শিক্ষা
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ঘোষণা
দাবি বাস্তবায়নের জন্য ফের আন্দোলনে নেমেছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তারা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ চার মাস ধরে কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কাছে সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক বা সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে কলেজের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শাটডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলোর সমাধানে আমরা আগ্রহী। তবে যুক্তিসংগত ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি কাঠামো বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) মডেলের আদলে স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিতের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মডেলের আদলে একটি কার্যকর, টেকসই ও স্বায়ত্তশাসিত কমিশন গঠন এবং প্রতিটি সরকারি প্রকৌশল কলেজের একাডেমিক স্বাতন্ত্র্য ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সময়োপোযোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তার আগে, ২৪ মে সমন্বিত পরীক্ষাপদ্ধতি বাতিলসহ ৯ দাবিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শাটডাউন করে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সে সময়ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত সিদ্ধান্ত না দিলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
১১১ দিন আগে
শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: খুবি শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর আগস্ট মাসে অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন এক নারী শিক্ষার্থী। কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুইটি তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুইটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনগুলো গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪ তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছর বাংলা বিভাগে পাঠদান, পরীক্ষার কাজসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল (রবিবার) তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রেজিস্ট্রার আরও জানান, ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকলেও এ সময় অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।
১১৩ দিন আগে
ভিপি-জিএসসহ জকসুর বেশিরভাগ পদে শিবিরের জয়জয়কার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের বেশিরভাগ পদেই তারা জয়লাভ করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তাফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বিজয়ী হন।
ভিপি পদে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পান ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। এতে রিয়াজুল ইসলাম ৮৮০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
জিএস পদে আরও বড় ব্যবধানে জয় পান ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পান ২ হাজার ২০৩ ভোট। এ পদে আরিফের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩ হাজার ২৬৭ ভোট।
এজিএস পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের মাসুদ রানা ৫ হাজার ২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএম আতিকুর তানজিল পান ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট।
নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ জানান, জকসু নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই হলে নিবন্ধিত ১ হাজার ২৪২ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ছাত্রী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
১১৭ দিন আগে
জকসুর ১৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ, ভিপি পদে এগিয়ে রাকিব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ১৩টি বিভাগ ও ১ অনুষদের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মোট ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সকাল থেকে ফল ঘোষণা শুরু হয়।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ ভোট। ফলে ভিপি পদে মোট ভোটের হিসাবে রাকিব এগিয়ে রয়েছেন ২৪৭ ভোটে।
এদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোট ভোটে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ছাত্রশিবিরের জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ১ হাজার ৫৮৭ এবং ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৭৯৩ ভোট, এজিএস পদে মাসুদ রানা ১ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন; বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব ভূগোলে ৯১, নৃবিজ্ঞানে ১১৮, লোক প্রশাসনে ১৩২, ফার্মেসিতে ৫৩, ফিন্যান্সে ২৩১, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪৬, জিন প্রকৌশলে ৩৯, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৯৪, চারুকলায় ১০৬, জৈব রসায়নে ৫৭, দর্শনে ১৭৫, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ১৮৭ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ২১৪ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম ভূগোলে ১০০, নৃবিজ্ঞানে ১২৮, লোক প্রশাসনে ১২২, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৩৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৭, জিন প্রকৌশলে ৫১, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৬, চারুকলায় ২১, জৈব রসায়নে ৮৯, দর্শনে ১১১, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ২০০ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৫ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ৭৩, লোক প্রশাসনে ৬২, ফার্মেসিতে ২৬, ফিন্যান্সে ১১৩, অনুজীবে ৩২, জিন প্রকৌশলে ১৮, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৫৩, চারুকলায় ৩৬, জৈব রসায়নে ৩২, দর্শনে ৮০, প্রাণিবিদ্যায় ৬৮, মার্কেটিংয়ে ৮৬ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৯ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্র শিবির সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ভূগোলে ৯০, নৃবিজ্ঞানে ১২৩, লোক প্রশাসনে ১২৩, ফার্মেসিতে ৮৩, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৫, জিন প্রকৌশলে ৪৬, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১১২, চারুকলায় ১৮, জৈব রসায়নে ৯৮, দর্শনে ১৩৫, প্রাণিবিদ্যায় ১৫৪, মার্কেটিংয়ে ২১৪ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৪৩ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ১২৬, লোক, প্রশাসনে ১০৬, ফার্মেসিতে ৪৫, ফিন্যান্সে ১৭৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৮০, চারুকলায় ৮২, জৈব রসায়নে ৪২, দর্শনে ১২৪, প্রাণিবিদ্যায় ১০৮, মার্কেটিংয়ে ১৫৩ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৩৮ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী মাসুদ রানা ভূগোলে ৯৮, নৃবিজ্ঞানে ১০২, লোক প্রশাসনে ১৩০, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮১, জিন প্রকৌশলে ৪২, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৫, চারুকলায় ১২, জৈব রসায়নে ৯০, দর্শনে ১১৯, প্রাণিবিদ্যায় ১৩১, মার্কেটিংয়ে ১৯৫ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১২০ ভোট পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেকক্ষণ স্থগিত ছিল। এরপর ম্যানুয়াল ও মেশিন—উভয় পদ্ধতিতে গণনা শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেননি নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ৫ ঘণ্টা পর পুনরায় ভোট গণনা শুরু হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম ফল ঘোষণা করা হয়। এখনও ২৫টি কেন্দ্রের ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
১১৮ দিন আগে
জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা: ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আটটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধান রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এ তিনটি শীর্ষ পদেই শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদ এগিয়ে রয়েছে।
ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৮১০ ভোট পেয়েছেন। তবে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী একেএম রকিব মাত্র ৬ ভোট কম পেয়ে ৮০৪ ভোট পেয়েছেন।
জিএস পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ ৮২৫ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪২২ ভোট । এজিএস পদে শিবির প্রার্থী মাসুদ রানা ৭৯৯ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন, ছাত্রদলের প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৬৯০ ভোট।
শীর্ষ তিনটি পদ ও বেশিরভাগ সম্পাদক পদে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও ছাত্রদলের কিছু প্রার্থীও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা দীর্ঘ সময় স্থগিত রাখা হয়েছিল । পরে ম্যানুয়াল ও মেশিন উভয় পদ্ধতিতে গণনা পুনরায় শুরু হয়।
পাঁচ ঘণ্টার বিরতির পর গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে গণনা আবার শুরু হয়, তবে আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুধু ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩১টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা এখনও চলছে।
এখন পর্যন্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগ, লোক প্রশাসন, ভূগোল ও পরিবেশ, ফার্মেসি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, ফাইন্যান্স এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
১১৮ দিন আগে
জকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর ছাত্রদলের হামলা চেষ্টার অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের দিকে উঠেছে এই অভিযোগের আঙুল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আমাদের প্রার্থীরা অবহিত করেন, তখন ছাত্রদল আমাদের প্রার্থীদের ওপর মারার জন্য চড়াও হয়ে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাত করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা প্রথম থেকে প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি অন্যান্য বিভাগের মতো দর্শন বিভাগে দিতে থাকে। আমাদের এজেন্ট বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারতে আসে।
১১৯ দিন আগে
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জকসুর ভোটগ্রহণ চলছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
শীতের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে।
এই নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য এবং একটি পৃথক কেন্দ্র হল সংসদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা ও নেতৃত্ব বিকাশে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে শৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন মোট ১২ জন প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। আর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন ৮ জন।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, গপাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে, নারী হল সংসদে ১৩টি পদের মধ্যে ভিপি পদে ৩ জন, জিএস পদে ৩ জন, এজিএস পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ২ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন এবং চারটি সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের ভোট দুটি আলাদা ব্যালটে নেওয়া হবে। আবাসিক হলের ছাত্রীরা দুটি ব্যালটে হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ মোট ৩৪টি ভোট দিতে পারবেন। আর অনাবাসিক ভোটাররা শুধু কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ভোট দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
১১৯ দিন আগে
ফেনীতে এবারও হচ্ছে না বই উৎসব
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও ফেনীতে এবারও বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জেলাজুড়ে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে চাহিদার প্রায় অর্ধেকের বেশি বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও মাদরাসা স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার সরবরাহ এখনও বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদরাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দাখিলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
এছাড়া মাধ্যমিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। তবে, এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব না হলেও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনকভাবে তাদের বই সংগ্রহ করবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে শুরু হয়েছিল নতুন কারিকুলামে পাঠদান। এক বছরের মাথায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবারও গত বছর পূর্বের কারিকুলামে ফিরে যায় শিক্ষাব্যবস্থা।
১২৪ দিন আগে
ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের সেরা দশে বাংলাদেশের ৩ দল
সিঙ্গাপুরে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক রোবটিকস প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড ২০২৫’-এ বাংলাদেশের তিনটি দল সেরা দশে স্থান অর্জন করেছে।
এই তিন দলের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু নাফিস মোহাম্মদ নূরের নেতৃত্বাধীন টিম লেজি গো ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রার নেতৃত্বাধীন সাইবার স্কোয়াড ফিউচার ইনোভেটরস ক্যাটাগরির জুনিয়র গ্রুপে নবম স্থান পেয়ে রৌপ্য পদক জিতেছে। এছাড়া মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী ফাতিন আল হাবিবের নেতৃত্বাধীন সোরাল্যাবস ফিউচার ইনোভেটরস ক্যাটাগরির সিনিয়র গ্রুপে নবম স্থান অর্জন করে রৌপ্য পদক লাভ করেছে।
গত ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মেরিনা বেই স্যান্ড এক্সপোতে রোবটিকস ও প্রযুক্তির এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে নয়টি দল এবারের আসরে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় সেরা দশের বাইরে আরও কয়েকটি দল পদক লাভ করেছে। এর মধ্যে টিম ইনক্রেভো ফিউচার ইনোভেটরস ক্যাটাগরির সিনিয়র গ্রুপে সিলভার পদক, টিম ডমিনাস রোবোমিশন ক্যাটাগরির এলিমেন্টারি গ্রুপে ব্রোঞ্জ পদক, টিম নেক্সোরা রোবোমিশন ক্যাটাগরির জুনিয়র গ্রুপে ব্রোঞ্জ পদক এবং টিম এক্স-ফ্যানাটিক রোবোমিশন ক্যাটাগরির সিনিয়র গ্রুপে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে।
ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টিম ইকো ড্রিফট ২৯তম স্থান অধিকার করেছে। রোবোস্পোর্টস ক্যাটাগরিতে ৫৬টি দলের মধ্যে বাংলাদেশের দল ফিউশনবোটিক্স গ্রুপ পর্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
টিম লেজি গো দলের সদস্যরা হলেন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু নাফিস মোহাম্মদ নূর, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রাকিবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ইকবাল সামিন।
টিম ইকো ড্রিফট দলের সদস্যরা হলেন: ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের নুরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. সালেহ সাদিক এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির মাজেদুল ইসলাম।
সাইবার স্কোয়াড দলের সদস্যরা হলেন: তায়েফ মাহমুদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের আফিয়া হুমায়রা এবং ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের হুমায়রা আফিয়া।
টিম ইনক্রেভো দলের সদস্যরা হলেন: সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের নাফিস ইশতিয়াক, মো. আব্দুল্লাহ আল মিজান এবং মো. সাজ্জাদ আল ফুয়াদ।
সোরাল্যাবস দলের সদস্যরা হলেন: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীপ্ত মন্ডল, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ফাতিন আল হাবিব এবং হলি ক্রস কলেজের ফাতেমা হারুন।
ফিউশনবোটিক্স দলের সদস্যরা হলেন: বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম কলেজের মেহতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মুয়াজ ইবনে বাশার।
টিম এক্স-ফ্যানাটিক দলের সদস্যরা হলেন: মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের মাহির তাজওয়ার চৌধুরী, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের আমিন আনোয়ার আইমান এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মুয়াম্মার দাইয়ান অরিত্র।
টিম নেক্সোরা দলের সদস্যরা হলেন: রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফিফা জাফরীন, ইশরাত জাহান এবং মরিয়ম হোসেন।
টিম ডমিনাস দলের সদস্যরা হলেন: প্লেপেন স্কুলের রুওয়াইজা আমিরা সুলতান এবং লাইটহাউস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইউসুফ আব্দুল্লাহ বিন আলম।
এর আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড ২০২৫-এর বাংলাদেশ জাতীয় পর্ব। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে প্রায় এক মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক দল নির্বাচনী ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পে সাফল্য ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ দল।
১৫৩ দিন আগে
পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল: শিক্ষা উপদেষ্টা
পূর্ববর্তী সময়ে ফলাফল প্রকাশের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, ‘পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া ছিল অগ্রহণযোগ্য। এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।’
উপদেষ্টা আরও বলেছেন, মূল্যায়নে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পড়ার সক্ষমতা ও গণিতে সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে। এগুলোকে আরও বড় পরিসরে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষার মান নিয়ে যে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তা কাটাতে বাস্তবসম্মত ও নির্মোহ মূল্যায়ন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’
তিনি বলেন, ‘অভিভাবক, শিক্ষক—সকলেই শিক্ষার মানের অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বহু উদ্যোগ নেওয়া হলেও গ্রাসরুট (তৃণমূল) পর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও গভীরভাবে বুঝতে হবে।’
শিক্ষার মান উন্নয়নে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক আবরার জানান, বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে কোথায় অবস্থান করছে, তা জানতে সরকার ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন কাঠামোর সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আমরা হয়তো নিচের দিকেই থাকব, তবে তাতে সমস্যা নেই। অন্ততপক্ষে জানব যে আমরা কোথায় আছি, কী ঠিক করতে হবে।
কোচিং, প্রাইভেট টিউশন ও গাইড বই প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোচিং বা গাইড বই বন্ধ হবে না। কেন এগুলোর চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তা আগে বুঝতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কেন এগুলোর ওপর নির্ভরশীল, সেটাই মূল প্রশ্ন।’
স্কুল-কলেজের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক করা এখন আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।’
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার দুটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর হবে। কসরুজ্জামান আহমেদের নেতৃত্বে মাধ্যমিক শিক্ষার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন উদ্যোগ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গবেষকদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ে এসে আমাদের আরও বিস্তারিত অবহিত করবেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পর্যালোচনা করব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদগণ। শিক্ষা পরিবারের সদস্য, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
১৬০ দিন আগে