আইনশৃঙ্খলা
হিন্দুপল্লিতে হামলার উসকানি: গ্রেপ্তার সাংবাদিক ৩ দিনের রিমান্ডে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাতপুর ছয়আনি হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সেলিমের জামিন আবেদন বাতিল করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জজকোর্টের গংগাচড়া আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল-১ এর বিচারক কৃষ্ণ কমল রায় আদালতে এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে ওই সাংবাদিককে জেলখানায় পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত সাংবাদিক রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান সেলিম।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সেলিম তার ফেসবুক পেজে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে সরাসরি উসকানি দিয়ে উত্তেজিত করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ অভিযোগে শনিবার(২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর সদরের হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গংগাচড়া থানায় হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
পড়ুন: হিন্দুপল্লিতে হামলাকারীদের উসকানি, সাংবাদিক গ্রেপ্তার
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফেসবুকে মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের হিন্দু পাড়ায় অজ্ঞাত লোকজন ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ২২টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছিল।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২৯ জুলাই রবীন্দ্রনাথ রায় (৫৫) বাদী হয়ে গংগাচড়া মডেল থানায় হাজারের অধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি আলদাতপুর হিন্দুপল্লিতে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সরাসরি উসকানি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ইমরান জানান, গ্রামের হিন্দু পাড়ায় হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৬৪ দিন আগে
রাজধানীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে ট্রাফিক নির্দেশনায় যা আছে
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ মঙ্গলবার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো উপলক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (৪ আগস্ট) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানমালায় সকাল ১১টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, বেলা ২টা ২৫ মিনিট থেকে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, বিকাল ৫টা থেকে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টা থেকে আর্টসেল পরিবেশনা।
এ অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা জারি করেছে ডিএমপি।
নির্দেশনার আলোকে আড়ং ক্রসিং (মানিক মিয়া এভিনিউ এর পশ্চিম প্রান্ত) মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত অথবা মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেইট হয়ে আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আড়ং ক্রসিংয়ে বামে মোড় না নিয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে ধানমন্ডি-২৭ এর পূর্ব প্রান্ত হয়ে মিরপুর রোডে চলাচল করবে।
এছাড়া মিরপুর রোডের দক্ষিণ দিক হতে (সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং হতে) আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আড়ং ক্রসিংয়ে ডান দিকে মোড় না নিয়ে সোজা উত্তরে গিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
খেজুর বাগান ক্রসিং (মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্ত) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হতে ইন্দিরা রোড হয়ে আগত ধানমন্ডিগামী যানবাহনসমূহ খেজুর বাগান ক্রসিংয়ে সোজা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে লেক রোড হয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে মিরপুর রোড হয়ে সোজা দক্ষিণে ধানমন্ডির দিকে যাবে।
তবে, অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হতে ধানমন্ডি/মোহাম্মদপুরগামী যানবাহনসমূহকে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ফার্মগেইট ক্রসিং: ফার্মগেট হতে খেজুর বাগান/মানিক মিয়া এভিনিউ/মিরপুর অভিমুখী যানবাহনসমূহ ফার্মগেট থেকে বামে মোড় না নিয়ে সোজা বিজয় সরণী গিয়ে বামে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং/লেক রোড হয়ে চলাচল করবে।
গণভবন ক্রসিং: মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহনসমূহ গণভবন ক্রসিংয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বামে মোড় নিয়ে লেকরোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট এর দিকে গমন করবে।
এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেইট হয়ে খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আসাদগেইট ক্রসিংয়ে ডানে মোড় না নিয়ে বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
আগারগাঁও হতে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক এর ব্যবহার : মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলকারী যানবাহনসমূহকে আগামীকাল আগারগাঁও হতে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা: আগামীকাল অনুষ্ঠানে নিজস্ব/ভাড়াকৃত যানবাহনসহ আগত দর্শনার্থীদের যানবাহনসমূহ আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সকল যানবাহন চালকদের আগামী ৫ আগস্ট যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ের নিকটবর্তী সড়কসমূহ এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
৩৬৪ দিন আগে
যশোরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরার শালিখার হরিশপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক আল আমিন হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। একই সঙ্গে অপর এক আসামিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) বিকালে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক জয়ন্তী রাণী দাস এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) এসএম আব্দুর রাজ্জাক।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন— শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে জুয়েল খান, একই এলাকার সেলিম হোসেনের ছেলে হারুন অর রশিদ এবং যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আলামিন।
দুই বছরের সাজা পাওয়া আসামি রাসেল মোল্যা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের সুলতান মোল্যার ছেলে। তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া বিল্লাল মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় হারুন অর রশিদ ও রাসেল মোল্যা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিদের মধ্যে হারুন কারাগারে আটক আছেন। জুয়েল কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে এসে কোর্ট পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান। তাছাড়া জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন আরেকিআসামি আলামিন। আর দুই বছরের সাজা পাওয়া রাসেল মোল্যাও কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মাগুরার শালিখার হরিশপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন। তিনি ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকালে আল আমিন বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে ভাড়ায় চালানের উদ্দ্যেশে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় আল আমিনের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন দুপুরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আল আমিনের স্বজনরা জানতে পারেন, তার ইজিবাইক যশোর চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে বাঘারপাড়ার বুধোপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে আল আমিনের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ১১ ডিসেম্বর নিহতের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান বাঘারপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর আল আমিনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি জুয়েল, হারুন ও আলামিন এবং চোরাই ইজিবাইক ক্রয় করায় রাসেলকে আটক করে র্যাব। পরে ২০২২ সালের ১৫ মে ওই চারজনকে আসামি করে আদালতে আভিযোপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হরষিত রায়।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জুয়েল, হারুন ও আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি রাসেল মোল্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
৩৬৫ দিন আগে
ফ্লাইট এক্সপার্ট কেলেঙ্কারি: এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার ৩ জন হলেন—এজেন্সির হেড অব ফাইনান্স সাকিব হোসেন (৩২), চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাঈদ আহমেদ (৪০) ও চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন (৩২)।
ওসি বলেন, বিপুল সরকার নামে এক গ্রাহক শনিবার রাতে মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। এতে আসামি পাঁচজন হলেন—গ্রেপ্তার হওয়া তিন কর্মীসহ ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডি সালমান বিন রাশিদ শাহ সাঈম ও তার বাবা এম এ রাশিদ।
তিনি আরও জানান, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
পড়ুন: কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
এর আগে, এমডি সালমান পলাতক হওয়ার পর ফ্লাইট এক্সপার্টের পক্ষ থেকে সাঈদ আহমেদ থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে সাঈদ অভিযোগ করেন, এমডি সালমান সংস্থার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। অফিসে গিয়ে তিনি সালমানকে অনুপস্থিত দেখেন।
জিডিতে তিনি লেখেন, গ্রাহকদের অর্থ সংক্রান্ত লেনদেন এখন ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কিছু গ্রাহক কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।
শনিবার ফ্লাইট এক্সপার্টের ওয়েবসাইট অচল দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক গ্রাহক তাদের বুকিং ও ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
৩৬৫ দিন আগে
হিন্দুপল্লিতে হামলাকারীদের উসকানি, সাংবাদিক গ্রেপ্তার
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাতপুর ছয়আনি হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনায় হাবিবুর রহমান সেলিম নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী তাকে রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
পরে রোববার (৩ আগস্ট) সকালে তাকে হিন্দুপল্লিতে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাংবাদিক রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান সেলিম। তিনি আলদাতপুর হিন্দুপল্লিতে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সরাসরি উসকানি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ও অডিও দেখে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই সাংবাদিককে থানায় সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হাবিবুর রহমান সেলিম হামলাকারীদের উসকানি দিচ্ছেন।
ওসি আরও জানান, আলদাতপুর হিন্দুপল্লিতে ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ রোববার সকালে সেলিমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩৬৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে জুলাই হত্যাকাণ্ড: ২৩১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল
জুলাই বিপ্লবের এক বছরের মাথায় চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত একটি হত্যা মামলায় ২৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন আগে গুলিবর্ষণে এক দোকান কর্মচারী নিহত হয়। চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রথম কোনো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ।
অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ১২৮ জনকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরীর চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল হক বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আদালতের প্রসিকিশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রসিকিউশন শাখা থেকে অভিযোগপত্রটি চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত আগামী ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন।
পড়ুন: চট্টগ্রাম আদালতের ১,৯১১ মামলার নথি গায়েব
সিএমপির চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব আহমেদ জানান, তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচারের আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা আদালত গ্রহণ করবেন।
আসামিদের মধ্যে আরও আছেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন ও নোমান আল মাহমুদ, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, এসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, পুলক খাস্তগীর, সলিমুল্লাহ বাচ্চু, জিয়াউল হক সুমন এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ২৩১ নেতা কর্মি রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহিদুল ইসলাম শহিদ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে এক বছরের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো আদালতে।
৩৬৬ দিন আগে
মুরাদনগরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা
কুমিল্লার মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মুরাদনগর থানায় সংবাদকর্মী মো. শাহে ইমরান এই মামলাটি করেছেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বাদী মো. শাহে ইমরান কোতোয়ালি থানার পাঁচথুবী এলাকার বাসিন্দা। তিনি দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি।
আসামিরা হলেন— মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের মজিদ মিয়ার ছেলে শুকুর আলী (৩৫), খামার গ্রাম গ্রামের তাজুল মেম্বারের ছেলে আশিকুল ইসলাম সিদ্দিকী (২১), সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে নাহিদুল ইসলাম নাঈম (২৪) ও গুঞ্জর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন (২৫)।
শুক্রবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা থেকে পালিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের আল্লাহ চত্বরে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার বাবার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমবেশের আয়োজন করেন তার সমর্থকরা। সমাবেশের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় সংবাদ কর্মীরা হামলার ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার ঘটনায় ৭ জন সাংবাদিক আহত হন। হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মুঠোফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেন অভিযুক্তরা।
মো. শাহে ইমরান বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। আমাদের মারধরের পাশাপাশি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’
৩৬৭ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
সিলেটে সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বিজিবি সিলেট ৪৮ ব্যাটালিয়ন জেলার গোয়াইনঘাটের সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনালীচেলা, বাংলাবাজার এবং নোয়াকোট বিওপি'র সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এসব ভারতীয় চোরাইপণ্য আটক করে।
জব্দ মালামালের মধ্যে রয়েছে— ভারতীয় স্মার্ট ফোন ডিসপ্লে, থ্রি পিস, গরুর মাংস, চিনি, টমেটো, মদ, বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে শিং মাছ এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী নৌকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বলে জানায় বিজিবি।
এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, সদর দপ্তরের নির্দেশনায় গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল আটক করা হয়। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আটক সব চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩৬৭ দিন আগে
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিলের পরবর্তী শুনানি ১৩ আগস্ট
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পক্ষের করা আপিলের ওপর বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি শেষ হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ঠিক করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির এই দিন ঠিক করেন।
আদালতে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির।
দুই দশক আগে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা পৃথক মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায় বাতিল করে গত বছরের ১ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিরা খালাস পান। সে রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে গত ১ জুন রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করার অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। এরপর আপিল দায়ের করলে গত ১৭ জুলাই প্রথম দিনের মতো এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হন। ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিআইডি এই মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিলে শুরু হয় বিচার।
তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলায় অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১’র বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আলোচিত মামলার রায় দেন। আলোচিত ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।এ ছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।
৩৬৮ দিন আগে
স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট মহাচুরির বন্দোবস্ত ছিল: প্রেস সচিব
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট’ আইনকে মহাচুরির বন্দোবস্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে একটি আইন ছিল, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে বাজে আইন আর আসেনি। এটা ছিল মহাচুরির একটা বন্দোবস্ত। এই আইনের আড়ালে লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘ব্যাপারটা এমন ছিল— আমি আর আমার দুলাভাই বসে ঠিক করব কে কোথায় কাজ পাবে। কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া নেই, আইনের ন্যূনতম অনুসরণ নেই। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় আমরা ওই আইন বাতিল করেছি।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কাছে ২১ পাতার একটি কার্যবিবরণী দিয়েছে। আপনারা গত এক বছরে পুলিশকে লেথাল ওয়েপনস ব্যবহার করতে দেখেননি। এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘জুডিশিয়ারিতে যুগান্তকারী কিছু কাজ হয়েছে। জজ নিয়োগ, ফাইন্যান্স, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক— এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে গত এক বছরে এই সরকার কাজ করেনি।’
তিনি বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো স্থিতিশীলতা। ভয়ংকর এক দুর্যোগ থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনা খুবই কঠিন কাজ। সরকার তা করতে পেরেছে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এক-দু’টি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিসংখ্যানই বলবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল। পুলিশের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং তা আরও বাড়বে।’
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘গত ১২ মাসে সরকার অনেক শ্রম দিয়েছে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করতে। আমরা সফল হয়েছি।’
আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদাবাজি ও সহিংসতা নিয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহেই বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি আওয়ামী লীগের অপশাসন থেকে সবাই শিক্ষা নেবেন, সাংবাদিকরাও। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো মনস্টার না তৈরি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
৩৬৮ দিন আগে