বৈদেশিক-সম্পর্ক
সাকাইকে ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে ড. ইউনূসের সহায়তা চাইলেন মেয়র
জাপানের টোকিও শহরের নিকটবর্তী উদ্ভাবননির্ভর শহর সাকাই (ইবারাকি প্রিফেকচার) পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) শহরটিতে পৌঁছালে মেয়র মাসাহিরো হাশিমোতো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মেয়র হাশিমোতো জানান, অধ্যাপক ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকাই শহরকে একটি মডেল ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা।
সাকাই শহর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ‘হোমটাউন ট্যাক্স’ ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোকিওর মতো বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের করের একটি অংশ নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রবৃদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চেরি গাছ রোপণ করেন।
সাকাইয়ের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ইউনূস ও তার দলের দিকনির্দেশনা কামনা করেন মেয়র হাশিমোতো। আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ক্লাব’ বা ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘বান্দো তারো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন। শতাধিক শাখাসম্পন্ন এই রেস্তোরাঁ চেইনটি পরিবারবান্ধব ব্যবসা মডেলের জন্য পরিচিত। এই মডেলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে একটি করে নার্সারি সংযুক্ত থাকে, যাতে কর্মীরা কাজের সময় তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে পারেন। সেখানে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূস একটি পিচ গাছ রোপণ করেন।
১২৮ দিন আগে
ডব্লিউটিও সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে ‘ডব্লিউটিও রিফরম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুস’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ আহ্বান করেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ) এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসঅ্যান্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১২৯ দিন আগে
জাতিসংঘ বৈঠক: বৈশ্বিক তেল সংকটের চ্যালেঞ্জ ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মহাসচিব নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় সমসাময়িক বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সম্মুখীন চ্যালেঞ্জগুলো এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. রহমান মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১২৯ দিন আগে
বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক বাংলাদেশের
বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ নির্মূল, সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মারক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সকল আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্ণবাদ নির্মূলে ঢাকার অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রাখাইন ও ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকারের সমস্যার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি জাতিসংঘের মূল আদর্শ ও চেতনার পরিপন্থী। বৈষম্য ও অন্যায় প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা।
ভবিষ্যতে বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি শিক্ষায় টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ ও যোগাযোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
১৩২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেছেন, ‘ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
বার্তায় তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেছেন। ঈদের এই উৎসব মানুষকে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সবার শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।’
১৩৭ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় সমুদ্রপথে অবাধ ও বৈধ নৌচলাচলের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত কনভেনশনসহ (ইউএনসিএলওএস) আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জাহাজের অবাধ ও বৈধ চলাচলের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে অর্থবহ সম্পৃক্ততার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কাউন্সিলের ৩৬তম বিশেষ অধিবেশনে এ আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানিয়েছে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
লন্ডনের আইএমও সদর দপ্তরে এই অধিবেশনে যোগ দেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত ডেপুটি হাইকমিশনার ড. নজরুল ইসলাম দলটির নেতৃত্ব দেন।
ডেপুটি হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কর্মরত জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকসহ সব নাবিকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
১৩৭ দিন আগে
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে দৃঢ় অঙ্গীকার বাংলাদেশের
লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অফ উইমেনের (সিএসডব্লিউ) ৭০তম অধিবেশনে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এজেন্ডা-২০৩০-এর লক্ষ্যসমূহ এগিয়ে নেওয়ার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার উন্মুক্ত হতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা পেতে পারে।
এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজনের মতো বিষয়গুলো গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
নিউইয়র্কে সিএসডব্লিউ-এর ৭০তম অধিবেশনটি ৯ মার্চ শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচারে নারীদের প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করা, বৈষম্যমূলক আইন নির্মূল করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা।
১৩৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আঙ্কটাড মহাসচিবের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে ঢাকার আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আঙ্কটাডের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
আজ (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা আর না বাড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান তারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে অর্জিত অগ্রগতির উল্টো রথ দেখতে পাচ্ছে।
কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের একজন প্রার্থী। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের প্রার্থী। বৈঠকে এ দুই কর্মকর্তা নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আঙ্কটাড ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি স্থায়ী আন্তঃসরকারি সংস্থা।
১৩৯ দিন আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে ঢাকা-টোকিও আলোচনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল দ্রুত চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিকো।
উভয় দেশের প্রতিনিধরা থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও আর্থিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থাপনাটি সচল করতে দ্রুত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন টার্মিনালটি চালুর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার নির্দেশনার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। মিল্লাত বলেন, টার্মিনাল পরিচালনাকারী জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগের চুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। তিনি জানান, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় এবং চার্জ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন চুক্তিতে সাধারণত তিন ধরনের চার্জ থাকে এবং এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব পেশ করেছে এবং জাপান তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মিল্লাত জানান, জাপান বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুত অর্থবহ অগ্রগতির আশা করছেন তারা।
টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পটিতে জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন এবং সোজিৎজ করপোরেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। এর সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ।
২০১৭ সালে অনুমোদিত এবং ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বার্ষিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো বহন করার সক্ষমতা রয়েছে এই টার্মিনালটির।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে এই টার্মিনালটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
১৪৩ দিন আগে
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনকে চীনের এনপিসি চেয়ারম্যানের অভিনন্দন
চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক অভিনন্দন বার্তায় ঝাও লেজি বলেন, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় ও সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’কে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
১৪৪ দিন আগে