পূর্ব-মধ্য সুদানে একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ মে) স্থানীয় অধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরেএসএফ) একটি ড্রোন খার্তুম রাজ্যের ওমদুরমান শহরের আল-জামুইয়া ট্রায়াঙ্গেল সড়কে গাড়িটিতে হামলা চালায়।
স্থানীয় অধিকার সংস্থা ‘সুদানিজ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলায় গাড়িতে থাকা পাঁচজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাধারণ লোকজনকে লক্ষ্য করে এসব নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সিনহুয়াকে জানান, ড্রোনটি উড়ে এসে গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে যা সরাসরি গাড়িটিতে আঘাত হানে এবং সেটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
এ ঘটনায় সুদানের সরকার বা আরএসএফ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খার্তুম রাজ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সুদানজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। তাদের অধিকাংশই খার্তুম রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী গেজিরা রাজ্যে অবস্থান করছেন।
তবে সামরিক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার সুদানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি সাধারণ জনগণের ওপর এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ গত মার্চ মাসে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যভাগ পর্যন্ত সুদানে ড্রোন হামলায় ৫০০-র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনার আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলা সংঘাতে আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ সুদান ও দেশটির বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।