আইনশৃঙ্খলা
কুষ্টিয়ায় ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান, অস্ত্র-মাদকসহ ৫ ‘সন্ত্রাসী’ আটক
কুষ্টিয়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি দল। তারা সবাই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার আইলচারা বাজার-সংলগ্ন একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল জব্দ করে দলটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি অপরাধের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। তারা বাড়িটিকে একটি টর্চার সেল বা নির্যাতনকেন্দ্রে রূপান্তর করেছিল। সেখানে অপহরণ করে ধরে আনা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। এরপর অপহৃতদের পরিবার থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
আটকরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ইমরান খান মানিক, বড় আইলচারা এলাকার বাসিন্দা রনি, মিরপুর থানার পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ এলাকার বাসিন্দা সজীব এবং একই ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের রাব্বি ও শাকিল।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘সন্ত্রাসী’ তূর্য গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের দাবি, মানিকের নেতৃত্বে এই চক্রটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।
তবে যৌথ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং অনেকে বাইরে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অপহরণ সংক্রান্ত ধারায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
৩৫৯ দিন আগে
মানবাধিকার রক্ষায় সিআরপিসি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় অধিকতর মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সিআরপিসি) আইন-১৮৯৮ সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় অধিকতর অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কঠোর সুরক্ষার জন্য সিআরপিসি সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছি। খুব দ্রুতই এটি চূড়ান্ত করা হবে।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ‘কমনওয়েলথ চার্টার ইয়ুথ ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ-২০২৫’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘কমনওয়েলথ চার্টারের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার আইনি সংস্কারের সাহসী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সিভিল প্রসিডিউর কোড (দেওয়ানি কার্যবিধি) সংশোধন করেছি—যাতে বিচার আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য হয়।’
বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটির দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি আরও জানান, সময়সীমার মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হয়েছে এবং বিবাহবিচ্ছেদসহ বিয়ের নিবন্ধনে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে—যা লিঙ্গভিক্তিক সমতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অতীতের অন্যতম বিতর্কিত আইন ছিল সাইবার সিকিউরিটি আইন। তবে তা সংশোধনের সময় সরকার ২৩টি খসড়া তৈরি করেছে এবং ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
‘আমরা গভীর পর্যালোচনা করে আইনটি সংশোধন করেছি। এমনকি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এই আইন খুব একটা খারাপ নয়। তাদের কাছ থেকে এই মন্তব্য পাওয়ার অর্থ, আইনটি যথেষ্ট ভালো হয়েছে,’ যোগ করেন আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় সাইবার সিকিউরিটি আইনে মানুষের অধিকারের সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতন থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সবকটি আইনি পরিবর্তন সরকারের আইনের শাসন, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন, যা কমনওয়েলথ চার্টারের মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কমনওয়েলথ চার্টার শুধুই ঘোষণাপত্র নয়, এটি আমাদের মধ্যে সীমান্তের বাইরে ঐক্যবদ্ধ রাখার নৈতিক নির্দেশনা।’কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন পেশা ও সম্প্রদায়ের তরুণরা অংশ নেন এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
কমনওয়েলথের সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক লুইস ফ্রানচেস্কি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের তরুণদের সিদ্ধান্তের ওপর। সাফল্যের নিশ্চয়তা হয়তো নেই, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে ব্যর্থতা নিশ্চিত। তাই হাল ছাড়বেন না, সাহসী হোন, আওয়াজ তুলুন এবং নেতৃত্ব দিন। পদক্ষেপ নিন, যা আপনার দেশ ও জাতিকে গর্বিত করবে।’
এর আগে সোমবার কর্মশালার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘কমনওয়েলথ চার্টার বিশ্বের ৫৬টি দেশের ২৭০ কোটি মানুষের জন্য একটি নৈতিক মানদন্ড।’
২০১৩ সালে প্রণীত কমনওয়েলথ চার্টারে সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ এবং নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৬০ দিন আগে
নগর ভবনে ইসরাক সমর্থকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে, শ্রমিক দলের উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এরপরেই তারা নগরভবন এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন, ডিএসসিসির শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য মনির হোসেন (৪৫), মহিদুল ইসলাম (৩৫), জসিম (৩২), জুয়েল (৪০), কাইয়ুম (৪০), জনি (৩৬), দিদার (৪২) ও রাসেল (৪২)।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা ৩৯ দিন নগর ভবনে তালা দিয়ে রেখেছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নেতা আরিফ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে তালা খুলে দিতে নির্দেশ দেন ইশরাক।
পরে সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের তালা খুলে দেন আরিফ চৌধুরীরা। কিন্তু প্রশাসক ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কক্ষগুলোতে তারা তালা লাগিয়ে রাখেন। ওই কর্মকর্তারা যাতে অফিসে ঢুকতে না পারেন সেজন্য সারাদিন নগর ভবনে মহড়া দেন আরিফ চৌধুরী। ফলে গতকাল তাদের কেউ অফিস করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার পর নগর ভবনে অবস্থান নেন আরিফ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। এ সময় তারা ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ পড়ানো ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এমন সময়, তাদের ধাওয়া করেন শ্রমিক দলের অন্য পক্ষের নেতা আরিফুজ্জামান প্রিন্সের অনুসারীরা। তখন তাদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নগর ভবন থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান আরিফ চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ইশরাক সমর্থক বহিরাগত ব্যক্তিরাও ছিলেন।
ডিএসসিসির শ্রমিকদলের নেতারা জানান, আগে শ্রমিকদলের দুটি পক্ষই বিএনপি নেতা ইশরাকের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ইশরাকের শপথ কেন্দ্র করে আরিফুজ্জামান প্রিন্স একটু দূরেই থাকছেন। তিনি নগর ভবনে তালা দিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তির বিরোধিতা করেন।
জানা যায়, নগর ভবনে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের দুটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে আরিফুজ্জামান প্রিন্সের কমিটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। তিনি এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
বর্তমানে নগর ভবনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা যায়।
৩৬০ দিন আগে
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের সব বাহিনীর প্রধানরা আজকে নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে। নির্বাচন করতে যত ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দরকার হবে নির্বাচন কমিশনের, সেটা আমরা দেব। নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন উপহার দেবে, এটাই আমরা সবাই আশা করি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ‘আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকাটা শুধু বাহিনীর ওপর নির্ভর করে না। যারা নির্বাচনে অংশ নেন, তাদের ওপরও কিন্তু নির্ভর করে। সেটা আপনারাও তাদের বলবেন।
দিনের ভোট যখন রাতে হয়, সেই সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল, কিন্তু তারা কেন পদক্ষেপ নেয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সে সময় তো আপনারাও মাঠে ছিলেন, কোনো কিছু বলেননি।
সামনের নির্বাচনে রাতে ভোট যেন না হয়, পুলিশ কি সেটা নিশ্চিত করবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পোলিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এদেরও কিন্তু একটা ভূমিকা থাকে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
তিনি বলেন, যেহেতু পুরো নির্বাচন নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের ওপর। দেশের সব বাহিনী কিন্তু তখন তাদের অধীনে কাজ করে। নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন উপহার দেবে— এটাই আমরা সবাই আশা করি। নির্বাচন করতে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দরকার হবে নির্বাচন কমিশনের, সেটা আমরা দেব।
‘আজকের মিটিংয়ে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন কোন এরিয়াগুলোতে সমস্যা হতে পারে, সে বিষয়ে মাথায় রেখে আমরা কাজ করবো,’ যোগ করেন তিনি।
আওয়ামীলীগের ব্যপারে তিনি বলেন, ‘আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারা কোনো কার্যক্রম করতে পারেনি। দলটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে।’তিনি সাবেক নির্বাচন কমিশনকে মব জাস্টিস বিষয়ে বলেন, ‘মবে জড়িতদের ফুটেজ দেখে আইনের আওতায় আনা হবে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পূর্বে মবে যারা জড়িত, এমন কতজনকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংখ্যা বলতে পারছি না, তবে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
৩৬০ দিন আগে
ডিএনএ পরীক্ষা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করল সিআইডি
পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ ডোবায় ফেলে দিয়েছিল খুনিরা। দুজনের নাম পরিচয় জানা গেলেও বাকিরা ছিল অজ্ঞাত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের তৎপরতায় বের হয়ে এলো অজ্ঞাতনামা খুনির পরিচয়।
এরপর সিআইডির এলআইসি শাখার পরিশীলিত তথ্য বিশ্লেষণে শনাক্ত হলো তার অবস্থান। এভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লো অজ্ঞাতনামা খুনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, বরগুনার আমতলী থানার ঘাটখালী গ্রামের আলী মাদবরের ছেলে সেলিম মাদবর ওরফে রফিক (৪৯)।
সোমবার (২৩ জুন) সিআইডি এলআইসি শাখার একটি একটি টিম ডিএমপির ডেমরা ধানাধীন সারুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, টোল উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভাধীন নান্দিকাঠি গ্রামস্থ লাইফকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ২০০ গজ পূর্বে পাকা রাস্তার উপর ভিকটিম ইমরান হাওলাদারকে (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী কচুরিপানা ভর্তি ডোবার পানিতে ফেলে দেয় খনিরা।
তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন নিহত ইমরানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম। পরে দুজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সিআইডি’র ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। সেসব আলামত ঢাকায় সিআইডির সদর দফতরের ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে আলামত পরীক্ষা করে অজ্ঞাতনামা একজনের ডিএনএন পান বিশেষজ্ঞরা। পরে ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম রফিক। পরে ঢাকার ডেমরার সারুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: দখলদার ও খুনিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে: মুফতি ফয়জুল করীম
৩৬০ দিন আগে
ইডেন ছাত্রীর মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন
ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার আইনজীবী মো. খলিলুর রহমান জামিনের আবেদন করেন। এদিন বিচারক নোবেলের উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। আজ নোবেল ও ভিকটিমের উপস্থিতিতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নোবেল জামিন পেলে ভিকটিমের আপত্তি নেই বলে আদালতে জানান। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি নোবেল গত ২০ মে থেকে জেল হাজতে আটক আছেন। যেহেতু বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় মামলাটি দায়ের করেছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অঙ্গীকারনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন। বাদীর জিম্মায় আসামি জামিন পেলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই। আসামি জামিন পাওয়ার পর বিবাহ রেজিস্ট্রি করে নিবেন।
এর আগে ১৮ জুন উভয়ের সম্মতি সাপেক্ষে তাদের বিয়ে সম্পাদন করে আদালতকে অবগত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে নোবেলের আইনজীবী একটি আবেদন করেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাত ২টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত ছিল। ২০১৮ সালে আসামি নোবেলের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীর পরিচয় হয়। নোবেল বাদীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রায় সময় কথা-বার্তা বলতো। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে বাদীর সাথে দেখা করে বাদীকে আসামি নোবেল তার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ডেমরা থানা এলাকায় নোবেলের নিজ বাসায় নিয়ে আসে।
নোবেলের বাসায় আসার পর বাদী বাসা থেকে চলে যাওয়ার কথা বললে আসামির সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন আসামির সহায়তায় বাদীকে বাসার একটি কক্ষে আটক করে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। বাদী আসামির কথা মতো আসামির বাসায় না থাকলে তার মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে মর্মে হুমকি দেয়।
বাদী আসামি নোবেলের ভয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পাননি। নোবেল তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন বিবাদীর সহায়তায় বাদীকে সিঁড়ি দিয়ে চুলের মুটি ধরে টানা হেঁচড়া করে অপর একটি কক্ষে আটক করে রাখে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে চিনতে পারে। বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে খোঁজাখুঁজি করা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবায় গেল ১৯ মে কল দিলে ডেমরা থানা পুলিশের সহায়তায় ভুক্তভোগী বাদী আসামি নোবেলের বাসা থেকে বের হয়ে আসে।
আরও পড়ুন: নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার সঙ্গীতশিল্পী নোবেল
৩৬০ দিন আগে
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এ মামলার দুই পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
শুনানিকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে, এই মামলার পলাতক দুই আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশের পর আজ (মঙ্গলবার) অগ্রগতি শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।
এর আগে, গত ১ জুন এ মামলার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পাশাপাশি ১৬ জুন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির ও মামলার পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: সংবাদপত্রে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ
পরে ১৬ জুন অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ২৪ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়।
সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়াসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তার (শেখ হাসিনার) বিরুদ্ধে মূলত ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সব হত্যাকাণ্ডের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি এ গণহত্যা ও হত্যার উসকানিদাতা, প্ররোচনাদাতা ও সরাসরি নির্দেশদাতা। এ বিষয়ে তার বহু কল রেকর্ড, অডিও-ভিডিও পাওয়া গেছে।’
৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগটি হচ্ছে— গত বছরের ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের উসকানি দিয়েছেন ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি এসব বলেছিলেন। এসব বলার মাধ্যমে তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল
এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অর্থাৎ সহযোগী বাহিনী হিসেবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) হত্যা করে, আহত করে, অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে অভিযোগটি করা হয়েছে সেটা হচ্ছে— সরাসরি নির্দেশ। তদন্তে শেখ হাসিনার কিছু টেলিফোন কনভারসেশন (বার্তালাপ) জব্দ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বারবার সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় সব বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসিসহ মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র, নিরীহ আন্দোলনকারী সিভিলিয়ান (নাগরিক), যারা দেশে একটা ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রত ছিল, তাদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন ও নির্মূল করার জন্য।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এছাড়া বাকি ৩টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, যেখানে শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রেক্ষিতে অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে। কিভাবে মানুষকে মারা হয়েছে, নৃশংসতাগুলো করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুনিদিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রিক ওই ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যত লোক মারা গেছেন, যত লোক আহত হয়েছেন প্রত্যেকটার ব্যাপারে তার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে চার্জ রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘প্রতিবেদনে এসেছে প্রায় দেড় হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে, ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুলি করে আহত করা হয়েছে, নারীদের ওপর বিশেষভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছিল, লাশ একত্রিত করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, পোস্টমর্টেম করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, ডাক্তারদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’
শেখ হাসিনার বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে তিনি নিজে গিয়ে বলেছিলেন, এসব ভর্তি রোগীকে যাতে চিকিৎসা দেওয়া না হয়। রোগীরা যখন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। যাতে পচে গেলে কেটে ফেলতে হয়, সেরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘
বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় নিজেদের লোকদের দিয়ে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।’
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচ অভিযোগ
সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও (গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন) আসামি করা হয়।
৩৬০ দিন আগে
এস আলম গ্রুপকে ভুয়া ঋণ: ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদান করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, ব্যাংকটির কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম, মোহাম্মদ সিরাজুল কবির, মুহাম্মদ কায়সার আলী, তাহের আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল, আহমেদ জুবায়েতুল হক ও এস. এম. তানভির হাসান।
এদিন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক।
আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, এস আলমের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদানে সহায়তা করা ইসলামী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা দেশত্যাগ করার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হতে পারে। এজন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া একান্ত আবশ্যক।
প্রসঙ্গত, দুর্দকের করা মামলায় মনিরুল মাওলাকে গতকাল (২৩ জুন) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন একই আদালত।
আরও পড়ুন: সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় একীভূত করা হবে: গভর্নর
৩৬০ দিন আগে
ডিবির অভিযান: জামালপুরে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ডিবি পুলিশের পৃথক ৩টি অভিযান জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ জুন) এই তথ্য জানান জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।
গ্রেপ্তাররা হলেন—পৌর এলাকার লাঙ্গলজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে আব্দুল মিঠুন ওরফে আব্দুল রুবেল (৩৬), সদর উপজেলার রেহাই পলাশতলা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ফরহাদ আলম ওরফে তাপস (২৬), মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে আহালু ওরফে মইনুদ্দীন (৩২), মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম জৈটাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মিন্টু (৩৮) ও একই উপজেলার ভেলামারী গ্রামের মোন্নাতের ছেলে সাগর।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, জামালপুর ডিবি পুলিশ ভিন্ন ভিন্ন ৩টি গ্রুপের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় প্যারালাল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, এসব অভিযান পরিচালনার সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জামালপুর, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ৩টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে, জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি পুলিশের এই অভিযান জামালপুরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চলমান থাকবে।’
৩৬১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের শপথ পড়ানোর বৈধতার প্রশ্নে রুল শুনানি ৭ জুলাই
প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর বিধান কেন ’৭২ এর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।
কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১১ মার্চ এই রুল জারি করেছিলেন।
সোমবার (২৩ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। এর আগে ১০ মার্চ শহীদুল্লাহ ফরায়জী এ রিট দায়ের করেন।
প্রধান বিচারপতিকে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর বিধান পরিবর্তন করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দিয়ে শপথ পড়ানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, প্রথম থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি একজন আরেকজনকে শপথ পড়াতেন। সেটি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ৫ম সংশোধনীতে সেটা বাতিল করে প্রধান বিচারপতির কাছে আনা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াতেন। কিন্তু ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীতে আবার স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিট আবেদেনে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাষ্ট্রপতির শপথে প্রধান বিচারপতির অনিবার্যতা’ শীর্ষক প্রকাশিত একটি কলামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেটি লিখেছেন রিটকারী শহীদুল্লাহ ফরায়জী।
পড়ুন: জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দ্য রিমান্ড’ প্রদর্শনীর অনুমতি দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের
ওই কলামের একটি অংশে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্টকে শপথ বাক্য পাঠ করান সেই দেশের প্রধান বিচারপতি। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির দেশেও রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতির নিকট। এটা বিশ্বব্যাপী সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার। রাষ্ট্রের প্রধানের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে উপেক্ষা করা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বিনষ্ট করা। এতে সংবিধানের গভীর দার্শনিক ভিত্তি থেকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি সংসদের নির্বাচিত হয়ে প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক নির্দেশনা। রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির নিকট শপথবাক্য পাঠ করার এই বাধ্যবাধকতা এবং মহিমান্বিত সাংবিধানিক মর্যাদা প্রজাতন্ত্রের কেউ বিনষ্ট করতে পারেন না, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা করেছে।
সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইন বলবৎ করা হয়েছে, যা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এটা আইন ও বিচারবিভাগের প্রতি ছিল আওয়ামী সরকারের অসম্ভব বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশের নজির— যা সাংবিধানিক ন্যায্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। ‘৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও প্রধান বিচারপতির মর্যাদা সুরক্ষার প্রশ্নে শপথ ও ঘোষণার তৃতীয় তফসিলে বলা হয়েছিলো— ‘রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হইবে।’ এগুলো আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সঙ্গে বিচারবিভাগের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি—যা সংবিধান প্রণয়নের সময়ই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত।
১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র যতটুকু সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিলো, আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ নামক দলটি কীভাবে দেখতে চায়— তার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের আনীত সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীতে। রাষ্ট্রপতির শপথ স্পিকারের নিকট; এমন দেশ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধারে— রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে, এ বিধান বাংলাদেশে আবার চালু বা পুনর্বহাল করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশের স্বার্থেই তা করা প্রয়োজন।
৩৬১ দিন আগে