প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না—এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ভরসা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর। তাই একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিরাপত্তা বেষ্টনী যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা, কৌশল বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রশাসন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় বিধিমালা অনুযায়ী এসএসএফ সরকারপ্রধানকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং ট্রাফিক চলাচল আরও সুগম করতে তিনি তার মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) আকার ছোট করেছেন, যার ফলে এসএসএফ-কে জনবল বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি প্রায়শই ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিই। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।’
তিনি বলেন, এসএসএফ-কে সরকারপ্রধানের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি তারা কতটুকু কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে, তার মাধ্যমেই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
তারেক রহমান এসএসএফ-এর জন্য একটি নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জেরও উদ্বোধন করেন এবং একটি প্রদর্শনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুবিধা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে এবং সদস্যদের তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এই হালনাগাদ করা নির্দেশিকাটি কেবল পরিচালনগত দিকনির্দেশনাই প্রদান করে না, বরং বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইনি কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নির্দেশিকায় উল্লিখিত নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং একইসঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।
তিনি পেশাদারিত্ব, সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব সহকারে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি এসএসএফ বাহিনীকে আশ্বাস দেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এর পেশাদার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়।’
তারেক রহমান এই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং অতি সম্প্রতি যখন তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি এসএসএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর, কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আবারও এসএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসএসএফ-এর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
১ দিন আগে
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
সারাবিশ্বের সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনায় মেতেছে বাংলাদেশও। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় এখন ফুটবল নিয়ে মুখর আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
বিশ্বকাপে কে কোন দলের সমর্থক এবং কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি, তা নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। এ তুমুল উন্মাদনার আবহে এবার জানা গেল খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন দলকে সমর্থন করছেন।সরাসরি কোনো দেশের নাম মুখে না আনলেও তার দেওয়া বিশেষ ইঙ্গিত ধরে নেটিজেন ও ফুটবলপ্রেমীদের বুঝতে বাকি নেই তার প্রিয় দল কোনটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, এই বিশ্বকাপের জোয়ারে বাংলাদেশও ভাসছে। আপনি কোন দেশকে সমর্থন করেন?
তারেক রহমান সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন একটি দেশে ছিলাম, বুঝতেই পারছেন’। পরে ওই সাংবাদিকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন তো।’
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ ছাড়েন তারেক রহমান। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। বিদেশে ১৭ বছর কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরিবারসহ দেশে ফেরেন তিনি।
আগামী ১৮ জুন রাত ২টায় ইংল্যান্ডের প্রথম খেলা ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। গত ১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠেছে। সবচেয়ে বড় এই ৩৯ দিনের টুর্নামেন্টে এবার রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মাধ্যমে বিশ্বকাপের পর্দা নামবে।
৩ দিন আগে
রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
আন্তঃনগর বাস টার্মিনালগুলো হচ্ছে—ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি বাস টার্মিনাল।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরীত হবে। এছাড়া গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যততত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্টস্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্যসচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) ডুলহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
‘আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দিই, একটি পরিষ্কার একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।’
নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার, বিশুদ্ধ একটি বাতাসে আমরা রূপান্তর করতে পারব।’
৬ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
৬ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
৬ দিন আগে
সশস্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভেতরে ও বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অতীতের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কমান্ড চেইন বজায় রেখে বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং দেশে-বিদেশে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য মূল বার্তা হলো—পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। এ সময় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাই এই সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য।’
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনী যে ‘বড় ধাক্কা’ খেয়েছিল, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পরিণতি দেশবাসীর ভালো করেই জানা আছে।
তিনি বলেন, কেবল অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পূর্ণ সততার সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা সশস্ত্র বাহিনী, সরকার বা জনপ্রশাসনে কাজ করছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই কাজ করি না কেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সঠিকভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দ্রুত প্রযুক্তির উন্নতির কারণে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গণমাধ্যম প্রচারণা এবং জলবায়ু-জনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক শান্তির জন্য নতুন বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক হতে হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিদেশে দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে বেড়ায়।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, হাইতিতে একটি নতুন মিশনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানেরও প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য, যারা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে একনেকের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অংশ নিয়েছেন।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্যে এই বৈঠকে বিভিন্ন খাতের বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন করা হতে পারে ।
১০ দিন আগে
অঞ্চলভিত্তিক মাটি ও পরিবেশের ধরন অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গাছ নির্বাচন ও রোপণ করা হলে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় তারেক রহমান বলেন, দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাই প্রতিটি এলাকার মাটি ও পরিবেশের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করে রোপণ করতে হবে। এতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়বে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হত, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
তিনি বলেন, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও বৃক্ষসম্পদ কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কৌশল এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কীভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ১৪ জুন কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রাইহান কাওসার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনায় সরকার
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং গ্রামাঞ্চলসহ সারা দেশে রোগী পরিবহন সুবিধা সহজলভ্য করতে দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে স্থানীয় প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স নির্মাণ ও সরবরাহ কার্যক্রম সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
হাসান শিপলু জানান, প্রথমে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সরকারের এই উাদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতাও কমবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সরকার তিন স্তরের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানীতে রোগী পরিবহনের জন্য পৃথক ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাতেও উন্নয়ন ঘটবে।
প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি সেবার বিভিন্ন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব যানবাহনের ডিজাইন করা হবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে