বিধি-বিধানের বাইরে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, মব বা চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়; সবকিছুর সমাধান হবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়েই।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ঘটনা ও সংকটের সমাধান হবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়ে। কেউ মনে করার কারণ নেই যে মব করলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মবের মাধ্যমে সরানো এবং এখন টিভিতে কয়েকজন রিপোর্টারকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও গতকালকে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটা শুনেছি এবং এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, যেটা একটা সরকারি সংস্থা এবং এখানে নিয়োগ এবং নিয়োগ বহাল বা বাতিল—এই সমস্ত কিছুরই কিন্তু একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে এবং অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসসে ঘটে যাওয়া যে দুঃখজনক ঘটনা সেটাও আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে আমরা বিধি-বিধান অনুযায়ী সমাধান বের করবো। আর ব্যক্তিগত যে মিডিয়া হাউজে সমস্যা হয়েছে, সম্ভবত এখন টিভিতে—এটাও কেবল শুনেছি। সংশ্লিষ্ট যারা সংক্ষুব্ধ যে কয়জন এবং এখন টিভির মালিক পক্ষ, আমি উভয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা একটু ভালো করে বুঝে সমঝোতার মধ্যে সমাধান করা যায় কিনা উদ্যোগ নেব।’
বাসসে যা ঘটেছে তা বিধিবদ্ধ নিয়মে হয়নি, বরং মব করে হয়েছে—এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটাই বলছি যে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করছি না। কিন্তু যেকোনো ঘটনাকে নিষ্পত্তি করবো বিধি-বিধানের মধ্য দিয়ে। আমরা বারবারই বলছি, আমরা একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি এবং অবশ্যই আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে কিন্তু দাঁড়িয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন জাতীয় সংসদে যে শপথ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়েও আমরা সংবিধান নির্দেশিত পথের বাইরে যাইনি। অতএব দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান—যেখানেই যাই না কেন, আমরা চেষ্টা করবো সবসময় বিধি-বিধানের মধ্যে যেতে। বিধি-বিধানের বাইরে আমরা কোনো কিছুকেই বাস্তবায়ন করতে দেবো না।’
মত ভিন্নতার কারণে চাকরি চলে যাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান কাকে চাকরি দিবেন, কাকে চাকরি দিবেন না—এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। তবে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি যেকোনো সাংবাদিক যখন সংক্ষুব্ধ হবে, আমি চেষ্টা করবো সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিকের অধিকার সংরক্ষণ করে এগোনো হচ্ছে কি না, সেটা সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’