আইনশৃঙ্খলা
রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি মামলায় হাসিনা-রেহানার রায় ১ ডিসেম্বর
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্য সকল আসামি পলাতক থাকায় তারা যুক্তিতর্কে অংশ নিতে পারেননি।
আদালত গত ১৮ নভেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করেছেন। বিচার চলাকালে ৩২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে, আদালত গত ৩১ জুলাই চার্জ গঠন করেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এ ছাড়া, তিনটি মামলার রায় ২৭ নভেম্বর ঘোষণা হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।
১৬১ দিন আগে
নির্বাচনি দায়িত্বে ‘সৎ ও নিরপেক্ষ’ কর্মকর্তা চায় পুলিশ সদরদপ্তর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে সৎ, নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ পরিদর্শকদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখা-২ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলিতে বলা হয়, আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ, নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ওসি অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ সদরদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনের সময়ে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় থানার ভারপ্রাপ্ত করমকর্তাদের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সহিংসতা নিরসনে থানাপ্রধানদের প্রাথমিক নির্দেশ পালনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওসির দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ সদরদপ্তর ওসি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানায় সদরদপ্তর।
ডিএমপি, সিআইডি ও এসবি-প্রধানদের নিকট যোগ্য, পরিচ্ছন্ন রেকর্ডধারী, পরিক্ষীত প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন এবং সততার জন্য পরিচিত পরিদর্শকদের তালিকা চেয়েছে সদরদপ্তর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ওসি নিয়োগের আগে একটি কমিটি তাদের নিকট প্রেরিত তালিকা পর্যালোচনা করে এরপর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেবে।
পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এর পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দ্রুত এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে গুরুত্বারুপ করেন।
সদরদপ্তরের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের বৃহৎ পুলিশিং কার্যক্রমের একটি অংশ। এতে বুদ্ধিভিত্তিক সমন্বয়ের অগ্রগতি, দুর্বল ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনি এলাকাগুলোতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও এই কার্যক্রমের অংশ।
১৬৬ দিন আগে
বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ আরেক ধাপ এগোল
উচ্চ আদালতের জন্য পৃথক সচিবালয় স্থাপন করে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি অবশেষে সরকারের সবুজ সংকেত পেল।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে। পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ, বদলি, অন্যান্য বিষয় এবং আদালতের কন্ট্রোল ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের হাতে ন্যাস্ত থাকবে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘এ নিয়ে গেজেট প্রকাশ করতে সাত দিনের মতো সময় লাগতে পারে। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে প্রধান বিচারপতির ওপর।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সব ক্ষমতা এখন আইন মন্ত্রণালয়ের। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত হবে।
১৬৬ দিন আগে
হাসিনা, কামালকে ফেরাতে আইসিসিতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন: আইন উপদেষ্টা
সরকার ভারতকে প্রত্যার্পণের জন্য চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যেতে পারি কি না—তা নিয়ে শিগগিরই একটি বৈঠক করব।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য সরকার ভারতকেও একটি চিঠি পাঠাবে। তারা দুজনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১) কর্তৃক মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’
‘মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণের জন্য আমরা একটি চিঠি পাঠাচ্ছি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘তারা যেহেতু এখন দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা ভারতকে তাদের প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং সে কারণেই এই চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
১৬৬ দিন আগে
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে দেশে অস্থিরতা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর একটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো শঙ্কা দেখছেন কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রায় হওয়ার পরে কোনোরকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসেও কোনো অস্থিরতার শঙ্কা নেই। কোনো কর্মসূচিতেও পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। গতবার প্যারেড হয়নি, এবারও হবে না।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে উঠিয়ে নেওয়া উচিত নয়, কিন্তু গতকাল রাতে ডিবি পরিচয়ে এক সাংবাদিককে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে আবার ফেরতও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই জিনিসটা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি জানতে পারব।
এভাবে তুলে নেওয়াটা অপরাধ কিনা, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা আমি দেখব।’
১৬৭ দিন আগে
শাজাহানপুরে বাসা থেকে গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শাজাহানপুরের মালিবাগ বাজার রেলগেট-সংলগ্ন একটি বাসার নিচতলার কক্ষ থেকে মমতাজ বেগম (৫৩) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মমতাজ বেগম গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে আজ সকালের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত মমতাজ বেগম লালমনিরহাট সদরের সাতপাটকি মহেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত জুবেদ আলীর মেয়ে। মালিবাগ রেলগেট বাজার এলাকার একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন তিনি।
শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মালিবাগ বাজার রেলগেট-সংলগ্ন ৪২৫/এ নম্বর বাসার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এসআই জানান, স্থানীয় প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া রুবিনা আক্তার ও কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মমতাজ বেগম গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। গত ২-৩ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে তিনি ঘরেই ছিলেন। পরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, গৃহপরিচারিকার মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এটি বিষক্রিয়ায় মৃত্যু কি না, বা যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের ঘটনা আছে কি না—এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৬৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বিচারের রায়ে আমি বিস্মিত নই, সন্তুষ্ট: আইন উপদেষ্টা
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই রায়ে আমি বিস্মিত নই। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যার্পণের জন্য চিঠি দেওয়া হবে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন, আজকে বাংলাদেশের মাটিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে শত শত মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা, অঙ্গহানির ঘটনা, বিকলাঙ্গ হওয়ার ঘটনার জন্য যে নৃশংস খুনী দায়ী ছিল, আজকে সেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। একই সঙ্গে তার প্রধান সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি আজকে জুলাই গণভুত্থানের আরেকটি বিজয়ের দিন। আজকে আমার বিশেষ করে মনে পড়ছে যারা জুলাই গণআন্দোলনকালে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন আবু সাঈদের কথা; মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, আনাসসহ সবার কথা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে আজকে তাদের বিদেহী আত্মা হয়তো একটু শান্তি পাবে। আজকে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের কথা মনে পড়ছে, হয়তো এই রায়ের মধ্যে দিয়ে তারা সামান্য হলেও সান্ত্বনা পাবেন।
উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট, কিন্তু আমি বিস্মিত নই। কারণ শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের যে জোরালো, বিস্তৃত প্রমাণ রয়েছে, তাতে পৃথিবীর যেকোনো আদালতে বিচার হলেই তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, আমি আজকে আরেকটা কথা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে— আমরা শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যার্পণের জন্য ভারতের কাছে আবার চিঠি লিখব। ভারত যদি এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে— এটা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা শত্রুতা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ। আজকে একটা বিচার হয়েছে। আমরা যতদিন আছি, বিচারকার্য পূর্ণ বেগে চলবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আমি এই বিচারের জন্য বিচার-সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, বিশেষ করে আমাদের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল, তার সহযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা যতদিন আছি, বিচারকার্য পূর্ণ উদ্যমে চলবে এবং আমরা আশা করি, আগামীতে যে-ই সরকারে নির্বাচিত হবে, এই বিচারের গুরুদায়িত্ব থেকে কোনো অবস্থাতেই যেন তারা পিছপা না হয়।
১৬৯ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে শেখ হাসিনা ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। একই অপরাধের মামলায় মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার রায় পড়া শুর হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মামলায় আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজস্বাক্ষী) হয়েছেন। দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মে চিফ প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। আর ১ জুন প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। ওই অভিযোগে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্টে নৃশংস ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ছিল: গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
১৬৯ দিন আগে
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় পড়া শুরু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় পড়া শুর হয়।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। একইসঙ্গে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় স্ক্রিনে রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রচার করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মামলায় আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজস্বাক্ষী) হয়েছেন। দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মে চিফ প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। আর ১ জুন প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। ওই অভিযোগে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্টে নৃশংস ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো: গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত গুম-খুনের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করা হয়েছে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম রায়।
১৬৯ দিন আগে
শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সেনা মোতায়েন চেয়ে চিঠি
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও চিঠি দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে সেনাসদরে এই চিঠি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোছাইন জানিয়েছেন, গত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্যকে কেন্দ্র করেও সেনা সদস্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সোমবার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সেনা মোতায়েন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে। সেই অনুযায়ী সেনাও মোতায়েন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে।
এদিকে, এই রায়কে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সতর্ক রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।
১৭০ দিন আগে