চাঁদপুরে ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ৩৫০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ২৭৫ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চার্জশিট দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।
তিনি জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট দাখিলের ঘটনা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল আলম জানান, গত ১৪ জুন আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলায় বদলি হয়ে কর্মরত আছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার এজাহারে ৩৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি ছিলেন আরও ২৫০ জন। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে অনেকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি। আবার কয়েকজনের নাম এজাহারে একাধিকবার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও এজাহারভুক্ত আসামি থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। তদন্তে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ এবং চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল।
বাদ কেবল ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি, প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিকুর রহমান ও হাজীগঞ্জের সাবেক এমপি মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম ও পরিচয় যাচাই এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে চলবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন মোক্তার আহমেদ পাটওয়ারী নামের এক ব্যক্তি। তিনি হাইমচরের নয়ানী লক্ষ্মীপুরের পাটোয়ারি বাড়ির বাসিন্দা।