চলতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবা, ইমিগ্রেশন এবং প্রাক-যাত্রা সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হজ ক্যাম্পের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলায় হজ ক্যাম্প থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি ডেডিকেটেড ট্রাফিক রুট প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, হজযাত্রী, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাওলা রেলগেট ও সিভিল এভিয়েশন কমিউনিটি সেন্টারের নবনির্মিত রাস্তা দিয়ে হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করবেন এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে বের হবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, একমুখী যানচলাচল ব্যবস্থার কারণে হজযাত্রীবাহী বাসগুলো নির্ধারিত কার্গো টার্মিনাল রোড দিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে হজ ক্যাম্পের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ একটি সুসজ্জিত মেডিকেল সেন্টার চালু থাকবে। সেখানে মোট ১৯ জন চিকিৎসক, ১২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৪ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জরুরি অসুস্থ রোগীদের স্থানান্তরের জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।
ইমিগ্রেশন সুবিধার বিষয়ে কায়কোবাদ জানান, হজযাত্রীদের বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া সৌদি সরকারের সহায়তায় ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে, যার ফলে সৌদি আরবে পৌঁছে হজযাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
প্রাক-যাত্রা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশনের আগেই লাগেজ ট্যাগিং সম্পন্ন করা হয় যা হজযাত্রীদের ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করে। বাংলাদেশ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যারা ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছে।
তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হজ ক্যাম্পে একটি ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ভ্রমণ ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হবে। এছাড়া মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে একাধিক মনিটরিং টিম নিয়মিত হজ ক্যাম্প ও বিমানবন্দরের সেবা পরিদর্শন করবেন।
তিনি আরও জানান, হজযাত্রীদের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টার (১৬১৩৬) চালু থাকবে।