আইনশৃঙ্খলা
আন্তঃদেশীয় অপরাধবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গেলেন আইজিপি
স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ বিষয়ক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রবিবার (১৯ জুলাই) থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
আগামী ২০ ও ২১ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। রয়্যাল থাই পুলিশের সহযোগিতায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সম্মেলনে স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর অপারেশনাল সমন্বয়, আঞ্চলিক কৌশল প্রণয়ন এবং সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আইজিপি রয়্যাল থাই পুলিশের প্রধানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। এরপর আগামী ২২ জুলাই দেশে ফিরবেন আইজিপি।
২ ঘণ্টা আগে
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে, মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। দলের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর খালি করে। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।
৩ ঘণ্টা আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
৫ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪১
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৪১টি মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪০ জন, লালবাগ বিভাগে ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ২৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৪ জন, মিরপুর বিভাগে ৮৫ জন, গুলশান বিভাগে ৩২ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৩ হাজার ৩০ পিস ইয়াবা, ৫৫ কেজি ২৩০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ২০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মাইক্রোবাস, ১টি তালা কাটার মেশিন, ৬টি মোবাইল, ৩৩০ টাকা ও একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানির পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেছেন। সেই রায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বদরুদ্দুজা মজুমদার সাহেবসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সেগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।
তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের যে প্রক্রিয়া করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে যখন এই সংশোধনীটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়, হাইকোর্ট ডিভিশন চারটি বিষয়ের ওপর তার অবজারভেশন দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা।
গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানের ৭-এর ক, খ এবং সুপ্রিম কোর্টের রিটের যে ক্ষমতা, সেই সম্পর্কে তো আল্টিমেটলি এই রায়ের ফলে হাইকোর্টের যে রায় সেই রায়টি বহাল থাকল। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসলো আর বাকিগুলো এখন সংসদে পরে যেটা হাইকোর্ট ছেড়ে দিয়েছিল সেটা আল্টিমেটলি সংসদে সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
তার আগে, গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি ওই রায়ে।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ ক, ৭ খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।
গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
১০ দিন আগে
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফারুক আহমেদ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফারুক আহমেদ ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বগুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।
প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ৫ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং লাইবেরিয়া ও দারফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া মৌলভীবাজার ও কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক দক্ষতা, অপারেশনাল নেতৃত্ব এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
গত ৪ জুন তিনি অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পান।
কর্মজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পুলিশিং বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
১১ দিন আগে
পুলিশের ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন
পুলিশে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।
রবিবার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসবির ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে এপিবিএনের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জন গ্রেপ্তার
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৪২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ২৬ জন, ওয়ায়ী বিভাগ থেকে ৫২ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৫ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৯ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ৫ হাজার ২১৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন, ৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি চাপাতি, ১টি চাকু, ১টি রশি, ২টি ইনজেকশন প্যাথেডিন, ২৪টি মোবাইল, ২ জন ভিকটিম, মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন প্রজাতির ১১০৪টি প্রাণী, ৭৫ কেজি লেবু ও ১টি মেমো উদ্ধার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার দায়ে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি শিল্পী গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।
একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরে পৃথক স্থানে মরদেহের মাথাও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থ নিয়ে বিরোধ এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ছয় টুকরা করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি পানির ড্রামে ভরে রাখেন।
পরে ১ হাজার ৩০০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে মরদেহের মূল অংশ মহাখালীর আমতলী এলাকায় ফেলে দেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে যান। এরপর মরদেহের মাথা গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবির পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর শিল্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
১৬ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত ১৪ মে এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
অন্যদিকে, ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মোট ৯ দিন নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। শুনানিতে আসামির পক্ষে বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলার সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৩০ নভেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মোট ১০ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। আসামির পক্ষে সাক্ষী দেন ২ জন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
১৯ দিন আগে