প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান
বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন সে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আকাজাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত সহযোগিতার বিভিন্ন খাত এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান আগ্রহকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি, রেল, প্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ এবং দ্রুতগতির রেল ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সহায়তা ও সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইয়ের পর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া উচিত। এ ধরনের চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে এটিই বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা।
জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেটরো ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জেটরোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা।
অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের বাজারে ১৮ কোটির বেশি মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই তরুণ এবং জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সই হওয়া ইপিএর আওতায় বাংলাদেশের সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে জানান তারেক রহমান। অন্যদিকে ইস্পাত, অটোমোবাইলের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের বিনিয়োগকারীরাই বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি চালু হওয়া সহজ ও উন্নত নিয়মের সুবিধা পাবেন।
জাপানের অটোমোবাইল নির্মাতা, বড় খুচরা বিক্রেতা, কৃষিযন্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক কোম্পানি আড়াইহাজারে জাপানিজ ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
তিনি আরও বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো তিনটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য শুল্ক ছাড়করণ ও করব্যবস্থা। সরকার ইতোমধ্যে এসব উদ্বেগের কিছু সমাধান করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বুঝি, ব্যবসার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা দরকার। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের কাজ।’
এ উদ্যোগে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করাই দেশের লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করলে আপনারা শুধু বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগই পাবেন না, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য উৎপাদনের দক্ষ উপাদানগুলোর সুবিধাও নিতে পারবেন।’
২ ঘণ্টা আগে
রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওতে স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বাংলাদেশে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে সহায়তা করবে।
৪ ঘণ্টা আগে
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
জাপানে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু (নিপ্পন এক্সপ্রেস) লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বড় পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন ও আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য শিগগিরই বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। তার পর থেকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতেও দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছে।
তিনি তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাপান সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তারেক রহমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সম্প্রতি দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ও অবকাঠামো
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তারেক রহমান।
এ পার্কের মাধ্যমে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের সংযোগ স্থাপনের কথা বলেন তিনি।
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণসহ আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এসব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা চান তিনি। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে তার সরকার বিধিবিধান, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চুক্তিটির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়
আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের বহুপক্ষীয়তা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বহুপক্ষীয়তা জোরদার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য টোকিওর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ শীর্ষ বৈঠক বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করা, বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান।
পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনার প্রদান এবং দুই নেতার নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
১ দিন আগে
জাপানে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি জেরার স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও এতে অংশ নেন।
এছাড়া পররা ষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নেও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তাদের সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাইকার অব্যাহত সহায়তাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্বের আওতায় দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্বের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
চলতি বছরের জুলাইয়ে তানাকার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় তার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও গভীর করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপরও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
জাইকা প্রেসিডেন্ট তানাকা বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও বৈঠকে অংশ নেন।
২ দিন আগে
আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসব খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মারুবেনি করপোরেশন ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
এ সময় কাকিনোকি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে আরেকটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
সেই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) উন্নয়নে জেবিসিসিইসি ও মারুবেনি করপোরেশনের সহায়তা চান তিনি।
২ দিন আগে
বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী
জাপানের কাছে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন দেশটির আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ সহযোগিতা চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) প্রতিনিধিদলটি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জেবিপিএফএলের নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান।
২০০৬ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারো আসো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে তারো আসোর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করতেও সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
২ দিন আগে
মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সফরে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও বাগেরহাটে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এরপর নৌপথে বানৌজা মোংলা জেটিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওয়ার্ডরুমে নৌবাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তারেক রহমান বন্দরের জেটি ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি।
কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে হেলিকপ্টারে মোংলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সফরকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের ফলে উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের চাহিদার দিকে সরকার নতুন করে নজর দেবে।
এছাড়া মোংলা বন্দর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উন্নয়নের আশা জাগিয়েছে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
মোংলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত উল্লেখ করে আরেক ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি মোংলার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে পুরো অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, আকরাম পয়েন্টের কাছে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নেবে।
তিনি জেটির সমস্যা সমাধান ও নিয়মিত খননকাজের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, এফএসআরইউ নির্মাণ হলে জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, বন্দরের চ্যানেলে নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত খননকাজ এবং বন্দর কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে শুল্কসেবার আধুনিকায়ন জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়লে উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরাও এর সুফল পাবেন।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সমন্বিত উন্নয়ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে