আইনশৃঙ্খলা
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ পুলিশ সদর দপ্তরের
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
এ সময় তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান অতিরিক্ত আইজিপি।
দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকাতির মামলা নথিভুক্ত করতে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজিপি।
সাজার হার বাড়াতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশও দেন তিনি।
এছাড়া সার্বিকভাবে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপর জোর দেন করেন সায়েদুর রহমান।
অতিরিক্ত আইজিপি সমাজের সুনামধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ সময় সম্প্রতি শেষ হওয়া দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করায় আইজিপির পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত সেপ্টেম্বর মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি এবং ওই মাসে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা ও অপহরণের মামলা; মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে আলোচনা হয়।
২২ ঘণ্টা আগে
সাগর-রুনি হত্যা: টাস্কফোর্স প্রধান ও প্রসিকিউটরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা না দিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে আরও এক বছর সময় চায় টাস্কফোর্স। শুনানি শেষে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তে জব্দ করা সিডি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তদন্তের নতুন অগ্রগতির বিষয়ে টাস্কফোর্সকে তথ্য দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বাসা থেকে জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সিডি ও ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথাও শুনানিতে উঠে এসেছে।
তবে এসব তথ্য এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তদন্তের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
সাগর-রুনির পরিবারের আইনজীবী শিশির মনির জানান, তদন্তে মোট ৩০০টি সিডি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি এখনও পর্যালোচনা করা হয়নি।
সিডিগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর কোনো সূত্র পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপনের প্রত্যাশা করেন তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
দেশি-বিদেশি পরীক্ষাগারে আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগর ও রুনির ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে পরিবর্তন আসে। নতুন করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিয়াউল আহসানের বাসায় অভিযানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি রয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজা হচ্ছে।
২৩ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের রায় বৃহস্পতিবার
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি রায়ের জন্য তালিকাভুক্ত করার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামিই পলাতক।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করা, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যায় সংশ্লিষ্টতা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে টেলিফোনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রমাণে টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার যুক্তিতর্কে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তিও চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৫ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের পর আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
১ দিন আগে
সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি
সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ারের পথ বেছে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশ কঠোর হলে বলা হয় ফ্যাসিস্ট পুলিশ, আর নীরব থাকলে বলা হয় দুর্বল পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হলে, আমরা সেটাই করব।
মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর নিজস্ব জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু সদস্য মাদকের বিস্তারে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। পুলিশের কিছু সদস্যও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে পাড়া-মহল্লার সব জায়গায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার দেখা যায়। এই পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে? ভালোভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন, এখনও কেউ কেউ আছেন।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম দূর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত দুই মাসে প্রায় ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমরা প্রথমে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। অথচ এ বিষয়টি নিয়েও নানা অপব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে।
সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও ক্ষমতায়নের আহ্বান জানিয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
আইজিপি জনগণকে গুজব ও অপতথ্য এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফকির ইসলামী ব্যাংকিংয়ে নৈতিক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় অতীতের অনিয়ম বা সংকটের পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে কাজ চলছে: আইজিপি
জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি জানান, পুলিশ জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায় এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আরও মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠাই পুলিশের লক্ষ্য।
খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ দমনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এ সভার আয়োজন করে।
আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করাই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
৫ আগস্টের পর পুলিশ নতুন প্রত্যয় নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।
মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, সমাজে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং থাকবে না। এসব অপরাধ নির্মূলে সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যৌথ অভিযান চলছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কাঠামো অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু সদস্যর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্বীকার করে আইজিপি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।
এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনার বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
৪ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ অক্টোবর) এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’
৫ দিন আগে
এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা
মানিলন্ডারিং মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া এদিন পৃথক দুটি আবেদন করেন।
একটি আবেদনে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর এবং অপরটিতে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মন্জুর করেন। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দুপুর ১২টায় উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর অবস্থিত বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার নিজেই বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
গতকাল (সোমবার) রাজধানীর বনানী থেকে মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানের অভিযোগ করা হয়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উপার্জন করেছেন দিলীপ।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। ওই সময় বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
৭ দিন আগে
দুর্নীতি বন্ধে আগে রাজনৈতিক নেতাদের সৎ হতে হবে: আইনমন্ত্রী
দেশে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঝিনাইদহে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করার প্রথম শর্তই হলো, রাজপথ ও সভা-সমাবেশে দুর্নীতি বন্ধের কথা বলা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি থেকে ব্যক্তি ও নেতার দুর্নীতি দূর করতে না পারলে দুর্নীতিবিরোধী যেকোনো উদ্যোগই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রকার লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্যের খবর পাওয়া যায়, তবে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
একইভাবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্ব্যবহার সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো প্রধান শিক্ষক যদি পড়ালেখার মান ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে নিজেই অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত হন, সেটাও কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে উপস্থিত শিক্ষকদের তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সামলানো শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দিন দিন এটি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ সময় উঠতি বয়সীদের একটি বড় অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই জেনারেশনকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এ জন্য নতুন প্রজন্মকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং শিক্ষকদের পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধান ও সহকারী শিক্ষক, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় গ্রেপ্তার ১
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ছুফি উল্লাহ বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালায় সিআইডি। এ সময় সোহাগ ফকির (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষাটি গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তা স্থগিত করা হয়। এরপর মতিঝিল থানায় ১১ অক্টোবর পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইনের ৪, ৫ ও ৯(ক) ধারায় মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
৭ দিন আগে
রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা
মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন এবং এক দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে সিআইডির পরিদর্শক (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাব, নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার সোনার বার, স্বর্ণালংকার ও হীরা আমদানি করেছে। অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার সোনা ও হীরা কেনাবেচা, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে।
স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব সোনা ও হীরার উৎস কিংবা বিক্রেতাদের বিষয়ে কোনো বৈধ নথিপত্র সিআইডির কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উপার্জন করেছেন দিলীপ আগরওয়ালা।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তি পান।
৮ দিন আগে