বিএনপি
বিরোধীদলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন আমাদের সম্মানীয় বিরোধীদলীয় নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক একই রকম কথা অতীতে শেখ হাসিনাও বলতেন।
১৯৯১ ও ৯৬ সালে আওয়ামী লীগও বর্তমান বিরোধীদলের মতো একই সুরে সরকারকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বিরোধীদলের নেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা মনে করি যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, কার্যকর করতে হলে বিরোধীদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে সেগুলো দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা সংসদের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে।
তিনি আফসোস করে বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই আগের মতো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা, জটলা তৈরি করা আবার শুরু হয়েছে। এটাতে তো আপত্তি নেই, এটা আপনাদের গণতান্ত্রিক নীতি; কিন্তু সেটা এমন পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতের রূপ নেয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই, যে সমস্ত জায়গাগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা নিন্দনীয় এবং এটা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি।
বিএনপি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সংগ্রাম মূলত ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করেছে। এই ১৭-১৮ বছরে প্রায় ৬০ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার মামলা হয়েছে মিথ্যা মামলা।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, একটা মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ পালন করছে না। এটা কিন্তু পুরোপুরিভাবে একটি ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ বিএনপিই হচ্ছে সেই দল যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। একদলের শাসন ব্যবস্থাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে এসেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
জুলাই সনদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের তথ্য বলা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, বিএনপি সরে যাচ্ছে, বিএনপি দূরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যাতো অন্য জায়গায়। সেটা হচ্ছে গণভোট, যেটার কথা বার বার বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন ছিল, সে চারটা প্রশ্নের মধ্যে তিনটাতে আমরা একমতই ছিলাম। কিন্তু একটা প্রশ্নে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে, তারা এটা চাপিয়ে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমরা কখনোই সেটা মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি যে আমরা এইখানে একমত নই। ওভাবেই নির্বাচন হয়েছে।
তিনি বলেন, সেভাবেই তো ম্যানিফেস্টো (নির্বাচনি ইশতেহার) দিয়েছি আমরা, সেভাবেই জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা সরকারে এসেছি। সরকারে এসে আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ অক্ষরে—আমরা যতটুকুতে সম্মত হয়েছি—পালন করতে চাই।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ হয়েছে, সংসদে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাই, সংবিধান অ্যামেন্ডমেন্ট কমিটি বা সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে বিতর্ক—সংস্কার হবে নাকি নাকি সংশোধন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, আমরা আলোচনা করি। সংসদে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই। কোন কোন জায়গায় আলোচনা আছে, সে বিষয়ে কথা বলি। তখন যদি একমত না হয়ে বেরিয়ে যাবেন, বেরিয়ে যাবেন। তবুও আলোচনা করুন।
২০ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল এবং গণতন্ত্রের পরিবর্তে দলটি ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, জুলাই গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে চূড়ান্ত পরাজয় হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, যা ‘একটি রাজনৈতিক ভাওতাবাজি’।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে এবং ‘এক ব্যক্তির পূজার’ মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে ছিল।
তিনি বলেন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতা এক বিষয় নয়। রাজনীতির সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতা, সাংস্কৃতিক ও আর্থিক ক্ষমতা, সফট পাওয়ার, আন্তর্জাতিক লবিং এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয় জড়িত। তাই শুধু নির্বাচনের ফল দিয়ে রাজনৈতিক জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যায় না।
তার ভাষ্য, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল আওয়ামী লীগের পক্ষে গেলেও সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন বলা যায় না। তার মতে, গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হওয়াই ছিল দলটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।
জুলাই গণহত্যার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের মতো আরেকটি ঘটনা যদি ঘটে, যেখানে একটি গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেইখানে যদি আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী শক্তি, তারা যদি কোনোভাবে বিজয়ী হয়ে আসে, তাহলেই তারা রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে পারবে বাংলাদেশে। এর বাইরে আমার মনে হয় তাদের আসলে রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ নাই।’
শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাহলে কালকে আসতেছে না কেন দেশে? কালকেই আসুক, ডিসেম্বর কেন লাগবে?’
ইশরাকের দাবি, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলছে। নিজেদের সম্পদ ও অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি অনুসারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সামাজিক অবস্থান পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান এখনও রয়েছে। তাই আগামী দিনের রাজনীতিতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যত বিভেদ সৃষ্টি হবে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তত বাড়বে। এ সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, পরাজয় নিশ্চিত দেখে তারা সাধারণ নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এটি আওয়ামী লীগের ‘কাপুরুষোচিত’ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকাশ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের শেখ হাসিনা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে তো পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ! সন্ত্রাসী তো তারা! ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবে তারা!’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
২ দিন আগে
এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে: রাশেদ খান
এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে ও মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জামায়াতকে একটি ‘চালাক ও ধুরন্ধর দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এনসিপিকে গঠনমূলক রাজনীতি করার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং তা দিল্লিতে দাফন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না যে, আওয়ামী লীগ আর কখনও দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে।
এ সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমপি ও মন্ত্রীদের গালিগালাজ করছেন। রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, এনসিপির নেতারা যদি রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে তার ‘উত্তম জবাব’ এবং জামায়াত-এনসিপির সব ষড়যন্ত্রের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়ার কথা বলছেন।
এর আগে, রাশেদ খান জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুধীজনরা। সভায় রাশেদ খান জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
৪ দিন আগে
বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই শহিদদের অবমাননা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: মীর হেলাল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি অবমাননা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন। তিনি কর্মের মাধ্যমে শহিদদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মীর হেলাল বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন এবং যাদের প্রভাবে সরকার পরিচালিত হয়েছে, তারা জুলাই স্পিরিট, অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগ, অনুভূতি ও চেতনা, সমুন্নত রাখতে পারেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে তারা জুলাই শহিদদের প্রতি অবমাননা করেছেন বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘যাদের স্মরণে আজ আমরা কিছু কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যাদের বাবা-মায়ের আর্তনাদ আমরা শুনেছি, এরকম হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আর্তনাদ আমাদের গত ১৭ বছর শুনতে হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নৃশংসভাবে হত্যা, গুমের শিকার হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয়, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে যারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন, তারাও গুম, খুন, হামলা-মামলা ও কারানির্যাতন থেকে মুক্তি পাননি।’
মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, জনরোষ ও প্রতিবাদের চূড়ান্ত ফলাফল।’
তিনি বলেন, ‘কোনো গণঅভ্যুত্থান কোনো এক ব্যক্তি বা এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ, গণতন্ত্রপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক মানুষ, যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই এই গণবিস্ফোরণের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই শহিদদের পাশাপাশি ওই অবৈধ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ মতবিরোধী হাজার হাজার মানুষের শহিদ হওয়ার কাহিনীও এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে কাজ করেছে।’
মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের উপলব্ধি হওয়া দরকার যে, দেশপ্রেমকে সমুন্নত রেখে, দেশের মানুষের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রেখে দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দিন-রাত সেই কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সবাই একটি প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন যেন জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখে তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্যও কাজ করা হচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আমরা এসব আলোচনা শুনছি। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নেপথ্যে থেকে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘যেভাবে তিনি নেপথ্য থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই আন্দোলন সফল করতে সহযোগিতা করেছিলেন, একইভাবে এখনো বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তিনি নিজের কৃতিত্ব বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কিছু করছেন না।
‘তিনি অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন— ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণতন্ত্রকে পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যত ত্যাগ, আত্মাহুতি ও শহিদের রক্ত ঝরেছে, তাদের প্রতি মর্যাদা দেখাতে হলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা ছাড়া কোনো পথ নেই।’
মীর হেলাল বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও এবং এখনও তারেক রহমান যে বিষয়টি ধারণ করছেন, সেটি হলো—সবার আগে বাংলাদেশ। রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজ পরিচালনা কিংবা যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবার আগে চিন্তা করতে হবে, এই কর্ম বা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে কি না।’
মীর হেলাল বলেন, ‘আজকে আমাদের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে, তার মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া “ফ্যামিলি কার্ড” অন্যতম। এই ফ্যামিলি কার্ডের উপকারিতা প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা পাচ্ছেন। যারা প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন দেখেন না, তারা এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে কৃষক কার্ড, বিভিন্ন ধর্মের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মানী, স্পোর্টস কার্ড এবং খেলোয়াড়দের সম্মানীসহ যতগুলো গণমুখী ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, এগুলো প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন।
‘তিনি সেই চেতনা ধারণ করে কর্মের মাধ্যমে শহিদদের সঠিক মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।’
মীর হেলাল বলেন, ‘এখানে যারা শহিদ পরিবারের সদস্য রয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত সম্পদের মধ্যেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। দল হিসেবেও আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আশা করি, দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দরাও তাদের পাশে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিপ্লবের গল্প শুনে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে কাজ করা এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নেতৃত্বই দিচ্ছেন।’ তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মানুষের ইচ্ছা আমলে নেওয়া খারাপ কিছু নয়: দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘রাস্তায় নেমে রক্ত ও শ্রম দিয়ে যারা বর্তমান সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের দাবি থাকতেই পারে। জীবন দিয়ে যারা এই সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের ইচ্ছাকে আমলে নেওয়ায় খারাপ কিছু নেই।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএব)-এর সেমিনার হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব-এর ডিপিডিসি শাখা।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যখন তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং আমলে নেয়, তখন সেবামূলক কাজ মানুষ উপভোগ করতে পারে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি আবেগের বশে কোনো মন্তব্য করতেই পারেন, তবে সেটিকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও চাকরি হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ করে দুদু বলেন, ভাষা, স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি পেশাজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কোনো আন্দোলন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী-পুরুষ, এমনকি শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েও অনেকে রাজপথে নেমেছিলেন। তাই তাদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সরকার সচেতন।
সরকারপ্রধান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাজীবীদের সমস্যা ও দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সেগুলোর সমাধান করবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আন্দোলন একটা তারাই করতে চায়, যারা পার্শ্ববর্তী দেশের সেবাদাস। ১৮ বছর তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল। আর এই সরকার তো ভোটের মধ্য দিয়ে এসেছে। এই সরকার তো মানুষের সমর্থন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
জনগণের সরকার হিসেবে সংশ্লিষ্টদের দাবিগুলো সরকার আমলে নেবে এবং মীমাংসা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর (মিলন) সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ।
এদিন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।
৯ দিন আগে
পরবর্তী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে: রিজভী
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রায়ত্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে অবস্থান নিয়েছে, সেটিও তাদের নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত।
এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৯ দিন আগে
সরকারের মূল লক্ষ্য বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুরক্ষা: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলন হয়।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিএনপি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এর একটি বড় কারণ হলো বিএনপি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল একটি দলই নয়, বরং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। ক্ষমতার আকার বা শক্তি যা-ই হোক না কেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা সব অংশীদারই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
গুমের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা ব্যক্তিরাও গুমের শিকার হয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে গুমের শিকার কিছু ভুক্তভোগী ফিরে আসতে পেরেছেন, কিন্তু অনেকের সেই ভাগ্য হয়নি। অনেকেই আর কখনোই ফিরে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর এখনও ফিরে আসেননি। যে শিশুদের বাবা কিংবা যে স্ত্রীদের স্বামী আর ফেরেননি, তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা নতুন সরকার অনুধাবন করে।
প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর এই ব্যথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর একজন ভুক্তভোগী। তার বাবা যখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন দেশের জন্যই প্রাণ হারিয়েছেন। তার মা মারা গেছেন, কারণ তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় জেলে রাখা হয়েছিল। এবং তার ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বেদনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আত্মিকভাবে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে এমন অবস্থায় ছিলেন যে তাকে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়নি। আদালত ও আইন ব্যবহার করে তার বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি কেবল শারীরিক নির্যাতনের শিকারই হননি, দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি, তার বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তার স্ত্রী চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। সুতরাং, এটি এমন একটি পরিবার যা একদম ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ প্রতিটি নেতা-কর্মী একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। অনেকের নামে শত শত ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অতীতে একজন নারী ভোটার কেবল বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। এগুলোই ইতিহাস। তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যার ক্ষমতার মূল উৎস দেশের সাধারণ জনগণ। এটি বিগত দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থার চেয়ে একটি বিশাল পরিবর্তন। অতীতে ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ— পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা, অথচ সেগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এবং জনগণকে দমন করতে
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসব সংস্কার কেবল মুখের কথা নয়, বরং সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কাজের মধ্য দিয়েই তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের জানামতে গত পাঁচ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেনি। আমরা এই ইতিবাচক ঐতিহ্যটিই ধরে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
রাজনীতিতে প্রতিশোধের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য বিচারের এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বর্তমান সরকার বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের ভিন্ন ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে, অন্যদিকে বিগত শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অপরাধী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট— কোনো অপরাধী যেন পার না পায়, আবার একইসঙ্গে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাঁচার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি হয়েছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, গত চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বে সকল গণতন্ত্রকামী দল রাজপথে থেকে শান্তি ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
মাহদী আমিন জানান, সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে আমাদের উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে লক্ষ্য হলো নারী ও যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যা কেবল গুটি কয়েকের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান সরকার তার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রথম পাঁচ মাসের সফলতা পুরো মেয়াদেও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
১০ দিন আগে
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই স্পিকার থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি আগেই দেশে ফেরেন।
১০ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলা ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থাশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণজবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১০ দিন আগে
রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মিলিতভাবে ন্যূনতম প্রধান বিষয়ে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার মধ্যে থাকতে হবে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই রাজনীতিক বলেন, এই জুলাই, ১৮ জুলাই, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতি আমরা এখনও ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, সেই মুগ্ধ যে শহিদ হয়েছেন, আমরা তার কথা তো ভুলতে পারি না। একজন ভয়ঙ্কর দানব রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে ছিলেন জোর করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান; গণতন্ত্র যেখান থেকে শক্তিশালী হয়, সেই বিচারব্যবস্থা, ইলেকশন কমিশন, মিডিয়া— সবকিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যা বলবেন মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হবে—এমন অবস্থা ছিল। মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই দানবকে দমন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের একটি ভয়ঙ্কর দানবীয় রাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মধ্যে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তো কমপক্ষে ব্যবস্থা হয়েছে। কমপক্ষে কেউ যদি সরকারের জোরালো সমালোচনা করেন, সে গুম হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কথা বলা, সমালোচনা করা, এটা তো একটা গণতান্ত্রিক সমাজের একটা অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, সেটি তখন ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে। তাই জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর এবং তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের বাকি আছে সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে আরও যদি কিছু সেখানে কথা বলার থাকে, কিছু সংযোজন করার থাকে, সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেটা করে যেগুলো আইনিকরণ করা দরকার সংসদে, যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার, সেগুলো করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য একটা টেবিলে বসতে হবে, বসে কথা বলে ঠিক করে এটিকে আইনিকরণ করা সম্পন্ন করতে হবে।
১৪ দিন আগে