শিক্ষা
এখনও অচল চবি ক্যাম্পাস, এক হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটহাজারী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি দেখানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৯৮ জনের এবং অজ্ঞাতনামা ৮০০ থেকে এক হাজারজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা দপ্তর থেকে দেশীয় অস্ত্র লুটের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।
এ দিকে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশনস) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাউসার মোহাম্মদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় রবিবার রাতে প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্লাস-পরীক্ষা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
পড়ুন: বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিল সভার পরবর্তী ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
সংঘর্ষের প্রভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউটের প্রায় ২৭ হাজার ৫৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হলেও বিভাগীয় সিদ্ধান্ত ও শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হলে পরীক্ষা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
তবে মঙ্গলবারও ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হননি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন না।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলগত কারণে মামলার অগ্রগতি গোপন রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৪৫ দিন আগে
বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিল সভার পরবর্তী ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
গত ৩১ আগস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কর্তৃক মিলনায়তনের সব গেইট বন্ধ করে সভায় উপস্থিত সবাইকে প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে ধ্বংসাত্মক ঘটনা, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাসহ সার্বিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়ার আদেশক্রমে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীনের সই করা এক আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটিতে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে সভাপতি এবং সংস্থাপন শাখা-২ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. মঞ্জুর হোসেনকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, পূর্ত বিভাগ-১ এর অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক।
আদেশে যথা দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন বা সুপারিশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, গত ০৭ আগস্ট বাকৃবির পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের চাকরির ক্ষেত্র বাড়ানো এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তায় কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর পাঠায়।
এতে বলা হয়, উপাচার্য বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে গত ১২ আগস্ট একটি কমিটি গঠন করে দেন। গঠিত কমিটির সুপারিশে গত ৩১ আগস্ট সকাল ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ২৫১জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করা হলে শিক্ষা পরিষদ কমিটির সুপারিশ মোতাবেক ৩টি ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
২৪৫ দিন আগে
নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছা্ত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীর বিরুদ্ধে রিটকারী এক নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের হুমকি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষার্থীকে হেনস্থাসহ সারা দেশে নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসি ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রশিবিরের নেতারা ধারাবাহিকভাবে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে যারা শিবিরের বিপরীতে অবস্থান নেয় বা মত প্রকাশ করে, তাদেরকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য, হুমকি ও হয়রানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে।’
এ সময় বক্তারা বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থী যখন ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করে রিট করেন, তখন তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি একটি ভয়ংকর নজির।
তারা বলেন, এটি শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণের ওপর একটি সরাসরি আঘাত।
এ সময় জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, চব্বিশের আগস্ট না হলে সাদিক, ফরহাদ কি প্রকাশ্যে আসতো? এই বাংলাদেশে কোনো গণহত্যাকারীর ঠাঁই নেই, এই বাংলাদেশে কোনো গণধর্ষকের ঠাঁই নেই।
তিনি বলেন, কিছু কিছু কুলাঙ্গার মব তৈরির চেষ্টা করছে। একাত্তরে যেভাবে নারীদের দেখিয়ে দিতো এরা এখন সেভাবে দেখিয়ে দিতে চায়। প্রতিটা ক্যাম্পাসে কিছু কিছু মানুষ গুপ্ত রাজনীতি করে মব তৈরি করে। শিবির অস্বীকার করছে আলী হোসেন তাদের লোক নয়। বাংলাদেশের মানুষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দেখতে চায় আপনারা কতজন লোক আছেন। ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই ওদের এই গুপ্ত রাজনীতি আপনারা বন্ধ করুন। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ভয়ে একদল লোক মব সৃষ্টি করে। এদেশে গণহত্যা, গণধর্ষণকারীদের ঠাঁই নেই।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা গত ১৭ বছর নিজেদের ব্যানারে রাজনৈতিক মিছিল করেছি। এর ফলে আমাদের শত শত নেতাকর্মী হামলা, মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুম করা হয়। তারা এখনও নিখোঁজ। কিন্তু এতো অত্যাচারের পরও ছাত্রদল অন্য কিছুর আশ্রয় নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, শিবিরের অনেকে ছাত্রলীগের ছায়াতলে, ব্যানারে এমনকি পোস্টেড নেতা ছিলেন। এ ছাড়াও জুলাই-২৪ এরপর অনেক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তাদের অপকর্ম, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছেন। যারা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে দাবি তুলেছিলেন, তারাও এখন শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি। ৭১-এ আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন, এখনও তাদের আদর্শ ধারণ করছেন। আপনারা কখনোই বাংলাদেশ নামক দেশ চাননি।
এ সময় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান খান, রবিউল আউয়াল, রফিকুল ইসলাম, নাহিয়ান বিন অনিক, রাসেল মিয়া, ওহিদুজ্জামান তুহিন, জাহিদুল ইসলাম, রাশেদ খান, রাহাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
২৪৫ দিন আগে
শিগগির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেগুলোতে চলমান সমস্যার সমাধান হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অচলাবস্থা চলছে শিগগিরই সেই সমস্যার সমাধান হবে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অচলাবস্থা চলছে তা দুঃখজনক। এজন্য মন্ত্রণালয় উদ্বিগ্ন। তবে আলোচনা করেই এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। শিগগিরই এসব ঘটনার সমাধান হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
পড়ুন: বাকৃবির আর্থিক লেনদনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারীরা
চলমান সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হবে এবং এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতি কারো কাম্য নয়। তবে সবকিছু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।
২৪৫ দিন আগে
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে 'গণধর্ষণের' হুমকির প্রতিবাদে জাবি ছাত্রদলের 'অবস্থান কর্মসূচি'
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং সারা দেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে (ডেইরি গেইট) এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীরা ঢাবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকির নিন্দা জানান এবং দেশব্যাপী ছাত্রদলের নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেনস্তাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। যার কারণে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, সেসমস্ত শিক্ষার্থীদের উপরে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে আক্রমণ করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নিয়ে কথা হচ্ছে সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে। এর তীব্র ও নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।’
আরও পড়ুন: চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ
জাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, ‘যে নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল আজকে তাদেরকে সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’
এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান, জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী, এজিএস প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম ও আঞ্জুমান আরা ইকরাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
২৪৫ দিন আগে
চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জেএনইউটিএ) ব্যানারে মঙ্গলবার(২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর এই ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
আরও পড়ুন: বাকৃবির আর্থিক লেনদনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারীরা
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, ‘নুরুল হক নূরের উপর হামলার ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করতে হবে। লাল টি-শার্ট পরা পুলিশ সদস্য, যাকে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে, তাকে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে, চবি এবং বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে।’
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুটি যৌক্তিক দাবি রয়েছে- সরকারকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রমণকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
২৪৫ দিন আগে
বাকৃবির আর্থিক লেনদনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারীরা
দিনব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত বেসরকারি পূবালী ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা নতুন প্রশাসনিক ভবন ও কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেন। তার আগে অবশ্য ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হওয়ার সুযোগ দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘টালবাহানার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
আরও পড়ুন: বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বলেছিলাম আমাদের ছয় দফা দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন এবং ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা সবকিছুই বন্ধ। ক্যাম্পাসের ভেতরে চালু প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাদের দাবি আদায়ের কোনো আশ্বাস এখনো পাইনি। প্রশাসন যাতে দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেয় এজন্য আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছি।
২৪৫ দিন আগে
বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ
ছয় দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় সারা দিনব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের জব্বারের মোড় এলাকা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তখন থেকেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
গতকাল সোমবার বেলা ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল ত্যাগের নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানসহ ছয় দফার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত ছয় দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় আজকের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি হলো:
১. হল খালি করার নির্দেশনা প্রত্যাহার
২. আবাসিক হলের সব ধরনের সুবিধা সচল রাখা
৩. প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ
৪. বহিরাগত হামলা ও নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা
৫. হামলায় জড়িত শিক্ষক ও বহিরাগতদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং
৬. একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে অবহেলা করছে।
২৪৫ দিন আগে
‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাকৃবি প্রশাসন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ‘কম্বাইন্ড’ বা সম্মিলিত ডিগ্রির বিষয়টির সমাধানে একাডেমিক কাউন্সিল-পরবর্তী সকল ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীনের সই করা এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়টি সমাধানের জন্য গঠিত কমিটির ছয় দফা সুপারিশ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সভা শেষে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুত থাকলেও পরবর্তীতে স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় তারা প্রায় ৩০০ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে মিলনায়তনে আটকে রাখে। তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী ও গর্ভবতী শিক্ষিকাও ছিলেন। তীব্র গরমে ও অভুক্ত অবস্থায়ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার চেষ্টা চালান এবং তাদের প্রতিনিধিদের বসতে বারবার অনুরোধ করেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে, এমনকি নারী শিক্ষকদের ভোগান্তির কথাও তারা উপেক্ষা করে। আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরও শিক্ষকরা ধৈর্য ধরে বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালান। তবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপও ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুন: বাকৃবি প্রশাসনকে এবার ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে অডিটরিয়ামের দক্ষিণ ও মুক্তমঞ্চ দিকের গেটের তালা কে বা কারা ভেঙে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা শিক্ষকরা বাইরে আসার সুযোগ পান। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে মর্মাহত হয়ে আহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষকদের স্বজন, কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। গেটের তালা ভাঙার ঘটনাটি কারা করেছে তা নিশ্চিত নয়। এটি শিক্ষকদের স্বজন, এলাকাবাসী বা কর্মচারীরা করেছেন কিনা, তা তদন্তে বের হবে। যদি বহিরাগত কেউ জড়িত থাকে তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালানো হয়, যা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়— বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা জেলা প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত থাকবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
রেজিস্ট্রারের সেই করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী বা হামলাকারী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত শেষে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
২৪৫ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: ‘৩৬ জুলাইয়ের’ সঙ্গে মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ইশতেহার ঘোষণা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের সঙ্গে মিল রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। এ ইশতেহারে ৬টি জরুরি বিষয় বাস্তবায়ন এবং ৬টি বিষয় প্রতিহত ও দূর করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ডাকসু ভবনের সামনে ইশতেহার উপস্থাপন করেন প্যানেল থেকে এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান। এ সময় এ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুত ৬টি বিষয় হলো– নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন, ক্যারিয়ার গঠনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সেবা।
প্রতিহত ও দূরীভূত করার প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো হলো–কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন ও সহিংসতা, গণরুম-গেস্টরুম কালচার, বৈষম্যমূলক নীতি ও আচরণ, মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও 'লাঞ্চের পরে আসেন' কালচার, ইসলামোফোবিয়া ও সাইবার বুলিং।
প্যানেলটির ঘোষিত ৩৬টি ইশতেহারের মধ্যে আছে, ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন বাস্তবায়ন করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা, প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা, হল ও অন্যান্য ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়াতে পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যু প্রণয়ন এবং ৩ মাস অন্তর খাবার মান পরীক্ষা করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা, ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া।
পড়ুন:ডাকসু নির্বাচনে বাধা নেই, হাইকোর্টের আদেশ চেম্বার আদালতে স্থগিত
ইশতেহারের আরও রয়েছে, ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধি-নিষেধ শিথিল করা, ছাত্রীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা, কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেবাকেন্দ্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য নিরসন করে 'পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং' গড়ে তোলা, উচ্চ শিক্ষায় বিদেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, ডাকসু ওয়েবসাইট উন্নতকরণ এবং অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকসেস টু রিসোর্সেস নিশ্চিত করা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করতে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে 'মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম' চালু করা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রিসার্চ-বিষয়ক কর্মশালা করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিজ্ঞান লাইব্রেরি, হল লাইব্রেরি ও পাঠকক্ষ এবং ডিপার্টমেন্টের সেমিনার কক্ষে সম্প্রসারণ করা এবং সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর ওয়ার্কশপ আয়োজন করার প্রতিজ্ঞাও এই ইশতেহারে রয়েছে।
এছাড়াও ইশতেহারে, অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় মসজিদ, হল মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয় সমূহের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন করা। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং সেবার পরিসর বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত এ প্যানেল।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও সেবা আধুনিকীকরণ, মেডিকেল সেন্টারে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগ, সারাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা, শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীদের জনা ‘অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করার উদ্যোগ নেবেন বলে এ ইশতেহারে উল্লেখ করেছে ছাত্রশিবির।
৩৬ দফার এ ইশতেহারে আরও রয়েছে, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ল্যাবগুলোতে উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে বহিরাগত যান-নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান হকার ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদ করা, যৌন হয়রানি ও সাইবার-বুলিং প্রতিরোধে 'জিরো টলারেন্স নীতি' বাস্তবায়ন, অভিযোগ সেল শক্তিশালীকরণ ও আইনি সহায়তা প্রদান, ফ্রি 'মেন্সট্রুয়াল হাইজিন প্রোডাক্ট' সহজলভ্য করা, হলভিত্তিক সমস্যা সমাধানে 'গ্রিভেন্স রেসপন্স টিম' এবং 'ভিক্টিম সাপোর্ট সেল' গঠন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত মেইলের প্রবেশ বাড়ানো, জরাজীর্ণ বাসগুলো বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় নতুন বাস ক্রয় করা, মোবাইল অ্যাপে রিয়েলটাইম ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশের সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে ‘লিগ্যাল হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা।
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন, হল পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও ইনডোর গেমসের আওতা বাড়ানো, টিএসসির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থী উপযোগী ক্লাসরুম ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য 'সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ'র আয়োজন করা
হলগুলোতে কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং কর্মচারী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, পরিবেশ ও প্রতিবেশের সংরক্ষণ, শব্দ দূষণ রোধ, সুষ্ঠু ট্র্যাফিক বাবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন গ্রিন ক্যাম্পাস গঠন করা এবং সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় এই অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করা।
২৪৬ দিন আগে