আইনশৃঙ্খলা
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বহু স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্ক্যানিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্গঠন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (শরীরে পরিহিত ক্যামেরা) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালু করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনের পর তিনি এসব কথা বলেন।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা-জিআইজেড বাংলাদেশ এতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া, যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকারনির্ধারিত প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীতকরণের অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।
এ সময় দুজন নারীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন আইনমন্ত্রী। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারে সমতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিআইজেড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় প্যারালিগ্যালদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া নারী নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৬ হাজারেরও বেশি বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব এম এ আউয়াল এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) ও হেড অব প্রোগ্রাম মার্টিনা বুকার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানুষের কাছে আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এসব স্থানে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন। প্রশিক্ষিত প্যারালিগ্যালরা সেবাগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
৮ দিন আগে
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিনতাইকারী চক্র: র্যাব
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তাররা দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল। ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে। সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।
তিনি আরও বলেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ র্যাব কর্মকর্তা বলেন, অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভুক্তভোগীকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
৮ দিন আগে
তনু হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর
কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হয়। এ সময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সেনাসদস্যকে খোঁজা হচ্ছে। কেউ আটক হলে সময় মতো গণমাধ্যমে সব জানানো হবে।
এদিকে, ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে পিবিআই ঢাকার কার্যালয়ে তনু হত্যার বিষয়ে তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য দিয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন হাফিজুর। আমরা এসব তথ্য যাচাই করব। তাই, এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, আজ দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কুমিল্লা কারা ফটকে থাকতে বলেছেন। আমি বাবাকে (মামলার বাদী) সেখানে পৌঁছে জানতে পেরেছি, আসামিকে (হাফিজুর) কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই, তাকে দেখা হয়নি।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই তাকে বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন (বুধবার) হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই।
আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পিবিআই। গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেওয়া হয়। অপর দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
১০ দিন আগে
এসএসসির ভুয়া প্রশ্ন দিয়ে অর্থ হাতানো চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত চলমান এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা-সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এসব তথ্য দেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সিফাত আহমেদ সজীব, মো. সালমান, মো. মেজবাউল আলম মাহি এবং মো. মহিউজ্জামান মুন্না।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, বর্তমানের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তাদের দেওয়া প্রশ্নের মিল নেই। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সিটিটিসির অনলাইন ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল একই দিন রাত ৮:২০টায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাঁজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
১০ দিন আগে
তনু হত্যা মামলা: ১০ বছরে প্রথম গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ডে আসামি
দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার।
কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তনুর ভাই রুবেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম।
গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের অনুমতি চান। তারা হলেন—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। আদালত তাতে সম্মতি দেন।
২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ হয়েছে। গত এক দশকে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলার তদন্তে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৩ দিন আগে
গৃহকর্মী নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল
১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশ অনুসারে গৃহকর্মীদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে রিটে উল্লেখিত সুপারিশ অনুযায়ী ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আইন সচিব, শ্রম এবং কর্মসংস্থার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তানজিম আল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা ও আইনজীবী রওশন আরা।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাজধানীসহ দেশের সব গৃহকর্মীর নাম নিবন্ধন করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।
পরে খাদিজাতুল কোবরা সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ৫ ডিসেম্বরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় এই হত্যাকাণ্ড বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। হত্যাকারী ছিলেন ওই বাসারই গৃহকর্মী। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। সেই নোটিশে ১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশ অনুসারে গৃহকর্মীদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরে ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করি।
১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশে রাজধানী ঢাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে: ঢাকা কোতোয়ালী, সূত্রাপুর, লালবাগ, রমনা ও তেজগাঁও।
বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুসারে এসব এলাকার বাসাবাড়িতে কাজ করা গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সরকার গেজেট জারির মাধ্যমে অন্য এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।
১৬ দিন আগে
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান: মন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠ পর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যদি আমাদের দলের কোনো ব্যক্তিও এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তবে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ সরকার মেনে নেবে না।
দীপেন দেওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করা হবে।
মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকাংশেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি কর্মীকে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রী বান্দরবান জেলা সদরে রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও কৃষ্টি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৯ দিন আগে
এএসপি ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর রামপুরা থানার আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. শফিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে গুজা বাদশাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানার মাতুয়াইল এলাকার নিউ টাউন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘ড্রিম হাউজ-১৮’ ভবনের আটতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাদশা রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা এবং তিনি ‘গুজা বাদশা’ নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন গুজা বাদশা।
র্যাব আরও জানায়, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকায় গুজা বাদশার নাম শুনলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর গোয়েন্দা টিম তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
২০ দিন আগে
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীজুড়ে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহিদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল উদ্বোধন নিশ্চিত করতে ৯টি জেলার ১০টি উপজেলার প্রধান অনুষ্ঠানস্থলগুলোতেও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যেসব স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে সেগুলো হলো— পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট ও বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহেরর শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
কর্মসূচি চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাহিনীটি অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
২১ দিন আগে