‘দেশব্যাপী সীমিত এজেন্ট নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও’ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘উপায়’কে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে, উপায়ের অপর্যাপ্ত এজেন্টের কারণে সুবিধাভোগীরা ভাতা উত্তোলনে অসুবিধায় পড়বেন- এই আশঙ্কায় এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ উদ্বেগের কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা দিয়ে থাকে। ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে এই ভাতা বিতরণ করা হচ্ছে।
ভাতা বিতরণের জন্য এই দুটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন উপায়কে কোনো অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া হলে ভাতাভোগীদের অর্থ উত্তোলনে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হতে পারে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিকাশ ও নগদ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে। সম্প্রতি উপায়কে এই দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর গত বছর উপায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিশ্লেষণ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, এমএফএস প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন হওয়ায় দেশব্যাপী উপায়ের পর্যাপ্ত এজেন্ট নেই। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে ভাতা উত্তোলনে সমস্যায় পড়বেন ভাতাভোগীরা।
উপায়ের ক্যাশ-আউট চার্জ কিছুটা কম হলেও ভাতাভোগীদের টাকা উত্তোলনকালে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। কারণ ক্যাশ-আউট চার্জ সরকার এবং এমএফএস সরবরাহকারীদের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়। ফলে ভাতাভোগীদের কোনো ক্যাশ-আউট চার্জ দিতে হয় না।
এসব বিষয় বিবেচনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছেন, “‘বিকাশ’ ও ‘নগদ’-এর চেয়ে ‘উপায়’-এর সাধারণ ক্যাশ-আউট চার্জ কিছুটা কম হলেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। এছাড়া, সারা দেশে উপায়ের এজেন্ট পয়েন্টের সংখ্যাও অপর্যাপ্ত।”