণ সম্পন্ন করা। তিনটি কাজই আমরা করতে পেরেছি।
৮৪ দিন আগে
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৮৫ দিন আগে
বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ, ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণও বহাল রয়েছে: নয়াদিল্লি
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণও বহাল রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেটি এখনও বহাল আছে।’
ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়, সেই অনুযায়ী এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
এদিকে, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের বিষয়ে ভারতের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি বলেন, ‘আপনি যে অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করছে। এ আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে যেসব মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, সেগুলোরও সরকার কোনো অনুমোদন বা সমর্থন দেয় না।’
৮৫ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপান এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপান প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে (সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাজার) প্রবেশাধিকার অর্জন করতে পারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) অগ্রগতি এবং জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, জাপানের মেইজি পুনর্গঠন (মেইজি রেস্টোরেশন) শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির রূপান্তরের অনুকরণীয় উদাহরণ। বাংলাদেশও জাপানের এই উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি ছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭ কোটিরও বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার অতিক্রম করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরে এ বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প উপাদান, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রোবোটিকস, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। আর্কটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে অংশীদারত্বের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমঘাটতি ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে জাপান সরকার, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে এ সেমিনার আয়োজন ও বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তাদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাইকাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাপান কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির অভিযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই শুধু একটি দেশের বাজারে প্রবেশ নয়, বরং ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বিশাল আঞ্চলিক বাজারে (সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাজার) প্রবেশের কৌশলগত সুযোগ।
সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচি ও জাপানের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮৫ দিন আগে
বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ৫ মাসের মাথায় প্রথম এ সিইপিএ করেছে।
তিনি বলেন, এ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। দক্ষিণ কোরিয়া ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ইকোনমিক সাইজে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। তার জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকারণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ চুক্তির ফলে এখন কোরিয়ান কোম্পানিগুলো এদেশে সুবিধাজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
৮৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাসিফিক ফ্লিট’ কমান্ডার স্টিভ কোলার ঢাকায় আসছেন কাল
তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোলার।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরকালে অ্যাডমিরাল কেলার বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
দূতাবাস জানায়, এ সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রতিফলন।
অ্যাডমিরাল কোলার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নৌবহর ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উভয় দেশই সম্প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবিক খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
৮৫ দিন আগে
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৮৬ দিন আগে
শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারত সরকারকেই তা স্পষ্ট করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে বসে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন সেই সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই প্রত্যাশা।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করে না। এখন আলোচিত অনলাইন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না এবং আমার গভীল বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি একাধিকবার ভারতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেছে। তাদের সঙ্গে যখনই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে পরিষ্কার করছি। সুতরাং যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রিত, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার অবস্থান
ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। মন্ত্রণালয়ে এসে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।
ব্রিকস সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় সফর করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি যথাসময়ে নেবেন।
ব্রিকসের আমন্ত্রণটি নরেন্দ্র মোদি ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে দিয়েছেন, নাকি ভারত সফরের আমন্ত্রণও ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের প্রতিনিধিদল এলে সরকার তা স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার কাজ করবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংলাপেরই অংশ। অতীতেও এ ধরনের আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে (সিভিল নিউক্লিয়ার) সহযোগিতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হলে সরকার তা এগিয়ে নেবে, অন্যথায় পুনর্বিবেচনা করবে।
মুসলিম দেশগুলোর জোটে নীতিগত সমর্থনের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ওআইসি ও বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিশদ সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
৮৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারের অনুদান
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে আজ অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত এই গুরুত্বপূর্ণ, নমনীয় এবং বহুবর্ষী অর্থায়ন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
এমন এক সময়ে এই সহায়তা এসেছে, যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ ও নাজুক পরিবেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় ৯ বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপত্তার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অনেককে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন বা প্রাণ হারান। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা সুরক্ষা ও অপরিহার্য সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসইভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থায়নের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষের ওপর। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ক্যাম্পে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিসহ মৌলিক সেবার পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাৎক্ষণিক মানবিক চাহিদা পূরণ জরুরি হলেও, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা সেই সংহতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস এবং তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৮৬ দিন আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। নিয়োগ করা ল’ ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
৮৭ দিন আগে