শিক্ষা
অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরানোর দাবিতে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকা থেকে রায়সাহেব বাজার পর্যন্ত অবৈধ বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবিতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মূল ফটক অতিক্রম করে রায়সাহেব বাজারে গিয়ে অবস্থান নেয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করে পদযাত্রায় অংশ নেন।
পদযাত্রায় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, বাসস্ট্যান্ড নো মোর’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘থাকবে না থাকবে না, অবৈধ বাসস্ট্যান্ড থাকবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময়ে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক অপু মুন্সী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কি বাসস্ট্যান্ড, নাকি বাসস্ট্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় তা অনেক সময় বোঝা যায় না।বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে এমন পরিবেশ আমরা আর এ চাই না। আমাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন। যদি এই অবৈধ বাস ঢোকে, তাহলে একটিও বাস আর সুস্থভাবে ফিরতে পারবে না।’
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। অথচ এর সামনে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড তৈরি করে চাঁদাবাজি ও মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে। আমাদের এক ছাত্রী বাসচাপায় আহত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমরা বহুবার দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান আসেনি। আজ থেকে আমরা ঘোষণা দিচ্ছি রায়সাহেব বাজার পার হয়ে কোনো বাস ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। যদি বাস ঢোকে, আর বাসের সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে এর দায় আমরা নিবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের অনুমতি কে দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ পুরো বাসস্ট্যান্ড কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা চাই একটি সুন্দর ও নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ। আশা করি আমাদের দাবি ব্যর্থ হবে না।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক, সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একই দিনে উপাচার্যের সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, প্রক্টরিয়াল বডি, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্তগুলো হলো: দুপুর ১২টার পর থেকে কোনো পরিবহন রায়সাহেব বাজার থেকে বাহাদুর শাহ পার্কের দিকে প্রবেশ করবে না; সকল বাস পরীক্ষামূলকভাবে আগামী এক সপ্তাহ গোয়ালঘাট থেকে ফিরে যাবে; ডিএমপি ট্রাফিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নীতিমালা প্রস্তুত করবে; প্রয়োজনে এক সপ্তাহ পর পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরানোর দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
২৮৫ দিন আগে
ডাকসু: নজর কাড়ছে লিগ্যাল নোটিশ, ডলারসহ জেন-জি প্রচারণা
শেষ দিনে জমে উঠেছে ডাকসুর নির্বাচনী প্রচারণা। লিগ্যাল নোটিশ, ডলার, বুকমার্ক, কার্ডসহ সাধারণ লিফলেটের মাধ্যমে শেষ মুহূর্ত্বে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ দিনের প্রচারণায় পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের লিফলেটে। তবে, কেবল ভোট নয় অভিনব ডিজাইনের লিফলেট ও প্রচারপত্রগুলো ব্যক্তিগত সংগ্রহেও রাখছেন অনেক শিক্ষার্থী।
লিগ্যাল নোটিশ
ভোট পেতে ভোটারদের লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছেন ডাকসুতে মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী মু. মেহেদী হাসান মুন্না।
ঢাবির সর্বাপেক্ষা সুন্দরী রমণী এবং সুদর্শন পুরুষদের লক্ষ্য করে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, লিগ্যাল নোটিশ গ্রহীতাকে মানবাধিকারের পক্ষে অনুরুদ্ধ হয়ে এই মর্মে অবহিত করছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানবাধিকার পড়ালেও কাঠামোগত এবং গঠনতান্ত্রিক সংঘাত দ্বারা শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করে। মু. মেহেদী হাসান মুন্না ওরফে মানবাধিকার মুন্না পূর্ব এবং বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও অধিকার আদায়ের লড়াই করতে চায়।
তবে কেবল লিগ্যাল নোটিশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি মুন্না। নারী ভোটারদের নজর কাড়তে নিজের ইশতেহার-সংবলিত প্রজাপতি আকৃতির প্রচারপত্রও দিচ্ছেন তিনি।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
নজর কাড়ছে জেন-জি প্রচারণা
জেন-জি প্রজন্ম স্বভাবতই তাদের নিজস্ব ও পছন্দের বিষয়গুলো দেখে আকৃষ্ট হয়। তাই, এবারের ডাকসু নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ কিছু জেন-জি স্টাইলের প্রচারণা দেখা গেছে।
ডাকসুতে স্বতন্ত্রভাবে সদস্য পদে নির্বাচন করা সামসুদ্দোজা নবাব জনপ্রিয় আমেরিকান টিভি সিরিজ ব্রেকিং ব্যাড-এর পোস্টারের আদলে লিফলেট বানিয়েছেন।
এই প্রার্থীর লিফলেটের একেবারে উপরের দিকে ইংরেজিতে লেখা ‘লেট হিম কুক অন ৯ সেপ্টেম্বর’। এরপর লেখা ‘কেন্দ্রীয় সদস্য পদপ্রার্থী’। আর মাঝে তার ব্যালট নম্বর ১৬২। লিফলেটের একেবারে নিচের দিকে কিউআর কোডের পাশাপাশি রয়েছে ব্রেকিং ব্যাড-এর পোস্টারের আদলে ইংরেজিতে লেখা ‘সামসুদ্দোজা নবাব’।
এদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম রানা এর মধ্যেই কোরিয়ান ভাষা, জাপানিজ স্টাইলে লিফলেট দিয়ে জেন-জিকে আকৃষ্ট করেছেন। পাশাপাশি বিখ্যাত স্টুডিও গিবলি আর ভ্যান গগের কালজয়ী চিত্রকর্ম 'দ্য স্টারি নাইট'-এর অনুপ্রেরণায় বানানো বুকমার্কও বিলি করেছেন তিনি। অন্য আরেকটি সেটে তিনি তুলে ধরেছেন ঢাবির ঐতিহাসিক 'অপরাজেয় বাংলা' ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'কে। দুটি বুকমার্কেই বড় করে লেখা জুলাই অভ্যুত্থানে চানখারপুলে দাঁড়িয়ে তার বলা বহুল আলোচিত বাক্য— 'প্লিজ, দয়া করে কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না'।
টাকা ও ডলারের আদলে প্রচার
স্যার এ এফ রহমান হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নাইমুর রহমান। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ইউএস ডলারের আদলে লিফলেট বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন তিনি। হল সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে তার ব্যালট নাম্বার ১ হওয়ায় এক ডলারের আদলে লিফলেট বানিয়েছেন তিনি।
ডলার আকৃতির এই লিফলেটে দেখা যায়, ডলারের চার কোনায় যেখানে পরিমাণ লেখা থাকে, সেখানে লিফলেটে তিনি ব্যালট নাম্বার ‘এক’ লিখেছেন। আর ওপরের অংশে লেখা ফেডারেল রিজার্ভ নোট। মাঝে লেখা ‘আসন্ন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫’। স্যার এ এফ রহমান হল সংসদে ভিপি পদপ্রার্থী (স্বতন্ত্র)। তার নিচে লেখা ‘নাইমুর রহমান, দর্শন বিভাগ, সেশন ২০১৯–২০’। এর পাশেই দেওয়া আছে কিউআর কোড, যেটি স্ক্যান করলেই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে যাওয়া যাবে। আর লিফলেটের শেষ অংশে লেখা রয়েছে ‘ওয়ান ডলার’। যেটা মূলত তার ব্যালট নাম্বার।
এদিকে, ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সদস্যপদে প্রার্থীতা করা আরাফাত হোসেন বানিয়েছেন টাকার আদলে লিফলেট। এই প্রার্থীর এক হাজার টাকার নোটের আদলে বানানো এই ব্যালটের সামনের অংশে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’–এর জায়গায় লেখা হয়েছে ‘ডাকসু ভোট ব্যাংক’। এরপর লেখা হয়েছে ‘চাহিবামাত্র ইহার প্রার্থীকে একশত সত্তর ব্যালটে ভোট দিয়ে বাধিত করবেন’। আসল নোটে যেখানে গভর্নরের নাম লেখা থাকে, সেখানে ব্যালটে লেখা হয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থী মো. আরাফাত হোসেন’।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
এ ছাড়াও, প্রার্থীরা নানা ধরনের অভিনব কৌশলে বানানো লিফলেটের মাধ্যমেও নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছেন, চেষ্টা করছেন ভোটারদের মন জয় করার।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসুর ২৮টি ও হল সংসদ নির্বাচনের ১৩টি মিলিয়ে মোট ৪১টি ভোট দেবেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
২৮৫ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচনের দিন চক্রাকারে চলবে শাটল সার্ভিস, রুটম্যাপ প্রকাশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে চক্রাকারে শাটল সার্ভিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর শাটল সার্ভিসের রুটম্যাপ প্রকাশ করে।
এতে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন ২০২৫’র ভোটারদের সুবিধার্থে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাটল সার্ভিস চলবে।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: টানা ৩৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ঢাবির সব প্রবেশপথ
শাটল সার্ভিসের রুটম্যাপ
রুটম্যাপ অনুযায়ী, শাটল সার্ভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে, কার্জন হল হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাব, ইউল্যাব স্কুল এন্ড কলেজ, সিনেট ভবন এবং শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে আবার ভূতত্ত্ব বিভাগে চক্রাকারে চলমান থাকবে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
২৮৫ দিন আগে
১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি
সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর অগ্রগতি কতদূর— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘মিড ডে মিলের কাজ এগোচ্ছে। ১৫০টি উপজেলায় শিগগির চালু হয়ে যাচ্ছে।’
চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল চালু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটি এখনো হয়নি— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি তৈরি করলাম। সেটি আগের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) রিপোর্ট অনুযায়ী তৈরি হলো। এরপর প্রক্রিয়া মেনে আমরা এটি একনেকে উপস্থাপন করলাম, তখন বিবিএসের নতুন পরিসংখ্যান বের হলো। তখন আমাদের বলা হলো, আপনারা এই (নতুন পরিসংখ্যান) অনুযায়ী করেন।’
একটা জেলার মধ্যে কোন অঞ্চলগুলো বেশি দরিদ্র, সেটি তো পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে আবার এটিকে ঠিক করে পাস করাতে হলো। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হলো বলে জানান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনই, প্রাথমিকের অন্যান্য ছুটি কমবে: উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ‘আর যে প্রক্রিয়াগুলো... প্রকিউরমেন্টে প্রক্রিয়া, ট্রেনিংয়ের বিষয়গুলো, সেগুলো চালু আছে। আশা করি আমরা পারব।’
কবে নাগাদ পারবেন— এমন প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করতে পারব।’
এই খাবারের মধ্যে ডিম, মৌসুমি ফল, বিস্কুট, দুধসহ পাঁচ ধরনের খাবার থাকবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
২৮৫ দিন আগে
সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনই, প্রাথমিকের অন্যান্য ছুটি কমবে: উপদেষ্টা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন বহাল রেখেই শিক্ষাপঞ্জির অন্যান্য ছুটি কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল কাজই হচ্ছে স্বাক্ষরতা। স্কুল স্তরে যদি স্বাক্ষরতা করতে হয়, কতগুলো প্রতিবন্ধকতা আমাদের পার হতে হচ্ছে। কেন আমরা সহজে এগোতে পারছি না। এই বিষয়গুলো আমি আপনাদের সামনে প্রকাশ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘স্কুলে যদি পড়াশোনা হতে হয় তবে প্রয়োজনীয় একটি শর্ত হচ্ছে কন্ট্রাক্ট আওয়ার, অর্থাৎ একজন শিক্ষক ছাত্রকে কতটুকু সময় দিতে পারছেন। এই কন্ট্রাক্ট আওয়ার প্রথমত নির্ভর করছে কত দিন স্কুল খোলা থাকে। আপনারা ক্যালেন্ডার দেখেন, ৩৬৫ দিনের মধ্যে আমার স্কুল খোলা থাকে মাত্র ১৮০ দিন। খেয়াল করেছেন ব্যাপারটা? পড়াশোনাটা যে হবে, স্কুল কত দিন খোলা পাচ্ছি? এর মানে আমাদের অনেক অপ্রয়োজনীয় ছুটি রয়ে গেছে।’
‘আমরা চেষ্টা করছি ছুটি যদি কিছু কমিয়ে আনা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এটা করছি, কারণ বিচ্ছিন্নভাবে করলে হবে না।’
আরও পড়ুন: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতনস্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত
ছুটি কমানোর ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন থেকে কমিয়ে এক দিন করার চিন্তা আছে কিনা— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপাতত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ক্যালেন্ডারে ছুটি কিছুটা কমানো। আমরা যদি সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনকে এক দিন করতে চাই, সেটা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু একই রকম তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে করা কঠিন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক ধরনের দাবি আছে, শিক্ষকরা হচ্ছেন ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্টে, নন-ভ্যাকেশন হতে চাইলে এটা সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের প্রসঙ্গ আছে। ফলে এ ধরনের একটা চিন্তা আছে, তবে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে আমাদের ক্যালেন্ডারে যে ছুটি আছে সেক্ষেত্রে আমাকে কিছুটা কমিয়ে আনব।’
কোন কোন দিন ছুটি কমাবেন সেটা ঠিক হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা চূড়ান্ত হলে আপনাদের জানিয়ে দেব।’
২৮৫ দিন আগে
জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ‘সাদি-বৈশাখী-সাজ্জাদ-ইকরা’ প্যানেল শিক্ষা, গবেষণা ও নিরাপদ ক্যাম্পাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য ২৪’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ সাদী হাসান।
ছাত্রদলের ঘোষিত ৮ দফা ইশতেহার:
১. আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ, মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস।
৩. পরিকল্পিত আবাসন ও খাবারের মান উন্নয়ন।
৪. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা।
৫. মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
৬. সুসমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা।
৭. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উন্নয়ন।
৮. পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি।
শেখ সাদী হাসান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী ও স্বাধীন চেতনার প্রতীক। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এখান থেকে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আমরা এই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলই একমাত্র সংগঠন যারা ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লড়াই করেছে। আজ আমরা ৮টি মূল অঙ্গীকার ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাচ্ছি।’
জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পরিবহন সংকট নিরসনে নিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা ও ইলেকট্রিক কার বৃদ্ধি করা হবে। বাস রুট পর্যালোচনা, সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন রুট চালু হবে। প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করে মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। এছাড়া বাইসাইকেল-মোটরসাইকেল রাখার ব্যবস্থা, ফুটপাত ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহিত করা হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, গত ২৮ আগস্ট শেখ সাদী হাসানকে (ভিপি), তানজিলা হোসেন বৈশাখীকে (জিএস), মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামকে (এজিএস-পুরুষ), আঞ্জুমান আরা ইকরাকে (এজিএস-নারী) প্রার্থী করে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
২৮৬ দিন আগে
এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে এবার ক্লাসরুমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ক্লাসে প্রচারণা চালিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চান।
তবে ফরহাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরহাদ ক্লাস চলাকালে প্রচারণা চালাননি, বরং ক্লাস শুরুর আগেই উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শুধু সালাম দিয়ে চলে যান।
ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকা ২০২৪-২৫ শিক্ষার্থী জাবেদ রায়হান বলেন, ফরহাদ দরজা খুলে উঁকি দেন। তখন দেখেন স্যার ক্লাসে। যেহেতু আই কন্টাক্ট হয়ে গেছে তিনি কথা না বলে যেতে পারনে না। তাই তিনি স্যারকে সালাম দেন, এবং ইন্টারাপ্ট কারার জন্য সরি বলেন, সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বের হয়ে যান। তিনি কারো কাছে ভোট চাননি।”
ওই সময় উপস্থিত সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের লেকচারার রনি মৃধা বলেন, “আমি তখনও ক্লাস শুরু করিনি। যেইমাত্র আমি প্রবেশ করেছি, সেও প্রায় একই সময়ে প্রবেশ করে।”
তিনি বলেন, ক্লাস ফাঁকা ভেবে সে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। তখন ফরহাদ আমাকে সরি বলে। শিক্ষার্থীদের কাছে দোয়া চেয়ে সে বের হয়ে যায়, সে কারো কাছে ভোট চায় নি।
‘আর সবসময়ের মতো ক্লাস শুরুর আগেই স্লাইড ওপেন করা ছিল। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সে ক্লাস চলাকালে প্রবেশ করেনি,’ বলেন মৃধা।
এ বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউটে ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে লম্বা ব্রেক থাকে। শিক্ষার্থীরা তখন আড্ডা দেয়, গল্প করে। ভেবেছিলাম হয়ত ক্লাস চলছে না। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আমি সেখানে লিফলেট বিতরণ করিনি, কারো কাছে ভোটও চাইনি। এখন একটি ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’ডাকসুর আচরণবিধির ৬(চ) ধারায় বলা হয়েছে— পাঠদান বা পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এমন স্থানে (যেমন শ্রেণিকক্ষ, পাঠকক্ষ, পরীক্ষার হল ইত্যাদি) সভা-সমাবেশ বা নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। শ্রেণিকক্ষ ও করিডোরে মিছিলও নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে ডাকসুর আচরণবিধি সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নই। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াকে প্রচারণা কার্যালয় বানিয়েছে ছাত্রদল, অনুমতি নেয়নি কর্তৃপক্ষের
ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া দখল করে বহিরাগত এনে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থী সমর্থন ও প্রচারণায় বহিরাগতদের ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষকে প্রচারণা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করায় এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দেখা যায়, দুজন বহিরাগত ছাত্রদলের নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে অবস্থান করছেন। সাংবাদিকরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে একজন নিজেকে খুলনা থেকে আসা এবং অপরজন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন।
তারা জানান, ছাত্রদল-সমর্থিত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের কাছে এসেছেন। নাম জানতে চাইলে তড়িঘড়ি করে কক্ষ ত্যাগ করেন তারা।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কেবল প্রার্থী বা ভোটাররা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন; বহিরাগতরা কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি। বহিরাগতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ছাত্রদলের প্যানেলের নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেটের স্তুপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক ফারজানা বাসার বলেন, ‘আমার কাছ থেকে কোনো লিখিত অনুমতি তারা নেয়নি। তবে একজন আমাকে ফোনে বলেছিল তারা সেখানে বসবে। কিন্তু প্রাচারণার সমগ্রী রাখার বিষয়ে আমাকে কিছু বলা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ছাত্রদলের ছেলেদের কল করেছিলাম। তারা ব্যস্ততা দেখান, পরে কল করবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে আর কল করেনি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিশদ কিছু জানি না।”
সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকেই ছাত্রদলের প্যানেলের লোকজন এ কক্ষ ব্যবহার করে আসছেন। তবে কারও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া নির্দিষ্ট একটি ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার করতে দেওয়া হলে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের প্যানেলের একাধিক প্রার্থীকে কল করা হলেও রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনের চীফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলছেন, ‘এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখাশোনার বিষয়। ক্যাফেটেরিয়ার বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে জেনেছি। আমরা আচরণবিধির বাইরে কিছু করতে পারি না।’
২৮৭ দিন আগে
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে চোখে লাল কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে ‘রেড মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সমাবর্তন চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে কয়েকশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে বিকাল হতেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এসে জড়ো হতে থাকেন। এরপর তারা মাথায় লাল কাপড় বেঁধে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন করিডোর থেকে মৌন মিছিলটি শুরু করেন। মিছিলটি নিয়ে করিডোর প্রদক্ষিণ করে তারা সমাবর্তন চত্বরে পৌঁছান এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা মাথার লাল কাপড়টি খুলে চোখে বেঁধে নেন।কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী শিবলী সাদি বলেন, আজকে আমাদের এই কর্মসূচিটি প্রতীকী কর্মসূচি, এটার প্রশাসনের প্রতি আমাদের লাল সিগনাল প্রদর্শন। বহিরাগত আমাদের ওপর যে হামলা করেছে তার বিচার আমরা এখনো পাইনি, আমরা আশা করি প্রশাসনে এই ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বহিরাগতরা কারা হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন হামলা আর না হয় এবং শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি প্রশাসন এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে। আগামীকাল প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আরেকটি মিটিং হবে, আশা করি চলমান সমস্যার আমরা দ্রুত সমাধান পাবো।
২৮৮ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: টানা ৩৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ঢাবির সব প্রবেশপথ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর)। নির্বাচন উপলক্ষে আগের দিন সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে টানা ৩৪ ঘণ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সব প্রবেশপথ সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী সোমবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ (শাহবাগ, পলাশী, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড, উদয়ন স্কুল ও নীলক্ষেত) সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে ঢাবির বৈধ আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা স্ব স্ব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জুলিয়াস সিজারের রিট আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, রোগী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন) ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উক্ত সময়ে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, তারা জরুরি প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে চাইলে প্রক্টর অফিস থেকে নিরাপত্তা পাস সংগ্রহ করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২৮৮ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জুলিয়াস সিজারের রিট আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীতা ও ব্যালট নম্বর পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রিটটি করেছিলেন ভিপি প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়া মো. জুলিয়াস সিজার তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটটি আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি জানান, ‘ডাকসুর নির্বাচনসংক্রান্তে জুলিয়াস সিজারের রিট আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
রিটে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম ও ব্যালট নম্বর পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
জুলিয়াস সিজার তালুকদার ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন ডাকসু নির্বচানের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। চূড়ান্ত তালিকায় ভিপি প্রার্থী হিসেবে জুলিয়াস সিজার তালুকদারের নাম ছিল। তার ব্যালট নম্বর ছিল ২৬।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের হাউস টিউটর ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনে জুলিয়াস সিজার তালুকদারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে শুনানি হয়। কিন্তু নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল তার প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ পাঠায়।
সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা ও ব্যালট নম্বর বাদ দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জুলিয়াস সিজার তালুকদারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২৭ আগস্ট চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন জুলিয়াস সিজার তালুকদার।
২৮৮ দিন আগে