আইনশৃঙ্খলা
মাদকের কবলে জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী আইনি কাঠামো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকের কবলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল নড়বড়ে আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেওয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো খালি হাতে সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।’ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, আসামিদের থানায় সোপর্দের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলা জটের কারণে যাতে আসামিরা পার পেয়ে না যায়, সেজন্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন (সংসদে) উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শযাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মহানগর এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯ দিন আগে
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্রারোচনা মামলায় অভিনেতা আলভী রিমান্ডে
স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক গত ২১ জুন জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৪ জুন (বুধবার) দিন ধার্য করেন। এরপর আজ (বুধবার) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাহের আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলায় বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।
আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলেসন্তান রয়েছে।
আলভীর মা নাসরিন সুলতানা গত ৪ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
৪০ দিন আগে
আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পরিচালিত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে মিরপুর থানা পুলিশ ৩ জন, রমনা, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, ও তেজগাঁও থানা পুলিশ ২ জন করে এবং শাহবাগ, বংশাল, সূত্রাপুর, পল্টন, শিল্পাঞ্চল, পল্লবী ও কাফরুল থানা পুলিশ একজন করে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪১ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে: ডিএমপি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করে বর্তমান সরকারকে বিব্রত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার পরিকল্পনা করেছিল, তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমামবাড়া আয়োজিত ‘পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া শোক মিছিল নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমাদের কাছে ছিল। সেই অনুযায়ী, আমরা গত তিন দিন থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করেছি, পিকেট, মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোলের সংখ্যা বাড়িয়েছি। সাদা পোশাকে ডিউটি ও টহল বাড়িয়েছি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কর্মী বা সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় জড় হয়ে মিছিল বা জমায়েতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা প্রত্যেকটি সন্দেহজনক জায়গা, যেমন: মেস, হোটেল এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করেছি এবং আমরা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের মনে হয়েছে, তারা (আওয়ামী লীগ) আজকে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার মাধ্যম সরকারকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। ডিএমপির সদস্যরা তাদের এই পরিকল্পনাকে এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে। আশা করি, আর যতটুকু সময় আছে, এই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আমরা সেই মিছিল থেকে ও মিছিল পরবর্তী সময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ককটেল বিস্ফোরণ থেকে একটি বিষয় আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা তাদের কাছে থাকতে পারে। আমাদের এটা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে যেহেতু তারা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে, তাতে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে সুযোগ পেলে তারা নাশকতা করতে পারে। তাই ঢাকার বাইরে থেকে যাতে কেউ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে এই ধরনের নাশকতা বা কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হতে না পারে এজন্য আমাদের নজরদারী অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কারাগার থেকে অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। আশুরা ও তাজিয়া মিছিলে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বছর এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলামত আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেকোনো ধরনের নাশকতা, যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।
৪১ দিন আগে
আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল ও বিভিন্ন শোক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এবারের পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিভাগ (লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর) থেকে মোট ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররমে ১০টি, ৯ মহররমে ১৯টি এবং ১০ মহররমে ২৪টি-মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি তাজিয়া মিছিলের রুট নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি তাজিয়া মিছিল ও প্রধান প্রধান সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং এবং রুফটপ নজরদারি ডিউটি মোতায়েন থাকবে। হোসেনী দালান ইমামবাড়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইমামবাড়া এবং সমাবেশস্থলগুলো ড্রোন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুট সুইপিং বা তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি ও ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আঞ্জুমান হায়দারী, বড় কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোকে পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
৪১ দিন আগে
তাজিয়া মিছিলে অস্ত্র-আতশবাজি নিষিদ্ধ: ডিএমপি
আশুরা উপলক্ষে আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠেয় তাজিয়া মিছিলে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রবিবার (২১ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তি দা, ছোরা, কাঁটা, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠি নিয়ে অংশগ্রহণ করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে।
মহররম উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর রেওয়াজ থাকলেও তা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তাজিয়া মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রসদৃশ সামগ্রী বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
৪২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫৯ জনের সাজা, ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাকি আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। অন্য ৫১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭৪ জন। পলাতক রয়েছেন ২৮৮ জন। এ ছাড়া একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
৪৩ দিন আগে
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রে তাকে ২১ জুনের মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ। ওই সভায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং তাদের হাতে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলি ও কুপিয়ে জখমের শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে লবণচরা থানা এলাকায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, মহিরবাড়ি খালপাড় অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও আতঙ্কের কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে চান না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও অপরাধীরা ধরা পড়ে না।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় অভিযোগ করেন, তথ্য দিলে তা পুলিশ থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তারা আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজেদের আচরণ ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।
এর জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলায় পিটাবো।’
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
৪৪ দিন আগে
পুলিশের পোশাকে ফিরছে খাকি প্যান্ট, শার্টে গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙ
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রঙে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘লোহা-ধূসর’ ও ‘কফি-বাদামি ধূসর’ রঙের পরিবর্তে এখন থেকে পুলিশের পোশাকে ব্যবহৃত হবে ‘ডিপ ব্লু’ (গাঢ় নীল), ‘লাইট অলিভ’ (হালকা জলপাই) এবং ঐতিহ্যবাহী ‘খাকি’ রঙ। এ লক্ষ্যে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মহা-পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন গত ১৮ জুন সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং র্যাব ছাড়া জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের শার্টের রঙ হবে গাঢ় নীল।
অন্যদিকে, দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের শার্টের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে হালকা জলপাই। সব ইউনিটের ট্রাউজার বা প্যান্টের ক্ষেত্রে বর্তমানে ব্যবহৃত ‘লোহা-ধূসর’ রঙের পরিবর্তে খাকি রঙ পুনর্বহাল করা হয়েছে।
বিধিমালায় শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ পুলিশ সদস্যদের ফুল হাতা জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার ও জ্যাকেটের রঙ হবে গাঢ় নীল। মেট্রোপলিটন পুলিশের জ্যাকেটের রঙ হবে হালকা জলপাই। এছাড়া গ্রীষ্মকালে হাফ হাতা শার্ট এবং শীতকালে ফুল হাতা শার্ট পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের জন্যও নতুন রঙের সংযোজন করা হয়েছে। তারা গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা ও অন্যান্য ইউনিটে গাঢ় নীল রঙের ব্লাউজ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশে হালকা জলপাই ব্লাউজ পরিধান করতে হবে। নারী সদস্যদের অনুমোদিত হেড কাভার বা হিজাবের রঙও নির্ধারণ করা হয়েছে গাঢ় নীল।
এছাড়া ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরা যারা হিজাব পরিধান করতে ইচ্ছুক, তারা সারা বছর ফুল হাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সাধারণ পোশাক পরিধান করতে পারবেন।
৪৪ দিন আগে
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি বিশেষ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক সম্মানী প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই ফেডারেল পুলিশ কর্তৃক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪৪ পৃষ্ঠার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।
বর্তমান সরকারের কাজের গতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ফেডারেল এনসিবি ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের জানায়, ‘বাংলাদেশের অনুরোধে ইস্যুকৃত রেড নোটিশের ভিত্তিতে তারা উক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানায়। সেটি আমরা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মাত্র তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আজ পুরস্কৃত হওয়া ট্রাফিক কনস্টেবল মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ (জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব উদ্যোগে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য ২০ হাজার টাকা ও আইজিপি ব্যাজ প্রাপ্ত) মোট চারটি চাঞ্চল্যকর ও প্রশংসনীয় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিওয়ার্ড’ (শাস্তি ও পুরস্কার) নীতি কার্যকর করেছে। কর্তব্যকাজে আন্তরিকতা ও সততা প্রদর্শনকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি বা দুর্নীতিতে লিপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অপরাধ প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা রাতারাতি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব না হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, উপপরিদর্শক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মংলার কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয় এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আগামী ২৩ জুন একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক (সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পুলিশের অ্যালার্ট জারির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৪ দিন আগে