শিক্ষা
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের শোষণে জড়িত সিন্ডিকেট দমনে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অসাধু সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র দমনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডি-সিএবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে অনেক অসাধু চক্র থাকে বা দালাল চক্র থাকে যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের এডভান্টেজ নেন এবং অত্যন্ত চড়া মূল্য দিয়ে তাদেরকে বিদেশে যেতে হয়। সেই জায়গাটায় অবশ্যই সরকার সচেতন আছে, সরকার কাজ করছে এবং আপনারা যদি তথ্যগুলো দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করেন কারণ আমাদের প্রায়রিটি, কারণ আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটা মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে।
‘মাইগ্রেশন সোল রেসপন্সিবিলিটি হচ্ছে যে আমাদের দেশ বাংলাদেশিদের সকল প্রকার মাইগ্রেশনের প্রবলেমগুলো অ্যাড্রেস করা। আপনারা যদি আমাদেরকে এই তথ্যগুলা দিয়ে সাহায্য করেন, কারণ আমরা যৌথভাবে কোলাবোরেটলি আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই দালাল চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে এবং আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই যারা অসাধুভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে।
‘তো সেই কাজটা কিন্তু আপনারাও সরকারকে তথ্যগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি যে আপনারা যদি সঠিক তথ্য দেন এবং আমরা যদি সে তথ্য যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উন্নত সেবা দিতে এফএসিডি-সিএবি-কে সহযোগিতা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
সমস্যা সমাধান ও দাবি পূরণের লক্ষ্যে বিষয়গুলো যাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা যায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে—সেজন্য এফএসিডি-সিএবি-কে তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, সরকার চায় শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
শিক্ষাকে কূটনীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে শিক্ষাগত ও গবেষণা অংশীদারত্বকে উৎসাহিত করা অব্যাহত রাখবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন, একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৈধ স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বশেষ বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
শিক্ষা পরামর্শক, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই ফ্ল্যাগশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা শুরু হয়।
চলতি বছর এই মেলায় বিশ্বের প্রায় ৩০০টি বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শ সেবা দেওয়ার জন্য ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, টিউশন ফি, ভিসা প্রসেসিং ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন।
৮১ দিন আগে
তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়াররম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় ভাষাগত দক্ষতা অপরিহার্য। ভাষা যেন সহযোগিতার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা চীনা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’
ইউজিসি চেয়াররম্যান বলেন, দেশে চীনা ভাষা শেখানোর জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নেই। এ ক্ষেত্রে চীন সহযোগিতা করলে বাংলাদেশের শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রশিক্ষকদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার হলে দুই দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
৮৫ দিন আগে
বাকৃবির ৪ হলে দুই দফা সংঘর্ষ, তদন্তে ২ কমিটি গঠন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনাগুলোর তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এরপর প্রক্টোরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝামেলার মীমাংসা হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরই রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানোয় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) রাতে আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মাওলানা ভাসানী হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি জব্বার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কী হয়েছে?’ তখন তারা আমাকে উসকানিমূলক কথা বলতে শুরু করে। এরপর তারা আমাকে মারধর করে। তারা এমনভাবে মারছিল যে আমি ভেবেছিলাম, হয়তো বাঁচব না। কোনো রকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে প্রাণে বাঁচি। তারা আমার চশমা ভেঙে ফেলে এবং মানিব্যাগও নিয়ে যায়। এর আগে একটি হোটেলে গিয়ে খাওয়ার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে আমাকে শনাক্ত করতে দেখেছি।’
ঘটনার পরপরই সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে একত্র হন। হলের শিক্ষার্থী মিজু বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আগের দিনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আবার এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন যদি এখনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল থাকবে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘ওরা যা করছে সেটি অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এটার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। গত রাতে যা হয়েছে, এই মারামারিতে উভয় পক্ষেরই দায় আছে।’
অন্যদিকে, একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় শহিদ শামসুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় চায়ের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সে সময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা অন্য হলের গেট ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশরাফুল হক হলের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ব্যাচমেট ও জুনিয়রসহ সাতজন শিক্ষার্থী ফসিল এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে শামসুল হক হলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গ্লাস, কাপ ও বেঞ্চ দিয়ে মারধর করেন। হামলাকারীরা আমাদের গালিগালাজ করে শামসুল হক হলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে।’
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহিদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ফসিল এলাকায় হাতাহাতির পর ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা শামসুল হক হলের গেটে গিয়ে ভাঙচুর চালান।’
এছাড়া শিক্ষার্থীরা এই সংঘর্ষে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাকৃবির মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের পাথর সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নষ্ট করাতেও দেখা গেছে। এ বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করা হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আজ উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া কাগজপত্র, আমাদের পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই অর্ডিন্যান্স অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলো ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি ও আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা শেষ করেছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার তদন্তে সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের মধ্যকার ঘটনায় একটি ও শহিদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের মধ্যকার ঘটনায় আরেকটি কমিটি কাজ করবে। এই দুই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়েও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি, আজকের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আবারও শনিবার রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
৮৬ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সভাপতি শাকিল, সম্পাদক তাসনিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের ২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে মো. শাকিল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুসরাত জাহান তাসনিমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সংগঠনের মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিজা বিনতে সামসের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার পদ স্থগিত থাকবে।
সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মো. শাহ সুফি ওয়াছি মিয়া ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমি পূর্ণ নিষ্ঠা, সততা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। আশা রাখছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বও সংগঠনের সাংগঠনিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তুলবেন। খুব শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করব। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন রইল।’
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি দেশের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটির ইতিবাচক অবদান আরও বিস্তৃত হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।
মডারেটর অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক নুসরাত জাহান তাসনিমকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি কামনা করেন।
৮৭ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদানের তারিখ পরিবর্তন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর শূন্য পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান তারিখ ২৯ অক্টোবর পরিবর্তন করে আগামী ১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে এবং যোগদানের পরদিন তাদের পদায়ন করা হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব জনাব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
যোগদানের পরদিন পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
৮৭ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে অক্টোবরে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আসন্ন ৩০শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
৮৭ দিন আগে
প্রাথমিকে ক্রীড়া শিক্ষায় মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি মার্শাল আর্টও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করছে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষার অংশ হিসেবে মার্শাল আর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে র্যাংগস ভবনে বাংলাদেশ কিয়োকুশিন কারাতে সংস্থা আয়োজিত ‘ব্ল্যাক বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্শাল আর্ট কেবল আত্মরক্ষার কৌশল নয়, এটি একজন মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতা অর্জনে সহায়তা করে। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের ওপর আস্থা অর্জন করে, তখন সে সহিংসতা ও সংঘাত এড়িয়ে চলতে শেখে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও মার্শাল আর্টের প্রসার অপরিহার্য। তাই কারাতে সংগঠনগুলোকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের কারাতে চর্চার স্মৃতিচারণ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৯৯১ সালে কিয়োকুশিন কারাতে প্রশিক্ষণ শুরু করার মধ্য দিয়ে তার এই যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ের অনুশীলন, সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং বিভিন্ন ব্রেকিং ও কারাতে প্রদর্শনীর স্মৃতি আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান প্রজন্মের কারাতেকাদের পরিবেশনা দেখে তার তিন দশকেরও বেশি সময় আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে মার্শাল আর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনকারী কারাতেকাদের মাঝে ব্ল্যাক বেল্ট প্রদান করেন। এ সময় তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
৮৮ দিন আগে
রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরছে খুবি শিক্ষার্থীরা
প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালুর আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিন দফা দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে একই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদমান রহমান বলেন, ‘আমাদের টার্ম পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক। তবে একই সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যেহেতু ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই আমরা ক্লাসে ফিরছি। আশা করি বাকি সিদ্ধান্তগুলোরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। প্রশাসনের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হবে এবং আগামীকাল থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।
৮৮ দিন আগে
সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো শিশু পিছিয়ে থাকবে না এবং সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) অডিটোরিয়ামে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পরিবেশনায় দুই হাতহীন অদম্য মেধাবী তরুণী আয়েশাকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আয়শা আক্তার গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। হাত না থাকায় পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এই তরুণী। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আয়শাসহ তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। হাত না থাকায় আয়শা মুখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
৯০ দিন আগে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধান, কেন্দ্র সচিব এবং জনসাধারণের অবগতির জন্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে। ফলাফল পাওয়ার নিয়মাবলি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সময়মতো শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনার জন্য সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৯৩ দিন আগে