বৈদেশিক-সম্পর্ক
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণেই আগের সরকার প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই এটার বারোটা প্রথমেই বাজিয়ে দিয়েছিল। যখন বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) করেছিল, তখন প্রথমেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় তিনি একটি ট্রাইপার্টাইট এগ্রিমেন্ট (ত্রিপক্ষীয় চুক্তি) করেছিলেন। জাতিসংঘ সেই চুক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। সে কারণে ওআইসিভুক্ত প্রতিটি দেশসহ প্রত্যেক অংশীদার এটায় যুক্ত হয়েছিল। বিগত সরকার সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের জটিলতা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে সংকট শুরু হওয়ার পর প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। এখন মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সংকটও ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু শব্দের খেলায় বা ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় বললে তো হবে না, বস্তুত তো আমাদের এটা অ্যাকশনে পরিণত করতে হবে।’
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটিকে রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব’ বলা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের দিক থেকে যে স্টেটমেন্টটা করা হয়েছে, সেখানে সংখ্যার কিছু বিভ্রাট আছে, যেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত না।’
আলোচনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ‘সেই ভেরিফিকেশন প্রসেসটা তারা শুরু করেছে, কিন্তু ধীরগতিতে।’
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা ও মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারা যেন সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের একটা নিজেদের আইডেন্টিটি আছে, সেই আইডেন্টিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে,’ বলেন তিনি।
মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টিও উঠে আসছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মিয়ানমার সরকারের ওপর নয়, আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন। চীনের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তার কথায়, ‘একটা আন্তর্জাতিক চাপ যে প্রয়োগ করতে হবে মিয়ানমার সরকারের ওপরে, আরকান আর্মির ওপরে, সেটা কিন্তু পরিষ্কারভাবে আমরা সবসময় বলছি এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও সেটা উঠে আসছে।’
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর যতটা সম্ভব আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ভূ-রাজনীতির একটা ব্যাপার আছে, আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতির ব্যাপার আছে, সবকিছু মিলিয়েই আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক কাজটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে আরও জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিকে আরও বেশি জোর দিচ্ছি, তারাও যেন মিয়ানমারের ওপরে সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট (চাপ সৃষ্টি) করে।’
এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদা সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে যে তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো স্পেসিফিক ডেটা আমাদের কাছে নেই। কোনো ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডেটা নেই যার ওপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলতে পারি।’
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কাছে তথ্য চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ সময় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান বাংলাদেশে এসে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত না হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন—ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো অনুরোধ বা আহ্বান জানিয়েছে কি না—প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, দেয়নি।’
৭০ দিন আগে
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত
ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতা পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
৭১ দিন আগে
দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে তিনি কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সফর শেষে ১৯ আগস্ট রাতে তার র দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
৭১ দিন আগে
তিস্তা চুক্তিতে ভারতের স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থও দেখতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বারবার আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের যেমন স্বার্থ রয়েছে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিও তাদের নজর দিতে হবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো ধরনের অবনতি চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘তিস্তা চুক্তি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে; হয়ে যায়, হয়ে যায়—কিন্তু হয় না,’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ বন্ধু দেশ। তাদেরও চিন্তা করতে হবে, তাদের যেমন স্বার্থ রয়েছে, আমাদেরও স্বার্থ আছে। বন্ধু দেশই তো বন্ধু দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমাদের স্বার্থের প্রতিও তারা নজর দেবেন। আমাদের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের অবনতি হোক—এটা কখনো আমরা চাই না।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভবনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের পানি সম্পদ কৌশল বিভাগ আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ্যানি বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছয়টি জেলার মানুষের এ প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তাপাড়ের মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে।
‘এই চ্যালেঞ্জকে ওভারকাম করতেই হবে,’ বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছেন। বিভাগীয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং কীভাবে এটি দৃশ্যমান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর গতিপ্রকৃতি ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে এর ব্যবস্থাপনা সহজ নয়। নদীটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় এর প্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। আবার নদীকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ কারণে তিস্তা ব্যবস্থাপনায় শুধু টেকসই নয়, একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ্যানি বলেন, ‘একেকজন বিশেষজ্ঞ একেক ধরনের মতামত দিয়েছেন। মতামতের মধ্যেও পার্থক্য আছে। এ জন্য আমি শুধু টেকসই বলব না, আমি বলব এটাকে একটা ইন্টিগ্রেটেড ওয়েতে আমাদের নিয়ে আসতে হবে। একটা সমন্বিত সমাধান আমাদের দরকার।’
তিনি বলেন, বিস্তারিত সমীক্ষার ভিত্তিতে এমন একটি পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে বাস্তবায়নের পর্যায়ে কোনো ধরনের হোঁচট খেতে না হয়। পানি বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামতও বিবেচনায় নিতে হবে। ‘আমরা যেন কোনোভাবেই আমাদের এই প্রজেক্টটা ফেইল না করি,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙনকবলিত মানুষের স্বার্থে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হবে।
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে চীন ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অন্য কোনো দেশ থেকেও এ ধরনের সহায়তা পাওয়া গেলে তা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার কথায়, ‘এখন দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আমাদের এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিস্তা চুক্তি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা নামেই হোক অথবা আমরা এই প্রকল্পটাকে বাস্তবায়নের স্বার্থে যা যা করা দরকার, আমরা সে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব।’
তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্ব সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক বক্তব্য দেন।
৭১ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিতে লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ঢাকায় ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিসিয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময় এবং ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার স্থাপনসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার একটি ভিসা সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৭২ দিন আগে
বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়া বাণিজ্য সম্প্রসারণে আইসিটি ও ফিনটেক খাতে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত দিয়ানা মিকেভিচিয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি ও ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দেশে বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (রিপ্যাট্রিয়েশন) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত দিয়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, লিথুয়ানিয়া বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক (GovTech) এবং ফিনটেক সেবায় অন্যতম অগ্রগামী দেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
৭৩ দিন আগে
প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও আইওএমের নতুন প্রকল্পে সই
ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার করতে ২৪ মাসের একটি প্রকল্প চুক্তি সই করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।
এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ‘সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক প্রকল্পটি আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। আইওএম বাংলাদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বাংলাদেশে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে সহায়তা করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রশিক্ষণ উপকরণ ভবিষ্যতে নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় ও আন্তঃসংস্থার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচারকারীরা মানুষকে শনাক্ত, প্রলুব্ধ, নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করছে। এ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবিলায় প্রকল্পটি তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে—তথ্য-প্রমাণ ও জ্ঞানভিত্তি শক্তিশালী করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিতে ডিজিটাল সচেতনতা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ বলেন, ‘প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সুযোগের সন্ধানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে এটি মানবপাচারকারীদের দ্বারাও শোষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। প্রযুক্তি যাতে শোষণের হাতিয়ার না হয়ে সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে এই প্রকল্প সহায়তা করবে।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মানবপাচার মোকাবিলায় প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টাকে এই প্রকল্প আরও সহায়তা করবে। এর সামগ্রিক লক্ষ্য হলো সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচারের ঝুঁকি প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও প্রশমনে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম করে তোলা।’
৭৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের কারণে এ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা মনে করি, (প্রধানমন্ত্রীর) এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’ এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত আসামিদেরও বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান এ কে এম শহীদুল করিম। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা তাদের (দিল্লি) প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।’
তিনি আরও বলেন, আমরা আবারও বলছি, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।
উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেক সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
৭৩ দিন আগে
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনা-সমর্থিত সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের প্রত্যাবাসন গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর সৃষ্ট সংকট নবম বছরে প্রবেশের সময় এ তথ্য জানানো হলো।
ওই বছর রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করলে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে কয়েক দফা সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।
অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পিত ধরন ও ভয়াবহতার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে।
রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটি, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং ‘অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাসকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আর ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে গিয়েছিল।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এর ফলে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০২৩ সালে রাখাইনে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখাইনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি।
এদিকে, শরণার্থী শিবিরগুলোর দুর্বিষহ পরিস্থিতি, বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করবে মিয়ানমার—এমন খবরও তিনি তখন নাকচ করে দিয়েছিলেন।
৭৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারা জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে
এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’
ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’
সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।
৭৫ দিন আগে