আইনশৃঙ্খলা
পবিত্র আশুরা: তাজিয়া মিছিলে নিষিদ্ধ থাকছে যা
আগামী ৬ জুলাই পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে জননিরপত্তা রক্ষায় নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ।
এছাড়াও অনেকে মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটান—যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এমতাবস্থায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ডিএমপি।
পড়ুন: ঢাকায় কোনো তাজিয়া মিছিল নয়: ডিএমপি
৩০৭ দিন আগে
আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
আদালত অবমাননার একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার অপসারণের পর এটাই প্রথম কোনো আদালতের রায়, যাতে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) আইসিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
একই মামলায় গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের মামলায় পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের পূর্ব নজির না থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ অক্টোবর শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
সেই অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘২২৬ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’—যা বিচারব্যবস্থার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আদালত। পরে এই ঘটনায় আইসিটিতে মামলা করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত শুনানিতে দুই আসামিকে ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তারা হাজির হননি। কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমেও ব্যাখ্যা দেননি। সেদিন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে সশরীর হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেন।
পরদিন দুটি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দুজনকে গত ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। সেদিনও তারা হাজির হননি। পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য ১৯ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
১৯ জুন এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয় ২৫ জুন।
২৫ জুন মামলায় প্রস্তুতি নিতে অ্যামিকাস কিউরি মশিউজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় ২ জুলাই। আজ দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিলেন ট্রাইব্যুনাল।
৩০৭ দিন আগে
আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
তিনি জানান, মামলার এজাহারে মোট ৩১ জনের নাম ছিল। তদন্ত শেষে এদের মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে, তদন্তে নতুনভাবে জড়িত হিসেবে ১০ জনের নাম উঠে আসে। যাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর দুপুরে জামিন নামঞ্জুরের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে শুরু হয় উত্তেজনা। তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন।
পড়ুন: আরও ৪ মামলায় গ্রেপ্তার ইসকন নেতা চিন্ময়
প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার একপর্যায়ে পুলিশ ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তখনই আদালতের সামনে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামির বাড়ি চান্দগাঁও মোহরা ও বান্ডেল সেবক কলোনি এলাকায়।
তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় চিন্ময় পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যে উসকানি পেয়ে তার অনুসারীরা আইনজীবীর ওপর হামলা চালায়। জবানবন্দি ও তথ্যপ্রমাণে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।’
পড়ুন: ‘সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার’
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।’ এখন পর্যন্ত ২০ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য ও রিপন দাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ১৮ জন এখনও পলাতক।
চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতের সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য আগামীকাল বুধবার শুনানি করবেন আদালত।
৩০৮ দিন আগে
মুক্তি পাচ্ছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৬ বন্দী
সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে ২০ বছরের অধিক সাজাভোগকারী ৫৬ বন্দীকে মুক্তি দেবে। সরকার তার ক্ষমা করার ক্ষমতাবলে এসব বন্দীর সাজা মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারা সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (কারাগার, গণমাধ্যম) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, জেল কোডের ৫৬৯ বিধি, যা সাধারণত 'বিশ বছরের বিধি' নামে পরিচিত এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৪০১(১) এর অধীনে এই মুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।
এআইজি জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেশ কয়েকজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে বাকিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
পড়ুন: কারাগারে 'ঈদ খাবার উদ্যোগে’ শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বন্দীদের মুখে হাসি
জেল কোড অনুসারে, বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩০ বছর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, সরকারি বিবেচনা এবং ভালো আচরণের ভিত্তিতে, সিআরপিসির বিধি ৫৬৯ এবং ধারা ৪০১(১) অনুসারে, কমপক্ষে ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর, বন্দীদের প্রাথমিক মুক্তির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে, যার মধ্যে মওকুফও অন্তর্ভুক্ত।
তবে কোন কোন কারাগার থেকে কোন কোন বন্দী মুক্তি পেয়েছেন তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
৩০৮ দিন আগে
প্রহসনের নির্বাচনের জন্য দোষ স্বীকার সাবেক সিইসি নূরুল হুদার
প্রহসনের নির্বাচন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুই দফায় চারদিন করে আটদিনের রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার।
এরপর নূরুল হুদা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নূরুল হুদার পক্ষে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজকে রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আমরা তার জামিনের দরখাস্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়। এরপর আদালতে এসে জানতে পারি তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিচ্ছেন।
পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে জুতাপেটার মামলায় হানিফসহ ৩ জনের জামিন
গত ২২ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে নূরুল হুদার বাড়িতে গিয়ে ‘স্থানীয় জনতা’ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরদিন প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। চারদিনের রিমান্ড শেষে একই মামলায় গত ২৭ জুন আবারও চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত।
একই মামলায় গত ২৯ জুন তিনদিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২২ জুন দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা তিন সিইসি যথাক্রমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান।
পরবর্তীতে গত ২৫ জুন এ মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়।
সাবেক সচিব নূরুল হুদা ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিইসি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দেশের দ্বাদশ সিইসি। তার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের সব ভোট হয়।
৩০৮ দিন আগে
শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির আপিল শুনবেন হাইকোর্ট
মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। হিটু শেখ শিশুটির বোনের শ্বশুর।
বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার(১ জুলাই) এ আদেশ দেন। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের করা আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তার অর্থদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে।’
শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।
পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৬ মার্চ ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে ৭৩ দিনের মাথায় গত ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এছাড়া ডেথ রেফানেন্স হিসেবে গত ২১ জুন মামলাটির যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন একসঙ্গে ডেথরেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
পড়ুন: আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড
৩০৮ দিন আগে
এনবিআরের আরও ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরও পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে জড়িত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুদক এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে এই কর্মকর্তারা বড় পরিসরে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এমন সব অভিযোগে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তারা হলেন— বড় করদাতা বিভাগের (ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, সদস্য মো. লুৎফুর আজিম, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মো. শিহাবুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাসান।
এর আগে ২৯ জুন দুদক এনবিআরের আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। যাদের বিরুদ্ধে কর্তৃত্বের অপব্যবহার ও গত দুই দশক ধরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ছয় কর্মকর্তা হলেন— আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য একেএম বদিউল আলম, ঢাকা কর অঞ্চল-৮ এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, অডিট-গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর-ভ্যাটের ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার এবং কাস্টমস-আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর অতিরিক্ত কমিশনারসাধন কুমার কুন্ডু।
এই ছয় কর্মকর্তার মধ্যে হাসান তারেক এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বাধীন পরিষদটি রাজস্ব বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে এর অভ্যন্তরে কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে।
দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কর দায় কমানোর বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছেন—যারা তাদের অবৈধ দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, করদাতাদের কর ফেরত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের তাদের পাওনা পেতে ঘুষ দিতে বা উপহার দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কখনো কখনো এই ঘুষের পরিমাণ ছিল করদাতাদের পাওনার অর্ধেকের সম পরিমাণ।
পড়ুন: হাসনাতের পোস্ট ‘যাচাইবিহীন ও মানহানিকর’ দাবি দুদকের
৩০৮ দিন আগে
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার আত্মপক্ষ শুনানি ১৪ জুলাই
তালাক না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি আগামী ১৪ জুলাই ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জাকির হোসাইন গালিবের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন মামলাটির ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। তবে আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন।
সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৪ জুলাই আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির জন্য নতুন করে এই তারিখ ধার্য করেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুনানিকালে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তামিমা সুলতানা তাম্মি চাকুরি থেকে ছুটি না পাওয়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল নাসির-তামিমার মামলা শুনানিতে বিব্রত প্রকাশ করে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে বদলির নির্দেশ দেন। এ নিয়ে মামলায় মোট দশজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটার নাসির ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ: আইসিসি
উল্লেখ্য,২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় নাসির তামিমাকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
৩০৮ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে রকি হত্যা: প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে রকি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন—আবু তালেব মেম্বার (৩৭) ও মো. পলাশ খাঁ (৩৩)।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন লালবাগের ডিসি মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজের সামনে সড়কে রকিকে কুপিয়ে জখম করে একদল দুর্বৃত্ত।আরও পড়ুন: প্রাইম এশিয়ার ছাত্র পারভেজ হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
পরিকল্পিত এই হামলায় অংশ নেয় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিসহ পলাতক আবু বক্কর, দুলাল মিয়া ও আরও দু-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। স্থানীয়দের সহায়তায় রকিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রকির মা রাজিয়া বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নেমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জানিয়েছে, ২২ জুন বিকেলে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে টাকা নেয় তালেব মেম্বার ও শাওন। এ ঘটনায় রকি প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও গালাগাল হয়। এর জের ধরেই রকিকে হত্যা করা হয় বলে তারা স্বীকার করেছে।
৩০৮ দিন আগে
পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে না: আরপিএমপি কমিশনার
পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। এ বিষয়ে সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আরপিএমপি কমিশনার মো. মজিদ আলী।
সোমবার (৩০ জুন) বিকালে রংপুর পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় সদস্যদের ‘বাংলাদেশ পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণে এসব নির্দেশ দেন তিনি।
আরপিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য পুলিশ পরিচয়ে ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে অনলাইন জিডি বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা রাখতে হবে, যাতে সাধারণ জনগণকে আরও উন্নত ও সেবাপ্রবণ সহায়তা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহে চালু হচ্ছে সব ধরনের অনলাইন জিডি
এ সময় সব সদস্যকে সতর্কতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট থাকারও আহ্বান জানান।
এদিন সভার শুরুতে উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পুলিশ কমিশনার। এ সময় গত মাসের কল্যাণ সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। পাশাপাশি উপস্থিত অফিসার ও সদস্যদের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশনা দেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সফিজুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) তোফায়েল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩০৮ দিন আগে