কলোম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির কংগ্রেসের এক সদস্যসহ ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
নর্তে দে সান্তানদের প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, প্রদেশের কুরাসিকা এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর যাত্রীদের অবস্থার মূল্যায়ন করতে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
পরে কলোম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে বিমানটি শনাক্ত করার পর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।’
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি, তবে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাতেনার বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি বুধবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ঘেরা পৌর এলাকা ওকানিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আকাশযান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়।
সাতেনা জানায়, বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ও ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন কাতাতুম্বো এলাকার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য দিয়োগেনেস কুইন্তেরো (৩৬)। নিহতদের তালিকায় কংগ্রেসে প্রার্থী সামাজিক নেতা কার্লোস সালসেদোও রয়েছেন।
কুইন্তেরো ছিলেন কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। যেখানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি সেখানকারই বাসিন্দা এবং একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ১৬ জন সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন, যারা কলোম্বিয়ার কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনগুলো ২০১৬ সালে কলোম্বিয়া সরকার ও দেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়।
কুইন্তেরোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার দল ইউ পার্টি জানিয়েছে, তিনি ছিলেন নিজ অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেবার প্রতি দৃঢ় দায়িত্ববোধসম্পন্ন এক নেতা।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই মৃত্যুগুলো আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তাদের আত্মা শান্তি পাক।’