আইনশৃঙ্খলা
৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাছের থানায় জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ বৈধ অস্ত্রের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
এই আদেশ লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
১০৬ দিন আগে
রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, পুলিশ রাষ্ট্রের কর্মচারী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।
উপদেষ্টা বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে, তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী কুচকাওয়াজের উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গণি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের ১ জন, ৩৫তম বিসিএসের ৩ জন, ৩৬তম বিসিএসের ১ জন, ৩৭তম বিসিএসের ২ জন এবং ৪০তম বিসিএসের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
১০৭ দিন আগে
হাসিনা, টিউলিপ, ববিসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গণঅভ্যুথ্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৮ জন এ মামলার আসামি।
আজ আদালতে মামলার আসামি খুরশীদ আলমের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। খুরশীদ আলম এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি। তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
খুরশীদ আলমের পক্ষের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম দুদক অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বলে খালাসের দাবি করেন। বাকিদের আত্মপক্ষ উপস্থাপন বা আইনজীবী দ্বারা যুক্তি প্রদানের সুযোগ হয়নি।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, তন্ময় দাস, সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা ও মাজহারুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ ববিকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নামে মামলাটি করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলাটির বিচার চলাকালে ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ৩১ জুলাই বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন। আজ যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, গত ১৩ জানুয়ারি পূর্বাচল প্রকল্পসংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতি মামলাতেও শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ধার্য করেন আদালত। ওই মামলায় শেখ হাসিনার দুই ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তীসহ সব আসামি পলাতক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। সেই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
চার মামলায় শেখ হাসিনাকে ইতোমধ্যে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে।
১০৭ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
১১২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একটি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে আইএসপিআর বলেছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
১১২ দিন আগে
বনশ্রীতে শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় হোটেল কর্মচারীর হাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে র্যাবের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মান্দা বাসখালী এলাকার বাসিন্দা।
আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, বাবার হোটেলের ওই কর্মচারীর অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া ও এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত ফাতেমা আক্তার নিলি (১৮) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন ভুক্তভোগীর বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে তার বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন। পরে বড় বোন জিমে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। পরে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুক্তভোগীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে খাবার পরিবেশনের সময় আবারও এমন প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন একটি নাইলনের রশি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় যান। ভুক্তভোগী পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। চিৎকার শুরু করলে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় তিনি রান্নাঘরের ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাকে। এরপর বাসা তল্লাশি করে কিছু টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের সময় মিলনের পরণে থাকা কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের রশি উদ্ধার করে করে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
১১৩ দিন আগে
দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে আনসার সদস্যদের বিরত থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আনসার সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের শফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে সর্বমোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ সদস্য এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য থাকবেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়োজিত ৩ জন অস্ত্রধারী সদস্যের মধ্য থেকে ১ জন নির্বাচন চলাকালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত ও কার্যকর করবে।
উপদেষ্টা এ সময় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে আনসার সদস্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে। নতুন প্রশিক্ষণ নীতিমালার আলোকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখের অধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে উপদেষ্টা জানান।
এ সময় ‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। আনসার-ভিডিপির নবীন সদস্যদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, মানবিকতা ও সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশের আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সংযোজন, পেশাগত উৎকর্ষ সাধন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নতুন করে গঠন ও সংশোধনের জন্য সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এ দেশের সর্ববৃহৎ সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আনসার-ভিডিপি তৃণমূল সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আশা জাগানিয়া ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং আনসার-ভিডিপি কো-অপারেটিভ— এই প্রতিষ্ঠানগুলো আনসার সদস্যদের পাশাপাশি দেশের আপামর জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এর আগে প্যারেড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং চার ক্যাটাগরিতে চারজন চৌকস প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
পাসিং আউট প্যারেডে চার ক্যাটাগরিতে সেরা চৌকস প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে ৪১তম বিসিএস আনসার ক্যাডারের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক শামীম রেজা, উপজেলা প্রশিক্ষক সোহানুর রহমান রাসেল, আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬তম ব্যাচের সিপাহী মো. সেলিম শাহরিয়ার ও ২৭তম ব্যাচের সিপাহী মো. মারুফ রানা।
উল্লেখ্য, আনসারের এবার রেকর্ড পরিমাণ ৩ হাজার ২৩৭ জন প্রশিক্ষণার্থী পাসিং আউট প্যারেড সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৪১তম বিসিএস আনসার ক্যাডার কর্মকর্তা ১৫ জন, উপজেলা প্রশিক্ষক/ প্রশিক্ষিকা ৮৮ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ তম ব্যাচের ১ হাজার ১০ জন ও ২৭ তম ব্যাচের ২ হাজার ১২৪ জন।
১১৩ দিন আগে
কর ফাঁকির মামলায় বিএনপির নেতা দুলু খালাস
কর ফাঁকির মামলায় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ত্রয়োদশ সংসদে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ রবিউল আলম খালাস দেন।
রায় ঘোষণার সময় দুলু আদালতে হাজির ছিলেন বলে জানান তার আইনজীবী মো. উদ্দিন। তিনি বলেন, এ মামলায় এনবিআরের ৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক দুলুকে মামলা থেকে খালাস দেন।
২০০৮ সালের ৩ অগাস্ট দুলুর বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার হাফিজ আল আসাদ।
মামলায় বলা হয়, ১৯৮৩ সাল থেকে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০১ টাকা আয়ের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছে, এছাড়া প্রকৃত আয় ও ব্যয় সম্পর্কে আয়কর বিভাগকে ভুল তথ্য দিয়েছেন দুলু।
মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুলু উচ্চ আদালতে যান। দীর্ঘ দিন মামলাটি উচ্চ আদালত স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত দুলুর বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল আদালত দুলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালীন আদালত চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দিয়েছেন।
১১৪ দিন আগে
চীনা নাগরিকদের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় অবৈধ আইফোন কারখানা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় চীনা নাগরিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ দিয়ে সেখানে অবৈধভাবে আইফোন সংযোজন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সম্প্রতি ওই কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন, আইফোনের যন্ত্রাংশ এবং মোবাইল ফোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ৭ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর ও নিকুঞ্জ-১ এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে উত্তরা এলাকা থেকে ৫৮টি আইফোনসহ একজনকে এবং নিকুঞ্জ-১ থেকে মোট ৩০৫টি ফোনসহ দুই চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকালে অবৈধ মোবাইলের পাশাপাশি আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পার্টস সংযোজনের মেশিনারিজ এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ট্যান জিয়ান, উ জুন এবং ডং হংওয়েই।
উপকমিশনার সোহেল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশ থেকে আইফোনের বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে অবৈধভাবে ঢাকায় এনে একটি গোপন ল্যাব স্থাপন করে। ওই ল্যাবে যন্ত্রাংশ সংযোজন করে আইফোনের আদলে ভুয়া মোবাইল ফোন তৈরি করা হতো, যা পরে আসল আইফোন হিসেবে বাজারে ছাড়া হতো।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে চক্রটি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ সময়ে তারা বিপুল পরিমাণ ভুয়া মোবাইল ফোন বাজারে সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কি না তা জানতে চাইলে ডিবি কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতা ও বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা জনগণকে মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কম দামে ‘অরিজিনাল আইফোন’ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই অনুমোদিত ও অফিশিয়াল শোরুম বা বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া মোবাইল ফোন না কেনার অনুরোধ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১৭ দিন আগে
পুলিশের উচ্চ পদে ১৪ কর্মকর্তাকে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সিআইডির ডিআইজি এস এম ফজলুর রহমানকে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম ইউনিটে, ডিআইজি মো. সাজ্জাদুর রহমানকে এপিবিএনে, অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার করা হয়েছে।
এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার খন্দকার খালিদ বিন নুরকে ডিএমপির উপকমিশনার, নোয়াখালীর পিটিসির পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটাকে এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে, পিটিসি খুলনার পুলিশ সুপার সোমা হাপাংকে ময়মনসিংহে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কামান্ড্যান্ট, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গনিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমানকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে একই শাখায় ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে নৌপুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহফুজা লিজাকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. যায়েদ শাহরীয়ারকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি)।
অন্যদিকে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ও রেলওয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল হককে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এ দুজনের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
১১৮ দিন আগে