আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই। নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমাদের বিপদে ফেলে চলে গেছে। থাকলে অত্যন্ত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্রদের তাড়া খেয়ে শেখ হাসিনা পালাইছে। তার নেতা-কর্মীরা এখন বিপদে। যারা পালায় তাদের আমরা চাই না। অনেক ছাত্রের রক্তের বিনিময়ে আমরা ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছি। ১৫ বছর মত প্রকাশের সুযোগ পাইনি, এবার পেয়েছি। যারা ভোট দিতে চেয়েছে, তাদের মামলা দিয়ে জেলে দিত আওয়ামী লীগ।’
তিনি বলেন, আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব। পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না।
দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে— তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।
এ সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সব সময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের কৃষি এখনও সঠিকভাবে হয়নি। আমাদের জেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি অসহায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন করতে চাই। শুধু বিএ পাস করলেই হবে না। টেকনিক্যাল ট্রেনিং নাও, বিদেশে ভুরিভুরি চাকরি অপেক্ষা করছে।’
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।