শিক্ষা
এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির ঘটনায় প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন স্বাক্ষরিত নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া চার শিক্ষক হলেন—শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
নোটিশে বলা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ‘মারাত্মক ত্রুটি/অসঙ্গতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটির কারণে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপে পড়েন।
এতে আরও বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র পরিশোধক হিসেবে এ ধরনের ত্রুটি থেকে যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার সামিল। পাশাপাশি এ ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নোটিশে প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতির জন্য কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২০ দিন আগে
১ জানুয়ারি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন
আগামী ১ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিখন’ বইটিকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শেখা আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, প্রচলিত পাঠ্যবইগুলো সাধারণত লেখানির্ভর হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় মনে হয় না। তাই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে আরও বেশি ছবি, সারণি, চিত্র, ডায়াগ্রাম এবং অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান যুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এতে বইটির উদ্দেশ্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দার্শনিক ভিত্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, এ শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও এখনো এটিকে ঘিরে একটি সামাজিক সংকোচ বা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ফলে অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরাও কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় যুক্ত করা যেতে পারে, যেখানে দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং কীভাবে কারিগরি দক্ষতা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। কারণ, কারিগরি শিক্ষার মূল বিষয়ই হলো মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন, বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকার সেরা স্কুল পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষার একটি ল্যাব বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীও যেন অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে। সুতরাং, মোটিভেশনের বিষয়টি আনতে হবে যে, কী কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নতুন চারটি বই প্রণয়নের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে প্রণীত পাঠ্যবইয়ের ভুল ও ইতিহাস বিকৃতির বিষয়গুলোও সংশোধনের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত সরকার, জনগণের সরকার এবং ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে ছিল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক।’
তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছরই সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি টিম গঠন করে মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা এবং বইগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া একটি বড় মহাযজ্ঞ। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। বিশেষ করে এই চারটি বইয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে। এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাস সময় রয়েছে, তাই রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরও করা উচিত।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ; তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস”, কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
তিনি বইটির পাঠ্যক্রম আরও আকর্ষণীয়, প্রাসঙ্গিক এবং প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।’
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপর সারা দেশে বই প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছি যে, এই মাসের মধ্যেই আমরা বইগুলোর ফাইনাল কপি তার কাছে উপস্থাপন করব। তিনি সেগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং আমরা যে কাজ করেছি, তা তার চিন্তাধারা ও প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে তার মতামত দেবেন। এরপর তার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’
২২ দিন আগে
শুধু পাঠ্যবই নয়; নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও রেমিডিয়াল গাইড: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
২২ দিন আগে
প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে) বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।
তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় মোট উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন (৬২ দশমিক ১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০ দশমিক ৩২ শতাংশ)।
মন্ত্রী জানান, বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।
তিনি বলেন, মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এরইমধ্যে ফল আপলোড করা শুরু হয়েছে। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফল আপলোড সম্পন্ন হবে।
২২ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের ‘সফট স্কিল’ বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থান-উপযোগী সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি ‘সফট স্কিল’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষদের জন্য শুরু হচ্ছে ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ে এইচইএটি (হিট) প্রকল্প অফিসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা এবং জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি (স্কিল গ্যাপ) ও প্রয়োজন নির্ধারণে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করা হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে কোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন এবং কী পরিসরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষদের জন্য দুই দিনের ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আগামী মাসে শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। এতে কৌশলগত নেতৃত্ব, সুশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশের সাবেক উপাচার্যদের এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের জন্য সাত দিনের একটি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৫ দিন আগে
দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৯৩৭ পরীক্ষার্থী
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ৯১ হাজার ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭ জন অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ঠাকুরগাঁও জেলায় একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ইমেইলে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন।
এই শিক্ষাবোর্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল দিনাজপুর জেলায়।
অভিন্ন প্রশ্নপত্রে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৬৫টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯জন পরীক্ষার্থী। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি-ওন ক্যামেরা দেখা যায়নি।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৪৩ জন এবং ছাত্র সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪৩৬ জন। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
৩২ দিন আগে
২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু, গঠিত হয়েছে কমিটি: শিক্ষামন্ত্রী
২০২৮ সাল থেকে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে যুগোপযোগী নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কারিকুলাম প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে চার মাস হয়েছে। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ২০২৮ সাল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। তিনি বলেন, অতীতের পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা হবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, কর্মদক্ষতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব থাকবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথমে তাত্ত্বিক, পরে ব্যবহারিক শিক্ষা যুক্ত হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষাও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তা ও স্টুডেন্ট লোন দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে নতুন সাইবার আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ সম্পূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্র পরিবর্তন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করে কেউ যেন পার না পায়, সে লক্ষ্যেই আইনটি কঠোর করা হয়েছে।
পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তনের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে শিক্ষার্থীরা শুধু ট্যাবুলেশন শিট যাচাইয়ের সুযোগ পেত। এখন উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নও নমুনাভিত্তিকভাবে পুনরায় যাচাই করা হবে, যাতে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করা যায়। পরীক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং একজন পরীক্ষকের ওপর অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ বা অবহেলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে পরীক্ষা স্থগিতের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করছে। কেন শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও ডিজিটাল প্রশ্নপত্র হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
এহছানুল হক মিলন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার সূচি যেমন অনেক আগে ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি ভর্তি পরীক্ষাগুলোও সমন্বয় করে সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানানো হবে।
কোচিং নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পাঠদান বা ইন-হাউস কোচিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের বাইরে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোচিংমুখী হয়ে পড়ে, সেগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। কোচিং সেন্টার পরিচালনায়ও সরকারি অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতে এবার জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় বেশি। সরকার ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ আরও বাড়াবে। তবে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদেরও পরীক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই গুজব বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
৩৩ দিন আগে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, এবার দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ও ছাত্রীর ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি।
তিনি আরও জানান, নকলের জন্য পরিচিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য এলাকা ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর নেওয়া হবে।
আবদুল খালেক বলেন, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। এ বোর্ডে কেন্দ্র বেড়েছে ২টি এবং প্রতিষ্ঠানও ২৩টি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬৪৭ জন কমেছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি কমে ৬১০টিতে নেমে এসেছে।
৩৩ দিন আগে
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জিও-এনজিও কোলাবরেশান ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে—কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ দিন আগে