বৈদেশিক-সম্পর্ক
জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ’ নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তার তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল।
এদিকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাপান পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপানে সরকারি সফরে যেতে পারেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে এপ্রিলে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, কোনো দেশ এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান, যার লক্ষ্য দুই দেশ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত করতে পারলে নভেম্বরে তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করতে পারেন।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
৩১ দিন আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সীমান্ত নিরাপত্তা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি বাংলাদেশের সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সহায়তার ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য পরিধি প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে। বাণিজ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শিগগিরই বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া উগ্রবাদ মোকাবিলা, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সিঙ্গাপুর মিশন প্রধানের উত্তরসূরী ফিলিপ ওং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিঙ্গাপুর মিশনের দ্বিতীয় সচিব ধান্য লিঙ্গেশসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিন আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে কৌশলগত চুক্তি সই করেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এ চুক্তিতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন ঢাকার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়।
৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ‘ইতিবাচক’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
৩২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের সরকারপ্রধান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
৩৪ দিন আগে
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-কানাডার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আশা
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দুই দেশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তৈরি পোশাকের বাইরে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কানাডায় বসবাসরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডার অব্যাহত সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যদিকে হাইকমিশনার মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু নেতৃত্ব ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন।
কানাডার হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় দুই পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করে।
উভয় পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে অব্যাহত রয়েছে।
৩৭ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ইতালি
বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী দিনে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো স্পিকারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৭২ সালে ইতালি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনা হয়।
তিনি বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি ইতালির সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে আবারও যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারের ফলে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনি অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইতালি কাজ করে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশকে ইতালির আর্থিক সহায়তারও প্রশংসা করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে ইতালি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইতালির বিভিন্ন মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়।
ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সামনে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তার লাভ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
অন্যদিকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইতালির পুরনো বন্ধু এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালি সরকার সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ-ইতালি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদারে ইতালির আগ্রহের কথা জানান তিনি।
আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য ইতালিতে রপ্তানি করে।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের মজুত অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ইতালির কোম্পানিগুলোকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান স্পিকার।
বৈঠকে ইতালির দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ দিন আগে
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবার ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সিয়াম বলেন, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। ওই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন।
বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।
৩৮ দিন আগে
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪১ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাভেদ নবনির্বাচিত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। বৈঠককালে ওআইসি মহাসচিব এ আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং নতুন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন গতি পাবে।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যা সবার জন্যই মারাত্মক ভোগান্তি বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ভূমিকা স্মরণ করে মহাসচিব বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষ সারিতে রয়েছে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ এ বিষয়ে একমত হন যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ভিন্নতা থাকায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশগুলো ‘উইন-উইন’ ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশে জনগণ ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাভেদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যৌথ ইস্যুতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
৪১ দিন আগে
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরানোর আগ পর্যন্ত কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান থাকবে: শামা ওবায়েদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং আরও নেওয়া হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো নিয়ে ‘দাপ্তরিক বিবৃতি’ ছাড়া সংবাদ না করার অনুরোধ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘ডেফিনেট স্টেটমেন্ট’ না আসা পর্যন্ত এসব খবরের আমল না দিতে তিনি অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার একটাই বক্তব্য—বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ডেফিনেট কোনো স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব নিউজের আমল না দিতে আমি অনুরোধ করব এবং নিউজ না করারও অনুরোধ করব।’
৪২ দিন আগে