আইনশৃঙ্খলা
১৬ ডিআইজিসহ আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
রবিবার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের অবসর প্রদান করা হয়েছে। তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সকল সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি (টিআর) সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এবং ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান।
তালিকায় আরও আছেন— নোয়াখালী পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. হায়দার আলী খান, খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি, নৌ-পুলিশের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী।
এছাড়া পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার এবং হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রখফার সুলতানা খানমকেও অবসরে পাঠানো হয়েছে।
একই আদেশে রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) ফারহাত আহমেদকেও চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা: রাজশাহী থেকে আরেক আসামি গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজীব ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং মামলার ৩ নম্বর আসামি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, র্যাব-৫ রাজশাহী ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিবকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত রবিবার ও সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেনকে (১৬) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামীমকে তার আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং দরবার শরিফ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
৪৯ দিন আগে
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর মামলায় ইমির জামিন
শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে ইমির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেন।
একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইমিসহ আরেকজনকে জোর করে ধরে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন রবিবার আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
৫০ দিন আগে
মেনন-কামরুলের বিচার শুরু, নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) মেনন ও কামরুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন শুরুতেই আসামিপক্ষের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক। এরপর কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ও মেননকে অভিযোগ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়।
এ সময় মেনন দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি নির্দোষ; ন্যায়বিচার চাই। অপরদিকে, এ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন কামরুল। একইসঙ্গে তিনিও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
পরে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এ মামলায় সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত হন।
৫০ দিন আগে
দুই মামলায় জামিন পেলেন আইভী
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আজকের এ দিন ধার্য করেন।
এদিকে, আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আদেশের এই দিন ধার্য করেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে দিবাগত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্টে তিনি ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।
পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এ ছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সেই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক এই মেয়রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, দুটিই ছিল হত্যা মামলা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওই মামলা দুটি করা হয়। এই দুই মামলার একটিতে ২ মার্চ ও অন্যটিতে ১২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর ২৭ এপ্রিল শুনানি হয়। সেদিন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ধার্য করেন।
৫০ দিন আগে
সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস ইউনেস্কোর
পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজ বলেছেন, বাংলাদেশে পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ফারহানা শাহনাজ এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রজেক্ট লিড শাকিল এম ফয়সাল।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে পুলিশ প্রশিক্ষণ ও সংস্কার, মিডিয়া ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী সুসান ভাইজকে স্বাগত জানান। এরপর ভাইজ নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।
মন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সুসান ভাইজ জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে উপপরিদর্শক (এসপি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদমর্যাদার ৭০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ইউনেস্কোর সহযোগিতায় প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিচালক (ডিআইজি) ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন। এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণটি ফলপ্রসূ হবে বলে অভিমত জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হলে তা অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সুসান ভাইজ জানান, মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে ইউনেস্কো।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে এর সঙ্গে জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫১ দিন আগে
কোস্টগার্ডের জনবল দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদরদপ্তরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (রেইজিং ডে) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা-পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
দেশে জঙ্গি তৎপরতা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিছু উগ্রবাদী বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্সকে প্রত্যাহার করা যায় না।
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বহু স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্ক্যানিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্গঠন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (শরীরে পরিহিত ক্যামেরা) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালু করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
৫২ দিন আগে
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনের পর তিনি এসব কথা বলেন।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা-জিআইজেড বাংলাদেশ এতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া, যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকারনির্ধারিত প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীতকরণের অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।
এ সময় দুজন নারীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন আইনমন্ত্রী। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারে সমতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিআইজেড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় প্যারালিগ্যালদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া নারী নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৬ হাজারেরও বেশি বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব এম এ আউয়াল এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) ও হেড অব প্রোগ্রাম মার্টিনা বুকার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানুষের কাছে আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এসব স্থানে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন। প্রশিক্ষিত প্যারালিগ্যালরা সেবাগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
৫৩ দিন আগে
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিনতাইকারী চক্র: র্যাব
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তাররা দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল। ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে। সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।
তিনি আরও বলেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ র্যাব কর্মকর্তা বলেন, অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভুক্তভোগীকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
৫৩ দিন আগে