গত ২০২৩-২৫ অর্থবছরে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান।
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব শেখ বশির উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। এ ছাড়াও শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে। এই লাভের পরিমাণ ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে গত অর্থবছরে বিমানের অপারেশনাল মুনাফা অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, আর নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান এবং সর্বশেষ ১০ অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে সর্বমোট ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও ৪৩ হাজার ৯১৮ টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরে বিমান বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটে ৬১ লাখ ৩ হাজার ১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। গত ৫৪ বছরে বিমান সরকার থেকে কোনোপ্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়, যা বাজারে বিমানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও যাত্রীদের আস্থার প্রতিফলন।
দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় সেফটি রেকর্ড বজায় রেখেছে।
বিমানের ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রয়েছে—নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা শক্তিশালীকরণ। বিমানের লক্ষ্য হলো জাতীয় গৌরবকে ধারণ করে বিশ্বমানের সেবা, নির্ভরযোগ্যতা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সে পরিণত হওয়া।