প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক (জেনারেল ডিবেট) পর্বে যোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রতিনিধিদলের প্রধান ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে তারেক রহমান সাধারণ বিতর্ক পর্বে যোগ দেন।
প্রাতঃরাশে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যান্য বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গী এবং গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাধারণ পরিষদ হলে বর্ণানুক্রমিকভাবে আসন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সামনের সারিতে বসে।
প্রধানমন্ত্রী হলে প্রবেশের পর ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর নিজের আসনে বসেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ হলে প্রবেশ করে আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বসেন। তার পেছনে বসেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সফরে ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম বক্তব্য। তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএনজিএর অধিবেশনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
৩৫ দিন আগে
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতঃরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে প্রাতঃরাশে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত এ প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনের কর্মসূচি শুরু হলো।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নর্থ ডায়ালগ লাউঞ্জে এ প্রাতঃরাশের আয়োজন করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রাতঃরাশে অংশ নেন। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছান।
প্রাতঃরাশের পর তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩৬ দিন আগে
নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তাকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্ক সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গী।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
রুমন জানান, জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
৩৬ দিন আগে
নিউইয়র্কের পথে তুরস্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ইউএনবিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্য সফরসঙ্গীদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ (সোমবার) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ইউএনজিএ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
এরপর তাকে মোটর শোভাযাত্রায় করে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।
ইউএনজিএতে তুলনামূলক ছোট ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. মো. সাইমুম পারভেজও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এসব বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
সফরকালে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত অভ্যর্থনাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। পরে জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব
সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া মেটা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ অন্যান্য কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৩৭ দিন আগে
ব্যস্ত কর্মসূচি নিয়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে তুলে ধরা হবে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
৩৭ দিন আগে
গুলশান, বনানীসহ ৫ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি এলাকার লেকগুলোর দূষণ রোধ এবং পরিবেশের উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পয়ঃশোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সেগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।
লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের সব পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন ও বিদ্যমান পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে পয়ঃনিষ্কাশন বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ক্যাচমেন্ট এলাকা বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা গড়ে তোলার সুপারিশও করা হয়।
লেক পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫-এর আওতায় প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা শনাক্ত করতে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে যৌথভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।
লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানোর যন্ত্র বা এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবল নিয়ে গঠিত পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪১ দিন আগে
দেশের সন্তানরা মেধা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি এ কথা বলেন।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের উৎসাহিত ও যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে। এতে দেশের মানুষও উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৪১ দিন আগে
হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
৪৩ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
৪৪ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা আমাদের ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণার ফলাফল, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৌঁছান।
বৈঠকে কর্মকর্তারা কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। সরিষার উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি চালু এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ।
মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণেও কাজ করছে বলেও জানায়।
কৃষি গবেষণায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি ধানের জাতও রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রের মতো কৃষি সরঞ্জাম কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে কাজ করছে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচ সম্প্রসারণ কৃষকদের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
৪৪ দিন আগে