ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিদিন ক্লাস শেষে অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে কঠোর অনুশীলন করেন। কেউ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের অনেককেই পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. সালমা আরজু (কবিতা) ও তার পরিবারের উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গত ২৮ মে ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সহায়তায় ১০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা এ উদ্যোগকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবান্ধব মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. সালমা আরজু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। কাছ থেকে তিনি দেখেছেন তাদের নানামুখী সংগ্রাম—পুষ্টিহীনতা, আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং মানসিক চাপ। একজন ক্রীড়াবিদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও উপযুক্ত পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বাস্তবতা থেকেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান অনুদানটিকে ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘ড. সালমা আরজু একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী-বান্ধব মানুষ। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধায় তিনি সবসময় আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন। এই অনুদান তারই প্রতিফলন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই ক্রীড়াপ্রতিভা বিকাশে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ড. সালমা আরজুর উদ্যোগ সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই সহায়তা তহবিলকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ড. সালমা আরজুর ব্যক্তিগত মানবিক গুণাবলিরও প্রশংসা করেন। তার এক সহকর্মী জানান, ২২ বছরের কর্মজীবনে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে ক্রীড়াসামগ্রী, অনুশীলনের পর পুষ্টিকর খাবার এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মত দেন, ড. সালমা আরজু শুধু একজন মানবিক মানুষ নন, তিনি একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকও। তার নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রও আরও এগিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার ও তার পরিবারের এই উদ্যোগ সমাজের অন্যদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে—নিজ নিজ অবস্থান থেকে তরুণ প্রতিভাদের পাশে দাঁড়ানো মানেই দেশের ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ানো।