আইনশৃঙ্খলা
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
এছাড়া চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ, ছোটখাটো ও ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা এবং তার পর থেকে মাসব্যাপী আয়োজিত কঠিন চীবর দান উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন এবং নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এছাড়া চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ অপকর্ম করে পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। এ সময় তারা সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর একটি তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, তালিকা পেলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
আপিল বিভাগে আলোচিত ৩ হত্যা মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ
আপিল বিভাগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন এবং মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় থাকা আলোচিত এ তিন মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি রবিবার (১৮ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলোচিত এ তিনটি হত্যা মামলা হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অবকাশকালীন ছুটি শেষে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
দেশজুড়ে আলোচিত এ তিন হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণার পর হাইকোর্টেও আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সম্পন্ন হয়। হাইকোর্টের রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য দণ্ড বহাল রাখা হয়। এরপর মামলাগুলো আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৫ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।
মেজর সিনহা হত্যা
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।
এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
আবরার ফাহাদ হত্যা
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।
১০ দিন আগে
জুনেই অগ্নিঝুঁকি নিয়ে টুপটুপ রিসোর্টকে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী সৈকতের কাছে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না, যেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, জুন মাসে রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। এর পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপরিচালক জানান, তিনতলা রিসোর্টটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পর্যটকদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হতো।
নোটিশ দেওয়ার পরও লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং রিসোর্টের কার্যক্রম চালু থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিস রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পায়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুনাইদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী ঘটেছিল, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও অনুমোদনের অবস্থা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর মাধ্যমে অগ্নিনিরাপত্তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব ও করণীয় পর্যালোচনা করা হবে।
পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড এবং অনুমোদনহীন কারখানা, গুদাম ও বিস্ফোরক পদার্থের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু সড়ক ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অগ্নিনির্বাপণকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
এসব কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, ভবন নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও নির্মাণবিধি মেনে চলা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাস্তবে কঠিন এবং এ জন্য সময় প্রয়োজন।
নতুন ভবন নির্মাণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলতে বারবার সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, সরু সড়ক দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা মোটরসাইকেলে হোসপাইপ বহন করে কাছাকাছি ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করে আগুন নেভাতে পারেন কি না, তা-ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
১১ দিন আগে
আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং তার অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সিয়ামের পক্ষে তার আইনজীবী রেজাউল করিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী ও তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং তাদের ছেলে সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে সিয়ামের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিন কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় দিলেন আদালত।
১৩ দিন আগে
উত্তরায় পুলিশের হস্তক্ষেপে ছত্রভঙ্গ পোশাকশ্রমিকরা, স্বাভাবিক যান চলাচল
বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা পোশাকশ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
তবে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা নিজেরাই মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছেন।
ন্যূনতম মজুরিবৃদ্ধি, সময়মতো বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং ইচ্ছামতো ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা এলাকার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী অংশে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।
১৩ দিন আগে
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত এসব নতুন অপরাধ দমনে দেশের আটটি বিভাগে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও বিচারপ্রার্থীদের চাওয়া পূরণে এসব ল্যাব সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অপরাধের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, সহিংসতায় উসকানি, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গেলে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়, এটি নতুন কিছু নয়। অপরাধ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানোর মতো কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ নির্মাণে সহযোগিতা করেছে ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি’। প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অ্যাডিশনাল আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, অ্যাডিশনাল আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
১৩ দিন আগে
যুদ্ধে পাঠাতে রাশিয়ায় পাচার ২০ বাংলাদেশির প্রাণহানি: এসআরবি
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করে একটি মানবপাচার চক্র, যার মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
অধিনায়ক বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করা, বিশেষ করে ড্রোন হামলার লক্ষ্যস্থল ও দূরত্ব নির্ধারণে ভুক্তভোগীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তারা হলেন চক্রের হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)। গত রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আটাইল এলাকা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তাররা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাজন হোসেন (২১) নামের এক তরুণকে আট লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। একটানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তিনিসহ প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
পরে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। তার পেলভিসের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ে শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন ধরে কষ্ট ভোগ করার পর চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হন রাজন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে মিজানুর গালিগালাজ ও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।
রাজনের বাবার অভিযোগের পর মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মামলা হয়।
তদন্তের তথ্য তুলে ধরে এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন রাশিয়ার স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য ছয়জন এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় পাঠানোর ঘটনায় তদন্তকারীরা মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী নামের আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন বলেও জানান আসাদুজ্জামান। এছাড়া তদন্তে মানবপাচার চক্রটির সঙ্গে হেয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে ভুক্তভোগীদের রাশিয়াগামী বিমানে তুলে দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জনের সব ব্যবস্থা করেন মিজানুর। রাশিয়ায় পৌঁছে কাজের প্রকৃত ধরন জানতে পেরে ভুক্তভোগীরা মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তাদের আবেদন উপেক্ষা করেন।
তদন্তকারীরা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত এই মানবপাচার চক্রে দুই রুশ নাগরিকের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
১৩ দিন আগে
খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।
এর আগে একই মামলায় ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। ফলে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল ও তার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল—দুটি আবেদনই এখন আপিল বিভাগে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি—৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, আন্দোলনকারী রাইসুল হকসহ অন্য ভুক্তভোগীদের গুরুতর আহত ও নির্যাতন করা এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগেও তাকে দণ্ডিত করা হয়। এসব অভিযোগে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।
ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ইনু নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দেন।
তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের নেওয়া হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি অভিযোগে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই দুই অভিযোগেই ইনুর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেন ইনু। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
১৪ দিন আগে
ভূমিদস্যু ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের
পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩) ডিএমপি সদর দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও সদর দপ্তর) মো. ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
এ সময় অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সভায় রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপরাধের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন কমিশনার।
রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় আরও দ্রুত ও কার্যকর বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। অপরাধ প্রতিরোধ ও সামাজিক অপরাধ কমাতে এ কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
১৪ দিন আগে
প্লট দুর্নীতি: সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত এ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
মামলার রায়ে আটজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
১৫ দিন আগে