অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জীবন্ত দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইতালীয় স্থপতি ও ডিজাইনার ফাবিও নভেমব্রে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইউনূস সেন্টারে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বাংলাদেশে নিজের প্রথম সফরে নভেমব্রে এই সাক্ষাৎকে তার ‘দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূস এবং তার কাজের অনুরাগী। ইতালিতে সম্প্রতি ‘ব্যাংকার টু দ্য পুওর’ বইটির অষ্টাদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটির ব্যাপক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নভেমব্রে বলেন, ‘আপনি আমাদের জন্য এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।’
ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ বছরের কাজের পেছনে অনুপ্রেরণার উৎস সম্পর্কে নভেমব্রের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সাধারণ মানুষই তার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা। তরুণ প্রজন্মের গুরুত্ব এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেন, এটি এমন এক প্রতিষ্ঠান যা চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা তৈরি করবে। আমাদের এমন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে যা বেকার চাকরিপ্রার্থী তৈরি করবে না। বর্তমানে মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, ডিগ্রি নেয় এবং তারপর চাকরির সন্ধান করে। আমি মনে করি এটি ভুল পদ্ধতি।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশ পালনের চাপে মানুষ প্রায়ই তাদের কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলে। অথচ মানুষের জীবন শুরু হয় কল্পনা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত মানুষকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করা এবং তাদের আইডিয়াগুলো বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করা।
এ সময় অধ্যাপক ইউনূস ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সেখানে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে কাজ করাসহ বিভিন্ন ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। আলোচনায় ইতালির পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার নেটওয়ার্কসহ বিশ্বজুড়ে ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস উদ্যোগের প্রসারের বিষয়টিও উঠে আসে।
সাক্ষাৎ শেষে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে নভেমব্রে অধ্যাপক ইউনূসকে ইতালো কালভানোর লেখা ‘ইনভিজিবল সিটিজ’ বইটি উপহার দেন।
বৈঠকে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের বাণিজ্য প্রতিনিধি দোনাতেল্লা দি ভার্জিলিও উপস্থিত ছিলেন।