সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এখানে কারও একক কৃতিত্ব ছিল না। এই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা এর মূল স্পিরিটকে ব্যাহত করছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা গেলেও এর মূল উপড়ে ফেলা যায়নি। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাদের প্রতি সম্মান থাকতে হবে। আজকের তরুণরাই মেরুদণ্ড সোজা করে দেশের পরিবর্তন আনতে পারবে। তরুণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই “সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ” গড়ে তোলা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে অন্যের মতকে গ্রহণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং জাতীয় সংসদকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতকে উপেক্ষা করে একব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, গুম ও হত্যার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই অভ্যুত্থান।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই আমাদের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী দলিল, জুলাই আমাদের ঐক্যের প্রতীক। জুলাইয়ের ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না। এই ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি হলে দেশে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত সব পক্ষকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধারা। জুলাই শহীদরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মতোই জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত হবেন। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে জুলাই শহীদদের রক্তের দাগ কখনও মুছে যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। সভাপতিত্ব করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন সাত দিনব্যাপী ‘আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।