ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গড়াই পরিবহনের একটি বাসের চাপায় এক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভুটিয়ারগাতী বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনা সদস্য ল্যান্স করপোরাল সোহেল কাজী নড়াইল জেলার কালিয়া থানার কলাগাছি গ্রামের মাহবুব কাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২ বেঙ্গলে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২৫) ছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বড়দাহ গ্রামের মো. বুলু মণ্ডলের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাটিয়ারি বিএমএ থেকে বগুড়া সেনানিবাসে বদলি হন সোহেল কাজী। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে ছুটি পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে বের হন তিনি। তাদের দুই শিশুকন্যা—পাঁচ বছরের খাদিজাতুল মুনতাহা ও তিন বছরের আয়েশা বিনতে আগেই তাদের নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল। বাবা-মা আসবে, তাদের পছন্দসই উপহার নিয়ে আসবে—এই আশায় পথ চেয়ে বসে ছিল দুই বোন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় মুহুর্তের মধ্যে তাদের জীবন থেকে চিরতরে বাবা-মায়ের ছায়া সরে গেল।
প্রত্যক্ষদর্শী মহিরুল ইসলাম জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুটিয়ারগাতী বাইপাস এলাকায় গ্যাস ডিপোর সামনে খুলনাগামী ‘গড়াই পরিবহনের’ একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তুলি।
খবর পেয়ে ঝিনাইদহ দমকল বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দুপুরে তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সিএমএইচে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী দুজনই মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানার, গড়াই পরিবহনের বাসটি আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।