আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় দুপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী এ আমন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে জুলাই মাসের প্রথমার্ধে সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠককালে তারা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার (মিয়ানমারের নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের যেসব নাগরিকের বাংলাদেশি নথিপত্র রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ করে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।