শিক্ষা
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন: ভোটার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রদর্শন বন্ধ থাকছে
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শন বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রদর্শন বন্ধ করা হয়েছে।
আজ ২৪ আগস্ট থেকে প্রদর্শন বন্ধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট হল ও দপ্তরগুলোর জন্যই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা উন্মুক্ত থাকবে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদর্শন সীমিতকরণের দাবিতে রিট
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) ওয়েবসাইটে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদর্শন সীমিতকরণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়। একই সঙ্গে যেসব নারী শিক্ষার্থী তাদের ছবি প্রকাশ করতে চান না, তাদের ছবি প্রাইভেট (ব্যক্তিগত) করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
রিটকারীরা হলেন– সাবিকুন্নাহার তামান্না, মো. জাকারিয়া, ফাতেমা, তাসনিম ঝুমা ও রেদোয়ান মন্ডল রিফাত। তাদের পক্ষে আইনজীবী রয়েছেন ফয়জুল্লাহ ফয়েজ। রিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
২৫৪ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচনে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদর্শন সীমিতকরণের দাবিতে রিট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) ওয়েবসাইটে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদর্শন সীমিতকরণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব নারী শিক্ষার্থী তাদের ছবি প্রকাশ করতে চান না, তাদের ছবি প্রাইভেট (ব্যক্তিগত) করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার(২৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
রিটকারীরা হলেন– সাবিকুন্নাহার তামান্না, মো. জাকারিয়া, ফাতেমা, তাসনিম ঝুমা ও রেদোয়ান মন্ডল রিফাত। তাদের পক্ষে আইনজীবী রয়েছেন ফয়জুল্লাহ ফয়েজ। রিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজ জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটে ভোটারদের সব তথ্যে পাবলিকলি অ্যাকসেস রয়েছে। সবাই ভোটারদের নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন, ছবিসহ যাবতীয় তথ্য দেখতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলতে কিছুই থাকছে না। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য রিট করা হয়েছে। যেসব নারী শিক্ষার্থী তাদের ছবি দেখাতে চান না, তাদের ছবি যেন প্রাইভেট করা হয়-রিটে সেই দাবি জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে এ রিটের শুনানি হতে পারে।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার তালিকায় প্রকাশিত নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি অপসারণ চেয়ে ভিসি বরাবর চিঠি দেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার তালিকায় নারী শিক্ষার্থীদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। ছবি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য, যা শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে মানসিক অস্বস্তি ও বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ নিকাবি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর ও বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপ।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা এই সংবেদনশীল তথ্যগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রশাসনের নজরে আসেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এজন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অতএব, আমাদের বিনীত অনুরোধ–দ্রুততম সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি সম্বলিত ভোটার তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থী পরিষেবার মতো রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য দেখার একটি নিরাপদ ব্যবস্থা চালু করা হোক। এ আবেদন করার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিট দায়ের করা হয় বলে রিটকারীরা জানান।
২৫৪ দিন আগে
জাকসু নির্বাচন: ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ নামে বাগছাস সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ নামে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকাল সোয়া ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্যানেল ঘোষণা করা হয়। সাভারের জুলাই শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়ার মামা হযরত আলী এই প্যানেলটি ঘোষণা করেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত এই প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং জাবি শাখার সদস্য সচিব আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস-ছাত্র) পদে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান এবং (এজিএস-ছাত্রী) পদে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্যানেলে অন্য পদগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফারহানা বিনতে জিগার ফারিনা, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মার্জিউর রহমান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাঈদ হোসেন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা (বৈশাখী), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (ছাত্র) রিং ইয়ং মুরং, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (ছাত্রী ) সাবিকুন্নাহার (পলি), আইটি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক নকিব আল মাহমুদ অর্ণব, সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন সম্পাদক আহসান লাবীব, সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন সম্পাদক (ছাত্র) কাজী মেহবার (তুর্য), সহ সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন (ছাত্রী) সম্পাদক পদে নাদিয়া রহমান অন্বেষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক নাসিম আল তারিক, পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক পদে মো. নাহিদ হাসান (ইমন) মনোনয়ন পেয়েছেন।
পড়ুন: জাকসু নির্বাচন: 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট' নামে ছাত্রশিবিরের প্যানেল ঘোষণা
এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে ৩ জন নারী মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন– পৃষতী খান, তানজিলা তাসনীম সেতু, আফিয়া ইবনাত সামিহা এবং মনোনয়ন পাওয়া ৩ জন পুরুষ হলেন- সাদাত ইবনে ইসলাম, ত্বাসীন আহমেদ, মোহাম্মদ আলী চিশতি। এখানে নাট্য সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদ দুইটি খালি রাখা হয়েছে।
প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সচেতন নেতা, আদিবাসী প্রতিনিধি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সমন্বিত প্যানেল গঠন করতে।’
তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে এমন একটি প্যানেল তৈরি করা, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটসাল দলের খেলোয়াড় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান কিরণের সমর্থনে নির্বাচনে আমাদের প্যানেল থেকে 'ক্রীড়া সম্পাদক' পদে আমরা কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না এবং নাট্য সম্পাদক পদে পরবর্তীতে প্রার্থী মনোনীত করা হবে বলে জানান তিনি।
পড়ুন: জাকসু নির্বাচন: ভিপি-জিএস-এজিএস হিসাবে আলোচনায় যারা
২৫৬ দিন আগে
দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে হত্যার হুমকি, ইউটিএলের উদ্বেগ
সম্প্রতি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আসিফ মাহতাব উৎসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, দেশের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং শিক্ষা, সমাজ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
এ ঘটনায় জড়িত সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শুধু বহিষ্কার নয়, দ্রুততম সময়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় ইউটিএল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক সরোয়ার হোসেন একজন খ্যাতিমান গবেষক, লেখক ও সমাজসেবক। তিনি বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু ও শিশুদের স্থূলতা নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, আসিফ মাহতাব উৎস একজন তরুণ শিক্ষক, গবেষক ও জনপ্রিয় বক্তা। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউজিসি
একটি মহল তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে দাবি করে ইউটিএল নেতারা বলেন, এ ঘটনার পর দেশের ১৬২ জন ব্যক্তি প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা চালিয়েছেন, যা নিন্দনীয়। অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি যাতে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তারা।
যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ করারও দাবি জানানো হয়।
২৫৬ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদে ৯৫ প্রার্থী, ৬০ নারীসহ মোট প্রার্থী ৪৬২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদ সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৮ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবমিলিয়ে এই তিনটি পদপ্রার্থী ৯৫ জন। ডাকসু নির্বাচনে প্রাথমিক বৈধ প্রার্থী ৪৬২ জন, এর মধ্যে ৬০জন নারী প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাকসুর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দীন।
তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনে প্রাথমিক বৈধ প্রার্থী ৪৬২ জন। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় স্থগিত ৪৭ জন। ৩ টি পদে নেই কোনো নারী প্রার্থী। যাদের প্রার্থীতা স্থগিত করা হয়েছে তাদেরকে আগামী ২৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে আপীল করতে হবে। উক্ত সময়ের পরে আপীল করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্র প্রার্থী ৪৩ জন, ছাত্রী ৫ জন; জিএএস পদে ছাত্র ১৮ জন, ছাত্রী ১ জন; এজিএস পদে ছাত্র ২৪ জন, ছাত্রী ৪ জন; মুক্তিযুদ্ধ ও ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক পদে ছাত্র ১৪, ছাত্রী ১; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ছাত্র ১০ জন, ছাত্রী ১ জন; ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ছাত্র ৭ জন, ছাত্রী ২ জন; সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্র ১৩ জন, ছাত্রী নেই; মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে ছাত্র ৮, ছাত্রী ৩ জন; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ছাত্র ১২, ছাত্রী ৩।
ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ছাত্র ৯ জন, এতে কোন ছাত্রী প্রার্থী নেই; ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্র ১২ জন , ছাত্রী ১ জন ; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছাত্র ৭, ছাত্রী ৪; কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ছাত্র ২, ছাত্রী ৯; আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ছাত্র ১৫ জন, ছাত্রী নেই; সাহিত্য সম্পাদক ছাত্র ১৭, ছাত্রী ২; সদস্য পদে ছাত্র ১৯১ জন, ছাত্রী ২৪ জন, মোট ২১৫ জন।
সবমিলিয়ে ডাকসু নির্বাচনে বৈধ প্রাথমিক প্রার্থী হিসেবে ছাত্র মোট ৪০২ জন, ছাত্রী ৬০ জন।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন জানায়, হল সংসদে বৈধ প্রার্থী ১১০৮ জন, স্থগিত ১ জন।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, ভোটার নাম্বার, নাম পরিচয়ে ত্রুটি, রেজিস্ট্রেশন নাম্বারে ভুল, বাবা মায়ের নামে ভুল/অসঙ্গতি, স্বাক্ষর ভুল ইত্যাদি কারণে প্রার্থীতা স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করলে যাচাই বাছাই করে দেখা হবে। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সুযোগ থাকবে আপিল করার জন্য। ২৪ আগস্ট যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
আজ থেকে আপ্যায়ন নিষেধ
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী বা পক্ষ আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কোনো ধরনের সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পারবেন না, কোনো ধরনের উপঢৌকন বিলি-বণ্টন করতে পারবেন না, এমনকি আপ্যায়ন করানো, অর্থ সহযোগিতা করা কিংবা অনুরূপ কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জসীম উদ্দীন।
এ ছাড়া, আজ থেকে ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত কেউ হল কিংবা ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখ থেকে প্রার্থীরা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
উল্লেখিত সময়ের মধ্যে প্রচারণা চালালে এটি ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর আচরণবিধি ভঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
২৫৭ দিন আগে
জাকসু নির্বাচন: 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট' নামে ছাত্রশিবিরের প্যানেল ঘোষণা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট' নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অঙ্গনে কাজ করা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় শেষ দিনের মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্যানেল ঘোষণা করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।
জাবি শাখা ছাত্রশিবির ঘোষিত প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ফার্মেসি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য আরিফুল্লাহ আদিব, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ইংরেজি বিভাগের (৪৮তম ব্যাচ) ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস ও প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) (ছাত্র) পদে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের (৪৯ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য ফেরদৌস আল হাসান এবং এজিএস (ছাত্রী) পদে দর্শন বিভাগের (৪৮ ব্যাচ) ২০১৮-১৯ শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা মনোনীত হয়েছেন।
এছাড়া অন্যান্য পদগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ফার্মেসি বিভাগের আবু উবায়দা উসামা, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক পদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক শাফায়েত মীর, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আলী জাকি শাহরিয়ার, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের মানবাধিকার সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, নাট্য সম্পাদক হিসেবে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের রুহুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য শফিউজ্জামান শাহীন, সহ-ক্রীড়া (ছাত্র) পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মহাদী হাসান, সহ-ক্রীড়া (ছাত্রী )পদে গণিত বিভাগের লুবনা মনোনীত হয়েছেন।
পড়ুন: জাকসু নির্বাচন: দ্বিতীয় দিন শেষে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৩২৮ প্রার্থী
আইটি ও গ্রন্থাগার পদে ফার্মেসি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের রাশেদুল ইমন লিখন, সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের গবেষণা সম্পাদক হাফেজ আরিফুল ইসলাম, সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক (ছাত্র) তৌহিদ ইসলাম, সহ সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন (ছাত্রী) পদে ফার্মেসি বিভাগের নিগার সুলতানা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হুসনী মোবারক, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তানভীর রহমান মনোনীত হয়েছেন।
এছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য তরিকুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুহিবুল্লাহ, আবু তালহা, মহসিন, ফাবলিহা জাহান, নাবিলা বিনতে হারুন, নুসরাত জাহান মনোনীত হয়েছেন।
ঘোষিত প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছে এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তাদের নিয়ে 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট' নামে এই প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।
২৫৭ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র নির্বাচন (ডাকসু) সামনে রেখে পুরো দেশেই যেন একটা নির্বাচনী হওয়া বইছে। প্রতিদিন খবরের কাগজের প্রধান শিরোনাম হচ্ছে এই নির্বাচন। সামাজিকমাধ্যমের সুবাদে ডাকসু প্রার্থীদের খবরাখবর ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশের প্রান্তিক কোনো চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রবাসীদের কাছেও।
কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার বাইরে সামাজিকমাধ্যমে অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। সাইবার জগতে ক্রমাগত হেনস্তা, অপতথ্য ও গুজবের শিকার হচ্ছেন তারা। এতে প্রধান লক্ষ্য আলোচিত নারী প্রার্থীরা। প্রার্থীদের লক্ষ্য করে চলছে ট্যাগিং, বডি শেমিং, বুলিং, গুজব, কটুক্তি, বিদ্বেষমূলক প্রচার, প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ।
এছাড়াও সাইবার হামলার মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সংগঠনের পেইজ, বাটবাহিনীর উপদ্রবও চলছে ভয়াবহভাবে।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
ডাকসু নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ২০১৯ সালের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি এবারের ঘোষিত ৯টি প্যানেলের মধ্যে ৫টিতেই নেতৃত্ব দেবেন নারী। ভিপি পদে লড়ছেন দুজন নারী, জিএস পদে একজন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন আরও দুজন নারী।
এছাড়াও বিভিন্ন প্যানেলের সম্পাদক ও সদস্য পদে রয়েছেন একাধিক নারী প্রার্থী, এরইমধ্যে তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গেছেন। তবে, নারী প্রার্থীদের লক্ষ্য করে বডি শেমিং, বুলিংয়ের অহরহ ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডাকসু নির্বাচনে সবার আগে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন উমামা ফাতেমা। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক এই মুখপাত্রের বিরুদ্ধে এরপর থেকেই গুজব ও অপতথ্যের হিড়িক পড়ে। তিনি কবি সুফিয়া কামাল হলে বাম রাজনীতি বাদে সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান বলে গুজব ছড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উমামা।
তিনি বলেন, প্রভোস্ট স্যারের কাছে জমা দেওয়া বিবৃতিতে আমরা সুফিয়া কামাল হলে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে লিখে দিয়েছি। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ (বাগছাস) ইত্যাদি, মানে যাবতীয় বাম, ডান, ইসলামিক সব দলের রাজনীতি হলে বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়াও, উমামার শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে যেমন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, তেমনই মন্তব্যের ঘরেও কটূক্তি করা হচ্ছে। এদিকে, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে এবার ডাকসু নির্বাচন করবেন ৪ নারী। প্যানেল ঘোষণার পর থেকেই শিবিরের নারী প্রার্থীরা সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভিপি পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম।
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, এবারের ডাকসুতে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, রাজনীতি কিংবা রাজনীতির বাইরে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনো গড়ে উঠেনি। অব্যাহত কটূক্তি, প্রোপাগাণ্ডা, বিদ্বেষমূলক প্রচার, সাইবার বুলিং ও ট্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা।
সাদিক কায়েম বলেন, ফাতিমা তাসনিম জুমা, সাবিকুন্নাহার তামান্না, উম্মে ছালমা থেকে ডান-বাম ঘরানার কেউই রেহাই পাচ্ছেন না এই ব্যাধি থেকে। এই অব্যাহত অপপ্রচারের ফলে অনেক নারী শিক্ষার্থী এখনও রাজনীতিতে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
পড়ুন: এক নজরে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন
‘তাদের সাহসী অবদান ও দুর্নিবার নেতৃত্ব আমাদের বিজয়কে তরান্বিত করেছে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নারীরা কখনোই যথাযথভাবে অংশগ্রহণের উদ্দীপনা পাননি,’ বলেন সাদিক।
এছাড়াও, বিভিন্ন পদে প্রার্থীতার ঘোষণা করা নারীদেরও ক্রমাগত সাইবার অপরাধের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ছড়ানো হচ্ছে হরেক রকম গুজব
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হচ্ছে নানারকম গুজব। প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শসহ ব্যক্তিগত জীবনও রেহাই পাচ্ছে না এসব অপতথ্য থেকে। ডাকসু অন্যতম আলোচিত মুখ ছাত্রদল থেকে ভিপি পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বেশ কয়েকটি গুজব ছড়িয়েছে। একটি পোস্টে বলা হয়, তামিরুল মিল্লাত থেকে পড়া আবিদুল ইসলাম শিবিরের সাথী ছিলেন।
একটি টকশোতে এই গুজবের স্পষ্ট বিরোধিতা করেছেন আবিদ। পৃথক আরেক টকশোতে তিনি বলেন, আমি এমন একটি পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছি, যার পরিবারের কেউ কখনো রাজনীতিবিদ ছিল না। আমি প্রথম বর্ষে গণরুম, গেস্টরুমের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হল থেকে বেরিয়ে যাই। এরপর নিজ প্রচেষ্টায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদান করি।
আবিদ অপপ্রচারে অভিযুক্ত করেছেন শিবিরকে। তিনি বলেন, ভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে শিবির এখন অপপ্রচারে নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কথা দিয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সেই নিয়ন্ত্রণ নেই।
এদিকে, ট্যাগিং থেকে বাদ যাচ্ছেন না শিবিরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম ও জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদকে ছাত্রলীগ বলে ট্যাগিং করা হয়েছে।
মুহুর্মুহু বট অ্যাটাক
সামাজিক মাধ্যমগুলো মেতে উঠেছে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণা পোস্টে। তবে পিছিয়ে নেই বট বাহিনী। এসব বট অ্যাকাউন্টের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না কেউ। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে উল্টাপাল্ট প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের ঘরে বট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নানা ধরণের গুজব ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
পড়ুন: হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ: উমামার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন
বট কি?
বট হলো ‘রোবট’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা নিজে নিজেই ইন্টারনেটে পুনরাবৃত্তিমূলক পোস্ট করা, মন্তব্য করা, শেয়ার ও রিঅ্যাক্ট দেয়। বট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে ট্রল, গুজব বা প্রচারণা ছড়ানো, হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করানো, প্রতিপক্ষকে হেয় করা, মিথ্যা তথ্য ভাইরাল করানোয় কাজে লাগে।
হাজার হাজার ভুয়া বা ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে এসব বটের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়ানো, গণমাধ্যম ও জনমতকে প্রভাবিত করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী সংসদ-১,২-এ বট আক্রমণ চলছে। এ ছাড়া ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও নিউজফিডে বট আক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রার্থীরা।
পড়ুন: কুকি-চিনের উত্থান বনাম বান্দরবানের পর্যটন: ক্ষতির পাহাড়
প্রার্থীদের হেয় করতে বটদের দিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রোপাগাণ্ডার কারণে প্রার্থীরা হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন, এমনকি হুমকি-ধমকি পর্যন্ত পাচ্ছেন। সূত্র অনুযায়ী, এরইমধ্যে সাইবার অ্যাটাক চালিয়ে সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের পেজ হামলা চালিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এরইমধ্যে আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’
২৫৭ দিন আগে
কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ
কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে এবার ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড় এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে রেললাইন অবরোধ তুলে নিলে ঢাকা ময়মনসিংহ রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় তারা।
আরও পড়ুন: ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০
বাকৃবির পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিবলী বলেন, টানা ২৫ দিনের মতো ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আয়োজিত ভোটে আমরা জয় লাভ করার বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। গতদিন আমরা প্রশাসনকে ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা রেলপথ অবরোধ করেছি। তবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি আন্দোলন দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৮ সদস্যের কমিটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সঙ্গে আগামী রবিবার সকাল ৯টায় বৈঠকে বসবেন, পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কম্বাইন্ড ডিগ্রি আন্দোলন দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত ৮ সদস্যের কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং সদস্য সচিব ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।
২৫৭ দিন আগে
জিএস প্রার্থীর অদ্ভুত ইশতেহার: ‘ডাকসুতে আগুন লাগাতে এলাম বন্ধুরা’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জিএস প্রার্থী মো. আশিকুর রহমান তার ইশতেহারে উল্লেখ করেছেন ‘ডাকসুতে দাড়াইছে সবাই, কিন্তু বসে আছে একজনই’।
আশিকুর ইংরেজি বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসুতে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আশিকুর তার ইশতেহারে লিখেছেন, ‘ডাকসুতে আগুন লাগাতে চলে আসলাম বন্ধুরা’।
তিনি তার ইশতেহারে ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর শিথিল করবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আই ডিক্লেয়ার ওয়ার ওন মাই ফ্যাকাল্টিজ (শিক্ষক)। কেন আমাকে ওই ৫ মার্কের জন্য ঘণ্টার পর ঘন্টা বস্তাপঁচা লেকচার শোনা লাগবে? এর থেকে ক্লাস না করে ভালো রেজাল্ট করা যায়। এন্ড দে ইউজ ইট অ্যাজ এ ওয়েপন।’
‘অ্যাটেনডেন্স ৭০-৭৫% হলেই ফুল মার্ক দেওয়া উচিত। আর ৫০% থাকলেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া উচিত। কিউএস র্যাঙ্কিং দিয়ে আদৌ কিছু হয়? আমাদের ঘাড়ের উপর পা দিয়ে জাতে উঠার চেষ্টা করলে হবে না। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সুবিধা আগে।’
তিনি লিখেছেন, এই একটা কারণই যথেষ্ট ডাকসুতে দাঁড়ানোর। আরও পয়েন্ট আছে। যেগুলো সবাই দিয়েছে, অমুক উন্নয়ন, তমুক উন্নয়ন—এগুলো চাইলে কপি করে এখানে যোগ করা যাবে। কিন্তু আমি ওই ‘উদ্দীপকের গুরুত্ব অপরিসীম’ টাইপ লোক নই।
‘বাস্তবতা হলো সদস্য হিসেবে তেমন পরিবর্তন আনার কারোরই সেরকম সুযোগ/মৌরোদ নাই। সর্বোচ্চ প্রেসারাইজ করতে পারবে।’
তিনি ইশতেহারে লিখেছেন, ‘সমস্যাগুলো খুঁজবেন আপনারা। আমি রিপ্রেজেন্টেটিভ। আপনারা আমাকে সমস্যাগুলো বলবেন, সেটা নিয়ে দায়িত্বশীলদের সাথে ফাডাফাডি করার দায়িত্ব আমার। ফাডাফাডি, প্রেসারাইজ, আলোচনা করে দাবি আদায় আমার কাজ, সোফায় বসে আরাম করে তামাশা দেখা আপনার কাজ।’
‘কিন্তু হয় উল্টোটা। সমস্যা বের করে নেতারা আর তার জন্য রাস্তায় কষ্ট করে আন্দোলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।’
তিনি ইশতেহারে বলেন, মেইন ফোকাস হলো ঢাবির যে রিসোর্স আর ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে সেটা কিভাবে তার ফুল পটেনশিয়ালে ইউটিলাইজ করা যায় সেটা নিয়ে।
‘মেয়েদের যাতায়াত, নিরাপত্তা, বিশেষ করে আবাসন সমস্যার জন্য ক্যাম্পাসে হল নির্মাণ অথবা কর্মচারীদের যেকোনো একটি ভবন হোস্টেলে (হল না) রূপান্তরের বিষয়ে কাজ করব।’
এছাড়াও ক্যাম্পাস যেন বহিরাগত জনসমাবেশের পার্কিং স্লট আর মূত্রবিসর্জনের জায়গা না হয়ে যায়, একাডেমিক এরিয়ায় সকল মিটিং-মিছিল শব্দদূষণ বন্ধ আর সর্বোচ্চ রাজুতে করার এখতিয়ার সেটাও প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে করা হবে, উল্লেখ করেছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ঢাবিতে কুরআন তিলাওয়াত হবে, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা হবে, কনসার্ট সব হবে। কেউ কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে না।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
আশিকুর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের পোলাপাইনরা পর্যাপ্ত ফান্ডিং পেলে মেধা আর রিসোর্স পরিপূর্ণভাবে ইউটিলাইজ করতে পারবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চমানের গবেষণা হবে। এমনকি আমার বিশ্বাস তারা স্টেট অব দ্য আর্ট টেকনোলজি তৈরি করতে পারবে, আর সেটার শুরু হবে এই ঢাবি থেকেই ইনশাআল্লাহ।’
তাকে কেন ভোট দেবেন তার যুক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন তার আর্থিক সততা, কোনো নারী কেলেঙ্কারি নেই, ভাই ব্রাদার কোরাম নেই ও স্ট্র্যাটেজিক দক্ষতা ইত্যাদি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনীতি দুইভাবে হয়—থিওরি আর ডাইরেক্ট অ্যাকশন। বন্ধুরা সব দ্বিতীয়টাই বিশ্বাসী (যদিও বেশিরভাগ এটাই কার্যকরী) হলেও আমি সব মেটিকুলাসলি প্ল্যান করে করতে পছন্দ করি। আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। এজন্যই আমি একজন নেতার পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক আমলা হিসাবে কাজ করতে চাই। ডাকসু জিএস-এর কাজও মোটাদাগে এমনই। সো আমি এখানে মূলত ‘দ্য ওয়ারটাইম কনসিলিয়ার (যুদ্ধকালীন পরামর্শদাতা) ফ্রম দ্য গডফাদার’।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আপনি যদি অ্যানিমে ও মুভি লভার হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই ওটাকু (কাল্পনিক চরিত্র) কে ভোট দিবেন।’
আশিকুর ভোট দেওয়ার যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ‘আনরেস্পনসিভ—গভীর রাতে কোনো সমস্যায় পড়লে আমাকে ফোন দিলে অবশ্যই আমাকে পাবেন না। কারণ আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। বাইকও নেই যে একটান দিয়ে চলে যাব।’
‘তো ভোটাররা এই জায়গায় খেয়াল রাখবেন, বিশেষ করে হল সংসদে—যে কোনো সমস্যায় পড়লে কাকে ফোন দিলে পাওয়া যাবে। যদিও প্রক্টোরিয়াল টিমকে ফোন করলেও যথেষ্ট সাড়া পাবেন।’
তিনি এক্সপোজের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘এক্সপোজ—যেহেতু অন্যায়-অনিয়ম একদমই সহ্য করতে পারি না, তো যদি অন্য সদস্যরা একটুও অনিয়ম বা সিকি পয়সার কমিশনবাজি করে, তাদের এক্সপোজ করে দেব। তো যাদের সিলেটের পাথরচুরির সর্বদলীয় ঐক্যর মতো কিছু করার ইচ্ছা আছে, তারা আমাকে ভোট দিবেন না।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, আর সবই আল্লাহর হাতে। ‘আর নিশ্চয়ই আমার জন্য আমার রবই যথেষ্ট।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এটা জেন-জি এর জন্য। আমার পোস্টার, প্রচারণা সব জেন-জি স্টাইলেই হবে।’
২৫৭ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় শেষ হয়েছে আজ। এরই মধ্যে প্যানেল ঘোষণা করেছে বেশ কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে— ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্যানেল।
এবারের ডাকসু নির্বাচনের প্যানেলগুলোতে এসেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। শিবিরের ‘ইনক্লুসিভ প্যানেল’র বিপরীতে ছাত্রদল স্থান দিয়েছে তরুণ ও পরীক্ষিতদের। আসন্ন ডাকসুতে শীর্ষ তিন পদ সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ নারী শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও, প্যানেলগুলোতে নারী প্রার্থীর সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো।
৯টি প্যানেলের জমজমাট লড়াই
এবাবের ডাকসুতে লড়ছে— গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’, বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’, ইসালামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকারের স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’ এবং তিনটি বাম জোটের ‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’ প্যানেলসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র প্যানেল ও প্রার্থীরা।
পড়ুন: এক নজরে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন
নারী নেতৃত্ব
এবারের ডাকসুতে ভিপি পদে লড়ছেন দুইজন নারী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এই স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষিত না হলেও বর্তমানে ডাকসুর অন্যতম আলোচিত প্রার্থী উমামা।
এদিকে আরেক নারী শিক্ষার্থী ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি। তিনি বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন। এদিকে, ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে জিএস পদে একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এ ছাড়াও, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র আশরেফা খাতুন ও স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্যানেলের সম্পাদক ও সদস্য পদে রয়েছেন একাধিক নারী প্রার্থী।
এদিকে গত বছরের ১৫ জুলাইয়ে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী দেয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।
শিবিরের ইনক্লুসিভ ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে ভিপি ও এসএম ফরহাদকে জিএস পদে প্রার্থী করে ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এই প্যানেলে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দিন খান নির্বাচন করবেন।
প্যানেলে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ৪ জন নারী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, আপ বাংলাদেশ এবং ইনকিলাব মঞ্চের শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল ঘোষণা করে সংগঠনটি।
এই প্যানেলে চমক হিসেবে রয়েছে সর্ব মিত্র চাকমার অন্তর্ভুক্তি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও, শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন ৪ নারী শিক্ষার্থী। এই প্যানেলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ফাতেমা তাসনিম জুমা, কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে উম্মে সালমা এবং সদস্য পদে সাবিকুন নাহার তামান্না ও আফসানা আক্তার মনোনয়ন পেয়েছেন। প্যানেল থেকে জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খান জসিম আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে লড়বেন।
তরুণদের নেত্বত্বে ছাত্রদলের প্যানেল
অবশেষে ডাকসু নির্বাচনের পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে থেকে ছাত্রদলের ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটি ঘোষণা করেন দলটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
সংগঠনটি সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবিদুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শেখ তানভীর বারী হামিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, এজিএস পদে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদকে মনোনয়ন দিয়েছে সংগঠনটি।
পড়ুন: জাকসুর তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ১১ সেপ্টেম্বর
ছাত্রদলের প্যানেলে সদস্য প্রার্থী হিসেবে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে রেখেছে সংগঠনটি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীর নাম ইবনু আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। এছাড়া, সংগঠনটির প্যানেলে ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনয়ন পেয়েছেন চিম চিম্যা চাকমা।
প্যানেল ঘোষণার সময়, দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল তুলনামূলক জুনিয়র, নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ছাত্রসমাজের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনীত করেছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’
বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে।
প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করবেন আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. আবু বাকের মজুমদার এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আশরেফা খাতুন প্রার্থী হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটি ঘোষিত হয়।
উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’
ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। গত সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। এখনও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষিত না হলেও এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে উমামা ফাতেমা, জিএস পদে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূইয়া এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বর্তমান সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহী থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’
ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ নামে বাম জোটের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ইতি আফরোজ ইমি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল।
পড়ুন: ঢাবিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন
ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র যুব আন্দোলন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র মঞ্চ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্যানেলে রয়েছেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’
‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ নাম ও ‘ভোট ফর চেঞ্জ’ স্লোগান সামনে রেখে পুর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই প্যানেলে ভিপি পদে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, জিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন এবং এজিএস পদে ঢাবি শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’
ডাকসু নির্বাচনে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামের প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত নির্বাচনে সহ-সভাপতি বা ভিপি পদে, সাধারণ সম্পাদক বা জিএস পদে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান এবং ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন।
মাহিন সরকারের স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা মাহিন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে ‘ডিইউ ফার্স্ট’ প্যানেল ঘোষণা করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ।
এই প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. মাহিন সরকার লড়বেন। এজিএস পদে ফাতেহা শারমিন এ্যানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে এই প্যানেল থেকে জিএস পদে প্রার্থী হওয়ায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারকে নিজের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় এনসিপি।
‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’
এদিকে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন। ছাত্রসংগঠনগুলো হলো— ছাত্র ইউনিয়ন (মাহির–বাহাউদ্দিন), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) ও ছাত্রলীগ–বিসিএল (জাসদ)। প্যানেল ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা।
‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’ নামের এই প্যানেলে মো. নাইম হাসানকে (হৃদয়) সহসভাপতি (ভিপি), এনামুল হাসান অনয়কে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অদিতি ইসলামকে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী করা হয়েছে।
২৮ পদে প্রার্থী ৫০৯ জন
ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। ডাকসুর ২৮ পদে মোট ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আজ (বুধবার) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ডাকসুতে ৬৫৮টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৫০৯টি এবং ১৪৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
পড়ুন: সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করব। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে কাজ করছি।’
হল সংসদের বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ১৮টি হলে মোট ১ হাজার ১০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৪২৭টি মনোনয়নপত্র। জমা হয়নি ৩১৮টি।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর। ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে। একই দিনে ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।
আসন্ন ডাকসুর মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭১ জন ও ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।
২৪’র জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থধারার রাজনৈতিক চর্চার দ্বার উন্মুক্ত হয়। সকল ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনও করেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ছয় বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনে প্রার্থীদের ভূমিকাও নির্বাচনে এক ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হয়। প্যানেলে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা ইতোমধ্যে দেখা গেছে।
২৫৮ দিন আগে