শিক্ষা
৩ ভুয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসে ভর্তিতে ইউজিসির সতর্কতা
বাংলাদেশে তিনটি ভুয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি করেছে ইউজিসি।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হলো— আমেরিকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ; ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ; এবং স্পিরিচুয়াল ইনস্টিটিউট অব নিউ ইয়র্ক (স্টেট ইউনিভার্সিটি)। সরকার ও কমিশন থেকে এ ধরনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড আমেরিকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ এবং ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি, ইউএসএর দুজন শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের লক্ষ্যে কমিশনে আবেদন করে। সনদ যাচাইয়ের সময় ভুয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি জানতে পারে ইউজিসি।
মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠানো কমিশনের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোনো প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশে অনুমোদনবিহীন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস, টিউটোরিয়াল সেন্টার ও স্টাডি সেন্টার পরিচালনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব শাখা ক্যাম্পাস, টিউটোরিয়াল সেন্টার ও স্টাডি সেন্টারের অধিকাংশই অননুমোদিত। এ সকল প্রতিষ্ঠান ব্যাচেলর, মাস্টার্স, এমপিএইচ, এমবিএ, এমফিল ও পিএইচডিসহ বিভিন্ন প্রকার ডিগ্রি প্রদান করছে, যা আইনানুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ সকল অননুমোদিত ও অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা অর্থের বিনিময়ে সনদ গ্রহণ করছেন। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে বহু শিক্ষার্থী প্রতারিত হচ্ছেন। দ্রুত এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি।
২৪৬ দিন আগে
এইচএসসির ফল: ময়মনসিংহে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার শতকরা ৫১.৫৪ ভাগ। তবে এই বোর্ডের আওতাধীন ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী। মোট ৩৯ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৪ জন।
পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৭৬ এবং মেয়েদের সংখ্যা ২২ হাজার ৪২০ জন। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেদের সংখ্যা এক হাজার ১১৭ এবং মেয়েদের সংখ্যা এক হাজার ৫৬৭ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। প্রতিষ্ঠান ৩টি হলো ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরজিথর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার আব্দুল জব্বার রাবেয়া খাতুন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর বিপরীতে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি।
এর মধ্যে ময়মনসিংহের ৭টি, জামালপুরের ২টি, নেত্রকোণার ৪টি এবং শেরপুরের ২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভুটিয়ারকোণা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইলের বরিল্লা কে. এ. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ত্রিশালের সিটি রয়েল কলেজ, ত্রিশাল আইডিয়াল কলেজ, গৌরীপুর পাবলিক কলেজ, মুক্তাগাছার প্রিন্সিপাল পারভীন জাকির কলেজ, ফুলবাড়িয়ার আলাপসিংহ কলেজ।
আরও পড়ুন: এইচএসসির ফলে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড, কুমিল্লার পাসের হার সবচেয়ে কম
এছাড়া শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় রয়েছে জামালপুরের বকশিগঞ্জের চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মেলান্দহ উপজেলার এস. এম. শিখা মোখলেসুর রহমান কলেজ, নেত্রকোণার কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ, জনতা আদর্শ মহাবিদ্যালয়, নেত্রকোণা সদর উপজেলার ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ এবং পূর্বধলার জোবায়দা জহুরউদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ। শেরপুর সদরের মন্মথ দে কলেজ এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার হীরন্ময়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
ফল ও শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং ম্যানেজিং কমিটিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে বলে মত দেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে ৫১ জন শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
২৪৬ দিন আগে
এইচএসসির ফলে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড, কুমিল্লার পাসের হার সবচেয়ে কম
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড, অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড হয়েছে কুমিল্লা বোর্ডে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এবার গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী।
এ বছরের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৫৯.৪০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.৮৬ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৫০.২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.৫৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬২.৫৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫১.৮৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৭.৪৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৫৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ
এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ ৬৪.৬২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন পাসের হার কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.৮৬ শতাংশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী।
সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। আর এবারও ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে।
গত জুলাই মাসে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার মতো এবারও এইচএসসির ফল প্রকাশ ঘিরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি।
২৪৬ দিন আগে
প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ না করায় জাবির তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলতুন্নেসা হলের তিন কর্মচারী প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরি ফিরে পেতে তারা টানা ছয়দিন ধরে হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ষষ্ঠ দিনের মতো হলের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায় চাকরিচ্যুত ওই তিন নারী কর্মচারীকে।
তারা হলের ডাইনিং এটেন্ড্যান্ট মীরা রানী রায়, চম্পা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোছা. সোমা। তিনজনই দেড় বছর আগে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সল্যুশন’-এর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি, গেল আগস্ট মাসে হঠাৎ করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় এবং একই পদে নতুন তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে প্রাধ্যক্ষের বাসায় গৃহকর্মীর মতো কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাদের নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
মীরা রানী রায় বলেন, ‘আমরা হলে পরিশ্রম করে কাজ করেছি। কিন্তু প্রভোস্ট স্যারের বাসায় কেন কাজ করতে যাব? সেই কারণে আমাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আউটসোর্সিং কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত কোম্পানিই নিয়েছে।’
ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সল্যুশনের ডিরেক্টর (অপারেশন) মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই তিন কর্মচারী প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এ কারণেই তাদের সরানো হয়েছে।’
তবে হল কর্মচারীদের প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ করানোর নিয়ম আছে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
এর আগে, এক বিবৃতিতে ফজিলতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কাউকে চাকরিচ্যুত করিনি। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি বা অব্যাহতির ক্ষমতা কেবল কোম্পানির। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি, হলে ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কর্মচারী আছে, কিন্তু সুইপার নেই। তাই কোম্পানিকে নতুন সুইপার নিয়োগ দিতে বলেছিলাম।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তরের তথ্যমতে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজনের কেউই ‘সুইপার’ পদে নয়, বরং আগের চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পদেই নিয়োগ পেয়েছেন, অর্থাৎ চাকরিচ্যুত তিনজনের জায়গা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন তারা। বর্তমানে হলে চারজন কর্মচারী সুইপিংয়ের কাজ করছেন।
ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়ে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
২৫৪ দিন আগে
জবির রেজিস্ট্রার দপ্তরে ব্যাপক রদবদল, জানেন না উপাচার্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রেজিস্ট্রার দপ্তরে ২৪ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে, যা উপাচার্য বা রুটিন দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হয়।
জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিদেশ সফরে ছুটিতে যান। এর কিছুদিন পরেই রেজিস্ট্রার এ আদেশ জারি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, উপাচার্য ছুটিতে যেতেই রেজিস্ট্রার তড়িঘড়ি করে বদলির আদেশ দেন। তার এ ধরনের ক্ষমতা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রঞ্জন কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন কিংবা সংবিধিতে রেজিস্ট্রারের এমন ক্ষমতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এর ১৩(ছ) ধারায় বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রার সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কিংবা একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।
পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত রাবি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ
অভিযোগের বিষয়ে রেজিস্ট্রার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এটি বদলি নয়, অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এর জন্য উপাচার্যের অনুমতি প্রয়োজন হয় না।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, আইন বা সংবিধিতে এর সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।
রুটিন দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। উপাচার্য আদেশ দিয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও আমি কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে এবং আলোচনা চলছে। যৌক্তিক সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ। কেন রেজিস্ট্রার এ কাজ করেছেন, তা আমি জানি না।’
২৬৮ দিন আগে
নবীজীর দিকনির্দেশনায় আরবে নারীর অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশ অন্তবর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আল-কোরআন পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান। নবীজীর দিকনির্দেশনায় সেই সময়েও নারীর অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। জাতিগত বৈষম্য নিরসন, উত্তরাধিকার আইন এবং নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোঁয়া বিদ্যমান ছিল।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সীরাতে রাসুল (সা.) এক কালজয়ী আদর্শ। নবীজীর আদর্শের আলোকে পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল, জাহিলিয়াতের অন্ধকার দূর হয়েছিল। কিন্তু আজকের যুগে বাহ্যিক আচার-আচরণে আমরা যত মনোযোগী, অন্তরের জীবনাচরণে সীরাত ও সুন্নাতের প্রভাব ততটা প্রতিফলিত হচ্ছে না। এ সময় তিনি সবাইকে সীরাত ও সুন্নাতকে জীবনে কার্যকর করার আহ্বান জানান।
ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি এক মহৎ শিক্ষামূলক উদ্যোগ। মহানবী (সা.) বলেছেন, জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য জরুরি। তাই জ্ঞানচর্চার মাধ্যমেই আমাদের জীবন সমৃদ্ধ হবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান এবং জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আব্দুল মুনয়িম খাঁন।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
২৭১ দিন আগে
পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত রাবি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ দাবিতে, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, জনসংযোগ প্রশাসকসহ ১০ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের বারান্দায় এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে দুপুরে উপ-উপাচার্যদ্বয়ের বাসভবনে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাসভবনের ভেতরে ঢুকতে না পেরে ফিরে আসেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খান ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।
একপর্যায়ে, তারা জুবেরী ভবনের দিকে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরাও স্লোগান দিতে দিতে তাদের পেছনে আসেন।
পরে জুবেরী ভবনের বারান্দায় এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও ছাপাখানার এক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করলে হাতাহাতি শুরু হয়।
এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খানকে চারপাশ থেকে আটকে দেন শিক্ষার্থীরা।
পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় চলে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরই মধ্যে সেখানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, একটি মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে প্রশাসনের যে ভঙ্গি নেয়া হয়েছে আমরা তা গভীরভাবে নিন্দা করছি। আমরা কাল থেকে শান্তিপূর্ণ অনশনে রয়েছি, কিন্তু প্রশাসন কোনো গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। আজ আমাদের ওপর যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। আমি সব শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাই— শান্তিপূর্ণভাবে যোগ দিন এবং আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা ময়দান ছাড়বো না।
ডাকসু: নজর কাড়ছে লিগ্যাল নোটিশ, ডলারসহ জেন-জি প্রচারণা
রাবি শাখা ইসলামি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আর মাত্র চার দিন পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু একটি মীমাংসিত ইস্যু— পোষ্য কোটাকে সামনে এনে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষও ঘটে গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করে তার বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পরে আমরা জুবেরী ভবনের লাউঞ্জে বসি। সেখানে শিক্ষার্থীরা আবারও আমাদের বাঁধা দেয়। আমরা ফিরে গিয়ে পুনরায় ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা আবারও বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ঘড়ি ও অর্থ কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাবি প্রক্টর।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভর্তি কমিটির সভায় শর্তসাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় (পোষ্য কোটা) ভর্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এরপরই, উপাচার্য বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
২৭২ দিন আগে
কেবি কলেজের শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়ার আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শিক্ষকরা।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেবি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বি. এম. আব্দুল্লাহ রনি।
আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে চোখে লাল কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
আব্দুল্লাহ রনি ইউএনবিকে বলেন, অতি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য। তার আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে, কলেজে বোমা হামলার হুমকি, শিক্ষকদের শারীরিক ক্ষতির ভয়ভীতি, হাত-পা ভেঙে ঝুলিয়ে রাখার ভয় এবং বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ নানা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন কলেজের অন্য শিক্ষকরা।
২৭৮ দিন আগে
ডাকসুর প্রথম সভায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন লাউঞ্জে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসুর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই নির্বাচনে কেউ হারেনি। আমরা সবাই মিলে কাজ করব। ডাকসুতে কারও ব্যক্তিগত জয় বা পরাজয় নেই—এটি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই প্রজন্মের বিজয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রশ্ন করবেন, আর আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার জবাব দেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের যেকোনো সমস্যা আমাদের জানাতে পারবেন। আমরা তাদের মতামত শুনে মাসিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করব।’
আরও পড়ুন: ডাকসুর মধ্য দিয়ে ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেল বাংলাদেশ: ফারুকী
জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের দাবি ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে বাস্তবায়নে নামব।’
তিনি জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে পাঠানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা গঠনমূলক নীতিমালা প্রণয়ন, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি, এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রথম সভার শুরুতে নির্বাচিত নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপাচার্য। পরে ডাকসুর ভিপি, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদসহ মোট ২৮টির মধ্যে ২৩টি পদে বিজয়ী হন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি পাঁচটির মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র ও একটিতে বামপন্থী প্যানেলের প্রার্থী জয়ী হন। আজকের সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ডাকসু কমিটির কার্যক্রম শুরু হলো।
২৭৮ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: কারচুপির অভিযোগ বাগছাসের, ভিপিপ্রার্থী কাদের-বাকেরের ক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আব্দুল কাদের।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাদের বলেন, ‘এত ষড়যন্ত্রের পরও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সবসময়ই একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।’ তার দাবি, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী আবিদ কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: দুটি ব্যালট দেওয়ায় পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি
কাদের বলেন, ‘আমরা দেখেছি কেন্দ্রের ভেতর ঢুকে প্রার্থীরা হাসাহাসি করছে, ভোট চাইছে। এগুলো কী ধরনের নির্বাচন? আমি রাব্বানী স্যারকে ফোন করে বলেছি— এমন পরিস্থিতিতে আপনারা কোথায়? তিনি বলেছেন— আমি তো আছি, আসছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
বৈষম্যবিরোধী সমর্থিত প্যানেলের এই প্রার্থীর আরও অভিযোগ, এমফিল ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারবার আঁতাত করা হয়েছে। আজ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে কেন এমফিল নিয়ে এত আগ্রহ ছিল। এ প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেই নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে।’
‘আমরা বুঝতে পারছি, কেন ছাত্রদল বয়সসীমা তোলার জন্য চাপ দিয়েছিল? নির্বাচন কমিশন কাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব করেছে? সবকিছু এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। যাদের বড় তালিকায় আনা হয়েছিল, তারাই এখন ভোট নিয়ন্ত্রণ করছে।’
আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই আচরণবিধি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের দিন তার কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বহুবার জানিয়েছি নিয়মশৃঙ্খলা মানা হচ্ছে না, অথচ ইসি শুধু আশ্বাস দিয়েছে। আসলে তারা কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, সেটা এখন শিক্ষার্থীদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।’
এ অবস্থায় তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না ডাকসু আবার এমন এক গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি হোক। আমরা আলোচনা করে পরবর্তী অবস্থান জানাব।’
আরও পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: অনিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ছাত্রদলের জেসানকে সমর্থন
এদিকে, একই প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, ‘একুশে হলে ভোট দেওয়ার পেপার আগে থেকে পূরণ করা ছিল। পরে সেখানে বিষয়টি ধরতে পারলে কার নামে পূরণ করেছিল আগে থেকে পূরণ করা ছিল সেটি জানতে চাইলে তারা বলেনি। ওই হলে একজন পোলিং অফিসার জড়িত ছিল। এমন ঘটনা আমরা ইউল্যাব কেন্দ্রেও শুনেছি।’
বাকের বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়েছিলাম, এখনো চাই। আশা করি, শিক্ষার্থীরা যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে নেবেন। যারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য বিভিন্ন পন্থা তৈরি করছে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের রুখে দেবে।’
বাগছাসের এই নেতা আরও বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ শ’ ভোট কনভার্স (কারচুপি অর্থে) করা হচ্ছে। আমরা এখনো আশা রাখতে চাই, কারা ক্ষমতা চুরি করতে চায় সেটা বের করবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতা চুরি করেছিল, এমন হলে নতুন করে দরকার হলে ঢাবিতে আবার অভ্যুত্থান হবে।’
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘শামসুন্নাহার হলে সাদা দলের লোক ইমব্যালান্স তৈরির আশঙ্কা তৈরি করেছেন। এই যে আশঙ্কার কথা আমরা দীর্ঘদিন বলে আসছি। আজকের সেই আশঙ্কা মাঠে দেখা যাচ্ছে। ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলঙ্কিত হবে। আমরা শুনছি এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’
২৮৩ দিন আগে