বৈদেশিক-সম্পর্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী লন্ডন
নীল অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ, মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের প্রসার, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার পরিধি জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির লন্ডনে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্টের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা, মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের প্রসার, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চলতি মাসের শেষের দিকে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিতব্য ১৪তম ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ-বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারনেস রোজি উইন্টারটন লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে ড. খলিলুর রহমান এবং হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তারা এভিয়েশন বা বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিনিধি দলটি দুটি পৃথক বৈঠক করেন।
২০২৭–২০৩৬ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক পদের ব্রিটিশ প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক ডাপো আকান্দে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা কামনা করেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও নির্বাচনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এই অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৪৬ দিন আগে
বিদেশি মিশন থেকে ৫ দূতকে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ
পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।
রবিবার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া রাষ্ট্রদূতরা হলেন— ড. এম. মাহফুজুল হক, মো. মাইনুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) ও ড. মো. নজমুল ইসলাম। তাদের ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়েছে। পাঁচজন দূতকেই অবিলম্বে দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রবাসী কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করেননি তিনি।
আবিদা ইসলাম লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আওয়ামীকরণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
১৪৮ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) লন্ডনে পৌঁছে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এদিন লন্ডনে পৌঁছান।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আবিদা ইসলাম লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অনেকটা ‘আওয়ামীকরণ’ করে রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এই পদ থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের জানুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছিল। এর আগে, বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবিদা ইসলাম এর আগে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার (প্রধান মিশন) হিসেবেও কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে তিনি আমেরিকা অনুবিভাগসহ বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব সামলেছেন।
১৪৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিল জাপান
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশিদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।
পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।
১৫১ দিন আগে
আর্জেন্টিনার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাংলাদেশের
অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত ও গভীর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করেন।
বৈঠকে তারা বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, কৃষিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা এবং ফুটবলের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া জ্বালানি বাণিজ্য, সরবরাহ চেইন অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে একটি বহু-খাতভিত্তিক সংলাপের প্রস্তাব দেন।
তিনি ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস পুনরায় চালু করার প্রশংসা করেন এবং সম্প্রতি বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের দূতাবাস পুনরায় খোলার বিষয়ে আর্জেন্টিনার সম্মতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের আবাসিক মিশনটি যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে আর্জেন্টিনার মূল্যবান সমর্থন কামনা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আর্জেন্টিনা সরকারের শুভকামনাও পৌঁছে দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে রয়েছে।
এর আগে, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান অনন্য বন্ধন—বিশেষ করে ফুটবলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং তরুণ ও নারী ফুটবল উন্নয়নে কাঠামোগত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
শামা ওবায়েদ ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা চেম্বার অব কমার্স’-এর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, সিরামিক এবং পাটজাত পণ্য আমদানির প্রস্তাব দেন।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। সুনির্দিষ্ট ও ফলাফলভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অংশীদারত্বকে একটি গতিশীল ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
১৫১ দিন আগে
পল্লী উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ
বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও জলবায়ু সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতেই রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন খাতে সুইজারল্যান্ডের চলমান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদার করার বিষয়ে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সুইজারল্যান্ড অন্যতম সহযোগী এবং বর্তমান সহযোগিতার পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে তিনি সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
আলোচনা শেষে উভয়পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।
১৫২ দিন আগে
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পদে নিযুক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা প্রজেক্টটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।
চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে সাইদা শিন-ইচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানের নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) কোমিনে কেন, প্রথম সচিব (অর্থনীতি) মোচিদা ইউতারোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫৩ দিন আগে
নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সাংবাদিকদের এ আগ্রহের কথা জানান।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের শক্তি ও গভীরতা পুনর্ব্যক্ত করে উভয় দেশ অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।
তিনি বলেন, যৌথ অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অভিবাসন, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা শক্তিশালী করার বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে আছে এবং আমরা দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আগ্রহী।
বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশা প্রকশা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৫৩ দিন আগে
বেনাপোলে বন্দর দিয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দোলযাত্রা উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রোপোল স্থলবন্দর দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
তিনি জানান, ভারতে দোলযাত্রায় সরকারি ছুটির থাকায় আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বন্দর ও শুল্ক ভবনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শামীম হোসেন।
ভারতের পেট্রোপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, দোল পূর্ণিমা বা দোলযাত্রা একটি বৈষ্ণব উৎসব। বসন্তের এ উৎসবটি ‘হোলি’ নামেও পরিচিত। অশুভ শক্তির বিনাশ হিসেবে ‘হোলি উৎসব’ হয়ে থাকে। এ উৎসবের কারণে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিঅ্যান্ডএফ মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডলিং শ্রমিক, ট্রাকচালকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
বেনাপোল শুল্ক ভবনের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিবুর রহমান জানান, এক দিনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।
১৫৩ দিন আগে
বাংলাদেশির মৃত্যুতে বাহরাইনের রাজার শোক
বাহরাইনে ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপনাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক ফোনালাপে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিকট গভীর শোক জ্ঞাপন করেন।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় বাহরাইন সরকারের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
১৫৩ দিন আগে