আইনশৃঙ্খলা
সাবেক এমপি দুর্জয়ের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।
এদিন, দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠায় মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
এ সময়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলনসহ বিক্ষুব্ধ জনতা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করে এবং প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় তার দিকে ডিম ছুড়ে মারা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বিস্ফোরক আইনের মামলায় নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বাদশাসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিনের আবেদন করেন।
দুর্জয়কে আদালতে তোলা হলে বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি হুমায়ন কবির।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, নাঈমুর রহমান দুর্জয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন। তার ইন্ধনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালায়। বিস্ফোরক আইনের মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। এরপর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, দুর্জয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, বালুমহালে কেলেংকারি ও শিক্ষাক্ষেত্রে চাকরি বাণিজ্যে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
নাঈমুর রহমান দুর্জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেল বছরের ৫ আগষ্টের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও বুধবার (২ জুলাই) সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে রাজধানীর লালমাটিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ। মানিকগঞ্জ সদর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়াও দৌলতপুর ও শিবালয় থানায় সাবেক এমপি দুর্জয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মামলাগুলোর শুনানি হবে জানা গেছে।
এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও তার স্ত্রী ফারহানা রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছিলেন।
৩৫১ দিন আগে
গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িতের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: সেনা সদর দপ্তর
সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যখন সেনা সদস্যরা ডেপুটেশনে(অন্য বিভাগে ন্যস্ত) থাকেন, তখন তাদের উপর আমাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে তদন্ত চলছে। যদি কেউ গুমের সঙ্গে জড়িত থাকেন এবং তা প্রমাণিত হয়—তাহলে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
পড়ুন: ভারতীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, সেনাবাহিনীর কড়া জবাব
কর্নেল শফিকুল বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। বাকী অস্ত্রগুলোও শিগগিরই উদ্ধার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, লুট হওয়া প্রায় ১২ হাজার অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলনে আহত ৪ হাজার ৭৯০ জন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো ঢাকার সিএমএইচে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩৫১ দিন আগে
বান্দরবানে সেনা অভিযানে কুকি চিন কমান্ডারসহ নিহত ২
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) কমান্ডারসহ দুজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, অভিযানে তিনটি এসএমজি, একটি রাইফেলসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলছে।
অভিযানের বিষয়ে আজ দুপরে রুমা জোনে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।
৩৫১ দিন আগে
মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার লালমাটিয়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহবুব জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে আদালতে তোলা হবে।
জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দূর্জয়ের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকার লালমাটিয়ায় তার মালিকানাধীন ২ হাজার ৫২৩ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট, জমি ও তিনটি গাড়ি জব্দের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
নাঈমুর রহমান দুর্জয় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
৩৫২ দিন আগে
যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন।’ তবে অস্ত্রের ম্যাগাজিন বহনের ঘটনাটি ভুল ছিল বলে আবারও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
এ ছাড়া, মুরাদনগরে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউই পার পাবে না।’
৩৫২ দিন আগে
চাকুরি হারালেন সেই সহকারী কমিশনার তাপসী ঊর্মি
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক সহকারী কমিশনার (বর্তমানে ওএসডি সহকারী সচিব, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া) তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অসদাচরণের অভিযোগে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বুধবার (২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত বছরের ৬ অক্টোবর তিনি নিজ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ না নিয়ে লিখিতভাবে জবাব দেন। তার জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব, পারিপার্শ্বিকতা এবং বিভাগীয় মামলার নথি পর্যালোচনা তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও গুরুদণ্ড দিতে কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে পরামর্শ দেয়। রাষ্ট্রপতিও তাকে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন বলেও প্রজ্ঞাপনের জানানো হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিয়ে তাপসী তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’
এ ছাড়া, জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তাপসী তাবাসসুম।
গত বছরের ৬ অক্টোবর তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরের দিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে।
৩৫২ দিন আগে
৮৬ বারের মতো রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন পেছাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়ে আগামী ২৪ জুলাই দিন ঠিক করেছেন আদালত।
এ নিয়ে ৮৬ বারের মতো মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ দিনটি ঠিক করেন।এ দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক করা ছিল।তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন দিন ঠিক করেন দেন।
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়।
দেশের অভ্যন্তরের কোনও একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থপাচার করেছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন।
৩৫২ দিন আগে
পবিত্র আশুরা: তাজিয়া মিছিলে নিষিদ্ধ থাকছে যা
আগামী ৬ জুলাই পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে জননিরপত্তা রক্ষায় নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ।
এছাড়াও অনেকে মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটান—যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এমতাবস্থায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ডিএমপি।
পড়ুন: ঢাকায় কোনো তাজিয়া মিছিল নয়: ডিএমপি
৩৫২ দিন আগে
আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
আদালত অবমাননার একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার অপসারণের পর এটাই প্রথম কোনো আদালতের রায়, যাতে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) আইসিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
একই মামলায় গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের মামলায় পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের পূর্ব নজির না থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ অক্টোবর শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
সেই অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘২২৬ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’—যা বিচারব্যবস্থার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আদালত। পরে এই ঘটনায় আইসিটিতে মামলা করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত শুনানিতে দুই আসামিকে ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তারা হাজির হননি। কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমেও ব্যাখ্যা দেননি। সেদিন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে সশরীর হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেন।
পরদিন দুটি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দুজনকে গত ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। সেদিনও তারা হাজির হননি। পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য ১৯ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
১৯ জুন এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয় ২৫ জুন।
২৫ জুন মামলায় প্রস্তুতি নিতে অ্যামিকাস কিউরি মশিউজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় ২ জুলাই। আজ দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিলেন ট্রাইব্যুনাল।
৩৫২ দিন আগে
আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
তিনি জানান, মামলার এজাহারে মোট ৩১ জনের নাম ছিল। তদন্ত শেষে এদের মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে, তদন্তে নতুনভাবে জড়িত হিসেবে ১০ জনের নাম উঠে আসে। যাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর দুপুরে জামিন নামঞ্জুরের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে শুরু হয় উত্তেজনা। তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন।
পড়ুন: আরও ৪ মামলায় গ্রেপ্তার ইসকন নেতা চিন্ময়
প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার একপর্যায়ে পুলিশ ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তখনই আদালতের সামনে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামির বাড়ি চান্দগাঁও মোহরা ও বান্ডেল সেবক কলোনি এলাকায়।
তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় চিন্ময় পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যে উসকানি পেয়ে তার অনুসারীরা আইনজীবীর ওপর হামলা চালায়। জবানবন্দি ও তথ্যপ্রমাণে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।’
পড়ুন: ‘সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার’
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।’ এখন পর্যন্ত ২০ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য ও রিপন দাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ১৮ জন এখনও পলাতক।
চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতের সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য আগামীকাল বুধবার শুনানি করবেন আদালত।
৩৫৩ দিন আগে