আইনশৃঙ্খলা
দ্রুত সময়ের মধ্যে নন্দিনী হত্যার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে নন্দিনী হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নন্দিনীর বাড়িতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাজেট অধিবেশন থেকে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তা করতে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলার তিনজন সংসদ সদস্য ও জেলা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসেছি।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যতদূর শুনেছি, গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, তা সম্পন্ন করে চার্জশিট দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে। যারা এতটুকু একটি ছোট শিশুকে হত্যা করতে পারে, তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তা উদাহরণ হয়ে থাকে, এমন কাজে আর কেউ যেন যুক্ত হতে সাহস না পায়।
তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিলেন। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কার ইন্ধনে, কার উসকানিতে, কার প্ররোচনায় প্রশাসনকে আক্রমণ করা হলো—সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তারা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকবে। কিন্তু যারা অপরাধী, যারা প্রশাসনকে আক্রমণ করে মব সৃষ্টি করেছে, তারা অপরাধী। আমরা বলেছি, যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছরের শিশু নন্দিনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর শিশু নন্দিনীর পরিবারের কাছে যান ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, সমবেদনা জানান এবং এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনার মামলার আসামি আবীর আলীকে (৪২) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশু আয়াত। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন তিনি। সে বছরের ৩০ নভেম্বর নগরীর হালিশহর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট-সংলগ্ন সুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন বলেন, আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
২ দিন আগে
তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি মমতাজ বেগম
রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলাসহ তিন মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পৃথক আবেদন শুনানির পর সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
এর আগে, এসব মামলায় মমতাজ বেগমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন মমতাজ বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এরপর গত বছরের ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
৪ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
৪ দিন আগে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।
সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখা হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।
ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে এবং তাকে খুব দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করবে।
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবুধাবির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের মহাপরিচালক কর্তৃক ২০২৬ সালের ১২ জুন পাঠানো একটি ইমেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের অধীনে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলার নথিপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে।
বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই।
মন্ত্রী জানান, এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ জানায়।
৫ দিন আগে
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই সিটি পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি তাদের হেফাজতেই রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। এরপর তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের এপ্রিলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।
তার আগেই অবশ্য ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে দুদকের।
বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা জমি-ফ্ল্যাটসহ অনেক স্থাপনা আদালতের আদেশে ক্রোক (জব্দ) আছে। এছাড়া তাদের বিপুল অংকের সঞ্চয়পত্র, অনেক ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
৫ দিন আগে
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার আপিল শুনানি গ্রহণ
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত বৃহস্পতিবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার।
এর আগে, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে।
দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।
রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, আর স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১০ জুন হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত ওই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
৫ দিন আগে
ব্যভিচার মামলায় ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতির খালাস
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় তারা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী মো. রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ওই দিনই আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
রাকিব মামলার অভিযোগে বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। তামিমা পেশায় উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্রিকায় তিনি বিস্তারিত জানতে পারেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
পরে পিবিআই তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন। পরে অভিযোগ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
৯ দিন আগে
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত
অধস্তন আদালতের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনে মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। অপর আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী কারিশমা জাহান শুনানি করেন।
এর আগে, সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বিধানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদনসহ গত ২০ এপ্রিল আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
আর হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েও আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৯ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম আরেকটি আপিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল ও আবেদনের সঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার ও আইনজীবী আহসানুল করিমের করা পৃথক আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন।
আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সচিবালয় রহিতকরণ আইনের বিধান স্থগিত চেয়ে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।
পরে বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। স্থগিতাবস্থা ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তাদের করা আবেদনটি নথিতে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।
রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১-এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে। হাইকোর্ট রিটের চূড়ান্ত শুনানি করে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য রায় দেন।
১০ দিন আগে