আইনশৃঙ্খলা
ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই মতিউরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু
ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন। এর ফলে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, গত ৫ জুলাই দুদকের পক্ষ থেকে মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করে শুনানি করেন মীর আহমেদ আলী সালাম।
অপরদিকে, মামলা থেকে আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ২১ জুলাই এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত। পরে তা পিছিয়ে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।
এদিন শুনানিতে মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। এ সময় তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে, মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখেন।
এরপর মতিউর রহমানের জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন। এ সময় দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালের ২ জুলাই মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে পৃথক নোটিশ পাঠায় দুদক। এসব নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৯ আগস্ট মতিউর, তার দুই স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েসহ পাঁচজনের সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন।
এরপর গত বছরের ৬ জানুয়ারি মামলা করে দুদক। আর ১৪ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। বলা হয়, তার বাবা এনবিআর সদস্য এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমান। এরপর আলোচনায় চলে আসে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কোথায় কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।
এসব আলোচনার মধ্যে একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে মতিউর পরিবারের বিপুল বিত্তবৈভবের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০ ঘণ্টা আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলের আবেদন করতে ল’ ফার্মকে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্যান্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেনজীরের ইস্যুতে আমি গতকালই কথা বলেছি, বিকেলের দিকে। আমি রাজশাহীতে ছিলাম, ওখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন। গতকাল আমি তার জামিনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আদালতে তাকে শর্তসাপেক্ষে বেইল (জামিন) দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি ইউএই ছাড়তে না পারেন, দেশ ত্যাগ করতে না পারেন এই শর্তে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর আমাদের নিয়োজিত যে ল’ ফার্ম আছে, তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। আর ইউএই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। কী কী শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটি শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কী আছে, সেটার সার্টিফায়েড (সত্যায়িত) কপি তোলার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আর আমাদের যে ল’ ফার্ম নিয়োজিত আছে, বেনজীরের প্রত্যাবাসনের জন্য যে কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো সেখানে আদালতে সাবমিট (জমা) করার জন্য সেই ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি, যেন তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, এ বিষয়ে তারা যেন আদালতের নির্দেশনা নেয়।’
সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তারপরও কেন জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের বিষয়ে, বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে আমি মন্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফায়েড কপি তুলে কথা বলতে এবং আমরা এই দিকনির্দেশনা দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা আইনি আবেদন (পিটিশন) দেয়। কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ।’
এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা—এই দুটি আয়োজনকে নিরাপদ করার জন্য আমরা সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিন কমলাপুর, মতিঝিলের দিকে মেট্রোরেলের একটি পিলারের নিচে ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। আমাদের আনসারের দুই সদস্য সেটি দেখে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল কর্ডন করে (ঘিরে) রাখে, বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে সেটি সরায় এবং পরে তা বিস্ফোরণ করে।'
মন্ত্রী বলেন, ‘এতে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো পক্ষ হয়তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছিল। আমরা বিষয়টি সতর্কভাবে দেখছি এবং এর পেছনে কারা আছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত পরিচালনা করছি।’
আশুলিয়ার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আশুলিয়াতে আরেকটি বোমাসদৃশ জিনিস পাওয়া গিয়েছে, যা একজন দুষ্কৃতকারী একটি ব্যাগ রেখে গিয়েছে। পরে সেটি একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও আমরা তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগের সময়ের তুলনায় যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই, একই সময়ে এই বিষয়গুলো কী রকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটা কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের জাতীয় বিষয়গুলো যারা চিহ্নিত করে—উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে সমস্ত তৎপরতা—এগুলো যারা পর্যবেক্ষণ করে, আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।’
২১ ঘণ্টা আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন ২৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। এরপর যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
এর আগে, ২৬ জুলাই সাক্ষ্য দেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনা দেন তিনি।
যদিও এ মামলায় প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর শেষ হয় ২৭ এপ্রিল। ওই সময় যুক্তিতর্কের জন্য দিনও ধার্য করা হয়। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুনরায় জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
১ দিন আগে
মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বস্তু বোম্ব নয়, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১ আগস্ট) মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে লিফটের কাছে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে বোমাসদৃশ বস্তু থাকার কথা জানায় ডিএমপি। একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের কাছেও একটি সন্দেহজনক বস্তা পাওয়া যাওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এরপর দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ করে দিয়ে স্থানটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমপি জানায়, খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে প্রথম ঘটনায় বোমাসদৃশ বস্তু থাকার সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে করে। এতে ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখা গেলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পরে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান ছিল। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
ফার্মগেটের ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরে বোমা সন্দেহের সৃষ্টি হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।
ডিএমপি নগরবাসীকে গুজব বা বিভ্রান্তিতে আতঙ্কিত না হয়ে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
হাইকোর্টে এক দিনে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি
আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৭ হাজার ৫৬৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে) মোট ৪৩ হাজার ৩৫৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ ছাড়াও, এখন পর্যন্ত ক্রিমিনাল মিস মামলা ও রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার ২৬৪টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলাজট হ্রাস এবং বিচারব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহের বিচারপতিরা পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে পুরোনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ ও ‘রিট’ মামলা নিষ্পত্তির এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৪ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে এইচআরডব্লিউর পর্যবেক্ষণ আমলে নেওয়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখতে আমলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনাদের জায়গা থেকে উনারা যদি এটা পর্যবেক্ষণ দেন, আমাদের দায়িত্ব হলো সে অবজারভেশনটাকে কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে বিষয়টা খতিয়ে দেখা। আমাদের যেটুকু খতিয়ে দেখার দরকার আমরা দেখব। এটাকে আমরা ইগনোর (উপেক্ষা) করছি না, এটাকে আমরা বলছি না যে উনারা ঠিক করছেন বা বলছেন না।’
তিনি বলেন, তারা (এইচআরডব্লিউ) যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে, যে-ই অভিযোগ করুক, সে অভিযোগটা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আমলে নিচ্ছি।
৪ দিন আগে
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের, আইনে সংশোধন আসছে
সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন, এমন বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি আইন নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশে অধিকাংশ দেওয়ানি মামলাই সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত। তাই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছি। মুসলিম আইনে হেবা, হিন্দু আইনে উইল এবং মুসলিম আইনে অসিয়তনামার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাবা-মা সন্তানদের নামে হেবা করে সম্পত্তি দিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পত্তির মালিকানা তাদের হাত থেকে চলে যায়। তখন তারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদি সন্তানরা তাদের দেখাশোনা না করে, তাহলে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, এ কারণে আমরা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের গিফট (উপহার)–সংক্রান্ত ধারাটি আরও কার্যকর করার কথা ভাবছি। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে এ বিধানটি সম্প্রসারণ করতে চাই। গিফটের ক্ষেত্রে ইউসুফ্রাক্ট রাইট বা জীবনস্বত্ব রাখার সুযোগ যুক্ত করতে চাই।
বিষয়টির ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ধরুন, আপনি সন্তানদের সম্পত্তি হেবা বা উইল করতে চান না; কিন্তু এমনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে চান, যাতে জীবদ্দশায় আপনি নিজেই সেটি ভোগদখল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গিফটের সঙ্গে জীবনস্বত্ব যুক্ত থাকলে বাবা-মা সম্পত্তি সন্তানকে দিয়ে দিলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত নিজেরাই সেটি ভোগদখল করবেন। তবে তারা এককভাবে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না; বিক্রির জন্য সন্তানের সম্মতি লাগবে। একইভাবে সন্তানও বাবা বা বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়া সেই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, আবার যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে বাবার চিকিৎসার জন্য সম্পত্তি বিক্রি করা প্রয়োজন, কিন্তু সন্তান সম্মতি দিচ্ছে না, তাহলে জেলা জজকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। আবেদন করা হলে জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।
এ ধরনের বিধান চালু হলে ভবিষ্যতে সম্পত্তি-সংক্রান্ত অনেক দেওয়ানি মামলা কমে আসবে এবং অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
৪ দিন আগে
দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা আবারও একটি ইন্টারভিউতে আগামী ডিসেম্বরে দেশে আসার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি করছে না, সেটা আপনি কীভাবে জানেন? অবশ্যই চেষ্টা করছে, আমি বলছি। দ্বিতীয়ত হলো, একজন ফাঁসির আসামি হলেও তিনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন, বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করতে চান, সেখানে হয়তো তার আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হবেন। কিন্তু তার সেই অধিকার তো আছে ’
তিনি বলেন, আসলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে তো আমরা আইনের ব্যত্যয় করে আমরা কিছু করব না। আইন যেভাবে আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে, আমরা সে ক্ষমতা প্রয়োগ করব।
তার কাছে পাসপোর্ট নেই, তিনি আসলে কীভাবে আসবেন— জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কীভাবে আসবেন, এটা তার সমস্যা। এটা আমার সমস্যা না। তিনি যখন আমার চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকবেন, তখন আইন আমাকে যেই ক্ষমতা দিয়েছে, আমি আইনের প্রয়োগ করব। বিষয়টি একেবারেই সহজ।’
আপনি বলেছিলেন যে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। এখন কি সে পর্যায়ে আছে, নাকি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে—এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আলোচনায় আসেনি। আমি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়েছি। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে আছে, রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, সেদিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
‘প্রশ্ন এসেছিল, আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকব কি না। ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে, আর গত অধিবেশন শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে ডাকতে হবে। সুতরাং এই দুই সময়সীমা যেহেতু মিলছে, সে কারণে আমি বলছি বিশেষ অধিবেশন ডাকার আপাতত প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। তবে সরকার মনে করলে অবশ্যই ডাকতে পারে।’
৪ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় যশোর থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৪
ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯টি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা এলাকার ৭ নম্বর কাঞ্চনগর ইউনিয়নের কাঞ্চনগর গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন: আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলা এলাকার জুরাইনের পরি মোল্লারবাগের বাসিন্দা; মো. শামিম (২৮), তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর কে মিশন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৮), তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাহারপাড় এলাকার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়াটারের পেছনে বসবাস করেন।
তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ডেভিড ইমন তার সহযোগীদের নিয়ে যশোর হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়।
যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ডেভিড ইমনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত যশোরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন।
৫ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা (জেনোসাইড)’ আখ্যা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালান। কিন্তু তৎকালীন সরকারের আমলে এ ঘটনায় কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের ওপর ওই হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একটি ধর্মীয় সংগঠনকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, তদন্তে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মোট ৬১ জন নিহতের তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, অভিযোগপত্রে দুটি পৃথক ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং অন্যটি পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনকে হত্যার ঘটনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩(সি) ধারায় এ দুটি ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিকৃত তথ্য প্রচারও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন হত্যাযজ্ঞকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তদন্তে এসব কর্মকাণ্ডকে অপরাধে সহায়তা (অ্যাবেটমেন্ট) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ‘সমীকরণ’ নামে একটি সম্প্রচার এবং একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে এ ধরনের ভূমিকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় হামলা হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বৈঠক করে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্যরাতে চারদিক থেকে অভিযান চালানো হয়।
তার দাবি, হামলার সময় সাউন্ড গ্রেনেড, গ্রেনেড ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। পরে সিদ্ধিরগঞ্জে আরও ২০ জন নিহত হন।
তিনি বলেন, তদন্তে যতটুকু নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগে তা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে স্পিডি ট্রায়ালের (দ্রুত বিচার আদালত) আবেদন করা হয়েছে।
৭ দিন আগে