আইনশৃঙ্খলা
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রত্যেককে অর্থদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মো. আকবর আলী শেখ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের পুলিশি প্রহরায় কোর্ট হেফাজতে নেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মণ্ডলের ছেলে জমির উদ্দীন (৫০), আলমডাঙ্গা উপজেলার বামানগর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে স্বাধীন আলী (৪০) এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার মৃত বিপ্লব হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান আশিক ওরফে বাদশা (৩৮)।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির আপিল শুনবেন হাইকোর্ট
আদালত সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা গ্রামের কামাল হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের সালাউদ্দীনের গংদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ২০২২ সালের ৯ মে রাতে স্বাধীন আলীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন কামালকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়।
পরে স্ত্রী সেলিনা আক্তার তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কামাল নিজেই হামলাকারীদের নাম বলে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দুদিন পর, ১১ মে নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও অজ্ঞাতদের আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরামুল হোসাইন সাতজনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলায় ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক স্বাধীন আলী ও আশিকুর রহমান আশিক ওরফে বাদশাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অপর পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
অপর মামলায় ২০২২ সালের ১৬ জুন সকালে জীবননগরের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের ফজলুর চায়ের দোকানের সামনে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে বাবলু রহমানকে একা পেয়ে কোদাল দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করেন একই গ্রামের জমির উদ্দীন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিনই নিহতের স্ত্রী চায়না খাতুন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় জমির উদ্দীনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈকত পারে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন এবং অভিযুক্ত জমির উদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
আরও পড়ুন: মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড
সরকারি পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, ‘দুটি হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’
৩৩৮ দিন আগে
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ
জুলাই আন্দোলনে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলার ১৬ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন আটজন। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে হাজির পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
এর আগে, আজ সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।
আদালতে হাজির হওয়া আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন ও কনস্টেবল মুকুল।
গত ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় সেদিন।
ওই দিন আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, ৬২ সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়েছে। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেওয়া হয়নি। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়।
এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।ে
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ একই পরিবারের পাঁচজন আহত
৩৩৮ দিন আগে
‘চোরাই তারের’ ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে খুন হন সোহাগ: ডিএমপি
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতসহ এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলেও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সারোয়ার ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন মাহবুব ও মহিনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ফলে এ মামলার মোট ৯ জন আসামিকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এই মামলায় সবশেষ গতরাতে পটুয়াখালী থেকে এক যুবক গ্রেপ্তার হন। সে সময় এমনকি আজ (বুধবার) সকালেও তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনো চলমান থাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তবে ওই ব্যক্তিই যে সোহাগের নিথর দেহের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী, সকালে ডিএমপির এক সূত্র তা ইউএনবিকে নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন: সোহাগ হত্যাকাণ্ড: এবার সেই পাথর নিক্ষেপকারী গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সোহাগকে পাথর ছুঁড়ে আঘাতকারী ব্যক্তিকে সনাক্ত করা সম্ভব হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তখন তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ টিমের সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
শেখ সাজ্জাত আলী জানান, ওই ব্যক্তির নাম রেজওয়ান উদ্দিন অভি। তার বাবার নাম মনোরঞ্জন বসু ও মায়ের নাম বিউটি দেব মিলা। তিনি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতেই পারে। যেকোনো নাগরিক কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা হতেই পারেন। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।’
এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নারকীয়’ আখ্যা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এতে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সোহাগ আগের সরকারের আমলে হাজী সেলিমের ভাতিজা পিল্লু কমিশনারের ছত্রচ্ছায়ায় পল্লী বিদ্যুতের চোরাই অ্যালুমিনিয়ামের তারের ব্যবসা করতেন। বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে তারা চোরাই তার বিক্রি করতেন, যেখানে অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল বিক্রি করা হয়ে থাকে। গত ১৭ বছর ধরে সোহাগ এই কাজ করে আসছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি ভোল পাল্টে এদিকে এসেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে এরই মধ্যে আরেকটা গ্রুপ এই ব্যবসায় জড়িয়ে গেছে। তখন ব্যবসায়িক বিভেদ তৈরি হয়। তারা একই এলাকার ও পূর্বপরিচিত ছিলেন। ফলে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই সোহাগ খুন হন।’
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
আরও একটি প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা, সরকারকে বেকায়দায় ফেলানো কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সোহাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। পুলিশ তদন্তে এরকম কিছু পায়নি। এটি ছিল ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে।’
গত ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে নির্মমভাবে খুন হন ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাকে কংক্রিটের বড় বোল্ডার দিয়ে মাথা ও শরীরে বারবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। পাশাপাশি নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্ত জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে একের পর এক আসামি ধরা পড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৩৩৮ দিন আগে
গোপালগঞ্জে ইউএনওর গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রাকে’ কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা, ভাঙচুর করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ও সমর্থকেরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান।
ইউএনও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রা ও পথসভা করার কথা রয়েছে। তাদের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা করে, পরে আমার গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান।
৩৩৮ দিন আগে
গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এনসিপির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ (বুধবার) গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচাল করতে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে করায় এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। এতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করবে দলটি।
মিজানুর রহমান জানান, আজ গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উলপুর-দুর্গাপুর সড়ক দিয়ে তাদের গাড়িবহর যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৩৩৮ দিন আগে
সোহাগ হত্যাকাণ্ড: এবার সেই পাথর নিক্ষেপকারী গ্রেপ্তার
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল চত্বরে ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ সোহাগকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। পটুয়াখালীর ইটবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল এসে রাতে সোহাগ হত্যা মামলার এক আসামীকে ইটবাড়িয়া থেকে ধরে নিয়ে চলে গেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনো চলমান থাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকার ডিবি পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয়েই তারা রাতে পটুয়াখালীতে অবস্থান করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় ইটবাড়িয়া এলাকার একটি বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও সুত্রটি জানায়।
সূত্র আরও জানায়, পটুয়াখালীর ইটবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিই ব্যবসায়ী সোহাগের নিথর দেহের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু গ্রেপ্তার না হওয়া অন্য আসামিরা যাতে সতর্ক না হয়ে যায়, সে কারণে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না জানান তিনিও।
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।
এর আগে, সোমবার (১৪ জুলাই) র্যাব-১১ ও র্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মো. নান্নু কাজীকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নু গ্রেপ্তার
গত ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে নির্মমভাবে খুন হন ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাকে কংক্রিটের বড় বোল্ডার দিয়ে মাথা ও শরীরে বারবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৩৩৮ দিন আগে
কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা
দেশের কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করলে তাকে অপরাধী বলা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেই তিনি অপরাধী না-ও হতে পারেন। মিথ্যা মামলায়ও অনেকে আটক হতে পারেন। সামাজিক কারণেও অনেকে মিথ্যা মামলায় আটক হন। যতক্ষণ আদালত কর্তৃক কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া না হয়, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যাবে না।’
ট্টগ্রাম জেলা কারাগারের আবাসন সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ কারাগারটি ব্রিটিশ আমলের। এখানে আসামিদের স্থান সংকুলান হয় না। আসামিদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়।’
এ কারাগারের আরেকটি ইউনিট চালু করে স্থান সংকুলান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। কারা অভ্যন্তরে উপাসনার ব্যবস্থা থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কারাগার কেবলই শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধনাগারও বটে। এখানে কোনো উপাসনালয় নেই—মুসলমানদের জন্যও নেই, হিন্দুদের জন্যও নেই।
তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে অন্তত একটি কক্ষে মুসলমানদের এবং একটি কক্ষে হিন্দুদের উপাসনার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন। এ কাজে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কারাগারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খালিদ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করে কারাবন্দিদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটানো সম্ভব। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে।
ধর্ম উপদেষ্টা আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা ও দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইনে সময়সূচি অবহিত করাসহ কারাগারের আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম এবং বেসরকারি কারা পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামে বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় মিলিত হন।
৩৩৯ দিন আগে
বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা মামলা: বিএসবি গ্লোবালের বাশার রিমান্ডে
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মালিক খায়রুল বাশার বাহারের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্লাহর আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাশারের রিমান্ড আবেদন সূত্রে জানা গেছে, খায়রুল বাশার ও তার সহযোগীরা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ১৪১ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৪৮ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আসামির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একাধিক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা চলমান রয়েছে। আসামি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত, যারা মানি লন্ডারিংয়ের সাথেও সম্পৃক্ত।
এর আগে সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
৩৩৯ দিন আগে
সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ: প্রেস উইং
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিটি অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এগুলো পৃথক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সহিংসতা মাত্র। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’
গত ১০ জুলাই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য জোটের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং গত ১১ মাসে ২ হাজার ৪৪২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, এর মধ্যে কোনো ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। নিহত ২৭ জনের ঘটনায় ২২টি হত্যা মামলা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। খুনের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং পারিবারিক কলহের মতো কারণ ছিল।
এ পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১৫ জন আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ১৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানানো হয়।
পড়ুন: জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ২০টি ঘটনার কথা বলা হলেও এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি।
ঐক্য পরিষদের দাবি, ২০২৪ সালের ৪ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯টি হামলা ও নিপীড়নসহ মোট ২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এসব অভিযোগের মধ্যে ৫৬ জেলায় সংঘটিত ১ হাজার ৪৫৭টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
এ ছাড়া, ৬০টি ঘটনার মধ্যে মন্দিরে চুরি, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জমি দখল ও উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঐক্য পরিষদ এসবসহ আরও কিছু ঘটনার তথ্য পরে তুলে ধরবে বলে প্রেস উইং’র বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর পুনরায় তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আপডেট জানাবে।
৩৩৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিবাদের সবকিছু উপড়ে ফেলতে হবে: ডিআইজি রেজাউল
ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিবাদের সবকিছুর উপড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যে সকল অপরাধী রয়েছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ফরিদপুর পুলিশ লাইনে বিশেষ কল্যাণ সভা ও জুলাই আন্দোলনের নিহতদের স্মরণে এক সভায় এ কথা বলেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশের ঢাকা বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কোনো অপরাধ পরিলক্ষিত হয়, তাহলে পুলিশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘কোনো রকম অর্থনৈতিক অনিয়ম–দুর্নীতি—এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না,’ যোগ করেন তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আপনারা (পুলিশ) জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। থানায় যেন কোনো সেবাগ্রহীতা এসে ভোগান্তির শিকার না হন ‘
‘আমি শুনতে চাই না, কোনো সেবাগ্রহীতা থানায় এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সকল মানুষের প্রতি সম্মানসহকারে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলায় যেন কোনো অবনতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ‘
আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ মেলেনি: পুলিশ সদর দপ্তর
পুলিশ সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা নিষিদ্ধ সংগঠনের যে সমস্ত অপরাধী সদস্য রয়েছে, তার সঙ্গে যদি কোনো সম্পর্কের গন্ধ পাই—কাউকে আমি ছাড় দেব না।এই ফরিদপুরে যারা সন্ত্রাসী, গডফাদার, চাঁদাবাজ—তাদের কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।’
এর পরে তিনি জুলাই চব্বিশে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপহারসামগ্রী তুলে দেন এবং পুলিশের মাল্টিপারপাস হল উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম, সদর পুলিশ সার্কেলের আজমির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩৩৯ দিন আগে