রংপুর
রংপুরে চার খুন: আসামিদের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
রংপুর নগরীর গণপতি চক্রবর্তীসহ চার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল পাওয়া গেছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো অবৈধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। পরে বিচারক আসামিদের দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চরম উন্মাদনা ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উভয় আসামির শরীরে ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে চিকিৎসকদের মতে, মাদক সেবনের পর মানবদেহে বা প্রস্রাবে এর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা থেকে চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী বলেন, এত বড় একটি ঘটনার এক-দুই দিন পরই ডোপ টেস্ট করা যেত। সেখানে ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করে নেগেটিভ এসেছে। এখন কী হবে, তা আপনারা দেখেন।
ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও এতে খুনের তদন্তের অন্য দিকগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে না। আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ১০ দিনের মাথায় ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। যারা মাদক সেবন করেন, তাদের প্রস্রাবে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে তারা মাদকে আসক্ত কি না, তা বোঝা যেত। পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি বলে তারা মাদকাসক্ত নন—এমনটা বলা যায় না। আবার ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় তারা মাদকাসক্ত ছিলেন না, সেটিও বলা যাবে না।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডোপ টেস্টে তাদের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতি রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।
১ দিন আগে
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দাবি আদায়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালনের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এ ধর্মঘট শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সোনামসজিদসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো হিলি স্থলবন্দরেও পণ্য তালিকা অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানির পণ্য তালিকা দীর্ঘ হলেও হিলি স্থলবন্দরে তালিকা অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি থাকায় ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়াসহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অন্যান্য স্থল বন্দরের মতো হিলিতেও সমান সুযোগ-সুবিধা চান তারা।
ধর্মঘটের বিষয়ে বাংলাদেশের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন ভারতীয় এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর ফলে হিলি দিয়ে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব বৈষম্য দূর করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, ধর্মঘটের বিষয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠন একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এলসিতে আসা গম, ভুট্টা, ভুষি, ডাল, ছোট সাইজের পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতীয় এলাকায় আটকা পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা।
৩ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি, নির্যাতনের অভিযোগ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে ডিবির বিরুদ্ধে তাদের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) বিকেলের দিকে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘হত্যার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছে পুলিশ। আমরা যতটুকু মিডিয়ায় বলেছি, ততটুকুই পুলিশকে জানিয়েছি।’
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হচ্ছেন। তার স্বজনদের অভিযোগ, পার্থকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে গেল ডিবি আর এখন তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে বের হয়ে এসেছেন।
নির্যাতনের ব্যাপারে ডিবির পক্ষ থেকে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়া পাড়ার তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরের দিন রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত ও বিদ্যুৎ দাস নামে দুইজন সাক্ষীও আদালতের মাধ্যমে জবানবন্দি দেন।
৩ দিন আগে
চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, আতঙ্কে রংপুরবাসী
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন না হতেই গলাকাটা অবস্থায় এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বটগাছের নিচ থেকে মুখলেসুর রহমান (৬০) নামে ওই অটোরিকশা-চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুখলেসুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস গ্রামের মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিপাড়া এলাকায় নির্জন স্থানে বটগাছের নিচে মুখলেসুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক চিৎকার করে ওঠেন। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে মুখলেসুরের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। রিকশাটি উদ্ধারে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের ভাতিজা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মুখলেসুর গত ২০-২৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর সবুর বলেন, মুখলেসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৪ খুনের আসামির পক্ষে লড়বে না রংপুর আইনজীবী সমিতি
এদিকে, রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।
৩ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: পুলিশের নতুন বয়ান—‘দিনের আলোয় খোলা ছাদেই খুন হন গণপতি পরিবার’
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বয়ান, তদন্ত ঘিরে নানা প্রশ্নের মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
আদালতে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন (শুক্রবার) সকালে গণপতি চক্রবর্তী তার বাড়ির ছাদে হাঁটতে গেলে সেখানে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। এরপর ছাদেই তাকে হত্যা করা হয়। শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে স্ত্রী-মেয়ের মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে ছাদের সিঁড়ির কাছে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে আদালতের বরাতে এসব কথা জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
তিনি বলেন, আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে নতুন কিছু তথ্য যুক্ত হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যাওয়ার কারণ ছিল সেখানে ইয়াবা সেবনের সুবিধা। তার ভাষ্যে, ‘বাসার ছাদে গিয়েছিল। এর কারণ হলো যে দেবুদের বাসার ছাদ ফাঁকা, সেখানে বাতাস আছে। ইয়াবা সেবন করতে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, সেটা বাতাসে না থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হয়। আর গণপতি স্যারের বাসার ছাদে ওয়াল (দেওয়াল) রয়েছে, যে ওয়ালের ফাঁকে বাইরে থেকে দেখা যায় না।’
কমিশনার আরও বলেন, ‘বাসার ছাদে এরা পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। তারা খেয়াল করেনি যে ভোরের আলো ফুটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই রাতে তারা দুইজনে আটটা ইয়াবা সেবন করে। এটা সিদ্ধার্থের জবানবন্দি। জীবনে কখনও তারা এত বেশি ইয়াবা সেবন করে নাই। সর্বোচ্চ দুইটা ইয়াবা একসঙ্গে সেবন করেছিল।’
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন। দেখে ফেলে ধমক দেন এবং জোরে জোরে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’ তখন তাদের মাথা কাজ করছিল না। আত্মসম্মানের ভয়ে মুগ্ধ দাস এবং সিদ্ধার্থ দাস গলায় গামছা পেঁচিয়ে টান মেরে গণপতিকে মেরে ফেলেন।’
মেয়ে ও স্ত্রীকে হত্যার বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘স্যারের মরদেহ টান দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত স্যারের স্ত্রী এবং মেয়ে শব্দ শুনে ছাদে চলে আসে। তাদের দেখে চিল্লাতে লাগলে মুগ্ধর হাতে স্যারের গামছা ছিল, সেই গামছা দিয়ে স্যারের স্ত্রীর গলা চেপে ধরে আর সিদ্ধার্থ দাস স্যারের মেয়ের গলা চেপে ধরে। একহাতে মেয়ের গলা চেপে ধরে, আরেকহাতে মুখ চেপে ধরে। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর সেই গামছা দিয়ে আবার দুইজনে একসঙ্গে মেয়ের গলায় পেঁচায়। তাতে মেয়ে না মরলে পাশে কবুতরের খাবার রাখার বাক্স থেকে রশি নিয়ে এসে মেয়েটার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেয়।’
এরপর আসামিরা গণপতির ঘরে ঢুকলে তার ছেলে প্রিয়ম ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখতে পায় বলে জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাটা সিদ্ধার্থকে দেখে বলে, সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন? দেবুদের বাসার কেউ শব্দ শুনে টের পেয়ে যায় কি না এই ভয়ে বাচ্চাটাকে তারা কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।’
পুলিশ কমিশনার জানান, এর আগে পুলিশ যে তথ্য দিয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটির ওপর হামলা করা হয়। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থের বক্তব্যে শিশুটি ঘুম থেকে উঠে তাকে দেখে ফেলার বিষয়টি এসেছে।
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও দুটি বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রথমত, সিদ্ধার্থ দাসের জবানবন্দি অনুযায়ী জানা গেছে, নিহত পরিবারটি তার পূর্বপুরুষের জমি কিনেছিল। সম্ভবত একটু বেশি মূল্যে কেনা ওই জমির টাকা সব অংশীদার বা শরিকরা আনুপাতিক হারে সমানভাবে পায়নি। এই অর্থ বণ্টন নিয়ে শরিকদের মনে কোনো ক্ষোভ ছিল কিনা, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক ব্যবধানের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। আবদুল মাবুদ বলেন, মাছুয়াপাড়ার অধিকাংশ মানুষ দাস সম্প্রদায়ের হলেও নিহত গণপতির পরিবার ছিল ব্রাহ্মণ। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে রাস্তাঘাটে দেখা-সাক্ষাৎ বা সাধারণ মেলামেশা থাকলেও একে অপরের বাড়িতে আসা-যাওয়ার মতো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। এই সামাজিক দূরত্বের কারণেও কারও মনে কোনো ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করতে থাকলেও কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান পুলিশ কমিশনার।
এর আগে, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছিলেন, গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে শব্দ পেয়ে ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় খুন হন গণপতি। মা ও মেয়েকে সিঁড়িতে খুন করা হয়েছিল। এরপর মামলার এজাহার, আলামত ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ ঘটনাটি ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত শনিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হয় এবং থানা থেকে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৫ দিন আগে
চুরি দেখে ফেলায় কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, যুবক আটক
রংপুর নগরীর পূর্ব শালবন শিক্ষাঙ্গন এলাকায় গভীর রাতে চুরি করতে ঢুকে এক কিশোরীকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মোহাম্মদ আশিক (২২) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আশিক তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে পূর্ব শালবনে ভাড়া থাকেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে ভেন্টিলেটর (ঘুলঘুলি) দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত আশিক। এরপর তিনি ঘরের কোণে থাকা কাপড় রাখার একটি বড় ঝুড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকেন। ওই পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় কিশোরী বিষয়টি টের পেয়ে জেগে উঠলে আশিক তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সজোরে টান দেন।
স্থানীয় মুসলিম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় দেখি চোর ধরা পড়েছে। মেয়েটা টের পেয়ে উঠে দাঁড়ালে ওই ছেলে ওড়না দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে টান দেয়। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে যুবককে ধরে ফেলেন। পরে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা ওই যুবককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরি করতে ঘরে ঢোকার পর কিশোরী তাকে দেখে ফেলায় শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত আশিক বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
এর আগে, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে ঘরের ভেতরে ঢুকে এই হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশে ফেলে যাওয়া বিএসএফের অস্ত্র-ওয়াকিটকি ফেরত দিল বিজিবি
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের অভ্যান্তরে প্রবেশ করে কৃষকদের মারধর করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ফেলে যাওয়া দুইটি শটগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেরত দিয়েছে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।
তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার কিছু সময় পরে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের ফেলে যাওয়া শটগান ও ওয়াকিটকি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গতকাল বিকেলে হাতিবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় খেতে কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ওই কৃষকদের মারধর করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে দুটি শটগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা।
বনচৌকী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। পরে পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করলে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেরত দেয় বিজিবি।
৬ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত, আসামিদের সঙ্গে মিলেছে বর্ণনা
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামের এক যুবক। তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামির বন্ধু।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে সাক্ষী সীমান্তের বর্ণনায় ইয়াবা সেবনের বিষয়ে মিল পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা যে সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে বিষয়টিও উঠে এসেছে।
সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরের মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু এবং নগরের একটি মার্কেটে কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘সাক্ষী হিসেবে সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচারক ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।’
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত তার জবানবন্দিতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে। আসামিরা তার বাড়িতে ইয়াবা সেবনের যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে একই কথা জানিয়েছেন।
এর আগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর গেল রবিবার সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে, আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হবে কি না—এ প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডকেট পেয়েছি। ইতোমধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আবেদন করেছি। বুধবার (আজ) তা চলে যাবে।’
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্য, তথ্যে অমিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে খোঁজা হবে। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে যতগুলো প্রশ্ন আছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উত্তর খোঁজা হবে। এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গেল রবিবার আরএমপির কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতে গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ মামলায় প্রথমে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জিকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়। পরদিন সোমবার মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছ থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এরপর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়ির নিচতলার কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন গণপতি।
গেল শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামের এক যুবক। তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামির বন্ধু।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা যে সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে মামলার এজহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় সীমান্তের। পরে স্বাক্ষীকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়।
ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং সুকানপুকুরি এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক জীবন অধিকারী (৪০)।
আহতরা হলেন: মোটরসাইকেলচালক ভুল্লী উপজেলার লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. লাইলি বেগম (৪০) ও মো. শফিকুল ইসলাম।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও জীবন অধিকারীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাইলি বেগম নামে আহত একজন ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমানকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে
দিনাজপুরে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪
দিনাজপুরের বিরামপুরের তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরেক ট্রাকের চালক ও সহকারীসহ মোট ৪ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিজুল বাজার এলাকায় দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক রশিদুল ইসলাম (৩৪) দিনাজপুরের জেলা সদরের শেখপুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিরামপুরের বিজুল বাজার-সংলগ্ন বিজুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিরামপুর থেকে ছেড়ে আসা মালবোঝাই করা অন্য একটি ট্রাক গোবিন্দগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় একই দিকে যাওয়া আরেকটি ট্রাক সামনের ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এ সময় সামনেও মালবোঝাই ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপরীত দিক থেকে আসার আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মালবাহী ট্রাকের চালক রশিদুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন, আর অন্য ট্রাকের চালক ও সহকারীসহ চারজন আহত হন।
খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন বিরামপুর এবং ফুলবাড়ী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। আহত চারজনকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে