আইনশৃঙ্খলা
কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চারজন পেশাদার খুনিকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় ভুলবশত গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে পরিকল্পিত হামলার সময় গুলিতে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় পথচারী সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।
ডিবিপ্রধান জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা সংগ্রহের টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসা এবং একটি টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি বলেন, বাবুকে হত্যার জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহের চারজন পেশাদার খুনিকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় তা বিকল হয়ে যাওয়ায় হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২-এর একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার আগে বাবুর কার্যালয়ের কাছে স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের তল্লাশি করতে চাইলে এক হামলাকারী গুলি চালান। এতে ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।
তিনি জানান, কাফরুল থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিবিও পৃথক তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করা হয়। অন্যদিকে চঞ্চল ও আবির হাওলাদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ তাদের এ হামলা চালানোর জন্য ভাড়া করেছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। হাফিজুর রহমান হাফিজকে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে অভিযান চলছে। কাফরুল থানায় একটি হত্যা এবং একটি অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বাজারজাত ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। তাদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।
তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
কোন টুথপেস্টে কত মাইক্রোপ্লাস্টিক
গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এ টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।
এছাড়া ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’-তে ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’-তে ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-এ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’-এ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’ এবং ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা’-তে পাওয়া গেছে ৬০টি করে কণা।
এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’, ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ এবং ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে’-তে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’, ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ এবং ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া শিশুদের টুথপেস্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’ এবং ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’।
যে আটটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি
গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো— ‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’, ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ এবং ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।
এর মধ্যে ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ এবং ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’ শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্ট।
৭ দিন আগে
কক্সবাজারে একরামুল হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আলোচিত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, র্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে একই বছরের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনবারের কাউন্সিলর একরামুল হক। ওই ঘটনার পর ‘ঠান্ডা মাথায়’ একরামুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।
ওই বছরের ৩১ মে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সেই সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময় মুঠোফোনে রেকর্ড করা কথোপকথনের কিছু রক্ত হিম করা অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের দিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে একটি রেকর্ডে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তার পরপরই গুলির শব্দ ও তারপর একজন মানুষের আর্তনাদের আওয়াজ পাওয়া যায়।
৮ দিন আগে
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি—মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, খুন ও গণহত্যার ঘটনায় তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নীরব থেকে এসব অপরাধের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) অভিযোগ দাখিলের পর বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনগণের করের অর্থে বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।
তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুম, খুন, কথিত আয়নাঘর, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তারা কোনো প্রতিবাদ বা কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকেন এবং সংবিধানপ্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু জনগণের জানমাল রক্ষা কিংবা সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে এসব ক্ষমতা প্রয়োগে তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। অভিযোগকারীদের মতে, দায়িত্ব পালন সম্ভব না হলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপ্রধানরা যাতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, সে লক্ষ্যেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দলটির এক প্রতিনিধি বলেন, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং কথিত আয়নাঘরসহ বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সময় তারা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ‘উচ্চতর দায়’ নামে একটি স্বীকৃত নীতি রয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্র বা বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার অধীনস্থদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিকার করতে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারও দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংঘটিত ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এসব ঘটনার দায় থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি পেতে পারেন না।
৮ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৮ দিন আগে
সাভারে ইয়ামিন হত্যা: ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে গুলির পর পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান, মিজানুর রহমান জিএস মিজান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
এদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বুকের বাঁ পাশে গুলি করেন তারা। গুলিতে তার বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
একপর্যায়ে ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এপাশ থেকে ওপাশ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে তার পায়ে পুনরায় গুলির নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে তখনও নিঃশ্বাস নিতে দেখা যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
৮ দিন আগে
টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ায় হাতীবান্ধার ৪ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি প্রাইভেটকারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মেলায় থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে (ক্লোজ) পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার।
অভিযুক্তরা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বোর্ডেরহাট বাজার এলাকায় এক চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালান ওই চার কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা আলামত থানায় না নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ও প্রাইভেটকারটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই স্থানের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে, গত ১৮ জুলাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে আরেকটি অভিযানে গেলে ওই দলটি স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চার কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছি।’
মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি দুটি স্পষ্ট ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা যতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হোক না কেন, তা প্রত্যাহারের আওতায় আনা হবে না। অন্যদিকে, মাদকের মামলাগুলো বিরোধীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন দুটির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নের আগে সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে তিন দফা মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। বিল দুটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর দ্রুত জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান এবং বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিচার বিভাগের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে আইনমন্ত্রী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় চেয়ে বলেন, ‘আমরা ভুল করলে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। আমরা তা সাদরে গ্রহণ করব।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ কিংবা মৌলবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করব না।’
অধিকারের সভাপতি ড. তাসমিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
৯ দিন আগে
আরও ১৭ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
পুলিশের ডিআইজি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার আরও ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী সই করেন।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন ডিআইজি, ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন।
১১ দিন আগে
জিয়া হত্যা: মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।
৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা ৭৭ বছর বয়সী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার আগের দিন তিনি দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান ও বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জিয়াউর রহমানের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
১৩ দিন আগে