মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন স্বামী, তৃতীয় স্ত্রী ও তাদের ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর পুরোঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিজের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পন করেছেন।
দগ্ধরা হলেন বাহারুল ইসলাম (৫০), তার তৃতীয় স্ত্রী লাভলী খাতুন (৩০) ও তাদের শিশু সন্তান রোহান। প্রথমে তাদের মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রতিবেশী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাহারুল ইসলাম একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। প্রায় পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুনের সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী চলে গেলে বাহারুল আবার লাভলী খাতুনকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এতে পুরোনো কলহ আরও বাড়তে থাকে।
শুক্রবার গভীর রাতে বাহারুল তার স্ত্রী লাভলী ও সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে, প্রথম স্ত্রী সুমি বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিচ দিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক মাসুম জানান, তিনজনেরই অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মাগুরার হাজরাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনসারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন ঘুমন্ত স্বামী বাহারুলের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর রাতেই ফাঁড়িতে গিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, এ ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে।