প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় আহতদের দেখতে নিটোর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সহিংসতায় আহতদের দেখতে শনিবার(২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হয়ে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত নিটোরে যান প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আহতদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামান আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আহতদের অবস্থা দেখে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ভাঙা মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে সহিংসতার সময় এসব স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে যান তিনি। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে সংঘর্ষের সময় আহতদের চিকিৎসার জন্য যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় সামন্ত লাল সেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
আরও পড়ুন: জীবন নিয়ে খেলা বন্ধে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৬৪৭ দিন আগে
জীবন নিয়ে খেলা বন্ধে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িতদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (জুলাই ২৬) বিকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় আহতদের খোঁজখবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থা, আজকে এতগুলো মানুষ আহত-নিহত।’
এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশবাসীকে বলবো যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করে, কোথায় কে আছে খুঁজে বের করতে হবে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, যেন আর কখনো এদেশের মানুষের জীবন নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে।’
‘যেটা আমি কখনো চাইনি। কখনোই চাইনি এভাবে মানুষ আপনজন হারাবে, এভাবে মৃত্যুর মিছিল হবে এটা কখনো চাইনি। আজকে বাংলাদেশে সেটাই করল।’
আরও পড়ুন: সহিংসতায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন: বিটিভি পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী
তিনি জানান, তার সরকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের উন্নত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারা এ থেকে কী অর্জন করেছে? এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন! এতগুলো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে!’
প্রধানমন্ত্রী এসময় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘(আহতদের) চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার করে যাচ্ছে এবং করবে। চিকিৎসা শেষে তাদের অন্তত আয় রুজির ব্যবস্থা যাতে হয় সেটাও আমরা করব।’
চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সবাই আহতদের খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জঙ্গিবাদ ও জুলুম থেকে মুক্তির জন্য এসময় দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জামায়াত-শিবির, বিএনপি, ছাত্রদল- তারাই এই সুযোগ নিয়ে, কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ববোধ নেই, দেশের প্রতি কোনো মায়া-মমতা নেই, কোনো দায়িত্ববোধ নেই। মানুষকে এরা মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না।’
এই বর্বরতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা (শিক্ষার্থীদের সব দাবি) মেনে নিয়েছি। তাহলে আবার আন্দোলন কেন? এটা কি জঙ্গিবাদের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য?’
এসময় আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।
এর আগে, এদিন সকালে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। তার আগে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন তিনি।
৬৪৮ দিন আগে
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী
সম্প্রতি দেশব্যাপী সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে যান তিনি।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন: বিটিভি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী আহতদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ভাঙা মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন। আজ সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন করেন। সহিংসতার সময় এসব স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে তিনি এসব স্থাপনা পরিদর্শনে যান।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা, স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন: বিটিভি পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী
৬৪৮ দিন আগে
সহিংসতায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন: বিটিভি পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী
সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িতদের দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতে সরকারকে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, 'আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, যারা এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করুন।’
শুক্রবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বিটিভি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দেওয়া আগুনে বিটিভি ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা সারাদেশ থেকে জড়ো হয়ে রাজধানীতে এসব হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তারা এসব করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভিকে ক্যামেরাসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করেন তিনি। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তিনি টেলিভিশন সেন্টারটিকে আরও আধুনিকায়ন করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখন বাংলার মানুষ একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের মতো ভয়াবহ দৃশ্য দেখছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও টেলিভিশনে হামলা চালায়নি। কিন্তু এই হামলাকারীরা টেলিভিশনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; ধ্বংসের হাত থেকে কিছুই রেহাই পায়নি।
প্রত্যেক বাঙালির জন্য গর্বের মেট্রোরেলেও তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওরা কারা? এরা কি এ দেশের মানুষ? যারা দেশকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালিয়েছে, তারা কি এ দেশে জন্মেছে?’
এরা পানি শোধনাগার, পয়োনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকেও হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এমন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যা জনগণের সেবায় নিয়োজিত।
এ সময় হামলাকারীদের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সহিংসতার সময় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পরিবহন গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এবারের অগ্নিসন্ত্রাসের চরিত্র ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার তারা গানপাউডার ব্যবহার করেছে, তাই কিছুক্ষণের মধ্যে এসব জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা যখন বাংলাদেশকে একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছি, তখন এটা (ধ্বংসযজ্ঞ) কি এর (সরকারের সাফল্য) পুরস্কার? তারা যে প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে সেগুলোর সুফল কি তারা ভোগ করেনি?
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার চাহিদার তুলনায় কোটা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে তাদের তীব্র ক্ষোভ।
তিনি বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে ৯৮ শতাংশ চাকরি মেধার ভিত্তিতে হবে কারণ (প্রথম প্রজন্মের) মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটার বেশিরভাগই অব্যবহৃত থাকবে। তারপরও তারা (আন্দোলনকারীরা) সন্তুষ্ট নয়।’
তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৪ জুলাই তার সংবাদ সম্মেলনের ছয়-সাত ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই তারা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের রাজাকার বলিনি। তারাই স্লোগানে নিজেদের রাজাকার পরিচয় দেয়।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, লন্ডনে তার দলের নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৭ বাংলাদেশিকে এবং সৌদি আরবে ২০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যেহেতু তারা ওইসব দেশের আইন অনুযায়ী সাজা পেয়েছে, তাই সেখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরও ২০-২২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা এসব ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তাদের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করেছে এবং বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দায়িত্ব এদেশের মানুষের ওপর তুলে দিলাম। বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে দেওয়া উচিত নয় তাদের (বিক্ষোভকারীদের)।’
এসময় রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং বিটিভির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও রাজধানীর রামপুরায় একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিটিভি ভবন ও বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: অপরাধীদের রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: মেট্রোরেলে তাণ্ডব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
৬৪৮ দিন আগে
বিটিভি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে হামলায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) সকালে তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দেওয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিটিভি ভবনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এসময় রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন বিটিভির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও রাজধানীর রামপুরায় একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিটিভি ভবন ও বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: অপরাধীদের রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: মেট্রোরেলে তাণ্ডব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
৬৪৮ দিন আগে
সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের ছেলে শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মাইলস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা শাফিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
আরও পড়ুন: অপরাধীদের রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: মেট্রোরেলে তাণ্ডব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
৬৪৯ দিন আগে
অপরাধীদের রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: মেট্রোরেলে তাণ্ডব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশব্যাপী সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের অপরাধীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয় ও শাস্তি পায় তা নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে মিরপুর-১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, 'দেশের জনগণকে এই অপরাধীদের বিচার করতে হবে, আমি তাদের কাছে বিচার চাইছি।’
মেট্রোরেল নির্মাণের সঙ্গে জড়িতরা এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখে চোখের জল ফেলছেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন তারা এটা করল? এ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমি তা করে দেখিয়েছি, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন পরবর্তী স্তরে উন্নীত হচ্ছে তখন দেশকে পেছনে টেনে নিতে চাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন, এটা আমার প্রশ্ন এবং আমি জানি না এর উত্তর কে দেবে।’
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, জনগণকে সেবা, সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য দিতে যেসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণ করতে সরকারকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে এবং এটি নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল।
যাদের আগে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, মেট্রোরেল সেই গণমানুষের দুর্ভোগ লাঘব করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলে কেন এ ধরনের হামলা হচ্ছে, সেটাই আমার প্রশ্ন।’
মেট্রোরেল ও এর সেবা আন্তর্জাতিক মানের বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘কী ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখলাম এখানে! এ দেশের মানুষ এটা করতে পারে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু এখানে সেটা করা হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্র এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তিনি মানুষের কল্যাণ ও সুখের জন্য সবকিছু করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগ নিশ্চিত করেছি। এসব উন্নয়নের সুফলভোগী কারা? দেশের গণমানুষ। মেট্রোরেলের ওপর এত ক্ষোভ কেন, সেটাই আমার প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বোঝাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে যে বিষয়টি আদালতে রয়েছে এবং তাদের যেন হতাশ না হতে হয় সেজন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিন্তু শীর্ষ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত তারা থেমে থাকেনি, ধৈর্য ধরতে রাজি হয়নি। এখন তারা তাদের দাবি আদায় করে নিচ্ছে, প্রথমে এটা এক দফা ছিল, এখন আট দফা।’
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে যে বিএনপি-জামায়াত জোট এ ধরনের তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কারা? এই মেট্রোরেল ও ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলো মেরামত করতে কতদিন লাগবে জানি না।’
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার সময় ভাঙচুরের শিকার স্টেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এ পরিদর্শনের সময় মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত ১৮ জুলাই মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৬৪৯ দিন আগে
মিরপুর-১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মিরপুর-১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার সময় ভাঙচুরের শিকার স্টেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এ পরিদর্শনের সময় মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত ১৮ জুলাই মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তদন্ত কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাইয়ের প্রতিবেদন জমা দিলেই পুনরায় মেট্রোরেল চালুর সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ২২ জুলাই মেট্রোরেলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে এবং কবে নাগাদ এটি আবার চালু করা যায় তা নির্ধারণে মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়াকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দেশের বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল উদ্বোধনের প্রায় দুই মাস পর ২০২৩ সালের ১ মার্চ জনসাধারণের জন্য মেট্রো স্টেশনটি খুলে দেয় সরকার।
প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।
দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ১৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা ঋণ দেয় আর বাকি অর্থায়ন করে বাংলাদেশ সরকার।
শুরুতে এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অতিরিক্ত ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ, প্রতিটি স্টেশনের জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণ এবং বিভিন্ন নতুন সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের কারণে ব্যয় বেড়ে যায়।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের এমআরটি-৬ লাইনের উত্তরা-আগারগাঁও অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
৬৪৯ দিন আগে
দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করাই ছিল বিএনপি-জামায়াতের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার ধারণা ছিল, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।
বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ডের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি জানতাম, (৭ জানুয়ারি) ইলেকশন করতে দেবে না। তারপরও আমরা ইলেকশন করে ফেলেছি। (তারা বলেছিল) ইলেকশন করার পর ইলেকশন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেটাও গ্রহণযোগ্য আমরা করতে পেরেছি। সরকার গঠন করতে পেরেছি। আমার ধারণা ছিল, এ ধরনের একটা আঘাত আবার আসবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩-১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরেও বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা এবং হাজার হাজার মানুষকে আহত করে।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যে একটা বিরাট চক্রান্ত, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল।... এই যে লোক চলে আসা, এবার আমরা কিন্তু আগে থেকে খবর পেয়েছি- লোক ঢুকবে। গোয়েন্দা দিয়ে সব হোটেল, কোথায় থাকতে পারে, সেগুলো নজরদারিতে আনা হয়েছে। কিন্তু ওরা সেখানে ছিল না; এরা চলে এসেছে ঢাকার ঠিক বাইরের পেরিফেরিতে (সংলগ্ন এলাকায়)।’
আরও পড়ুন: ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে সমুদ্র সম্পদে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
‘সারা বাংলাদেশ থেকে শিবির-জামায়াত এরা কিন্তু এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু ছাত্রদলের ক্যাডাররাও সক্রিয় ছিল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, এতে এরাও (বিএনপি) সক্রিয় ছিল।’
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন, তখনও কিন্তু লাশ পড়েনি। অথচ স্টেট ডিপার্টমেন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের) বক্তব্যে এসে গেল- লাশ পড়েছে। লাশের খবর তাদের কে দিল? তাহলে লাশ ফেলার নির্দেশটা কে দিয়েছে, এটারও খবর নেওয়া দরকার। তারপর কিন্তু লাশ পড়তে শুরু করল।’
তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো ঘটনা দেখতে চাই না, যাতে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়। তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার টার্গেট করেছিল।’
দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতি যারা সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের বোঝার সক্ষমতা নিয়ে এসময় প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের একমাত্র লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করা এবং গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ যে গণতন্ত্র ভোগ করে আসছে তা বন্ধ করা।
সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতিতে কারফিউ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি তো চাইনি আমাদের গণতান্ত্রিক ধারায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটুক, আমাদের কারফিউ দিতে হোক।... একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা আমাদের কাম্য ছিল না। কিন্তু আজ না দিয়ে কোনো উপায় ছিল না; না দিলে আরও যে কত লাশ পড়ত, তার হিসাব নেই।’
তিনি বলেন, ‘যখন তারা (শিক্ষার্থীরা) ঘোষণা দিল যে, চলমান নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নয়, তখনই আমরা সেনাবাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দেশবাসীকে সব ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যারা এভাবে দেশের সর্বনাশটা করল- গণমানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য, তাদের আয় বৃদ্ধি, তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য, তাদের জীবনমান উন্নত করার জন্য যতগুলো স্থাপনা তৈরি করেছি, সবগুলোতেই তারা আঘাত করেছে, সবগুলো তারা ভেঙে দিয়েছে। (এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে) ক্ষতিটা কার? নিশ্চয়ই জনগণের। এখানে তো জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে; এ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে। কারণ এরা তো কোনোদিনই কোনো দেশে ভালো কিছু করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই তাণ্ডবের টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে দাবি তারা করেছিল কোটা সংস্কারের, যতটুকু চেয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছি। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো, তারপরও তারা এ জঙ্গিদের সুযোগ করে দিল কেন? কোটা আন্দোলনকারীদের কিন্তু জাতির কাছে একদিন এ জবাব দিতে হবে। কেন মানুষের এত বড় সর্বনাশ করার সুযোগ করে দিল?’
‘আমরা সবসময় তাদের সহানুভূতি দেখিয়েছি। তাদের সবসময় নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি; কিন্তু যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে কখনো ক্ষমা করা যায় না।’
মত বিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এডিটরস গিল্ডের প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল বাবু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ডিবিসি টেলিভিশনের এডিটর ইন চিফ মঞ্জুরুল ইসলাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা জার্নালের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, নাগরিক টেলিভিশনের হেড অব নিউজ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব দীপ আজাদ, আরটিভির হেড অব নিউজ মামুনুর রহমান খান, দৈনিক আমাদের সময় ও বিজনেস পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক মাইনুল আলম, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাজাহান সর্দার, ডিবিসি টেলিভিশনের নিউজ এডিটর জায়েদুল আহসান পিন্টু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের হেড অব নিউজ আশিষ সৈকত, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ৭১ টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ, কিংস নিউজের হেড অব নিউজ নাজমুল হক সৈকত প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ি উৎপাদন করতে মালয়েশিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৬৫০ দিন আগে
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ি উৎপাদন করতে মালয়েশিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ির সম্পূর্ণ উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের জন্য মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মালয়েশিয়ার বিদায়ী হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম বুধবার (২৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, স্থানীয় পিএইচপি মোটরস এখানে পেরোদুয়া গাড়ি সংযোজন করছে।
পিএইচপি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএইচপি মোটরস মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ব্র্যান্ড পেরোদুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে তাদের গাড়ি এবং এসইউভি সংযোজন এবং স্থানীয় বাজারে বাজারজাত করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময় থেকে দু'দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও চলমান সম্পর্কের ভিন্নতা নিয়েও আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনায় প্রধানমন্ত্রীর সক্ষমতার প্রতি তার আস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে সমুদ্র সম্পদে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলেন, 'আপনারা পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করছেন এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যার বেশিরভাগই দুটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি রবি এবং ইডটকো বাংলাদেশ তাদের মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থী বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
এ জন্য হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাদের স্বাস্থ্য অনুষদের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রদত্ত সেবা এবং কম খরচ বিবেচনায় মালয়েশিয়ার অনেক হাসপাতাল সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ৭০ জনেরও বেশি চিকিৎসক মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশিরা সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৬৫০ দিন আগে